13/08/2026
আমাদের জন্য সবচেয়ে আনফরচুনেট হচ্ছে হাসিনা বাংলাদেশকে দেউলিয়া ঘোষণার ঠিক বছরখানেক আগেই তার পতন হইছে।
কারন মানুষের কাছে সিনারিওটা ক্লিয়ার না, এজন্য মানুষ "৬ মাসেও পরিস্থিতি ঠিক হয়না কেন" বলে ক্ষেপাটাই স্বাভাবিক।
কেন বলতেছি একটু বুঝায়ে বলি।
২০২৪ সালের আগস্ট মাসের শুরুতে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের শেষ সময়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে মোট বকেয়া ও দায়দেনার পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৯,০০০ কোটি টাকা (বা প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার)।
কিন্তু এটা পুরা সিনারিও না।
মূল ঘটনাটা এর আড়ালে। সেটা হইলো- ব্যাংকিং খাতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ঋণের বোঝা রয়েছে প্রায় দেড় লক্ষ কোটি টাকা।
আবার পড়েন সংখ্যাটা ১,৫০,০০০ "কোটি" টাকা।
বাংলাদেশের মোট বাজেটের প্রায় ১/৪ বা ১/৫ ভাগ।
এখন এটা হচ্ছে মেজর সেক্টর যেখানে লুট হইছে, পাচার হইছে।
এবার আসেন টোটাল সিনারিও তে।
দেশের বর্তমান রিজার্ভ (আইএমএফ হিসাব মতে) ৩২ বিলিয়ন ডলার, যেটা হাসিনা ছেড়ে যাওয়ার সময়ে ২০ এর নিচে ঘুরপাক খাচ্ছিল।
রিজার্ভ কি আর বাজেট কি?
রিজার্ভ মানে হইলো যে টাকা দিয়ে আপনি ডলারে পেমেন্ট করে আপনার আমদানি বিল মিটাবেন।
আর বাংলাদেশের ইন্ডাস্ট্রিয়ালের বাইরে মেজর আমদানি হইলো আপনার নিত্য প্রয়োজনীয় এবং খাদ্যপণ্য, সার।
বেসিকালি আমরা একটা ভোক্তা জাতি যারা সবকিছুই আমদানি করে ভোগ করি। আর বাজেট হইলো খরচের খাত।
আর এটার বিল পে হয় গার্মেন্টস ব্যবসা এবং প্রবাসী শ্রমিকদের রেমিটেন্সের সাপোর্টে।
এই আমদানি-রপ্তানির ফাঁকে দেশ থেকে পাচার করা হইছে এরাউন্ড ২০০ বিলিয়ন ডলার।
মানে বর্তমান হিসেবে ৬ বছরের আর হাসিনার টাইমের হিসাবের ১০ বছরের রিজার্ভ।
২০০১-০৮ বা ধরেন প্রথম দশক পর্যন্ত বাংলাদেশের যে গ্রোথ পটেনশিয়াল ছিল সেটার জন্য সারা দুনিয়া ইনভেস্ট করছে পরের ১০ বছর।
কিন্তু এই টাকার মেজরিটি লুট এবং পাচার হইছে এবং একটা পর্যায়ে সেটা সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমেই হইছে।
এখন ২০১৯ এর পর মানে কোভিডের পর আমাদের দেশে যারা টাকা ঢালছে ওদের ইকোনমিও স্লো হইতে শুরু করছে।
এরপর ওরা টাকা টান দেয়া শুরু করলে দেখা গেছে আর কিছুই থাকেনা।
এরপর হাসিনা দুনিয়ার সবচেয়ে নিকৃষ্ট ডিসিশন নিছে।
সে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পরও যখন লোডশেডিং দিয়ে কাভার করতে পারতেছিলো না,
সে এটার সলিউশন বের করছে টাকা ছাপানোর মাধ্যমে ব্যাংকগুলাতে সাপ্লাই দিয়ে এবং সে সাপ্লাই এর টাকা এবার সরাসরি ব্যাংক থেকে লুটের নির্দেশনা দিয়ে।
অর্থাৎ, এই টাইমটাতে দেশে সব "আওয়ামী" ব্যাংক থেকে টাকা নিছে, কিন্তু এই টাকা যেহেতু ফেরত দিবেনা আর কখনো,
এটাকে কাগজে কলমে দেখাইছে এনপিএল বা নন পারফর্মিং লোন হিসেবে।
এখন বলতে পারেন এভাবে চলতে থাকলে তো এক পর্যায়ে দেউলিয়া ঘোষণা করতে হতোই,
তাহলে হাসিনার প্ল্যান কি ছিল?
সে টাকার জন্য সবার কাছে গেছে কেউ তারে দেয় না। কারন পুরা দুনিয়া জানে সে টাকা পাইলে কি করে।
এরপর গেছে ইন্ডিয়ার কাছে। ইন্ডিয়াও তাকে দিবেনা। শেষে গেছে চীনের কাছে।
চীন হাতে কিছু না দিয়ে ফেরত পাঠায়ে দিছে এবং দেশে আসার পর হাসিনার পতন হইছে।
অর্থাৎ বাংলাদেশ দেউলিয়া ঘোষণার আগেই হাসিনার পতন হইছে।
এখন কথা হইলো সমস্যা তো বললাম, সলিউশন কি?
সলিউশন হইলো লিবারেলাইজেশন অফ ইকোনমি টু দ্যা হাইয়েস্ট লেভেল।
লেফটিস্ট ইকোনমিকাল গ্রিপের চিন্তাকে টোটালি ঝেঁড়ে ফেলতে হবে।
অমুকের কাছে গেলে পরে যদি বিপদ হয় তমুকের কাছে গেলে দাম যদি বেশি হয়,
বাকওয়াজ। টোটালি প্রাইভেট সেক্টর আর বিদেশি সেক্টরের মধ্যে কম্পিটিশন করার জন্য ছেড়ে দেন।
কোন সেক্টরেই একক প্লেয়ার রাখবেন না। সেটা দেশের ব্যবসায়ী হোক কিংবা বাইরের কোন রাষ্ট্র।
গ্যাস বিদ্যুতে আমেরিকা একা- তাহলে এখানে চীনকে আনেন, সৌদি আরবকে আনেন।
অন্য কোন সেক্টর বসুন্ধরা চাইতেছে তারে সীমিত দিয়ে একইসাথে টিকে, সিটি, মেঘনা সবাইরে দেন।
এই যে টাইম বাই করছেন এই সময়ে এবার সোলার বিপ্লব করেন, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনেন,
বিভিন্ন দেশ সফরে যান, আমেরিকা যান, গালফ যান, ইন্ডিয়া যান, চীনের এলাইদের দেশে যান।
আইএমএফ সার্টিফিকেট নিয়ে বাইরের ফান্ডিং আনেন একইসাথে চীন আর গালফের অর্থায়নও নিশ্চিত করেন।
আমার ধারণা এগুলা আউট অফ দ্যা বক্স কিছু না। গভমেন্ট প্ল্যানও এর চেয়ে ব্যতিক্রম কিছু না।
তাহলে সমস্যা কোথায়? এক জায়গাতেই। আপনারা জনগণের কাছে ম্যাসেজটা কনভে করতে পারছেন না।
আপনাদের একজন প্রেস সচিব মুখে তালা দিয়ে রাখে,
আরেকজন প্রেস সচিবের কাজ হইলো ঘুম থেকে উঠে "শুভ সকাল, আলহামদুলিল্লাহ, সবার আগে বাংলাদেশ, ইনশাআল্লাহ" বলে নিজের ছবি পোস্ট করা।
বিএনপি ইতিহাসে কখনোই সরকার চালাইতে গিয়ে ইকোনমিকে ফেইল করায় নাই কিন্তু বিএনপি এরপরও গালির পর গালি খেয়ে গেছে এই মিডিয়া এবং প্রেস ডিল করতে না পারার কারনে।
সর্যি তারেক রহমান, আপনার দল, আপনার টিম মিডিয়া জিনিসটা বুঝেনা।
আপনার দল এই সেক্টরে অলওয়েজ একটা ফেইলিওর। এবং এই একটা সেক্টর যদি ঠিক না থাকে আপনার ভালো কাজ, ভালো নিয়তের কোন ভেল্যু থাকবেনা।
দুনিয়া ভালো আর খোঁজে না। দুনিয়া খোঁজে কে ইল্যুশন দেখাইতে পারে।
ওয়েক আপ ম্যান, এটা এআই এর যুগ। এটা ইল্যুশনের যুগ, এটা ভার্চুয়াল রিয়েলিটির যুগ।
এই যুগে ইউসুফ কেউ খোঁজে না, কিন্তু হ্যা; এক হাতে জান্নাতের সেই কানা দাজ্জালটা...তাকে দেখতে বেশ চকচকে লাগে!