Mishir Ali Blog

Mishir Ali Blog Personal Blog of Aziz Mishir Selim

https://youtu.be/HqpPwAoYyCc?feature=shared
15/10/2023

https://youtu.be/HqpPwAoYyCc?feature=shared

Shahjalal Int’l Airport: Third terminal The third terminal, a new beacon for the flourishing of the country's aviation industry, will significantly enhance p...

15/10/2023

 নাটক ও সিনেমার ডায়লগ আওড়ানোর মত করে আওয়ামীলিগকে পঁচা দূর্গন্ধ যুক্ত মলমূত্র, ও জননেত্রীকে কেন্দ্র করে যেসব গাল...

14/10/2023

হেডলাইন দিয়ে আমি আপনাদের এমন একটি দল বা গ্রুপকে বোঝাতে চাচ্ছি। যে দলের সদস্যরা হৃদয়ে, মননে ও  মস্তিষ্কে জননেত্র.....

29/09/2023

নেত্রীকে বাংলার জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নেত্রীর হয়ে কথা বলুন,
যেকোন এলাকার উন্নয়নের কথা উক্ত এলাকা থেকে বলুন, ছবি আপলোড করুন, লাইভ করুন,, টক শো করুন, অন্যায় অপবাদের প্রতিবাদ করুন এবং "নেত্রীকে সাথে নিয়ে বাংলার ঘরে ঘরে" গ্রুপে যোগ দিন; সেইসাথে সবকিছুই এখানে আপলোড করুন ~
***************************************************
স্মরণ রাখা উচিৎ;
নেত্রী থাকলে আমরা থাকবো,
নেত্রী থাকলে বাংলাদেশ থাকবে,
নেত্রী থাকলে নৌকার পালে পুনরায় হওয়া লাগবে ~

নেত্রীর প্রতি আগত যেকোন অন্যায় ও অযৌক্তিক অপবাদ ও যেকোন ধরনের আক্রমণের মৌখিক বা লিখিত প্রতিবাদ করার উপযুক্ত সময় এখনই ~

প্রতিবাদ করুন, প্রতিরোধ করুন, নেত্রীর প্রতি অন্যায় অপবাদ গুলোকে যুক্তি ও তর্কের মাধ্যমে বুমেরাং হিসেবে আক্রমণ কারীদের দিকে ফিরিয়ে দিন,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

নেত্রীকে ব্রেইনে ধারণ, লালন ও পালন করুন,,,,,,,,,,,,,,,,,,
তাহলেই নেত্রীর উপর যেকোন ধরনের আক্রমণে অটোমেটিক প্রতিক্রিয়া চলে আসবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
এটাই হোক নেত্রীর প্রতি এইবারের ৭৭ তম জন্মদিনের উত্তম উপহার ,,,,,,

সেইসাথে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নেত্রীকে , নেত্রীর মিশন/ভিশন/আদেশ/উপদেশকে পৌঁছে দিন গ্রামগঞ্জে ও আপামর জনসাধারণের মাঝে, ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

স্মরণ রাখা উচিৎ:
নেত্রী থাকলে আমরা থাকবো,
নেত্রী থাকলে বাংলাদেশ থাকবে,
অন্যথায় জননেত্রী হীন বাংলাদেশ, হয়ে উঠতে পারে আফগান,,,,,,

বর্তমান সময়ে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি এর যোগসূত্র কিন্তু সেই ধরনের পূর্বাভাসই দিচ্ছে ~

আন্তর্জাতিক মিডিয়া এবং পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প:পদ্মাসেতু বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি কোন উচ্চতায় নিয়ে গেছে; আ...
03/06/2022

আন্তর্জাতিক মিডিয়া এবং পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প:

পদ্মাসেতু বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি কোন উচ্চতায় নিয়ে গেছে; আমরা যারা বিদেশী সংবাদ মাধ্যমগুলিতে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে সাম্যক খোঁজখবর রাখি, তারা মোটামুটি অবগত আছি। উদ্বোধনের প্রাক্কালে দেশে দেশে পদ্মাসেতু নিয়ে যেসব খবর ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে, তা শুধু বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকেই উজ্জ্বল করছে না;বরং বাঙালি জাতি ও সফল রাষ্ট্রনায়ক জননেত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদের মনোবল, অদম্য ইচ্ছাশক্তি, সদিচ্ছা ও সক্ষমতা কে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিচ্ছে।
শুধু বাংলাদেশ নয়; সমস্ত উন্নয়নশীল দেশ ও দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়কদের কাছে পদ্মাসেতু হয়ে উঠেছে উন্নয়নের মডেল, অগ্রতির মডেল, এমনকি অসম্ভবকে সম্ভব করার মডেল।
অনেক দেশের বোদ্ধারা আওয়াজ তুলতে শুরু করেছে;বাংলাদেশ পারলে তারা কেন পারবে না ?
অনেক দেশের রাষ্ট্রনায়কে-রা মিডিয়া ও জনগণের দ্বারা জিজ্ঞাসিত হতে শুরু করেছে; শেখ হাসিনা ওয়াজেদ পারলে তারা কেন পারবে না ?

ভাবতেও অবাক লাগে, বিদেশীরা পদ্মাসেতুর গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারলেও আমাদের দেশের একশ্রেণীর মানুষ তা অনুধাবন করতে পারছে না বা স্বীকার করতে চাইছে না। অবশ্য~
যে-দেশের মানুষের একটি বড় অংশ জন্মনেয় কোন না কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে;
যে দেশের মানুষের একটি বড় অংশ রাজনৈতিক আদর্শ লালন ও পালন করে উত্তরাধিকার সূত্রে;
যে দেশের মানুষের একটি বড় অংশ বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করে; সে-দেশের মানুষের একটি অংশ যে পদ্মাসেতু নির্মাণের মধ্যে উন্নয়নের কিছু দেখতে পাবে না, বরং পদ্মাসেতু নির্মাণের মধ্যে দেশের অর্থনীতির ধবংস দেখতে পাবে~ তাতে আশ্চর্য হওয়ার কি আছে ?

দেশে দেশে পদ্মাসেতু নিয়ে প্রকাশিত খবরাখবরের মধ্যে ইন্ডিয়া ও পাকিস্তানের মিডিয়ায় প্রকাশিত কিছু খবর আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে; মূলতঃ একারণেই পদ্মাসেতু নিয়ে লিখতে বসেছি~
ইন্ডিয়ান বোদ্ধারা পদ্মাসেতুর কারণে তাদের দেশ কিভাবে উপকৃত হবে, বেশ কিছুদিন হয় সেই হিসাবনিকাশ করে যাচ্ছে এবং তা ফলাও করে মিডিয়ায় প্রচার করে যাচ্ছে; বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে পদ্মাসেতুর কারণে কি কি উন্নয়ন হবে, কি কি পরিবর্তিত হবে, সেই হিসাব শুরু করে দিয়েছে ভারতীয় কিছু বোদ্ধা ও মিডিয়া।
এই সেতুর কারণে ইন্ডিয়ায় চিকিৎসা করতে আসা বাংলাদেশী রোগীর সংখ্যা কি পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে ?
বাংলাদেশী পর্যটকের সংখ্যা কি পরিমাণ বৃদ্ধি ঘটবে ?
ঈদ ও উৎসব পার্বণে কি পরিমান অতিরিক্ত খদ্দের বাংলাদেশ থেকে ইন্ডিয়ায় কেনাকাটা বা মার্কেটিং করতে আসবে ? বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মার্কেটগুলোর ব্যাবসা কি পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে ?
এমনকি পদ্মাসেতুর কারণে পশ্চিমবঙ্গে কি পরিমান ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে~~
ইত্যাদি বিষয় নিয়ে হিসাবনিকাশ শুরু করে দিয়েছে ভারতীয় বোদ্ধাগন এবং মিডিয়ায়ও তা প্রকাশ ও প্রচার করা যাচ্ছে ফলাও করে।
বিষয়টি আমাকে দারুন আনন্দ দিয়েছে। কষ্টকরে পদ্মাসেতু নির্মাণ করলাম আমরা, আর উন্নয়নের হিসাব করে উনারা !¡! কি কইতাম কন ? হাসিও পায় আবার কষ্টও লাগে; তবে এ কষ্ট সেই কষ্ট, যে কষ্টের মধ্যে লুকিয়ে থাকে আনন্দ ও আত্মতৃপ্তি ।
ইন্ডিয়ান মিডিয়া অবশ্য এই সেতুর কারণে বাংলাদেশের কিছু লাভের খবরও প্রচার করছে, যেমন ইন্ডিয়া ও বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস পাওয়ার কথা বলছে, বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর দিয়ে এই সেতু হয়ে অল্পসময়ে ইন্ডিয়ার মালামাল পরিবহনের কারণে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাবে বলেও প্রচার করছে তারা, মালামাল পরিবহনে প্রায় ৮/১০ ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হবে বলেও উল্লেখ করছে তারা।
আশ্চর্যের বিষয় হলো; ইন্ডিয়ান মিডিয়ায় এই সেতু তৈরিতে জননেত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদের ভূমিকা কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে বলেই আমার কাছে মনে হয়েছে ।
পদ্মাসেতু তৈরিতে দেশের ভিতর ও বাহিরের বিরোধিতা, বিশেষ করে বিশ্বব্যাংক, মার্কিন সরকার ও বাংলাদেশের এক বিশ্বাসঘাতকের চক্রান্তকে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে সুকৌশলে।
বিশেষ করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু করার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর দেশের ভিতর ও বাহিরের হাসি তামাসার বিপরীতে শেখ হাসিনার দৃঢ়তা, একাগ্রতা এবং ঐকান্তিক প্রচেষ্টার বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে বলেই আমার কাছে মনে হয়েছে।

পক্ষান্তরে পাকিস্তান টাইমস পত্রিকায় পদ্মাসেতুর উপর প্রকাশিত নিবন্ধে ইন্ডিয়ান মিডিয়ার উল্টোটা প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বিস্তারিত ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে~
পদ্মাসেতুর কারণে কিভাবে বাংলাদেশের জিডিপি বৃদ্ধি পাবে, কিভাবে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে, কিভাবে পদ্মাসেতুর লিংক রোডের দুপাশে শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে, ইত্যাদি বিষয়গুলো পাকিস্তান টাইমস পত্রিকা খুব সুন্দর ও বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরেছে। এমনকি লেখক এই আশঙ্কাও করেছেন যে, পদ্মাসেতু চতুর্থ শিল্প-বিপ্লবের একটি অংশ হয়ে উঠতে পারে। লেখক অবশ্য এই চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বলতে কি বুঝিয়েছেন তা স্পষ্ট করননি, এটাকে কি তিনি ইউরোপের শিল্প বিপ্লবের প্রেক্ষিতে, নাকি অন্যকোন প্রেক্ষাপটে বলেছেন তা ক্লিয়ার করেন নি। এছাড়াও এই সেতুর শুরুর ইতিহাস, বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশী একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির চক্রান্তের ইতিহাসও তুলে ধরা হয়েছে বিস্তারিত ভাবে । তাছাড়া সমস্ত চক্রান্তের বিপরীতে জননেত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদের ভূমিকা, দৃঢ়তা এবং অদম্য ইচ্ছা শক্তির কথাও তুলে ধরেছে এই পাকিস্তানী পত্রিকা।
সেখানে বলা হয়েছে, দেশের উন্নয়নের মূর্তিমান প্রতীক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুর মতো স্থাপনা তৈরিতে বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আত্মবিশ্বাস ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন। বিশাল প্রতিবন্ধকতার পথে তাকে হাঁটতে হয়েছে কিন্তু তিনি তার গন্তব্যে ঠিকই পৌঁছেছেন। সেতুর নির্মাণের সময় যে ষডযন্ত্র ছড়িয়ে পড়েছিল তিনি তা দৃঢতার সাথে মোকাবেলা করে সত্য প্রতিষ্ঠা করেছেন।
আরও বলা হয়েছে, পদ্মা সেতু শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের স্বাক্ষর বহন করে। শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশের সক্ষমতা আরো একবার জানার সুযোগ পেল বিশ্ব। বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যারা বারবার তাদের সক্ষমতা দেখিয়েছে। আরও অনেক কিছুই বলা হয়েছে।
আমার কাছে পাকিস্তানীদের পক্ষহতে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের সুনাম ও সক্ষমতার কথা শুনতে ও পড়তে দারুন লাগে ।
নিয়ম অনুযায়ী তাদের শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের যেকোন সফলতায় বিরোধিতা বা সমালোচনা করার কথা, যেমন করে থাকে এই বাংলাদেশেরই একশ্রেণীর মানুষ যাদেরকে অনেকেই পাকিস্তানপন্থী বলে মনে করে।
কিন্তু নির্মম সত্যি হলো, সময়ের সাথে পাকিস্তানীদের বাংলাদেশের প্রতি মনোভাব বদলালেও; বাংলাদেশের পাকিস্তানপন্থীদের মনোভাব এখনও বদলায় নি। যেমন ছিল ১৯৭১ সালে; তেমনই ছিল ১৯৭৫ সালে; ২০২২ সালেও তেমনই আছে।
যাইহোক; সাধুবাদ পাকিস্তান, সাধুবাদ পাকিস্তান টাইমস পত্রিকা, সাধুবাদ পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশ্লেষক "ড: মালেকা-ই-আবিদা খাত্তাক"।

~আজিজ মিশির সেলিম~
সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি; Cuet
বর্তমান সাধারণ সম্পাদক; Cuet Chatraleague Alumni Association

ইউরোপ তো মরবেই~সাথে আমাদেরকে সঙ্গিকরেই মরবে।আজব এক যুদ্ধের ভিতর দিয়ে যাচ্ছে পৃথিবী। আপাতদৃষ্টিতে যে যুদ্ধের পক্ষ ও বিপক...
30/05/2022

ইউরোপ তো মরবেই~সাথে আমাদেরকে সঙ্গিকরেই মরবে।
আজব এক যুদ্ধের ভিতর দিয়ে যাচ্ছে পৃথিবী। আপাতদৃষ্টিতে যে যুদ্ধের পক্ষ ও বিপক্ষ, উভয়ের উদ্যেশ্য প্রায় একই; সময় ক্ষেপন।

আমেরিকা ও মিত্ররা ইউক্রেন কে যুদ্ধে টিকিয়ে রেখে সময়ক্ষেপণ এবং অবরোধের মাধ্যমে রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দিতে চাচ্ছে। অন্যদিকে রাশিয়া যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করে ইউরোপ এর দেশগুলিতে জ্বালানি ও খাদ্যদ্রব্যের দামের ঊর্ধ্বগতি ত্বরান্বিত করে, অস্থিতিশীলতা তৈরির মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটো এর মাঝে বিভক্তি আনতে চাইছে।
মাঝখান থেকে জেলেনোস্কীর মত পুতুল সর্বস্য সরকার প্রধানের কারণে ইউক্রেনের মত শিল্পীর তুলিতে আঁকা ছবির মত সুন্দর একটি দেশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে।

আরেকটি কারণে এই যুদ্ধ অন্যান্য যুদ্ধ থেকে আলাদা, আমরা যদি ইরাক, লিবিয়া, আফগানিস্থান ইত্যাদি যুদ্ধের দিকে তাকাই, তাহলে দেখতে পাবো~ আক্রান্ত দেশ ব্যতীত যুদ্ধরত অন্যান্যদেশ গুলো খুব কমই সামগ্রিকভাবে সমস্যায় পড়েছিল।
কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব শুধু রাশিয়া বা ইউক্রেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; ইউরোপ ও আমেরিকাসহ সরা বিশ্বেই এই যুদ্ধের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
অলরেডি এই যুদ্ধের প্রভাবে যুদ্ধ-বহির্ভূত দেশ মিশর, ইরাক ও পেরুতে খাদ্যসংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পেরুতে সরকার গণ-অসন্তোষকে দমাতে এমার্জেন্সি জারি করেছে। ইউরোপ ও আমেরিকায় মুদ্রাস্ফীতি-সহ জ্বালানি ও খাদ্যদ্রব্যের ঊর্ধ্বগতি অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে, ইংল্যান্ডের মত দেশে প্রায় ৩০% মানুষ খানাখাদ্য কমিয়ে দিয়েছে, অনেকেই তিনবেলার জায়গায় দুবেলা খাবার খাচ্ছে, গাড়ি ব্যবহার কমিয়ে দিচ্ছে, রুম হিটার বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে অনেকেই।
এটা শুধু ইংল্যান্ডের চিত্র নয়; ইউরোপ/আমেরিকার সবদেশেই কমবেশি একই চিত্র।
বলাহচ্ছে; ইউরোপ ও আমেরিকায় এই পরিস্থিতি ভয়াবহ পর্যায়ে নিয়ে গণ-অসন্তোষ ও বিক্ষোভের মাধ্যমে কয়েকটি দেশের সরকার প্রধানদের পতনের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলির ঐক্যে ভাঙ্গন ধরানো-ই রাশিয়া ও মিত্রদের উদ্যেশ্য। রাশিয়া ও মিত্র বললাম এই কারণে যে, নানান যুক্তি দেখিয়ে ভারতের গম ও চিনি রপ্তানি , ইন্দোনেশিয়ার পামতেল রপ্তানি, মালয়েশিয়ার মাংস রপ্তানির উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ-সহ বিশ্বের অনেক দেশই তার রপ্তানিদ্রব্য এর রপ্তানির উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে বা করতে যাচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব ইউরোপ ও আমেরিকার উপর পড়ছে। বলাযায় এসব দেশের সিদ্ধান্ত রাশিয়ার উদ্যেশ্য হাসিলে প্রভাবকের ভূমিকা পালন করছে। একারণেই এসবদেশ'কে আমি রাশিয়ার মিত্র বলছি।

মূলতঃ ইউরোপের দেশগুলোর শিক্ষাদীক্ষা ও গণতন্ত্র এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সেখানে রাশিয়া বা এশীয় ও আফ্রিকান অনেক দেশের মতো জোরকরে কোন সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারে না। কোন কারণে গণ-অসন্তোষ ও বিক্ষোভ শুরু হলে ঐসব দেশের সরকার ব্যবস্থা গুলো কর্পূরের মত ভেঙ্গে পরে।
আসন্ন শীতে গ্যাস ও জ্বালানির চাহিদা বেড়ে গেলে এসবদেশে গণ-অসন্তোষ ও বিক্ষোভ অবশ্যম্ভাবী। জ্বালানির অভাব, ময়দার অভাব, মাংসের অভাব, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য তৈরির অন্যতম উপাদান পাম'তেলের অভাব, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের অভাব, রান্নার প্রধান উপকরণ সূর্যমুখী তেলের অভাব, ইত্যাদি অভাবের কয়টি মোকাবেলা করবে ইউরোপ ? তাছাড়া ইউরোপীয় দেশগুলোর সার ও কৃষি পণ্যের অন্যতম যোগানদাতা রাশিয়া ও ইউক্রেন, যুদ্ধ ও অবরোধের কারণে এসবের ঘাটতি মিটিয়ে এসবদেশের স্বাভাবিক কৃষি উৎপাদন করাও প্রায় অসম্ভব। কাজেই এই যুদ্ধ যদি আরও কয়েকমাস স্থায়ী হয়; তাহলে ইউরোপের কি হাল হবে, সেটি বুঝতে কি বুদ্ধিজীবী হওয়ার দরকার পড়ে ?
রাশিয়ার ঢিমে-তালের ও আয়েশী যুদ্ধের মধ্যে অনেকেই এইসব লক্ষ্য অর্জনের দূরভিসন্ধি খুঁজে বেড়াচ্ছে~
সেক্ষেত্রে কিন্তু একটি প্রশ্ন থেকেই যায়~
তাহলে ইউরোপ ও আমেরিকা কেন এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে আদাজল খেয়ে নেমেছে ?

তাদেরও উদ্যেশ্য একইরকম, অবরোধ ও যুদ্ধের ব্যয়ভার দীর্ঘদিন বহনের মাধ্যমে রাশিয়ার অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেয়া অথবা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ঘটিয়ে রাশিয়ার জনগণের মধ্যে অসন্তোষ তৈরিকরে পুতিন সরকারের পতন ঘটানো। তাছাড়া রাশিয়াকে পঙ্গু করে দিয়ে চীনের আধিপত্য খর্ব করাও ইউরোপ ও আমেরিকার অন্যতম উদ্যেশ্য।
এক্ষেত্রে পশ্চিমাদের রাশিয়ার সামরিক ও খাদ্য-শক্তিসহ চীন ও ইন্ডিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের খাদ্যশক্তির বিপক্ষে লড়তে হচ্ছে। ইউক্রেন ও রাশিয়ার খাদ্য উৎপাদনের কথা বাদ দিলেও চীন ও ভারতের খাদ্য উৎপাদনকে অস্বীকার করার উপায় আছে ? একক ভাবে এখনও চীন ও ভারত খাদ্য উৎপাদনে বিশ্বে ১ম ও ২য় অবস্থানে। একারণেই মূলতঃ পশ্চিমারা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে অন্তত ভারতকে রাশিয়ার বলয় থেকে বের করে আনতে, এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান সেরকম কিছু চোখে পড়ছে না। চীন , ভারত ও রাশিয়া যদি সম্মিলিতভাবে এবং উদ্যেশ্য প্রণোদিতভাবে তাদের খাদ্যের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে, তাহলে শুধু ইউরোপ কেন ? সারাবিশ্বের কি হাল হবে ভেবে দেখেছেন কেউ ? আমরা কি বাদ পড়ব?
ইউরোপ/আমেরিকার জনগণের যখন খাবার, বিদ্যুৎ, রুম হিটিং, গাড়ি ব্যবহার, ইত্যাদিতে টানাটানি চরম পর্যায়ে পৌঁছবে, তখন কি তাদের নতুন নতুন জামাকাপড় পড়ে ফুটানি দেখানোর অবস্থা বা শখ টিকে থাকবে ? আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার বেশিরভাগ তো ওদের জামাকাপড় সেলাই করেই আসে, বৈদেশিক মুদ্রা আসাই যদি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে বিদেশ থেকে আমাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী আমদানি করবো কি দিয়ে, আমাদের দেশীয় টাকার বিনিময়ে তো আর বিদেশীরা আমাদের কাছে দ্রব্যাদি বিক্রি করবে না, তাহলে প্রয়োজনীয় দ্রব্য আমদানি বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম হবে।
অনেকেই বলতে পারেন বিদেশে আমাদের ভাই-ব্রাদার-গণ কাজ করে যে ডলার পাঠায় , সেটি তো অব্যাহত থাকবে~ কিন্তু ক্যামনে ?
সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে আমাদের লোকজন কাজ করে, সেসব দেশের মূল ইনকাম তেল রপ্তানি, আর সারা বিশ্বের তেলের উল্যেখযোগ্য অংশের ক্রেতা চীন ও ভারত। অবধারিত ভাবেই বলা যায় রাশিয়াকে অর্থনৈতিক ভাবে টিকিয়ে রাখতে এই দুইদেশ রাশিয়া থেকে তেল আমদানি দিনকেদিন বৃদ্ধি করবে, অর্থাৎ সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আমদানি কমিয়ে দিবে, অর্থাৎ তাদের তেলের বিক্রি সাময়িকভাবে হলেও কমে যাবে। পক্ষান্তরে খাদ্যসহ সব জিনিসই তারা আমদানি করে থাকে, খাদ্যসহ আমদানি পণ্যের ঊর্ধ্বগতি এবং তেল বিক্রির নিম্নগতি এসবদেশের অর্থনীতিকে সংকুচিত করে ফেলবে, যার ইফেক্ট পড়বে আমাদের ভাইব্রাদারের উপর, যারা সেসব দেশ থেকে শ্রমের বিনিময়ে আমাদের দেশে ডলার পাঠায়।
ফলশ্রুতিতে তাদের ডলার পাঠানোও কমে আসবে এবং অলরেডি তা কমতে শুরু করেছে।
অদূর-ভবিষ্যতে এই যুদ্ধের প্রভাবে দর্জিগীরি আর মানুষের বাড়িতে কামলা খাটার উপর নির্ভরশীল আমাদের দেশের অর্থনীতির কি হাল হবে, ভেবে দেখেছেন কি ?

পক্ষান্তরে এত অবরোধ ও যুদ্ধের পরও কিন্তু ভারত, চীন ও রাশিয়ার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাশিয়ার অর্থনীতিকে এখনও কাবু করা যায় নি, এমন কি ভারত ও চীনের অর্থনীতিও~
এই তিনটি দেশই প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ, যদিও বিলাসী দ্রব্যসহ গাড়ি উৎপাদনে রাশিয়ার কিছু ঘাটতি আছে, সেই সাথে ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদনে ভারতেরও কিছু ঘাটতি আছে; কিন্তু এসব ঘাটতি পূরণে চীন একাই যথেষ্ঠ, তাছাড়া ইরান এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে, এই যুদ্ধ যেমন চীনের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তুলছে তেমনই ইরানের অর্থনীতিকেও। অলরেডি অবরোধের মধ্যে থেকেও ইরান আরবামিরাতের অর্থনীতিকে টপকিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তর অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে, এইবার খরার কারণে ইরানে খাদ্য ঘাটতি দেখা দেয়ায় রাশিয়া ৫০ লাখ মেট্রিকটন গম ইরানে পাঠাচ্ছে। এভাবেই এই দেশগুলি একে_ওপরকে সহায়তা করে ভালোভাবে টিকে আছে, যদি এদের ইউনিটিতে আমেরিকা ফাটল ধরাতে না পারে, তাহলে রাশিয়ার পতনসহ চীন বলয়ের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করার আমেরিকান স্বপ্ন~স্বপ্নই থেকে যাবে, বাস্তবে রূপ নেবে না কখনো।
মাঝখান থেকে আমরাসহ ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার অনেক দেশের ১২ টা বেজে যাবে।

আমেরিকা নিজেও স্বয়ংসম্পূর্ণ ও অর্থবিত্তে এবং শক্তিতে অনেক এগিয়ে, কাজেই আমেরিকার প্রভাব কিছুটা খর্ব হলেও এই সমস্যা উত্রিয়ে যাওয়া তার জন্য খুব একটা কঠিন হবে না। মরবো শুধু আমরা , ইউরোপ আর আমাদের মত দেশ গুলি।
কাজেই এই অপরিণামদর্শী যুদ্ধের আশু সমাপ্তি প্রয়োজন। দরকার একটি শক্তিশালী নেগোসিয়েটরের, তুরস্ক এক্ষেত্রে অনেকটাই সফল হতে চলেছিল, কিন্তু আমেরিকার কটু চালে ইউরোপ তুরস্কের উদ্যোগকে ভেস্তে পাঠিয়ে যেন নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মেরেছে।
কাজেই আমাদের বসে থাকলে চলবে না, ইউরোপের বাজারে একটি দীর্ঘ সময়ের জন্য আমাদের জামাকাপড় বিক্রতে ভাটা আসবে এবং বিদেশী শ্রমবাজার থেকে রেমিটেন্স আসায়ও ভাটা পড়বে; ধরে নিয়েই এখনই কর্মপথা ঠিক করতে হবে, নচেৎ পস্তাতে হবে নিশ্চিতই ~ ১০০% গায়রান্টি।

আজিজ মিশির সেলিম
সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি, Cuet
বর্তমান সা: সম্পাদক,
Cuet Chatraleague Ex Student Association

Address

Dhaka
1207

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Mishir Ali Blog posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share