21/02/2026
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার বাউরিয়া ইউনিয়নে তারাবির নামাজ চলাকালীন মসজিদের ভেতর থেকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক নেতাকে টেনে বের করে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
শুক্রবার (রাত) বাউরিয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের জমির মাঝির মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। আহত জিহাদ (২০) বাউরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতের তারাবির নামাজ চলাকালে জিহাদ মসজিদের ভেতরে ইবাদতে মগ্ন ছিলেন। এ সময় জাসিব, নিরব ও নাঈমসহ কয়েকজন ব্যক্তি হঠাৎ মসজিদে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায়। পরে মসজিদের আঙিনায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক স্লোগান দিয়ে লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর করা হয়।
উপস্থিত মুসল্লিরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা সশস্ত্র অবস্থান নিয়ে তাদের হুমকি দেয়। এতে মুসল্লিরা প্রাণভয়ে পিছু হটতে বাধ্য হন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
আহত জিহাদের সহকর্মীদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে কাজ করা এবং দলীয় আদর্শগত বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। মারধরের পর জিহাদকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, জিহাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে।
পবিত্র রমজান মাসে মসজিদের ভেতরে ঢুকে এ ধরনের হামলার ঘটনায় স্থানীয় মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে সন্দ্বীপ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জায়েদ নূর বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তৎপর রয়েছে। পরিস্থিতির ওপর নজরদারি করা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’