20/04/2024
যে সকল কাজ করলে মানুষ কাফির হয়ে যায়, যদিও সে নিজেকে মুসলিম দাবি করে
১) আল্লাহর ইবাদতে কোন কিছুকে শরীক করা। আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ “নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করা ক্ষমা করেন না, তা ব্যতীত অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন”। [সূরা নিসা, আয়াত ৪৮]
২) যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার মাঝে অন্যদেরকে মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে ও তাদের কাছে প্রার্থনা জানায়, তাদের নিকট সুপারিশ কামনা করে এবং তাদের উপর ভরসা করে, সে আলেমদের সর্বসম্মতিক্রমে কাফির।
৩) মুশরিকদের কাফির বলে বিশ্বাস না করলে বা তাদের কুফরীতে সন্দেহ পোষণ করলে অথবা তাদের ধর্ম-মতকে সঠিক বলে মন্তব্য করলে সে ব্যক্তি কাফির হয়ে যাবে।
৪) যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন পদ্ধতির চেয়ে অন্য পথ পদ্ধতিকে পরিপূর্ণ বলে বিশ্বাস করে কিংবা নবীর বিধানের চেয়ে অন্য কারো বিধানকে উত্তম বলে মনে করে, তবে সে ব্যক্তি কাফির। যেমনঃ যদি কোন ব্যক্তি তাঁর আনীত বিধানের উপর তাগুতের (মানব রচিত) বিধানকে অগ্রাধিকার দেয়, তবে সে ব্যক্তি কাফির।
৫) যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনীত কোন বিধানের প্রতি ঘৃণা-বিদ্বেষ পোষণ করবে, সে যদি ঐ বিধানের উপর আমল করে, তবুও সে কাফির।
৬) যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত সামান্য কোন বিষয়, আল্লাহ প্রদত্ত সওয়াব প্রতিদান কিংবা তাঁর কোন শাস্তির বিধানের প্রতি ঠাট্টা বিদ্রূপ করে, সে ব্যক্তি কাফির হবে।
৭) জাদু করা। বিকর্ষণ ও আকর্ষণ করার জন্য তদবির করাও এর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে জাদু করবে অথবা জাদু করার প্রতি সন্তুষ্ট থাকবে, সে কাফির হবে।
৮) মুসলিমদের বিরুদ্ধে মুশরিকদের সাহায্য করা। এর দলীল, আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ “তোমাদের মধ্যে কেউ তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করলে সে তাদেরই একজন হবে। নিশ্চয় আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না”। [সূরা মায়িদা, আয়াত ৫১]
৯) যে ব্যক্তি এ বিশ্বাস করে যে, খিযিরের পক্ষে যেমনিভাবে মূসা আলাইহিস সালামের শরীয়তের বাইরে থাকা সম্ভব ছিল, তেমনিভাবে কোন মানুষের জন্য মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শরীয়ত থেকে বের হয়ে যাওয়ার অনুমতি আছে তবে সে ব্যক্তিও কাফির।
১০) আল্লাহ তায়ালার দ্বীন ইসলামকে উপেক্ষা করা বা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখা, দ্বীনের জ্ঞানও অর্জন করে না আর তা অনুযায়ী আমলও করে না, এমন ব্যক্তিও কাফির।
সূত্রঃ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রচিত “নাওয়াক্বিদূল ইসলাম” থেকে সংগৃহীত ও সম্পাদিত