03/09/2026
ম্যারাডোনা ট্রেনিংয়ে মেসিকে বলেন, 'বল রেখেই কিক মেরো না। বলটাকে বুঝতে তো দাও তুমি কী চাও।'
ছোট্ট পরামর্শ, ফুটবল ইতিহাসের বড় বাঁকবদলের কারণ। মেসি বুঝলেন, স্পটে বল রেখেই কিক নিতেই সমস্যা হচ্ছে। এর পর থেকে মেসি বল রেখে বেশ কিছুক্ষণ ভাবা শুরু করলেন। বল, অ্যাঙ্গেল, পজিশন, সামনের ওয়াল।
বল আর মেসির বাঁ পা পরস্পর কথা বলার এই যে সুযোগ পেল; তাতেই সোনা-রুপার কাঠির স্পর্শ ভাঙল ঘুম।
যেটি তার সবচেয়ে দুর্বল জায়গা ছিল, সেটিই হয়ে গেল সবচেয়ে শক্তির। কমেন্টেররা রসিকতা করে বলে, 'মেসিকে ফ্রি কিকের বদলে বরং পেনাল্টি দাও। পেনাল্টি মিস করবে, ফ্রি কিক না।'
ফ্রি কিক থেকে মেসির প্রথম গোল ক্যারিয়ারের তৃতীয় বছরে--২০০৮ সালে।
এর আগে বার্সেলোনার জার্সিতে ফ্রি কিক নিতেন রোনালদিনহো, ডেকো আর রাফা মার্কেজ। এমনকি বার্সার ট্রেনিংয়েও মেসি ফ্রি কিক অনুশীলন করতেন না। তবে তখন রোনালদিনহোর টেকনিক মন দিয়ে দেখতেন।
ফ্রি কিকের দ্বিতীয় গোলটি আসে ২০০৯ সালে। এর আগেই আর্জেন্টিনার কোচ হয়ে আসা ডিয়েগো ম্যারাডোনার সেই জাদুমন্ত্র। ফ্রান্সের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ ছিল মার্শেইয়ে। অনুশীলনে ম্যারাডোনা মেসিকে বল বসিয়েই শট না নিয়ে ভাবতে বলেন। সময় নিতে বলেন। সুইং বাড়ানোর টেকনিক বাতলে দেন।
এর পর দুই বছরের দীর্ঘ একটা সাধনা।
মেসি নিজেই বলেছেন, এমনও হয়েছে, সবাই অনুশীলন শেষে ফিরে গেছে। মেসি শুধু ফ্রি কিক নিয়ে কাজ করেছেন আরও দুই ঘণ্টা। ম্যাচ বাই ম্যাচ শিখেছেন।
২০১২। মেসির পা থেকে এক বছরেই এল সাতটি ফ্রি কিক গোল! আর থামেনি এই ক্ষেপণাস্ত্র!
সেই থেকে মেসির নামের পাশে ৭৪টি ফ্রি কিক গোল। ম্যারোডোনা-পেলের রেকর্ড তো ভেঙেছেন আগেই; জানা গিয়েছিল, সর্বকালের রেকর্ডটা নাকি ব্রাজিলের জুনিনহোর ৭২ গোল।
জুনিনহোর রেকর্ড ভাঙার পর আরও দুজন ব্রাজিলিয়ানের নাম পাওয়া গেল--জায়ার আর রবার্তো ডিনামাইট। সেসবও পেরিয়ে যাওয়ার পর আরেক ব্রাজিলিয়ানের নাম এসেছে। মার্সেলিনহো কারিওকার ফ্রি কিক গোল নাকি ৭৮টি।
মেসি সেই বিশ্ব রেকর্ড থেকেও ৪ গোল দূরত্বে।