07/12/2023
"পুলিশের চাকরি যারা করেন তাদের বেশীরভাগেরই সবচেয়ে বড় সংকট হচ্ছে একাকীত্ব। যতই দিন যায় ওনারা ওনাদের আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধবদের নিকট হইতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান।
অনেকেই হয়ত বলবেন, দিনে দুই চার দশ মিনিট সময় বের করা যায় না এটা এক ধরনের ফালতু কথা। মাঝেমধ্যে আমারও তাই মনে হয়। মনে হয় আসলেই তো সারা দিনে চাইলে অবশ্যই দশ বিশ মিনিট সময় বের করা যায়।
মুশকিলটা হলো এই সময় বের করার ইচ্ছেটা পুলিশ সদস্যদের ক্রমাগত কমতে থাকে। কেন কমতে থাকে? ধরেন সারা রাত একজন পুলিশ সদস্য ডিউটির জন্য ঘুমাতে পারেননি। সকালে এসে একটু শুইলেন। আর একের পর এক ওনার ফোন বাজতে থাকলো। আচ্ছা ওনার তখন ফোন রিসিভ করতে ইচ্ছে করবে?
গ্রাম পর্যায়ের একটা অপেক্ষাকৃত কম ব্যস্ত থানার একজন সাব-ইন্সপেক্টর পর্যায়ের অফিসারকে প্রতিদিন এভারেজে ৫০টা কল রিসিভ করতে হয়। ওনারা থানার ডিউটি অফিসার থাকলে সেদিন কত ফোন রিসিভ করতে হয় তার গতানুগতিক কোন হিসাব নেই। এই কল রিসিভ করার হার যতই উপরের অফিসারের দিকে যাবেন ততই বেশী।
তার উপর আবার আছে ফোনে রেসপন্স করার সময়ানুবর্তিতা। পুলিশের কোন সদস্যই ফোন বন্ধ করে একটা ঘুম দিতে পারেন না। পারেন না ফোন বন্ধ করে ছুটি কাটাতে। ২৪ ঘন্টা সচল রাখতে হয় ফোন। সচল রাখতে হয় ওয়্যারলেস সেট। বাস্তবতা হইল বাথরুমে গেলেও ফোন রাখতে হয় সাথে। রেসপন্স করতে হয় ফোন কলে।
গত চার মাসে আমার থানার ওসি স্যারকে কখনো সেকেন্ডবার কল করতে হয় নাই আমার। প্রথম ফোনেই উনি কল রিসিভ করেন - সে রাত চারটাই হোক, আর ভোর ছয়টাই হোক। তার মানে কি পরিমাণ এলার্ট রাখতে হয় নিজেকে।
কাজের অত্যধিক প্রেশারের পাশাপাশি সমাজের নানান সমস্যার এত এত ফোন রিসিভ করতে করতে নিজের ব্যক্তিগত মানুষগুলাকে ফোন করার ইচ্ছেটা পুলিশ সদস্যদের ক্রমাগত মরে যায়। মরে যায় কুশলাদি বিনিময় করার প্রবনতা। অথচ ওই মানুষগুলা ভুল বুঝতে থাকে এপারের মানুষটিকে।
এই যন্ত্রণাটা কাউকে বোঝানো যায় না-দেখানো যায় না। পুলিশ সদস্যরা ওনাদের কোন যন্ত্রনাই কারো সাথে শেয়ার করতে পারেন না- না পরিবারের সাথে, না বন্ধুদের সাথে।
"সংগৃহীত"