Holy Dream

Holy Dream মনের ভাব ছবিতে প্রকাশ

ধৈর্য্য এবং শোকের মোকাবিলা।মাওলানা ওয়াইস আল করনী।আজকের এই দ্রুতগতির যুগে, আমরা প্রতিনিয়ত নানা রকম বিপদ ও দুঃখ-কষ্টের ম...
24/06/2025

ধৈর্য্য এবং শোকের মোকাবিলা।
মাওলানা ওয়াইস আল করনী।

আজকের এই দ্রুতগতির যুগে, আমরা প্রতিনিয়ত নানা রকম বিপদ ও দুঃখ-কষ্টের মধ্যে দিয়ে চলছি। নানা ধরনের চাপ, সমস্যায় আমরা অনবরত ভুগি। তবে সমস্যা মোকাবিলায় আমরা প্রায়ই হারিয়ে যাই, এবং আমাদের ধৈর্য্য ফুরিয়ে যায়। সামাজিক প্রতিযোগিতা, আত্মবিশ্বাসের অভাব, এবং দুনিয়াবি চাহিদা সব মিলিয়ে আমাদের মনে এক অস্থিরতা তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে, আমরা খুব সহজে ভেঙে পড়ি।

তবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনে শোক এবং বিপদ কীভাবে মোকাবিলা করা উচিত তা এক অসাধারণ উদাহরণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তে, যেমন তাঁর প্রিয়তম স্ত্রী খাদিজাহ (র.আ.) এবং চাচা আবু তালিবের মৃত্যুর পর, গভীর শোকের মাঝে ছিলেন। কিন্তু তিনি তার শোককে ধৈর্যের সাথে ধারণ করেছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন, "আল্লাহ তাআলা যা শাস্তি দেয়, তা কখনো একজন মুমিনের জন্য ক্ষতিকর হয় না, যদি সে ধৈর্য ধরতে পারে এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রাখতে পারে।" (সহিহ মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) যেমন শোককে ধৈর্য এবং আল্লাহর উপর বিশ্বাস রেখে মোকাবিলা করতেন, ঠিক তেমনি সাহাবাগণও তাদের জীবনের কঠিন মুহূর্তগুলোতে একে অপরের সাহায্যে দাঁড়িয়েছিলেন। আবু হুরায়রা (র.আ.)-এর কথা স্মরণ করলে দেখা যায়, তিনি মক্কার ত্যাগের সময় অনেক কষ্ট সহ্য করেছেন, কিন্তু তিনি একদমই নিজের বিশ্বাস হারাননি। একদিকে রাসুলের নির্দেশনা এবং অন্যদিকে সাহাবাদের ধৈর্য তাকে অটল রেখেছিল।

সালাফদের জীবনে আমরা দেখতে পাই যে, তারা নিজেদের ব্যক্তিগত শোক বা দুঃখকে আল্লাহর জন্য কষ্ট সহ্য করার একটি উপায় হিসেবে গ্রহণ করতেন। যেমন, ইবনে উমর (র.আ.) যখন হারান, তখন তিনি চুপ করে বসে থাকতেন এবং শুধুমাত্র আল্লাহর সাহায্যের জন্য প্রার্থনা করতেন। তিনি কখনোই নিজের শোককে প্রকাশ করতেন না, বরং সেটা ছিল তার ইবাদত এবং আত্মবিশ্বাসের সুযোগ।

আজ আমরা যখন বিপদে পড়ি, আমাদের কাছে একটি বড় প্রশ্ন থাকে: "এই বিপদ কেন আসছে?" কিন্তু নবী (সা.)-এর জীবনের প্রতিটি ঘটনা, সাহাবাদের ধৈর্য, এবং সালাফদের জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত যে, বিপদ আসা মানে শেষ নয়; বরং এটি একটি সুযোগ, আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়ার। যত বেশি সমস্যা, তত বেশি আমাদের ধৈর্য পরীক্ষা হচ্ছে।

আজকের এই যুগে, যেখানে প্রতিটি ইচ্ছা পূরণের জন্য আমাদের তাড়াহুড়ো, সেখানে রাসুলুল্লাহ (সা.) এবং সাহাবাদের ধৈর্য এবং আত্মবিশ্বাস আমাদের জন্য উদাহরণ হতে পারে। তাদের জীবন থেকে আমরা শিখতে পারি, যে কোনো বিপদে ধৈর্য ধরার মাধ্যমে আমরা শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করি, পাশাপাশি আমাদের মন এবং আত্মা শান্তিতে থাকে।

09/06/2025

অলসতা কাটাতে হাফেজ মারজানের কন্ঠে চমৎকার একটি তেলাওয়াত শুনুন।

সে বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী জামিয়াতুল ইহসান আল আরাবিয়া ঢাকা - Jamiyatul Ihsan Al-Arabiaএর জামাতে তাইসীর এর ছাত্র

07/01/2025

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকেই বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বহু এমন লোকও আছে যার মাথা উষ্কখুষ্ক ধুলোভরা, যাদেরকে দরজা থেকে ধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। (কিন্তু সে আল্লাহর নিকট এত প্রিয় যে,) সে যদি আল্লাহর উপর কসম খায়, তাহলে আল্লাহ তা পূর্ণ করে দেন।

(মুসলিম ৬৮৪৮, ৭৩৬৯)

অত্যন্ত শক্তিশালী কথা।
07/01/2025

অত্যন্ত শক্তিশালী কথা।

01/02/2023

আসসালামুয়ালাইকুম।
কেমন আছেন সবাই ?

08/02/2022
20/07/2020

যিলহজ্ব মাসের ফযীলত, গুরুত্ব ও আহকাম
মাওলানা মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া

কুরআনে কারীমের ভাষ্যমতে চারটি মাস অধিক সম্মানিত। আল্লাহ তাআলা বলেন,

اِنَّ عِدَّةَ الشُّهُوْرِ عِنْدَ اللّٰهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِیْ كِتٰبِ اللّٰهِ یَوْمَ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ مِنْهَاۤ اَرْبَعَةٌ حُرُمٌ.

আল্লাহ যেদিন আসমান যমীন সৃষ্টি করেছেন সেইদিন থেকেই মাসসমূহের গণনা আল্লাহ তাআলার নিকট তাঁর বিধান মতে বারটি। তন্মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত’। Ñসুরা তাওবা (৯) : ৩৬

এই চারটি মাসের অন্যতম হল যিলহজ্ব মাস। আর এ মাসের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ও ফযীলতপূর্ণ সময় হল ‘আশারায়ে যিলহজ্ব’ অর্থাৎ যিলহজ্ব মাসের প্রথম দশক।

যিলহজ্ব মাসের প্রথম দশকের মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব অপরিসীম। কেননা আল্লাহ তাআলা এই দশকের রাত্রীর শপথ করেছেন কুরআনে কারীমে। ইরশাদ হয়েছে, وَ الْفَجْرِۙ وَ لَیَالٍ عَشْرٍ ‘শপথ ফযরের, শপথ দশ রাত্রির’। Ñসূরা ফাজর (৮৯) : ১-২

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. ও মুজাহিদ রাহ.সহ অনেক সাহাবী, তাবেঈ ও মুফাসসির বলেন, এখানে ‘দশ রাত্রি’ দ্বারা যিলহজ্বের প্রথম দশ রাতকেই বুঝানো হয়েছে। Ñতাফসীরে ইবনে কাসীর ৪/৫৩৫

এই দশ দিনের নেক আমল আল্লাহ তাআলার নিকট সবচেয়ে প্রিয়। হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত ইবনে আব্বাস বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,

مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهَا أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنْ هَذِهِ الْأَيَّامِ يَعْنِي أَيَّامَ الْعَشْرِ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ؟ قَالَ: وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، إِلَّا رَجُلٌ خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ، فَلَمْ يَرْجِعْ مِنْ ذَلِكَ بِشَيْءٍ.

অর্থাৎ আল্লাহর নিকট যিলহজ্বের দশ দিনের নেক আমলের চেয়ে অধিক প্রিয় অন্য কোনো দিনের আমল নেই। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও (এর চেয়ে উত্তম) নয়? তিনি বললেন, না, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও নয়। তবে হাঁ, সেই ব্যক্তির জিহাদের চেয়ে উত্তম যে নিজের জান-মাল নিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের জন্য বের হয়েছে। অতপর কোনো কিছু নিয়ে ঘরে ফিরে আসেনি। Ñসুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৪৩৮; সহীহ বুখারী, হাদীস ৯৬৯; জামে তিরমিযী, হাদীস ৭৫৭; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৭২৭; মুসনাদে আহমদ, হাদীস ১৯৬৮

আরেকটি হাদীসে এসেছে, হযরত জাবির রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,

أَفْضَلُ أَيَّامِ الدُّنْيَا أَيَّامُ الْعَشْرِ، عَشْرِ ذِي الْحِجَّةِ، قَالَ: وَلَا مِثْلُهُنَّ فِي سَبِيلِ اللَّهِ؟ قَالَ: لَا مِثْلُهُنَّ فِي سَبِيلِ اللَّهِ , إِلَّا رَجُلٌ عَفَّرَ وَجْهَهُ فِي التُّرَابِ.

অর্থাৎ দুনিয়ার সর্বোত্তম দিনগুলো হল, যিলহজ্বের দশদিন। জিজ্ঞাসা করা হল, আল্লাহর রাস্তায়ও কি তার সমতুল্য নেই? তিনি বললেন, আল্লাহর রাস্তায়ও তার সমতুল্য নেই। তবে ঐ ব্যক্তি যার চেহারা ধুলিযুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ শাহাদাত লাভ করেছে। Ñমুসনাদে বাযযার, হাদীস ১১২৮; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদীস ২০১০; মাজমাউল যাওয়াইদ ৪/৮; (قال الهيثمي : إسناده حسن ورجاله ثقات) হাদিসটির সনদ হাসান

এসব হাদীসের কারণেই যিলহজ্বের প্রথম দশকের আমলকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই দশকের মধ্যে বেশ কয়েকটি আমল রয়েছে। যেমন ১. নখ-চুল না কাটা। ২. রাত্রগুলোতে বেশি যিকর-তাসবীহ করা। ৩. প্রথম নয় দিন রোযা রাখা। ৪. আরাফার দিন অর্থাৎ নয় যিলহজ্ব রোযা রাখা। ৫. তাকবীরে তাশরীক পড়া। ৬. কুরবানী করা। ৭. ঈদুল আযহার নামায পড়া। ৮. ঈদ ও আইয়ামে তাশরীকে রোযা না রাখা।

নি¤েœ এসব বিষয়ের হাদীস এবং সংশ্লিষ্ট মাসায়েল আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ।

নখ-চুল না কাটা

عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذَا رَأَيْتُمْ هِلَالَ ذِي الْحِجَّةِ، وَأَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يُضَحِّيَ، فَلْيُمْسِكْ عَنْ شَعْرِهِ وَأَظْفَارِهِ.

অর্থ : উম্মে সালামা রা. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন যিলহজ্বের দশক শুরু হবে তখন তোমাদের মধ্যে যে কুরবানী করবে সে যেন তার চুল নখ না কাটে। Ñসহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯৭৭; জামে তিরমিযী, হাদীস ১৫২৩

এই হাদীসের উপর ভিত্তি করে ফকীহগণ কুরবানীকারীরর জন্য নখ-চুল না কাটাকে মুস্তাহাব বলেছেন। তবে এ হুকুম তাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে যারা যিলকদের শেষে নখ-চুল কেটেছে। অন্যথায় নখ-চুল বেশি লম্বা হয়ে যাবে। যা সুন্নাতের খেলাফ। আর যে ব্যক্তি কুরবানী করবে না তার জন্য এ হুকুম প্রযোজ্য কি না এ ব্যাপারে কেউ কেউ বলেছেন, এ হুকুম শুধুমাত্র কুরবানীকারীদের জন্য প্রযোজ্য। তাদের দলীল পূর্বোক্ত হাদীস। আর কেউ কেউ বলেন, কুরবানী যারা করবে না তাদের জন্যও। তাদের দলীল হল :

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِرَجُلٍ: أُمِرْتُ بِيَوْمِ الْأَضْحَى عِيدًا جَعَلَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لِهَذِهِ الْأُمَّةِ، فَقَالَ الرَّجُلُ: أَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ أَجِدْ إِلَّا مَنِيحَةً أُنْثَى أَفَأُضَحِّي بِهَا؟ قَالَ: لَا، وَلَكِنْ تَأْخُذُ مِنْ شَعْرِكَ، وَتُقَلِّمُ أَظْفَارَكَ، وَتَقُصُّ شَارِبَكَ، وَتَحْلِقُ عَانَتَكَ، فَذَلِكَ تَمَامُ أُضْحِيَّتِكَ عِنْدَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ.

অর্থ : আব্দুল্লাহ বিন আমর রা. থেকে বর্ণিত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাকে কুরবানীর দিবসে ঈদ (পালনের) আদেশ করা হয়েছে। যা আল্লাহ এ উম্মতের জন্য নির্ধারণ করেছেন। এক সাহাবী আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি আমার কাছে শুধু একটি মানিহা থাকে (অর্থাৎ অন্যের থেকে নেওয়া দুগ্ধ দানকারী উটনী) আমি কি তা কুরবানী করতে পারি? নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না, তবে তুমি চুল, নখ ও মোঁচ কাটবে এবং নাভীর নিচের পশম পরিষ্কার করবে। এটাই আল্লাহর দরবারে তোমার পূর্ণ কুরবানী বলে গণ্য হবে। Ñসুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৭৮৯; সুনানে নাসায়ী, হাদীস ৪৩৬৫

এই হাদীসে যেহেতু কুরবানীর দিন চুল-নখ কাটার কথা আছে তাহলে এর আগে না কাটার দিকে ইঙ্গিত বুঝা যায়।

২. ওলীদ বিন মুসলিম বলেন, আমি মুহাম্মাদ বিন আজলানকে যিলহজ্বের দশকে চুল কাটা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি বললেন, আমাকে নাফে রাহ বলেছেন যে,

إن ابن عمر مر بامرأة تأخذ من شعر ابنها في الايام العشر فقال : لو أخرتيه إلى يوم النحر كان أحسن.

অর্থ : আব্দুল্লাহ ইবনে উমর এক নারীর নিকট দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। মহিলাটি যিলহজ্বের দশকের ভেতর তার সন্তানের চুল কেটে দিচ্ছিল। তখন তিনি বললেন, যদি ঈদের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে তবে বড় ভাল হত। Ñমুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস ৭৫৯৫

৩. এ সম্পর্কে আরেকটি বর্ণনা হল,

قال مسدد وحدثنا المعتمر بن سليمان التيمي سمعت أبي يقول : كان ابن سيرين يكره إذا دخل العشر أن يأخذ الرجل من شعره حتى يكره أن يحلق الصبيان في العشر.

মুতামির ইবনে সুলাইমান আততাইমী বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে ইবনে সীরীন রাহ. যিলহজ্বের দশকে চুল কাটা অপছন্দ করতেন। এমনকি এই দশকে ছোট বাচ্চাদের মাথা মুÐণ করাকেও অপছন্দ করতেন। Ñআল মুহাল্লা, ইবনে হাযম ৬/২৮

এসব দলীলের কারণে কারো কারো মতে সকলের জন্যই যিলহজ্বের প্রথম দশকে নখ, গোফ ও চুল না-কাটা উত্তম। তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই, এ বিধানটি কুরবানিদাতার জন্য তাকিদপূর্ণ, তার জন্য তা সুন্নত।

যিলহজ্বের প্রথম দশদিন বেশি বেশি ইবাদত ও যিকর করা

عَنْ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " مَا مِنْ أَيَّامٍ أَعْظَمُ عِنْدَ اللهِ وَلَا أَحَبُّ إِلَيْهِ الْعَمَلُ فِيهِنَّ مِنْ هَذِهِ الْأَيَّامِ الْعَشْرِ، فَأَكْثِرُوا فِيهِنَّ مِنَ التَّهْلِيلِ وَالتَّكْبِيرِ وَالتَّحْمِيدِ .

অর্থ : আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলার নিকট আশারায়ে যিলহজ্বের আমলের চেয়ে অধিক মহৎ এবং অধিক প্রিয় অন্য কোনো দিনের আমল নেই। সুতরাং তোমরা এই দিনগুলোতে বেশি বেশি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার এবং আলহামদু লিল্লাহ পড়।’Ñমুসনাদে আহমদ ২/৫৭, হাদীস ৫৪৪৬; তবারানী কাবীর ১১/৬৮ হাদীস, ১১১১৬; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ১৪১১০



যিলহজ্বের প্রথম নয় দিন রোযা রাখা

সুনানে আবু দাউদ ও মুসনাদে আহমাদের একটি বর্ণনায় এসেছে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই নয়টি দিবসে রোযা রাখতেন। Ñসুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৪৩৭; মুসনাদে আহমদ, হাদীস ২২২৩৪; সুনানে নাসাঈ, হাদীস ২৪১৬

এছাড়াও এ দিনগুলোর রোযা সম্পর্কে একাধিক বর্ণনা আছে। যেগুলোর প্রায় সবই জঈফ পর্যায়ের। তবে সমষ্টিগত বিচারে তা আমলযোগ্য। অধিকাংশ ফকীহগণ এই নয় দিনে রোযা রাখা উত্তম বলেছেন।

নয় যিলহজ্ব রোযা রাখা মুস্তাহাব

عَنْ أَبِي قَتَادَةَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ، أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ، وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ.

অর্থাৎ, আবু কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইয়াওমে আরাফার (নয় যিলহজ্ব) রোযার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী, তিনি এর দ্বারা এর আগের এক বছরের এবং পরের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দিবেন। Ñসহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৬২; জামে তিরমিযী, হাদীস ৭৪৯; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৪২৫

প্রকাশ থাকে যে, উক্ত হাদীসে বর্ণিত ইয়াওমে আরাফা দ্বারা যিলহজ্বের নয় তারিখ উদ্দেশ্য। এই তারিখের পারিভাষিক নাম হচ্ছে ইয়াওমে আরাফা। কেননা এই রোযা আরাফার ময়দানের আমল নয় বরং আরাফার দিন তো হাজ্বীদের জন্য রোযা না রাখাই মুস্তাহাব। যেমন হাদীস শরীফে এসেছে,

عَنْ أُمِّ الْفَضْلِ بِنْتِ الْحَارِثِ، " أَنَّ نَاسًا تَمَارَوْا عِنْدَهَا يَوْمَ عَرَفَةَ، فِي صِيَامِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ بَعْضُهُمْ: هُوَ صَائِمٌ، وَقَالَ بَعْضُهُمْ: لَيْسَ بِصَائِمٍ، فَأَرْسَلْتُ إِلَيْهِ بِقَدَحِ لَبَنٍ، وَهُوَ وَاقِفٌ عَلَى بَعِيرِهِ بِعَرَفَةَ، فَشَرِبَهُ "

উম্মুল ফযল বিনতে হারেছ বলেন, তার নিকট কতক লোক ইয়াওমে আরাফায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রোযার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করছিল। কেউ কেউ বলছিল তিনি রোযা আছেন। আর কেউ কেউ বলছিল তিনি রোযা নেই। উম্মুল ফযল একটি পেয়ালাতে দুধ পাঠালেন। নবীজী তখন উটের উপর ছিলেন। তিনি দুধ পান করলেন। Ñসহীহ মুসলিম, হাদীস ১১২৩

আরাফার দিন আল্লাহর রাসূল রোযা রাখেননি। একারণে ফিকহবিদগণ হাজ্বীদের জন্য আরাফার দিন রোযা না রাখা উত্তম বলেছেন। আবু কাতাদা রা. -এর উক্ত হাদীস দ্বারা ইয়াওমে আরাফায় রোযা রাখা মুস্তাহাব প্রমাণিত হয়। সুতরাং বুঝা গেল আবু কাতাদাহ রা.-এর হাদীসে ‘ইয়াওমে আরাফা’ দ্বারা নয় যিলহজ্ব অর্থাৎ ঈদের আগের দিনই উদ্দেশ্য। সুতরাং আমাদের দেশের চাঁদের হিসেবে যেদিন নয় তারিখ হয় সে দিনই ইয়াওমে আরাফা হিসেবে রোযা রাখা মুস্তাহাব হবে। সৌদীর হিসাবে আরাফার দিন অনুযায়ী নয়। উল্লেখ্য তাকবীরে তাশরীক সংক্রান্ত নিন্মোক্ত হাদীসেও ইয়াওমে আরাফা দ্বারা নয় যিলহজ্বই উদ্দেশ্য। কেননা এ আমল ও আরাফার সাথে নির্দিষ্ট কোনো আমল নয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন মাসিক আলকাউসার জানুয়ারী ২০১৩ ঈ. (দুটি প্রশ্ন ও তার উত্তর)

কপি : মাসিক আল কাওসার সংখ্যা ৮ (সেপ্টেম্বর ২০১৫ঈ:)

হাজিয়া সোফিয়া: পেছনের সব গল্পগুলো!অবস্থান:তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরটি দাঁড়িয়ে আছে এশিয়া ও ইউরোপ দুই মহাদেশে ভাগ হয়ে। মহাদে...
13/07/2020

হাজিয়া সোফিয়া: পেছনের সব গল্পগুলো!

অবস্থান:

তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরটি দাঁড়িয়ে আছে এশিয়া ও ইউরোপ দুই মহাদেশে ভাগ হয়ে। মহাদেশ দুটিকে যোগ করা বসফরাস প্রণালী শহরটিকে দুভাগে ভাগ করে ফেলেছে। এই শহরেরই ইউরোপীয় অংশে রয়েছে দৈত্যাকৃতির এক স্থাপত্যবিস্ময়। বাইজেন্টাইন শাসনামলে বানানো এই স্থাপত্যকর্মটির নাম ‘হাজিয়া সোফিয়া’। বলা হয়, অনন্য সৌন্দর্য আর বৈশিষ্ট্যের হাজিয়া সোফিয়া স্থাপত্যকলার ইতিহাসকেই বদলে দিয়েছে।

ইতিহাস:

হাজিয়া সোফিয়ার তুর্কি নাম ‘আয়াসোফিয়া’। একে ‘পবিত্র জ্ঞানের চার্চ’ বা ‘স্বর্গীয় জ্ঞানের চার্চ’ নামেও ডাকা হয়। সর্বপ্রথম ৩৬০ খ্রিস্টাব্দে বাইজেন্টাইন সম্রাট কন্সটান্টিয়াস, বাইজেন্টাইন ব্যাসিলিকা হিসেবে হাজিয়া সোফিয়া নির্মাণের নির্দেশ দেন।

প্রথম নির্মিত হাজিয়া সোফিয়ার ছাদ কাঠের তৈরি ছিলো। রাজপরিবারের ক্ষমতাসংক্রান্ত কলহের জেরে ৪০৪ খ্রিস্টাব্দে সে ছাদ আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছিল। এরপর ৪১৫ সালে হাজিয়া সোফিয়া নতুন করে নির্মাণ করেন সম্রাট থিওডোসিওস। এর ছাদও ছিল কাঠের তৈরি। এক শতাব্দীর কিছু বেশি সময় টিকে ছিল দ্বিতীয়বারে নির্মিত হাজিয়া সোফিয়া। দ্বিতীয়টিরও কপালে জুটেছিল আগুনের আঁচ। সেবারে হাজিয়া সোফিয়া পুড়েছিল সম্রাট প্রথম জাস্টিনিয়ানের বিরুদ্ধে প্রজাদের বিদ্রোহের আগুনে। এরপর বাইজেন্টাইন সম্রাটে জাস্টিনিয়ান'র উদ্যেগে তৃতীয়বার নির্মিত অনন্য সাধারণ হাজিয়া সোফিয়ার নির্মাণ শেষ হয় ৫৩৭ খ্রিস্টাব্দে, যা আজও মাথা তুলে দাঁড়িয়ে রয়েছে স্বগৌরবে।

বাইজেন্টাইনরা গ্রিকদের সনাতন ধর্ম অনুসরণ করত, আর হাজিয়া সোফিয়া ছিল তাদের প্রধান প্রার্থনালয়। এখানেই বাইজেন্টাইন সম্রাটরা শপথ নিতেন, প্রথম মুকুট পরতেন। ৯০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের এই ঐতিহ্যের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে হাজিয়া সোফিয়া।

ত্রয়োদশ শতকে মুসলিম এবং খ্রিস্টানদের মধ্যে সংগঠিত ক্রুসেডে হাজিয়া সোফিয়া কিছু সময়ের জন্য রোমানদের দখলে চলে যায়। সেসময় এটি রোমান ক্যাথলিক ক্যাথেড্রাল হিসেবে ব্যবহৃত হয় কিছুকাল। যতদিনে বাইজেন্টাইনরা পুনরায় এই স্থাপত্যের দখল ফিরে পায়, ততদিনে এটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়ে। তাই বাইজেন্টাইন শাসকগণ আবারও মেরামত করে তাদের সাধের প্রার্থনালয়ের পুরনো সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনেন।

পঞ্চদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে অটোম্যান সম্রাট সুলতান মুহাম্মদ আল ফাতিহ কন্সট্যান্টিনোপল দখল করেন। অটোমানরা কন্সট্যান্টিনোপলের নতুন নাম দেয় ইস্তাম্বুল।

ইস্তাম্বুলের উপর অটোমানদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলে সুলতান মুহাম্মদ আল ফাতিহ হাজিয়া সোফিয়াকে নিজ অর্থে ক্রয় করে মসজিদ হিসেবে রুপান্তরের চিন্তা করেন। হাজিয়া সোফিয়ার ভেতরের অনেক খ্রিস্টীয় নিদর্শনকে তারা বদলে ফেলেন। এ স্থাপত্যের দেয়ালে এবং মেঝেতে যেসব খ্রিস্টীয় প্রতীক ছিলো, সেগুলোকে অটোমানরা ঢেকে ফেলে ইসলামিক লিপি দিয়ে। মসজিদের ঐতিহ্য অনুসারে একটি মিহরাব স্থাপন করা হয় হাজিয়া সোফিয়ার পশ্চিমের দেয়ালে। এ স্থাপত্যকে ঘিরে চারদিকে নির্মাণ করা হয় চারটি মিনার, যেগুলো থেকে আযানের ধ্বনি ছড়িয়ে পড়ত চারপাশে। সময়ের পরিক্রমায় এমন অনেক কিছুই পরিবর্তিত হয়ে হাজিয়া সোফিয়া ব্যবহৃত হতে থাকে মুসলিমদের প্রার্থনালয় মসজিদ হিসেবে।

অটোমান সাম্রাজ্যের পতনের একশ বছর পরে আজও, রাজনীতি ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে হাজিয়া সোফিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ। কামাল আতাতুর্ক তুরস্ক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নয় বছর পরে, ১৯৩৫ সালে হাজিয়া সোফিয়াকে একটি জাদুঘরে রুপান্তর করা হয়। জাদুঘরে রুপান্তরের পরে বাইজেন্টাইন আমলের বিভিন্ন খ্রিস্টীয় প্রতীক ও ছবি পুনঃস্থাপন করা হয় হাজিয়া সোফিয়াতে।

নবযাত্রা:

৮৫ বছর হতে চললো হাজিয়া সোফিয়ার মিনার হত আজানের ধ্বনি আসে না। এরই মাঝে কত পানি বয়ে গেছে কৃষ্ণ সাগর থেকে মর্মর সাগরে। প্রকৃতির পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়েছে তুর্কীর মসনদ ও ক্ষমতার গতিপ্রকৃতি ও। বিভিন্ন ধারাবাহিকতা ও ঘটনার পরিক্রমায় ২০০৩ সালে ক্ষমতায় বসেন তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

কার্যত সেকুলার রাষ্ট্র তুরস্কের বাহ্যিক সেকুলারিজমকে অক্ষুণ্ন রেখে গত ১৭ বছর ধরে তুরস্কের অভ্যন্তরীণ কাঠামোকে সম্পূর্ণভাবে ইসলামীকরণ করার উদ্যেগ নেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। তার এই "ধরি মাছ না ছুঁই পানি" নীতিতে তিনি বাধাপ্রাপ্ত হন সেকুলার ও বেসিক ইসলামী উভয় পক্ষ থেকেই। সেকুলার সেনাবাহিনী ২০১৬ সালে চেষ্টা করেছিলো তাকে উৎখাত করতে আর বেসিম ইসলামী দলগুলো অদ্যবধি তার সমালোচনা করেই যাচ্ছে।

অভ্যন্তরীণ অনেক সংস্কারের পাশাপাশি এরদোয়ান একটাসময় হাজিয়া সোফিয়ায় নামাজ পড়ার অনুমতি দান করেন।(যদিও তখনও তা জাদুঘর ছিলো)... এরপর ২০১৭ সালে এক আলোচনায় তিনি হাজিয়া সোফিয়া কে মসজিদ হিসেবে নমনির্মাণের ইঙ্গিত দেন।তিনি বলেন আগে সুলতান আহমদ মসজিদ কানায় কানায় ভর্তি করো তারপর হাজিয়া সোফিয়ার কথা ভাবো। (সুলতান আহমেদ মসজিদ হাজিয়া সোফিয়া থেকে ৩০০ মিটার দূরে অবস্থিত)

অবশেষে ২০২০ সালের জুলাই মাসে তুর্কী সরকার, আদালত ও প্রশাসনের সর্বসম্মতিক্রমে হাজিয়া সোফিয়া আবার মসজিদ হিসেবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে (ইনশাআল্লাহ্)।

সুলতান মুহাম্মদ আল ফাতিহের রেখে যাওয়া আমানত অবশেষে মুসলিম জাতি উদ্ধার করতে সক্ষম হলো। যদিও গ্রীস এবং আমেরিকা সরকার তুর্কীর এ উদ্যেগের বিরোধীতা করে কিন্তু এরদোয়ান দৃঢ় কন্ঠে তাদের উদ্যেগের সমালোচনা করেন। কারণ এটা তুর্কীর অভ্যন্তরীণ বিষয়।

মসজিদ নবনির্মাণে সমালোচনা: যৌক্তিকতা?

ইস্তাম্বুল নগরী কিন্তু মুসলমানরা বিনা বাঁধায় জয় করেনি, ব্যাপক যুদ্ধের পর তারা তৎকালীন এ দুর্ভেদ্য নগরী জয় করতে সক্ষম হন। তৎকালীন যুদ্ধ নীতি অনুযায়ী জয়ের পর পুরা শহরের সব সম্পত্তি তুর্কীদের হওয়ার কথা। কিন্তু ইসলামের সুমহান আদর্শের ধারক সুলতান ফাতেহ মুহাম্মদ নগর লুট করেননি।অধিবাসীদের শহরে থাকার অনুমতি জারি রাখে। ইস্তাম্বুলের সব গির্জা অক্ষুন্ন রাখা হয়।

ইস্তাম্বুল বিজয়ের পর থেকে অটোমান সাম্রাজ্যের শেষ পর্যন্ত ইস্তাম্বুল ছিলো অটোমানদের রাজধানী। আর ইস্তাম্বুল বিজয়ের পর হাজিয়া সোফিয়া মসজিদ সংলগ্ন প্রাসাদ হয়ে উঠে অটোমান রাজভবন হিসেবে। একটা বৃহৎ বিস্তৃত মুসলিম সাম্রাজ্যের রাজভবনের সন্নিকটে একটা গির্জা বহমান থাকা কি স্বাভাবিক হতে পারে? রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও ঐতিহ্যের প্রয়োজনেই তা সরানোর প্রয়োজন হয়ে পড়ে এবং সে জায়গায় গড়ে উঠে মসজিদ।

গির্জা যদি মসজিদ হয়, তবে উল্টোটা নয় কেন?

কর্ডোভার জামে মসজিদসহ অসংখ্য আন্দালুসিয়ান মসজিদ স্পেন বন্ধ করে রেখেছে পাঁশ শতক ধরে। এছাড়া ইদানীং কালে রাম মন্দিরের দোহাই দিয়ে বাবরী মসজিদ ও ভেঙ্গে ফেলে ভারতের উগ্রবাদী এক শ্রেণীর হিন্দু। ক্ষমতার জোরে আমরা যদি গির্জাকে মসজিদ করি, তবে তাদের মসজিদ ভাঙ্গা বৈধ নয় কেন? এমন প্রশ্ন উঠে আসবে স্বাভাবিকভাবেই।

এটার বিশ্লেষণে আসতে হলে আপনাকে সমরনীতি অবশ্যই বুঝতে হবে। প্রথমত ভারত ও স্পেনে মুসলিম শাসন চলে যাওয়ার পর ক্ষমতালাভকারী শ্রেণী কিন্তু যুদ্ধ করে ক্ষমতায় আসে নি। ভার ১৯৪৭ সালে তার বর্তমান অবস্থায় স্বাধীনতা লাভ করে সেকুলার মেন্ডেট নিয়ে। স্বাধীনতা লাভের সময় তৎকালীন ভারতীয় নেতারাই মুসলমানদের একসাথে থাকতে বার বার আহবান জানাই। এর ফলে এক শ্রেণীর মুসলমান পাকিস্তান আন্দোলনের বিরোধীতা করে এবং সক্রিয়ভাবে অখন্ড ভারতের পক্ষে লড়ে যাই। আর তাই পাকিস্তান তখন ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি পেলেও ভারত হয়ে উঠে হিন্দু মুসলিমের সম্মিলিত দেশ।

স্পেনের ক্ষেত্রেও দেখা যায়, মুসলিম শাসকদের থেকে ক্ষমতাগ্রহণের সময় খ্রিস্টান রাজারা মুসলিমদের সমস্ত অধিকার দেওয়ার অঙ্গীকার করে চুক্তিবদ্ধ হয়।

ইতিহাসের আলোকে তাই দেখা যায়, স্পেন ও ভারতে খ্রিস্টান ও হিন্দুদের ক্ষমতাগ্রহণ ছিলো পুরাপুরি মুসলিমদের সাথে চুক্তি করেই, কোনো ধর্মীয় ক্রুসেডের মাধ্যমে না।সে জায়গায় যদি শাসকেরা পরবর্তীতে চুক্তি ভঙ্গ করে মুসলিমদের মসজিদ দখল করে, ভেঙ্গে ফেলে প্রতিবাদ করাটা তো স্বাভাবিক ও আইনসম্মত'ই।

কিন্তু এক হাঁটু পরিমাণ রক্তের সাগর মাড়িয়ে জয় করা ইস্তাম্বুলের উপর যখন আপনি সন্ধির মাধ্যমে জয় হওয়া অঞ্চলের মতো সুবিধা ট্রিট করেন, তখন সেটা আপনার মুর্খতার জানান দেয়, মুসলিমদর অসহিষ্ণুতার নয়।মুসলিমরা অসহিষ্ণু হলে ইস্তাম্বুলে তখন হাজার হাজার খ্রিস্টান মারা যেতো, ব্যাপক দাঙ্গা হতো। অথচ ইতিহাস এর কোনোটিই অবলোকন করেনি। বরং ইতিহাস দেখেছে, স্পেনে "মরিসকো" দের উপর নির্যাতন, দেখেছে হিন্দুস্তানের হাজার হাজার দাঙ্গা।

হাদিসের ভাষ্যনুযায়ী নিশ্চিত জান্নাত লাভকারী সুলতান মুহাম্মদ আল ফাতিহের হাতেগড়া এই মসজিদ সুবহে সাদিকের সাক্ষী হয়ে তৃপ্ততা দান করুক প্রতিজন সেজদাকারী'কেই।

-সংকলিত ও সংযোজিত

23/06/2020

ঘরে বসে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর
প্রতিযোগিতা দেখছি 😥🌹

শুধু অংশগ্রহণ করাটাই বাকী! ❤🍀

অপরূপ দৃশ্য❤❤❤কৃষক চাইলেই ধানগুলো কেটে ফেলতে পারতো কিন্তু তার মানবিক মূল্যবোধের কারণে পাখির বাসা টি সংরক্ষণের জন্য ধান ন...
07/05/2020

অপরূপ দৃশ্য❤❤❤
কৃষক চাইলেই ধানগুলো কেটে ফেলতে পারতো কিন্তু তার মানবিক মূল্যবোধের কারণে পাখির বাসা টি সংরক্ষণের জন্য ধান না কেটে রেখে গেছেন।

পৃথিবীতে বেঁচে থাকুক মানবতার ভালোবাসায়।

অসুস্থ বাচ্চাকে নিয়ে হাসপাতালে মা। হৃদয় ভরিয়ে দেবার মতো ঘটনাটি ঘটেছে তুরস্কের ইস্তাম্বুলের একটি হাসপাতালে।  ❤
05/05/2020

অসুস্থ বাচ্চাকে নিয়ে হাসপাতালে মা। হৃদয় ভরিয়ে দেবার মতো ঘটনাটি ঘটেছে তুরস্কের ইস্তাম্বুলের একটি হাসপাতালে।

Address

Barishal

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Holy Dream posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share