আশার আলোছায়া "Ashar Alochhaya"

আশার আলোছায়া "Ashar Alochhaya" একজন মানুষ তখনই তার মনুষ্যত্ব হারায় যখন সে অন্যের দুঃখে নিজে খুশি হয়।

15/06/2026

যুক্তির আলো পৌঁছায় না যে মন পক্ষপাতের দেয়ালে ঘেরা, তার সাথে বিতর্ক মানে অন্ধকারে সূর্য খোঁজা।

11/06/2026

মিশন 7UP: পুরোনো স্মৃতি, নতুন আতঙ্ক!
🏆 ব্রাজিলের বিশ্বকাপ শিরোপা:
1.1958
2.1962
3.1970
4.199
5.2002
6-up
7-up

22/05/2026

মধ্যযুগে আজকের আধুনিক রাষ্ট্র বা দেশের মতো কোনো সীমানা ছিল না; তখন বিশ্ব পরিচালিত হতো বৃহৎ সাম্রাজ্য ও খিলাফতের মাধ্যমে। তবে ভৌগোলিক মানচিত্র অনুযায়ী, মধ্যযুগে ইসলামিক খিলাফতগুলো এশিয়া, আফ্রিকা এবং ইউরোপের তিনটি মহাদেশের বিশাল অংশ জুড়ে শাসন পরিচালনা করেছিল。

নিচে মধ্যযুগের প্রধান প্রধান ইসলামিক সাম্রাজ্য এবং তারা আধুনিক যুগের কোন কোন দেশ বা অঞ্চল শাসন করেছিল, তা তুলে ধরা হলো:
১. উমাইয়া খিলাফত (৬৬১–৭৫০ খ্রিষ্টাব্দ)
এটি ছিল ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম অবিচ্ছিন্ন সাম্রাজ্য। দামেস্ককে কেন্দ্র করে তারা শাসন করত:

শাসিত আধুনিক দেশসমূহ: পুরো সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, ইয়েমেন, জর্ডান, সিরিয়া, ইরাক, ফিলিস্তিন, লেবানন, ইরান, মিশর, লিবিয়া, তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া, মরক্কো, আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং মধ্য এশিয়ার কিছু অংশ।
ইউরোপের অংশ: আধুনিক স্পেন এবং পর্তুগাল (যা ইতিহাসে 'আল-আন্দালুস' নামে পরিচিত)。

২. আব্বাসীয় খিলাফত (৭৫০–১২৫৮ খ্রিষ্টাব্দ)
বাগদাদকে রাজধানী করে এই খিলাফত পরিচালিত হয় এবং এটিই ছিল 'ইসলামের সোনালী যুগ'।

শাসিত আধুনিক দেশসমূহ: উমাইয়াদের মতোই বিশাল অঞ্চল এদের অধীনে ছিল, যার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের ইরাক, ইরান, সিরিয়া, কুয়েত, উত্তর আফ্রিকার মিশর এবং মধ্য এশিয়ার উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান অন্তর্ভুক্ত ছিল।

৩. ফাতিমীয় খিলাফত (৯০৯–১১৭১ খ্রিষ্টাব্দ)
উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে শিয়া মতাদর্শের এই খেলাফতটি গড়ে উঠেছিল।

শাসিত আধুনিক দেশসমূহ: মূল কেন্দ্র ছিল মিশর (কায়রো শহর তাদেরই তৈরি)। এছাড়া তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া, লিবিয়া, লেবানন এবং ফিলিস্তিনও তাদের শাসনাধীন ছিল。

৪. সেলজুক সাম্রাজ্য (১০৩৭–১১৯৪ খ্রিষ্টাব্দ)
তুর্কি-পারসিক এই সাম্রাজ্যটি মধ্যযুগে ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে বড় প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

শাসিত আধুনিক দেশসমূহ: আধুনিক তুরস্ক (আনাতোলিয়া), ইরান, ইরাক, সিরিয়া, আজারবাইজান এবং তুর্কমেনিস্তান।

۵. আইয়ুবীয় রাজবংশ ও মামলুক সালতানাত (১১৭১–১৫১৭ খ্রিষ্টাব্দ)
বিখ্যাত বীর সালাহউদ্দিন আইয়ুবী এই রাজবংশের সূচনা করেন, যা পরে মামলুকদের হাতে চলে যায়।
শাসিত আধুনিক দেশসমূহ: মূলত মিশর, সিরিয়া, জর্ডান, ফিলিস্তিন এবং হেজাজ (সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চল)

৬. দিল্লি সালতানাত (১২০৬–১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দ)
ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম শাসনের মূল ভিত্তি ছিল এই সালতানাত।

শাসিত আধুনিক দেশসমূহ: আধুনিক ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ।

৭. উসমানীয় বা অটোমান সাম্রাজ্য (১২৯৯–১৯২২ খ্রিষ্টাব্দ)
মধ্যযুগের শেষের দিকে উত্থান ঘটে এই পরাক্রমশালী সাম্রাজ্যের, যা ১৪৫৩ সালে কনস্টান্টিনোপল (ইস্তাম্বুল) জয় করে।

শাসিত আধুনিক দেশসমূহ: আধুনিক তুরস্ক, গ্রিস, বুলগেরিয়া, রোমানিয়া, আলবেনিয়া, হাঙ্গেরি, মিশর, তিউনিসিয়া, ইরাক, সিরিয়া এবং আরব উপদ্বীপের সিংহভাগ。

সংক্ষেপে বলতে গেলে, মধ্যযুগে উত্তর আফ্রিকার প্রায় সব দেশ, মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশ, মধ্য এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়ার ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ এবং ইউরোপের স্পেন, পর্তুগাল ও বলকান অঞ্চলের দেশগুলো কোনো না কোনো ইসলামিক সাম্রাজ্যের অধীনে শাসিত হয়েছিল。

(স্পেনের মুসলিম শাসন বা ভারতের দিল্লি সালতানাত)

কালেকশন:
World History Encyclopedia, Wikipedia, blog, YouTube

27/04/2026

অসভ্য ও নেতিবাচক মানুষ থেকে নিজেকে দূরে রাখবেন যেভাবে:
আমাদের চারপাশে এমন কিছু মানুষ থাকে যাদের আচরণ বা কথা সবসময় নেতিবাচকতা ছড়ায়। এরা অন্যের মানসিক শান্তি নষ্ট করতে ওস্তাদ। এই ধরণের মানুষ থেকে দূরে থাকা কোনো অহংকার নয়, বরং নিজের মানসিক সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় একটি পদক্ষেপ।
কিভাবে এদের সামলাবেন?
১. প্রতিক্রিয়া না দিয়ে এড়িয়ে চলুন:
অসভ্য মানুষের মূল উদ্দেশ্য থাকে আপনাকে উত্তেজিত করা। আপনি যখন তর্কে জড়ান না বা কোনো রিয়্যাক্ট করেন না, তখন তারা গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে। আপনার নীরবতাই হোক তাদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ।
২. সীমানা নির্ধারণ (Set Boundaries):
সবার সাথে বন্ধুত্বের প্রয়োজন নেই। কারা আপনার ব্যক্তিগত বৃত্তে থাকবে আর কারা থাকবে না, তা আপনিই ঠিক করুন। যারা কেবল আপনার ভুল ধরে বা নিচু দেখানোর চেষ্টা করে, তাদের সাথে দূরত্ব বজায় রাখাটাই ব্যক্তিত্বের পরিচয়।
৩. "না" বলতে শিখুন:
কারো অন্যায্য আবদার বা অসভ্য আচরণ মুখ বুজে সহ্য করবেন না। স্পষ্ট ও ভদ্রভাবে নিজের অমত প্রকাশ করুন। মনে রাখবেন, "না" বলাটা আপনার অধিকার।
৪. নিজের কাজে ফোকাস করুন:
নেতিবাচক মানুষরা চায় আপনি তাদের নিয়ে ভাবেন। সেই সুযোগ দেবেন না। নিজের লক্ষ্য, ক্যারিয়ার এবং পছন্দের কাজে ডুবে থাকুন। আপনি যখন সফল ও হাসিখুশি থাকবেন, সেটাই হবে তাদের জন্য বড় জবাব।
৫. মানসিক দূরত্ব বজায় রাখা:
যদি কাজের ক্ষেত্র বা পরিবারের কারণে কাউকে পুরোপুরি এড়িয়ে চলা সম্ভব না হয়, তবে তাদের সাথে শুধু প্রয়োজনীয় কথাটুকু বলুন। নিজের ব্যক্তিগত তথ্য বা আবেগ তাদের সাথে শেয়ার করা বন্ধ করুন।
শেষ কথা:
জীবনটা আপনার, তাই এটি সুন্দর রাখার দায়িত্বও আপনার। যারা আপনার মূল্য বোঝে না, তাদের জীবন থেকে সযত্নে সরিয়ে ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
আপনার মানসিক শান্তি আপনার কাছেই, সেটা অন্য কারো হাতে নষ্ট হতে দেবেন না।

24/04/2026

ইতিহাসের পাতায় তাকালেই দেখা যায়—

ফিরাউন নিজেকে সর্বশক্তিমান মনে করত, কিন্তু তার ক্ষমতা স্থায়ী হয়নি।

আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট বিশাল সাম্রাজ্য গড়েছিলেন, তবুও তা টিকে থাকেনি।

নেপোলিয়ন বোনাপার্টও ক্ষমতার চূড়ায় পৌঁছে শেষ পর্যন্ত পতন এড়াতে পারেননি।

সত্য
ক্ষমতা কখনো স্থায়ী নয়—
এটি সময়ের একটি অস্থায়ী দায়িত্ব মাত্র।
সময় বদলালে অবস্থানও বদলে যায়;
আজ যে শীর্ষে, কাল সে নিচেও নেমে আসতে পারে।

শিক্ষা
বিনয় মানুষকে বড় করে, অহংকার নয়।
অন্যের অধিকারকে সম্মান করাই প্রকৃত শক্তি।
এবং শেষ পর্যন্ত—ভালো কাজই মানুষের আসল পরিচয় হয়ে বেঁচে থাকে।

জ্বালানি সংকটকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিকে পাবলিক মাইন্ড থেকে সরানোর জন্য, আর অধ্যাদেশসমূহ ধারাবাহিকভ...
23/04/2026

জ্বালানি সংকটকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিকে পাবলিক মাইন্ড থেকে সরানোর জন্য, আর অধ্যাদেশসমূহ ধারাবাহিকভাবে বাতিলকে আড়াল করার জন্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দের ইন্ধনে ছাত্রদল ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসের চেহারা নিয়ে হাজির হয়েছে।
সাদ্দাম হোসেন

15/03/2026
24/02/2026

শাইখুল হাদিস হযরত ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রঃ কে প্রশ্নঃ করা হয়েছিলো আমরা সঠিক ইসলাম চিনবো কি করে?

জবাবেঃ-- আল্লামা ইবনে তাইমিয়্যাহ রঃ বলেছিলেন তোমরা লক্ষ্য করবে! রাষ্ট্র শক্তি, প্রশাসন, তাগুতি শক্তি, ধর্মের আলখেল্লায় ধর্ম ব্যবসায়ী ও ইসলামের বিপরীত ধর্মের লোকজন মিলে কোনো একটি দলকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আঘাত হানছে। ওখানেই সঠিক ধর্মের তালাশ করো। আমরা একটু গভীর মনোযোগ দিয়ে চিন্তা করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে এবং সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হবে।

17/02/2026

হারাম ও কবিরা গুনাহ হারাম ও কবীরা গুনাহ্ পরিচিতি মোস্তাফিজুর রহমান বিন আব্দুল আজিজ আল-মাদানী

২৭. যুলুম, অত্যাচার ও কারোর উপর অন্যায় মূলক আক্রমণ
কারোর জন্য অন্যের উপর যে কোনভাবে যুলুম, অত্যাচার অথবা অন্যায় মূলক আক্রমণ হারাম ও কবীরা গুনাহ্। কাউকে মারা, হত্যা করা, আহত করা, গালি দেয়া, অভিসম্পাত করা, ব্যভিচারের অপবাদ দেয়া, দুর্বলের উপর হাত উঠানো চাই সে হোক নিজের কাজের ছেলে কিংবা নিজের কাজের মেয়ে অথবা নিজ স্ত্রী-সন্তান; তেমনিভাবে জোর করে কারোর কোন অধিকার হরণ ইত্যাদি ইত্যাদি যুলুমেরই অন্তর্গত।

যুলুম পারস্পরিক বন্ধুত্ব বিনষ্ট করে। আত্মীয়-স্বজনের মাঝে বৈরিতা সৃষ্টি করে। মানুষের মাঝে হিংসা ও বিদ্বেষের জন্ম দেয় এবং এরই কারণে ধনী ও গরীবের মাঝে ধীরে ধীরে ঘৃণা ও শত্রুতা জেগে উঠে। তখন উভয় পক্ষই দুনিয়ার বুকে অশান্তি নিয়েই জীবন যাপন করতে বাধ্য হয়।

আল্লাহ্ তা‘আলা যালিমদের জন্য জাহান্নামে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছেন। যা তাকে গ্রহণ করতেই হবে।

আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন:

«إِنَّا أَعْتَدْنَا لِلظَّالِمِيْنَ نَارًا، أَحَاطَ بِهِمْ سُرَادِقُهَا، وَإِنْ يَّسْتَغِيْثُوْا يُغَاثُوْا بِمَاءٍ كَالْـمُهْلِ يَشْوِيْ الْوُجُوْهَ، بِئْسَ الشَّرَابُ، وَسَاءَتْ مُرْتَفَقًا»

‘‘আমি যালিমদের জন্য জাহান্নাম প্রস্ত্তত রেখেছি। যার বেষ্টনী তাদেরকে পরিবেষ্টন করে থাকবে। তারা পানি চাইলে তাদেরকে দেয়া হবে গলিত ধাতুর ন্যায় পানি। যা তাদের মুখমণ্ডল পুড়িয়ে দিবে। এটা কতই না নিকৃষ্ট পানীয় এবং সে জাহান্নাম কতই না নিকৃষ্ট আশ্রয়’’। (কাহ্ফ : ২৯)

আল্লাহ্ তা‘আলা আরো বলেন:

«وَسَيَعْلَمُ الَّذِيْنَ ظَلَمُوْا أَيَّ مُنْقَلَبٍ يَّنْقَلِبُوْنَ»

’’অত্যাচারীরা শীঘ্রই জানবে কোথায় তাদের গন্তব্যস্থল!’’ (শু‘আরা’ : ২২৭)

আবূ যর গিফারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন:

يَا عِبَادِيْ! إِنِّيْ حَرَّمْتُ الظُّلْمَ عَلَى نَفْسِيْ وَجَعَلْتُهُ بَيْنَكُمْ مُحَرَّمًا فَلَا تَظَالَـمُوْا.

‘‘হে আমার বান্দাহ্রা! নিশ্চয়ই আমি আমার উপর যুলুম হারাম করে দিয়েছি অতএব তোমাদের উপরও তা হারাম। সুতরাং তোমরা পরস্পর যুলুম করো না’’। (মুসলিম ২৫৭৭)

কেউ কেউ কোন যালিমকে অনায়াসে মানুষের উপর যুলুম করতে দেখলে এ কথা ভাবে যে, হয়তো বা সে ছাড় পেয়ে গেলো। তাকে আর কোন শাস্তিই দেয়া হবে না। না, ব্যাপারটা কখনোই এমন হতে পারে না। বরং আল্লাহ্ তা‘আলা তাদেরকে কিয়ামতের দিনের কঠিন শাস্তির অপেক্ষায় রেখেছেন।

আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন:

«وَلَا تَحْسَبَنَّ اللهَ غَافِلًا عَمَّا يَعْمَلُ الظَّالِمُوْنَ، إِنَّمَا يُؤَخِّرُهُمْ لِيَوْمٍ تَشْخَـصُ فِيْهِ الْأَبْصَارُ، مُهْطِعِيْنَ مُقْنِعِيْ رُؤُوْسِهِمْ، لَا يَرْتَدُّ إِلَيْهِمْ طَرْفُهُمْ، وَأَفْئِدَتُهُمْ هَوَاءٌ»

‘‘তুমি কখনো মনে করো না যে, যালিমরা যা করে যাচ্ছে আল্লাহ্ তা‘আলা সে ব্যাপারে গাফিল। বরং তিনি তাদেরকে সুযোগ দিচ্ছেন কিয়ামতের দিন পর্যন্ত। যে দিন সবার চক্ষু হবে স্থির বিস্ফারিত। সে দিন তারা ভীত-বিহবল হয়ে আকাশের দিকে চেয়ে ছুটোছুটি করবে। তাদের চক্ষু এতটুকুর জন্যও নিজের দিকে ফিরবে না এবং তাদের অন্তর হবে একেবারেই আশা শূন্য’’। (ইব্রাহীম : ৪২-৪৩)

কারোর মধ্যে বিনয় ও নম্রতা না থাকলেই সে কারোর উপর উদ্যত ও আক্রমণাত্মক হতে পারে। এ কারণেই আল্লাহ্ তা‘আলা সকলকে বিনয়ী ও নম্র হতে আদেশ করেন।

’ইয়ায বিন্ ’হিমার মুজাশি’য়ী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা খুৎবা দিতে গিয়ে বলেন:

وَإِنَّ اللهَ أَوْحَى إِلَيَّ أَنْ تَوَاضَعُوْا حَتَّى لَا يَفْخَرَ أَحَدٌ عَلَى أَحَدٍ، وَلَا يَبْغِيَ أَحَدٌ عَلَى أَحَدٍ.

‘‘আল্লাহ্ তা‘আলা এ মর্মে আমার নিকট ওহী পাঠিয়েছেন যে, তোমরা নম্র ও বিনয়ী হও; যাতে করে একের অন্যের উপর গর্ব করার পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় এবং একের অন্যের উপর অত্যাচার বা আক্রমণাত্মক আচরণ করার সুযোগ না আসে’’। (মুসলিম ২৮৬৫)

আবূ মাস্’ঊদ্ আন্সারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:

كُنْتُ أَضْرِبُ غُلَامًا لِيْ، فَسَمِعْتُ مِنْ خَلْفِيْ صَوتًا : اعْلَمْ، أَبَا مَسْعُوْدٍ ! لَلَّهُ أَقْدَرُ عَلَيْكَ مِنْكَ عَلَيْهِ، فَالْتَفَتُّ فَإِذَا هُوَ رَسُوْلُ اللهِ ، فَقُلْتُ: يَا رَسُوْلَ اللهِ! هُوَ حُرٌّ لِوَجْهِ اللهِ، فَقَالَ: أَمَا لَوْ لَمْ تَفْعَلْ لَلَفَحَتْكَ النَّارُ أَوْ لَمَسَّتْكَ النَّارُ.

’’আমি আমার একটি গোলামকে মারছিলাম এমতাবস্থায় পেছন থেকে শুনতে পেলাম, কে যেন আমাকে বড় আওয়াজে বলছে: শুনো, হে আবূ মাস্’ঊদ্! তুমি এর উপর যতটুকু ক্ষমতাশীল তার চাইতেও অনেক বেশি ক্ষমতাশীল আল্লাহ্ তা‘আলা তোমার উপর। অতঃপর আমি (পেছনে) তাকিয়ে দেখি, তিনি হচ্ছেন স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। অতএব আমি বললাম: হে আল্লাহ্’র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! একে আল্লাহ্ তা‘আলার সন্তুষ্টির জন্য স্বাধীন করে দিলাম। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তুমি যদি এমন না করতে তা হলে তোমাকে জাহান্নামের অগ্নি স্পর্শ করতো অথবা পুড়িয়ে দিতো’’।

(মুসলিম ১৬৫৯)

হিশাম বিন্ ’হাকীম (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

إِنَّ اللهَ يُعَذِّبُ الَّذِيْنَ يُعَذِّبُوْنَ النَّاسَ فِيْ الدُّنْيَا.

‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা‘আলা ওদেরকে শাস্তি দিবেন যারা দুনিয়াতে মানুষকে (অন্যায়ভাবে) শাস্তি দেয়’’। (মুসলিম ২৬১৩)

আল্লাহ্ তা‘আলা অত্যাচারী ও কারোর উপর অন্যায় মূলক আক্রমণকারীর শাস্তি দুনিয়াতেই দিয়ে থাকেন। উপরন্তু আখিরাতের শাস্তি তো তার জন্য প্রস্ত্তত আছেই।

আবূ বাক্রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

مَا مِنْ ذَنْبٍ أَجْدَرُ أَنْ يُّعَجِّلَ اللهُ لِصَاحِبِهِ الْعُقُوْبَةَ فِيْ الدُّنْيَا مَعَ مَا يَدَّخِرُ لَهُ فِيْ الْآخِرَةِ مِنَ الْبَغْيِ وَقَطِيْعَةِ الرَّحِمِ.

‘‘দু’টি গুনাহ্ ছাড়া এমন কোন গুনাহ্ নেই যে গুনাহ্গারের শাস্তি আল্লাহ্ তা‘আলা দুনিয়াতেই দিবেন এবং তা দেওয়াই উচিৎ; উপরন্তু তার জন্য আখিরাতের শাস্তি তো আছেই। গুনাহ্ দু’টি হচ্ছে, অত্যাচার তথা কারোর উপর অন্যায় মূলক আক্রমণ এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী’’।

(আবূ দাউদ ৪৯০২; তিরমিযী ২৫১১; ইব্নু মাজাহ্ ৪২৮৬; ইব্নু হিববান ৪৫৫, ৪৫৬ বায্যার, হাদীস ৩৬৯৩; আহমাদ ২০৩৯০, ২০৩৯৬, ২০৪১৪)

কপিরাইট
2013-2026 Hadithbd, All rights reserved.
Developer: Rokon UL Haque
Privacy policy
Bangla text convrter

16/02/2026

মহিলা প্রয়োজনে পর পুরুষের সাথে কথা বলতে পারে। তবে সে কথা যেন স্বাভাবিক হয়; না রুক্ষ না কর্কশ হয়, আর না মধুময় আকর্ষণীয় হয়। মহান আল্লাহ বলেছেন, “হে নবী পত্নীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও; যদি তোমরা আল্লাহ্‌কে ভয় কর তবে পরপুরুষের সাথে কোমল কণ্ঠে এমনভাবে কথা বলো না, যাতে অন্তরে যার ব্যাধি আছে সে প্রলুব্ধ হয়। আর তোমরা সদালাপ কর।(স্বাভাবিকভাবে কথা বল।)” (আহযাবঃ ৩২)

প্রয়োজনে কিংবা অপ্রয়োজনে বেগানা (গায়রে-মাহরাম) নারীর সাথে কথা বলা:

যদি অপ্রয়োজনে হয় এবং নারীর কণ্ঠস্বর শুনে স্বাদ অনুভব হয় কিংবা নারী কোমল কণ্ঠে কথা বলে— তাহলে সেটা হারাম। এটি জিহ্বা ও কানের ব্যভিচারের অন্তর্ভুক্ত। যেটার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আদম সন্তানের উপর ব্যভিচারের যতটুকু অংশ লিপিবদ্ধ করা রয়েছে ততটুকু সে অবশ্যই পাবে; এর থেকে নিস্তার নেই। নিঃসন্দেহে দুই চোখের ব্যভিচার হল তাকানো, দুই কানের ব্যভিচার হল শোনা, জিহ্বার ব্যভিচার হল কথোপকথন, হাতের ব্যভিচার হল ধরা, পায়ের ব্যভিচার হল হেঁটে যাওয়া, হৃদয়ের ব্যভিচার হল কামনা-বাসনা করা। আর লজ্জাস্থান তা সত্যায়িত করে বা মিথ্যা সাব্যস্ত করে।”[মুসলিম হাদীসটিকে উক্ত শব্দে বর্ণনা করেছেন: ২৬৫৭]

অন্যদিকে যদি নারীর সাথে কথা বলার প্রয়োজন থাকে তাহলে মৌলিকভাবে সেটা বৈধ। কিন্তু নিম্নোক্ত শিষ্টাচারগুলো রক্ষা করা বাঞ্চনীয়:

১- প্রয়োজনীয় কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা; যে কথা উদ্দিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। বিষয়গুলোর শাখা-প্রশাখায় লম্বা আলাপ জুড়ে দেওয়া যাবে না। সম্মানিত ভাই, এক্ষেত্রে আপনি সাহাবীদের শিষ্টাচার ভেবে দেখুন। যাতে করে আমাদের বর্তমান অবস্থাগুলোর সাথে সেটাকে তুলনা করতে পারেন। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে মুনাফিকরা যে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছিল তিনিই সেই ঘটনা বর্ণনা করেছেন। সে ঘটনার মধ্যে তিনি বলেছেন:

“সাফওয়ান ইবনুল মুয়াত্তাল, যিনি প্রথমে আস-সুলামী এবং পরে আয-যাকওয়ানী (গোত্রীয় উপনাম) সৈন্য বাহিনীর পেছনে ছিলেন। তিনি সকালের দিকে আমার অবস্থান স্থলের কাছাকাছি এসে পৌঁছলেন এবং একজন ঘুমন্ত মানুষকে আবছা দেখতে পেয়ে আমার দিকে এগিয়ে এলেন। দেখেই আমাকে চিনতে পারলেন। কারণ পর্দার বিধান নাযিলের আগেই তিনি আমাকে দেখেছিলেন। তার ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া-ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ পড়ার শব্দে আমি জেগে উঠলাম এবং আমি আমার জিলবাব দিয়ে মুখ ঢেকে ফেললাম। আল্লাহর কসম! আমরা কোনো কথা বলিনি এবং তার মুখ থেকে ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া-ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ ছাড়া তার কাছ থেকে কোনো শব্দ শুনিনি। তিনি নেমে উটটিকে হাঁটু গেড়ে বসালেন এবং উটের সামনের পা চেপে ধরলেন। তখন আমি উটের কাছে গিয়ে উটের পিঠে আরোহন করলাম। তিনি আমাকেসহ সওয়ারীটি সামনে থেকে টেনে নিয়ে চললেন। অবশেষে আমরা সেনাদলের কাছে পৌঁছলাম।”[বুখারী (৪১৪১) ও মুসলিম (২৭৭০)]

ইরাকী (রহঃ) বলেন:

“তার কাছ থেকে কোনো শব্দ শুনিনি” এই কথা পুনরাবৃত্তি নয় (তথা পূর্বের কথা: ‘আল্লাহর কসম! আমরা কোনো কথা বলিনি’ এর পুনরাবৃত্তি নয়)। হতে পারত তিনি (সাফওয়ান) তার সাথে কথা বলেন না; কিন্তু নিজের সাথে কথা বলেন। কিংবা কুরআন তেলাওয়াত বা যিকির তিনি (আয়েশা) শুনার মত উচ্চস্বরে পড়তে পারতেন। কিন্তু তিনি (সাফওয়ান) সেটাও করেননি। বরং শিষ্টাচার ও মর্যাদা রক্ষা এবং পরিস্থিতির ভয়াবহতায় তিনি নীরবতা বজায় রাখেন।

এই হাদীস থেকে প্রাপ্ত অন্যতম শিক্ষা হলো: বেগানা নারীর সাথে উত্তম শিষ্টাচার বজায় রাখা। বিশেষতঃ জরুরী পরিস্থিতিতে মরুভূমিতে কিংবা অন্য কোথাও তাদের সাথে নির্জন বাস ঘটলে। যেমনটি সাফওয়ান (রাঃ) করেছিলেন। তিনি কোনো কথা না বলে বা প্রশ্ন না করে উটকে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে দিয়েছিলেন।”[সংক্ষেপে সমাপ্ত][ত্বারহুত তাসরীব (৮/৫৩)]

২- হাসি-ঠাট্টা এড়িয়ে চলা। কেননা এটা শিষ্টাচার বা ব্যক্তিত্বের মধ্যে পড়ে না।

৩- স্থির নজরে দেখা থেকে বিরত থাকা। সাধ্যমত দৃষ্টি নীচু রাখতে সচেষ্ট থাকা। তবে কথা বলতে গিয়ে যদি অল্প নজর পড়ে যায় তাহলে গুনাহ হবে না; ইনশা আল্লাহ।

৪- উভয়পক্ষ থেকে কোমল স্বরে কথাবার্তা না হওয়া। যেমন: কৃত্রিমভাবে স্বরকে নরম করা, কথাকে কোমল করা। উভয়পক্ষ স্বাভাবিক কণ্ঠস্বরে কথা বলা। আল্লাহ তায়ালা উম্মাহাতুল মুমিনীনকে বলেন, “তোমরা পর-পুরুষের সাথে কোমল কন্ঠে এমনভাবে কথা বলো না যাতে অন্তরে যার ব্যাধি রয়েছে সে প্রলুব্ধ হয়। তোমরা সঙ্গত কথা বলবে।”[সূরা আহযাব, আয়াত: ৩২]

৫- প্রেম-ভালোবাসার কিঞ্চিৎ ভাব বা ইঙ্গিতবহ শব্দগুলো এড়িয়ে চলবে। অথবা এমন সব শব্দ পরিহার করবে যেগুলো নারী বা পুরুষের লিঙ্গের সাথে বিশিষ্ট।

৬- শ্রোতার ওপর প্রভাব সৃষ্টি করার শৈলীগুলোতে বাড়াবাড়ি ত্যাগ করা। কিছু মানুষ অন্যদের সাথে কথার সময় তার সর্বোচ্চ যোগ্যতা প্রয়োগ করে; সেটি কথা বলতে গিয়ে হাত-মুখ নাড়ানো কিংবা কবিতা, প্রবাদ-বাক্য বা আবেগী বাক্য ব্যবহার করার মাধ্যমে। যেহেতু এটি দুই লিঙ্গের মাঝে হারাম সম্পর্ক তৈরিতে শয়তানের দ্বার উন্মুক্ত করে দেয়।

ইবনুল কাইয়িম রাহিমাহুল্লাহ বলেন:

“কবিগণ বেগানা নারীর সাথে কথাবার্তা বলা এবং তাদের দিকে তাকানোকে কোনো সমস্যা মনে করে না। অথচ এটা শরীয়ত এবং আকলের বরখেলাফ। এতে করে প্রত্যেকের স্বভাবে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি যে আকর্ষণ আছে সেটাকে জাগ্রত করে তোলা হয়। এর কারণে কত মানুষ যে দ্বীনি ও দুনিয়াবী ফিতনায় পড়েছে!”[রাওদাতুল মুহিব্বীন (পৃ-৮৮)]

Address

Chittagong
4320

Telephone

+8801518477360

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আশার আলোছায়া "Ashar Alochhaya" posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to আশার আলোছায়া "Ashar Alochhaya":

Shortcuts

Share