17/11/2025
শুক্রবারের সকালে বরিশাল-বানারীপাড়া সড়ক ধরে এগোতে এগোতেই চোখে পড়ল উজিরপুর উপজেলা। পথের দু’ধারে গ্রামাঞ্চলের শান্ত সৌন্দর্য—আর ঠিক সড়কের পাশেই গুঠিয়ার চাংগুরিয়া গ্রাম। এখানেই দাঁড়িয়ে আছে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ ও মনোমুগ্ধকর মসজিদ—গুঠিয়া বাইতুল আমান জামে মসজিদ।
আমি ভ্রমণে বের হয়েছিলাম সেদিন, শুক্রবার। সামনে এগোতেই যেন চোখ আটকে গেল বিশাল কমপ্লেক্সটির দিকে। পরে জেনেছি, ২০০৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্থানীয় শিক্ষানুরাগী এস. সরফুদ্দিন আহম্মেদ সান্টু তাঁর নিজ বাড়ির সামনে প্রায় ১৪ একর জমির ওপর এই মসজিদ-ঈদগাহ কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। দীর্ঘ তিন বছরের নির্মাণ–পরিশ্রম শেষে ২০০৬ সালে এর কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়।
ভেতরে ঢুকে যেন অন্য এক জগতে পৌঁছে গেলাম। সুবিশাল মসজিদ আর দৃষ্টিনন্দন মিনার—যার উচ্চতা প্রায় ১৯৩ ফুট। একসঙ্গে প্রায় দেড় হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন এমন প্রশস্ততা। পাশে বিশাল ঈদগাহ ময়দান—ধারণক্ষমতা ২০ হাজারেরও বেশি। চারপাশে লেক, পুকুর, নানা রঙের ফুলের বাগান, এতিমখানা, ডাকবাংলো, গাড়ি পার্কিং—সব মিলিয়ে এক অবিশ্বাস্য শান্ত আর পরিপাটি পরিবেশ।
কমপ্লেক্সের মূল প্রবেশমুখে বড় পুকুরটি নজর কাড়বে যে কারও। ঈদগাহের দুই পাশে ফোয়ারার স্নিগ্ধ শব্দে জায়গাটা আরও মুগ্ধকর হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের কাছ থেকে শুনলাম, প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার নির্মাণশ্রমিক এই প্রকল্পে কাজ করেছিলেন—ভাবতেই বিস্ময় লাগে।
সব মিলিয়ে গুঠিয়া মসজিদ শুধু একটি নামাজের জায়গা নয়—বরং একটি শিল্পকর্ম, একটি দর্শনীয় স্থান। শুক্রবারের সেই সফর আমার মনে এক বিশেষ ছাপ ফেলে গেছে।