03/05/2026
রূপপুর এখন আর কেবল স্বপ্ন নয়—এটি বাস্তবতার পথে এগিয়ে চলা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি প্রকল্প। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাস্তবায়নের এই যাত্রার পেছনে যাঁর দূরদৃষ্টি ও উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি গড়ে দেয়, তিনি হলেন বাংলাদেশের বিখ্যাত পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া।
১৯৯০-এর দশকে, যখন বাংলাদেশে হাজার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধারণাই অনেকের কাছে দূরস্বপ্ন ছিল, তখন ওয়াজেদ মিয়া পারমাণবিক শক্তিকে দেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি সমাধান হিসেবে কল্পনা করেছিলেন। তিনি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এই প্রকল্পের প্রাথমিক পরিকল্পনা ও অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখেন—এটি বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যসূত্রে উল্লেখ আছে, যদিও প্রকল্প বাস্তবায়নের পূর্ণ কৃতিত্ব বহু সরকার ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।
ওয়াজেদ মিয়ার জন্ম ১৯৪২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি, রংপুরের পীরগঞ্জে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণায় যুক্ত ছিলেন, যেমন ইতালির আন্তর্জাতিক তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান কেন্দ্র-এ। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্র মূলত পারমাণবিক বিজ্ঞান ও রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট ছিল।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাদাসিধে, নীতিবান এবং নির্লোভ—এমন বর্ণনা তাঁর সমসাময়িকদের অনেক সাক্ষ্যেই পাওয়া যায়, যদিও এসব মূল্যায়ন আংশিকভাবে ব্যক্তিগত মতামতের ওপর নির্ভরশীল। তবে এটুকু নিশ্চিতভাবে বলা যায়, তিনি বাংলাদেশের বিজ্ঞানচর্চা ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রবক্তা ছিলেন।
২০০৯ সালের ৯ মে তাঁর মৃত্যু হলেও, তাঁর স্বপ্ন আজ বাস্তবায়নের পথে দৃশ্যমান। রূপপুর প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশগুলোর কাতারে যুক্ত হয়েছে—এটি একটি যাচাইযোগ্য বাস্তবতা।
ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া ছিলেন এমন এক বিজ্ঞানী, যিনি কেবল গবেষণাগারেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না—বরং দেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও ভাবতেন। রূপপুর প্রকল্প সেই দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গিরই একটি বাস্তব প্রতিফলন।