12/06/2026
আমরা যে একটা অসৌজন্য, স্বার্থপর জাতি-তার আরেকটা চাক্ষুষ প্রমাণ পেলাম।
দিনাজপুর থেকে ঢাকায় যাচ্ছি।বাইরে প্রচন্ড রোদ,আর ভেতরে মারাত্মক ভীড়।সাথে ট্রেনের ছাদভর্তি মানুষ।বাহির থেকে মানুষ এমন আগ্রহ নিয়ে দেখতেছে,যেমনটা কুরবানির হাটে কুরবানির গরু দেখে।
ট্রেন সম্ভবত নাটোর স্টেশনে থামলো।জানালা দিয়ে বাইরে তাকায়ে দেখলাম,পাশের একটা খাবারের হোটেলে এক ছেলে কাঁচের গ্লাস পরিষ্কার করছে।
ট্রেন পাশে এসে থামামাত্রই সে আগ্রহ নিয়ে ট্রেনের দিকে তাকালো।এমন সময় ট্রেনের ভেতরে বসা কয়েকজন যাত্রী তাকে ডেকে একটা বোতল ছুড়ে দিল হোটেল থেকে পানি ভরিয়ে দেয়ার জন্য।বাচ্চাটা বেশ আগ্রহ নিয়েই বোতলটা নিয়ে পানি ভরিয়ে আনতেই মানুষ জন আরও বোতল ছোড়া শুরু করলো।দেখে বুঝার উপায় নাই,পানি আনার জন্য নাকি আঘাত করার জন্য বোতল ছুড়ছে!
এর মাঝে ট্রেনের ভেতর থেকে ছোড়া একটা বোতলের ছিপির শক্ত অংশটা সরাসরি গিয়ে বাচ্চাটার চোখে লাগলো।সে চোখ চেপে ধরে কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে থাকলো।আমি খেয়াল করে দেখলাম,যেই লোকটা বোতল ছুড়েছে, সে দিব্বি হাসাহাসি করছে,বোতল চোখে লাগায় মজা পেয়েছে মনে হয়।
অথচ বাচ্চাটা চোখে হাত দিয়েই একটা একটা করে সবগুলো বোতল ভরিয়ে এনে ট্রেনের ভেতরে আর ছাদে-যার যার কাছে দিয়ে গেল।
মজার ব্যাপার কি জানেন?এইযে এতজনের এতগুলো বোতলভর্তি পানি যে সে দিয়ে গেল,কেউ খুশি হয়ে বাচ্চাটাকে দশটা টাকা তো দূরে থাক,একটা হাসি মাখা ধন্যবাদ পর্যন্ত দিল না!
ভাই,দুই লিটার পানির দাম ৪০ টাকা।এই ছেলেটা বোতল ভরিয়ে না দিলে এক পয়সা কমেও পানি কিনতে পারতো না!
অথচ,এই ছেলেটা নিজের হোটেলের কাজ বাদ দিয়ে,চোখে বোতলের আঘাত নিয়ে মিনিট দশেক দৌড়ে দৌড়ে এক এক করে সবাইকে পানি এনে দিল,তবুও কারও মাঝে সামান্য সৌজন্যের চিহ্ন টুকুও নাই!
অসৌজন্যতা আমাদের জাতিগত সমস্যা।আমরা কাউকে সাধাসিধা পেলে তাকে যখন যেভাবে পারি ব্যবহার করি।একটাবারও তার কথা ভাবি না।আর সেই মানুষটা মুখ বুজে সব করে যায়..কোনো বিনিময় ছাড়াই।
প্রিয় ছোটভাই,
তুমি একটা নিষ্ঠুর পৃথিবীতে বড় হচ্ছো।এই পৃথিবীতে সবাই শুধু নিজেরটা বুঝে।স্বার্থ ছাড়া এখানে কেউই কারোর না।তবুও দোয়া রাখি,মানুষের স্বার্থপরতা তোমার কমলতাকে যেন কখনোই মুছে না দেয়।
আবার যদি কখনো আমার ট্রেন তোমার হোটেলের সামনে থেমে যায়,সেদিন বাকিদের যে উপকার তুমি করলে তার জন্য ধন্যবাদ দিয়ে আসবো।
ঈশ্বর তোমাকে ভালো রাখুন।💜
Imran Khan fahim 🙏