28/03/2020
আবিরের জীবন কাহিনী
কলেজের প্রথম দিন আবির কলেজে যায়। সে শহরের একটা নামকরা কলেজে এডমিশন নেয়। কলেজের প্রথম ক্লাশে যখন স্যার সবার পরিচয় নিচ্ছে তখন অনেকের দৃষ্টি আবিরের দিকেই ছিল। কারন আবির ছিল অগোছালো ও এলোমেলো। সে তার মেধা দিয়ে কলেজে ভর্তি হয়।
স্যার যখন আবিরের পরিচয় জানতে চায় সে উত্তর দেয়। তার বাবার কথা জিজ্ঞেস করলে সে বলে তার বাবা দিনমজুর। একথা শুনে অন্য ছাত্র-ছাত্রিরা কেমন করে যেন তার দিকে তাকালো। কথা হচ্ছে সমাজের উচু শ্রেনীর মানুষেরা নিচু শ্রেনীর মানুষদেরকে কখনো ভালো চোখে দেখে না। আবিরও হয়তো সেই পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে। ক্লাশের অধিকাংশ ছেলেমেয়েরাই তার সাথে মিশতো না। যদিও কিছু ছেলে মেয়ে কথা বলতো শুধুমাত্র সে মেধাবী বলে তার থেকে সাহায্য নিবে বলে।
আমাদের সমাজের একটা নিয়ম হচ্ছে আমরা কখনই নিচু জাতের কাউকে গুরুত্বই দেই না। আমরা পরে থাকি সমাজে উঁচু স্তরের মানুষদের নিয়ে। উঁচু মানের ভোগবিলাসে এতই মত্য থাকি যে, পাশে কে আছে তার কোন খবরই রাখি না। অনেক সময় দেখা যায় কেউ একজন অনেক মিনতি করলেও আমাদের পকেট থেকে পাঁচটা টাকাও বের হয় না। কিন্তু আমরা নিয়মিত টাকা খরচ করছি বন্ধুদের সাথে বাজে আড্ডা দিয়ে বা খারাপ মেয়েদের নিয়ে মত্ত থেকে। আমরা যদি সমাজের গরিব দুঃখি মানুষের সাথে একটু ভালো ব্যবহার করতাম তাহলে সমাজে এত বৈষম্য থাকতো না। আমরা ক্ষমতার লোভে বা টাকার অহংকারে এটাই ভুলে যাই যে, তারাও রক্তে মাংশে গড়া আমাদের মত মানুষ।
আবিরের পরিচয়ে ক্লাশের অন্যরা তাকে এড়িয়ে চললেও সে মন খারাপ করতো না। কারন সে মনে করতো এটাই প্রকৃতির নিয়ম। কিন্তু তাকে খুব বেশিদিন একা থাকতে হয়নি কারন সে তার মেধা দিয়ে পুরো কলেজের সবার মন জয় করে নিয়েছে। সবাই তার মেধার কাছে হার মেনে যায়। কলেজের সবাই মনে করতো সৃষ্টিকর্তা আবিরকে এক বিশেষ মেধা দান করেছে যা অন্যদের দেয়নি।
সৃষ্টিকর্তা মাঝে মাঝে কিছু লোকদের এমন বিশেষ পরীক্ষায় ফালান যা থেকে কেউ হয়তো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে আর কেউ হয়তো থেমে যায় প্রকৃতির কড়া নিয়মের কাছে। আবিরের বেলায়ও তার উল্টো হয়নি।
আবিরের মা একটু রোগা প্রকৃতির। তার প্রায় সবসময়ই অসুখ লেগেই থাকে।
...... চলবে