17/03/2026
যাত্রা পথের গল্প - ০২
সব কাজ শেষে আজ আমি ক্লান্ত। কাল বাসায় যাব। মনের মধ্যে একটা পরিবর্তনের হাওয়া।
ইচ্ছে তো সবচেয়ে ভালো হওয়ার, তবে বোনের জন্য মোটামুটি নিজের মনে ভালো ভাই হওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু মা-বাবার জন্য!! হয়ে উঠলো না।
যাহোক! এখন এসব ভেবে লাভ নেই। ঘুমাতে হবে, সকালে রওনা দিব।
বাজে রাত ১১টা। আজ তাড়াতাড়ি ঘুমাতে চেষ্টা করি। যদিও জীবনে একটা ধাক্কার পর রুটিন এমনভাবে এলোমেলো হলো—আজ ২-৩ বছর+ ঠিকভাবে ঘুমাতে পারি না। ফোন দূরে রাখলাম, আজ আর বই পড়বো না, ঘুমাবো।
পারলাম?? নাহ!! অনেক চেষ্টা করতে গেল ১ ঘণ্টা। ভাবতে শুরু করলাম—অনেক কিছু ভাবছি: একাডেমিক, ক্যারিয়ার, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য। চারদিকে ভেঙে পড়া, নতুনভাবে সাজানোর চেষ্টা—অনেক কিছু। একটা গুটি মিলাই তো দুটা এলোমেলো হয়ে যায়, জীবনের সাথে পেরে ওঠাটাই মুশকিল। চিন্তার ভারি চাপে মনে পড়ে সোনালী অতীত। তা আজ বর্তমান হলে হয়তো এসব চিন্তাও করতাম না। কিন্তু ঐ যে—জীবন এলোমেলো হলো, আর ঠিকই হলো না।
২ ঘণ্টা… কত মানুষ আপন মনে হলো। কত মানুষ আসলো, চলে গেল। হ্যাঁ, আমাকে নিয়ে হাতে গোনা ২-১টা মানুষ যারা নিজের মনে মনে আমাকে নিয়ে নেগেটিভ ধারণা রাখে—তাছাড়া সবাই আমাকে নিয়ে পজিটিভই ভাবে। কিন্তু কেউ ভালোবেসে আলাদা করে না (পরিবার ছাড়া)। আসলে আমি বড় আনলাকি এই টপিকে। আমাকে নির্দিষ্ট কিছু মানুষ ছাড়া কখনো কেউ ভালোবাসেনি। কেউ তো জন্মের পর নিষ্পাপ শিশুটার দিকেও ঘুরে তাকায়নি। সেখানে পরে ভালোবাসা চাওয়া বিলাসিতা। যা হোক...
তবে শান্তির জায়গা একটাই—হোক যে বন্ধু, আত্মীয় কিংবা অন্য কেউ—একটা সময় সে বুঝেছে, আমি আসলে কখনোই ক্ষতিকর ছিলাম না।
বাজে এখন ২টা। ৩ ঘণ্টা ধরে চেষ্টা করা ঘুম কোথায়—তা আমি জানি না। মাথা ব্যথা শুরু করেছে। কিছু পার্সোনাল মানুষের কথা মনে পড়লো। সময়ের সাথে ঘটে যাওয়া বর্তমানকে অনুভব করা শুরু করলাম—এ যেন আগুনে ঘি ঢালা।
এভাবেই এক প্রকার যন্ত্রণায় কাটলো রাত। বাজলো ৪টা। উঠতে হবে, সাহরি করতে হবে। তারপর আর ঘুমানোই হলো না। মাঝে একজনের সাথে কথা হলো—সে বুঝেই ফেললো, আমি মাথায় সারারাতের না হওয়া ঘুম আর কতটা যন্ত্রণা বয়ে আছি। আসলে বুঝে ফেলবে—এটা মনেও করি না। মানুষের উপর এখন আর আশা রাখি না।
ব্যাগ গুছিয়ে প্রস্তুত আমি। বাজে তখন ৮টা। গাড়ি এল, রওনা দিলাম। আগের রাতেও ভালো ঘুম হয়নি, গত রাতের না হওয়া ঘুম—মাথায় যন্ত্রণা, ব্যথা নিয়ে রাস্তায় তাকিয়ে ভাবি—আসলে কি নিয়ে যাচ্ছি আমি?? ব্যর্থতা??
দীর্ঘশ্বাস!
বাদ দিব? আছি জ্যামে বসে (Picture)… রাত থেকে হওয়া যন্ত্রণার আগুনে এ যেন ঢালছে তেল।
কেউ কি আসবে? যে খোঁজ নিবে আমার? দিবে অনুপ্রেরণা, যোগাবে সাহস?
অনেকগুলা মানুষের মেন্টাল হেল্থ, পারিপার্শ্বিক অবস্থা বুঝতে হবে—যে আমাকে!
আমারটা কে বুঝবে??
কেউ ফ্যান্টাসিতে ভুগে বলবে—বউ করবে। আসলেই? সেও তো অপেক্ষায় আছে তার জীবনের দুঃখ-যন্ত্রণা আমাকে বলবে…
তবে হ্যাঁ! দরকার অনুপ্রেরণা—২৪/৭ পাশে থাকা, তাহলেই পারবো সব সামলিয়ে নিতে।
বাকি কথা না হয় অন্য গল্পে হবে।
আমি এক যন্ত্রণায়, আমার আশেপাশে থাকা মানুষ আরেক যন্ত্রণায়। আমি তাদের ছোট করি না। কিন্তু তাদের কাছে আমার থেকে বেশি নিশ্চিন্ত আর হ্যাপি কেউ না—ওদের সামনে।
ওরা কি আমার জায়গায় থেকে কখনো দেখেছে—কতটা প্যারা, চাপ হাসির কোনায় রেখে দিই আমি??
জিজ্ঞেস করেছে কখনো—কেমন যাচ্ছে আমার দিন??
আমি দূর্বল নয়, আমি ক্লান্ত।
শিক্ষনীয়:
১. নিজের অনুভূতি চেপে রাখলে ভেতরে জমে যায়। তবে মানুষ তা বুঝে না।
২. Overthinking ঘুম নষ্ট করে, তাই চিন্তা নিয়ন্ত্রণ জরুরী, জীবনে ঘটে যাওয়া সবকিছুর পূর্ব সতর্কতা জরুরী।
৩. সবাই তোমাকে বুঝবে—এটা আশা করা ঠিক না।
৪. নিজের মূল্য অন্যের মাপকাঠি দিয়ে মাপা উচিত না।
৫. সবকিছু একা সামলানো সম্ভব না। তবে যদি কেউ নাও থাকে থাকতে হবে জিদ, সাহস। সবাইকে স্বাভাবিক দেখিয়ে নিজেকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা।
আর বাকি কিছু চ্যালেন্জ এর অর্থ আমিও বুঝি না, আমি ক্লান্ত।
#এলোমেলো
#উপলব্ধি