31/05/2026
একজন বয়স্ক মানুষ গত সপ্তাহে কি করেছেন তা ভুলে গেলেও উনার ২০ বছর বয়সে কি করেছেন তা স্পষ্টভাবে মনে রাখেন। শুধু স্পষ্টভাবেই না,আশেপাশের সবকিছুসহ মানুষের পরনের পোশাক সম্পর্কেও হুবহু বলে দিতে পারেন। কেন এমনটা হয়?
আমাদের Autobiographical Memory নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা এই বিষয়টি লক্ষ্য করেন যে, মানুষ তার শেষ বয়সে এসে জীবনের অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এই ১০-৩০ বছর বয়সের স্মৃতি সবচেয়ে বেশি আর স্পষ্ট মনে রাখে। এর নাম দেওয়া হয় REMINISCENCE BUMP. (স্মৃতির পাহাড়)
এর পেছনে তিনটি কারণ পাওয়া যায়।
1. Identity formation account: ১০-৩০ বছর বয়সেই মানুষ নিজেকে চিনতে শুরু করে,নিজের আইডেন্টিটি গঠন করে। এ সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত গুলোই তার বাকি জীবনকে প্রভাবিত করে।
2. Cognitive account (প্রথম অভিজ্ঞতার প্রভাব):এ বয়সেই সে প্রথম প্রেমে পড়ে,প্রথম ইনকাম করে,প্রথম মানুষ চিনতে শুরু করে,প্রথম হার্টব্রেক হয়,প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়, বলতে গেলে এ বয়সটাতেই তার জীবনে সবকিছু প্রথম ঘটে। হিউম্যান ব্রেইন সবসময় তার জীবনের প্রথম ঘটনাগুলো ঘটা করে মনে রাখতে পছন্দ করে৷
3. Cultural life script account:
প্রতিটি সমাজের একটা অঘোষিত লাইফ-স্ক্রিপ্ট বা জীবন-নকশা থাকে। যেমন—এই বয়সের মধ্যে পড়াশোনা শেষ হবে, ক্যারিয়ার শুরু হবে, বিয়ে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। আমাদের মস্তিষ্ক সমাজের সেট করা এই স্ক্রিপ্টগুলোর সাথে মিলিয়ে নিজের স্মৃতিগুলোকে একটা গল্প আকারে সাজিয়ে নেয়। স্ক্রিপ্টটা থাকে এরকম:
জন্ম - পড়াশোনা- জব- সাফল্য -বিয়ে।
অনেকটাই এরকম। বিয়েতে গিয়েই স্ক্রিপ্ট থেমে যায়। এরপরের স্ক্রিপটা আর তেমনভাবে সিরিয়ালি মাথায় আসে না। সব ছাড়াছাড়া প্ল্যান আসে। আর এই সবকিছুই ৩০ বছরের মধ্যে সম্পন্ন হয়ে যায়। যার ফলে এই সময়ের ঘটনাগুলো মনে রাখা সহজ হয়।
এই থিওরি জেনে আমাদের কি লাভ?
আমরা বর্তমানে যেই সময় কাটাচ্ছি এটাই আমাদের শেষ বয়সে স্পষ্ট ভাবে মনে থাকবে। সুতরাং এই বয়সেই আমাদের প্রচুর স্কিল অর্জন করা,ভালো কাজ করা,পৃথিবীর সেরা সেরা মোমেন্ট তৈরী করা উচিত।
Then we can keep our young life alive within us until we die.
এছাড়া Alzheimer's / Dementia রোগীদের reminiscence therapy দেয়া হয় তাদের ভালো ফিল করানোর জন্য ।
এ বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেছেন,
Shamsul Haque (cognitive psychologist)
Ex-student of Dhaka University.
Professor, Dept of Psychology, Monash University Malaysia.
His PhD projects are Trauma, memory and mental health among the refugee population.
He has received multiple international awards for his research work.
And it was a great session about his research(Reminiscence Bump) at Dhaka University on 27th January, 2026.
You can read more from his research paper :
https://www.researchgate.net/publication/329581259_Understanding_the_reminiscence_bump_A_systematic_review