20/08/2026
সময়টা ছিল ১৯৯৯ থেকে ২০০৩। বয়সটা তখন খুবই কম। তখন মনে হতো, বড় হয়ে এই গ্রামে আর থাকব না—শহরে চলে যাব, নিজের মতো করে জীবন কাটাব। অথচ আজ মনে হয়, সেই গ্রামের দিনগুলোই ছিল জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়।
বাবা-মায়ের খুব আদরের ছিলাম। ছোট্ট একটা পৃথিবী ছিল আমার—বাবা, মা আর আমাদের গ্রাম। সন্ধ্যা ৭টা বাজলেই বাড়ি ফিরতে হতো। একটু দেরি হলেই ডাক আসত, “কোথায় আছিস? বাড়ি আয়!” তখন বিরক্ত লাগত, মনে হতো—এত নিয়মকানুন কেন!
দুপুর হলেই ছিল আরেক নিয়ম—ঘুমাতে হবে। বলা হতো, “এক ঘণ্টা ঘুমা, ঘুম থেকে উঠে খেলতে যাবি।” কিন্তু খেলার বয়সে কে আর ঘুমাতে চায়! কত কান্নাকাটি, কত বাহানা করার পর অবশেষে ঘুমিয়ে পড়তাম।
মজার ব্যাপার হলো, এক ঘণ্টা পর যখন ঘুম ভাঙত, দেখতাম সন্ধ্যা হয়ে গেছে! বাইরে তাকিয়ে দেখি চারপাশ অন্ধকার, মাঠে খেলার সময়ও শেষ। তখন আবার কান্না শুরু! মনে হতো, আমার সঙ্গে যেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অন্যায়টাই হয়ে গেছে।
সেই সময় বুঝিনি—বাবা-মায়ের সেই শাসন, সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার তাড়া, দুপুরের ঘুম, বিকেলের মাঠ আর বন্ধুদের সঙ্গে ছোটাছুটি—এসবই একদিন জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতি হয়ে থাকবে।
আজ বড় হয়েছি। জীবন অনেক বদলে গেছে। ব্যস্ততা বেড়েছে, দায়িত্ব বেড়েছে। কিন্তু সেই গ্রামের সরল জীবনটা আর ফিরে আসেনি।
যে গ্রামটাকে একসময় ছেড়ে যেতে চাইতাম, আজ সেই গ্রামের মাটিতেই ফিরে যেতে ইচ্ছে করে। ফিরে যেতে ইচ্ছে করে সেই শৈশবে—যেখানে সন্ধ্যা নামলেই মা ডাকতেন, বাবা অপেক্ষা করতেন, আর ছোট্ট আমি ভাবতাম, “বড় হলে এই গ্রামে আর থাকব না।”
কী অদ্ভুত এই জীবন!
ছোটবেলায় বড় হতে চাইতাম, আর আজ বড় হয়ে সেই ছোটবেলাটাকেই খুঁজে ফিরি।
গ্রামটা হয়তো একই আছে, বদলে গেছি শুধু আমি। ❤️
ছবি ; ২০১৮
📸Rakib Howlader ❤️
#রত্নপুর #আগৈলঝাড়া #বরিশাল #প্রিয়_জন্মভূমি #গ্রামবাংল #প্রকৃতি #গ্রাম