25/05/2026
হাদিসে বর্ণিত এই দোয়ার ফজিলত এতটাই বিস্ময়কর যে, প্রথমবার শুনলে অনেকের পক্ষেই বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু সুসংবাদটি দিয়েছেন স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সাঃ)।
হাসপাতালে গেলেন, দেখলেন কেউ কঠিন রোগে আক্রান্ত।
হয়তো কারো ক্যা'ন্সার হয়েছে, কেউ পক্ষা_ঘাতে আক্রান্ত,
কেউ দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি রোগ নিয়ে কষ্ট পাচ্ছেন, যা দেখলেই বুক কেঁপে ওঠে। সেই মুহূর্তে অনেকের মনেই একটি কথা আসে, হে আল্লাহ, আমাকে এই পরীক্ষা থেকে হেফাজত করুন।
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এমন সময় একটি বিশেষ দোয়া শিখিয়েছেন। হাদিসে এসেছে, কোনো বিপদগ্রস্ত বা রোগাক্রান্ত ব্যক্তিকে দেখে যদি কেউ এই দোয়াটি পড়ে, তাহলে আল্লাহ তাকে সেই ধরনের পরীক্ষা থেকে হেফাজত করতে পারেন। (হাদিসে এ বিষয়ে সুসংবাদ বর্ণিত হয়েছে।)
দোয়াটি
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي عَافَانِي مِمَّا ابْتَلَاكَ بِهِ وَفَضَّلَنِي عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقَ تَفْضِيلًا
উচ্চারণ:
আলহামদুলিল্লাহিল্লাযী আফানী মিম্মাবতালাকা বিহি, ওয়া ফাদ্দালানী আলা কাসীরিম মিম্মান খালাকা তাফদীলা।
অর্থ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে সেই বিপদ থেকে নিরাপদ রেখেছেন, যে বিপদে তোমাকে পরীক্ষা করেছেন এবং তাঁর বহু সৃষ্টির উপর আমাকে বিশেষ অনুগ্রহ দান করেছেন।
একটি গুরুত্বপূর্ণ আদব
এই দোয়াটি এমনভাবে পড়া উচিত, যাতে অসুস্থ ব্যক্তি শুনতে না পান এবং কষ্ট না পান। কারণ একজন অসুস্থ মানুষকে কষ্ট দেওয়া ইসলামের শিক্ষা নয়।
এই দোয়া আমাদের কী শেখায়? এই দোয়া শুধু রোগ থেকে বাঁচার জন্য নয়। এটি আমাদের শেখায়—সুস্থতা আল্লাহর বড় নিয়ামত। অন্যের কষ্ট দেখে অহংকার নয়, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে। আজ আমি সুস্থ, কিন্তু আগামীকাল আমিও পরীক্ষায় পড়তে পারি।
আমরা সাধারণত নিয়ামতের মূল্য বুঝি তখনই, যখন তা হারিয়ে যায়। যার চোখ আছে, সে অন্ধত্বের কষ্ট বোঝে না।
যার শরীর সুস্থ, সে রোগের কষ্ট বোঝে না। তাই কোনো অসুস্থ মানুষকে দেখলে শুধু আফসোস নয়, আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করুন।
আজ যদি আপনি সুস্থ থাকেন, হাঁটতে পারেন, দেখতে পারেন, স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতে পারেন—তাহলে জেনে রাখুন, এগুলো অমূল্য নিয়ামত। তাই যখনই কোনো বিপদগ্রস্ত বা অসুস্থ মানুষকে দেখবেন, তার জন্য দোয়া করুন এবং নিজের জন্যও এই দোয়াটি পড়ুন। কারণ, সুস্থতা এমন একটি নিয়ামত, যার মূল্য অধিকাংশ মানুষ তখনই বুঝতে পারে, যখন তা হারিয়ে ফেলে।
゚