23/08/2026
বিশ্ব আলোকচিত্র দিবসের দুইশত তম বার্ষিকী উৎসব উদযাপনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সহ বাংলাদেশেও সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় চিত্রচিন্তা সার্কেলের ব্যতিক্রমধর্মী বিশেষ আয়োজন ছিল উল্লেখযোগ্য ও প্রশংসনীয়।
বিগত ছয় বছর পূর্বে অর্থাৎ ২০২০ সনে করনা কালীন লক ডাউনের সময় কিছু উৎসাহী আলোকচিত্রী অনলাইনে একত্রিত হয়ে জনাব আহমেদ রাসেলের অনুপ্রেরণায় 'চিত্রচিন্তা সার্কেল' নামের একটা সংগঠনে নিবন্ধিত হয়ে বিশ্বমানের আলোকচিত্র সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় অর্ধ যুগ উৎসব পালন করতে সম্প্রতী রাজধানী ঢাকায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ২১ - ২২ আগষ্ট ২০২৬ দুই দিনব্যাপী এক মনোজ্ঞ অনুষ্ঠান উৎসবে চিত্রচিন্তা সর্কেলের তৃতীয় আন্তর্জাতিক ফিয়াপ ফটো স্যালনে বিজয়ীদের মধ্যো পুরস্কার বিতরন ও ফটো প্রিন্ট প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। বেশ কিছু অসাধারন ফটো- স্লাইড প্রদর্শনী করেন স্যালন চেয়ারম্যান আহমেদ রাসেল ধারা বর্ণনা সহ বক্তব্য প্রদান করেন। এরপর বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল মাজেদ কনক এবং সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন আলোকচিত্র গবেষক, সাংবাদিক সাহাদাত পারভেজ। শুরু হয় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরন ও শুভেচ্ছা বিনিময়।
দ্বিতীয় পর্যায়ের আয়োজন ছিল বিগত পঞ্চাশ বছরে আলোকচিত্রে অসামান্য সাফল্য ও অনন্য অবদানের জন্য প্রাক্তন প্রবীন তিনজন বরেন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রীকে আজীবন সম্মাননা প্রদান। উল্লেখ্য বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটির সুবর্ন জয়ন্তী বর্ষের আলোকে, তিনজন বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যদের নির্বাচিত করা হয়। তালিকায় আমার নাম থাকায় আমি গর্বিত ও আনন্দিত হয়েছি। অন্য দুইজন হলেন সর্বজনাব শফিকুল ইসলাম স্বপন ও নাফিজ আহমেদ নাদভি। দুইজনই আমার সতীর্থ শুভানুধ্যায়ী বন্ধু। বলাবাহুল্য শফিকুল ইসলাম স্বপন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত চিত্র গ্রাহক ও আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র পুরুস্কার প্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব। মুক্তি যুদ্ধের সময় তিনি ক্যামেরা ও মেশিনগান হাতে নিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে বিশেষ অবদান রেখেছিলেন। আর নাফিজ আহমেদ নাদভি পথিকৃৎ খ্যাতিমান গুনী আলোকচিত্র ঘরনা পরিবারের সদস্য ও বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটির স্থায়ী কমিটির সদস্য।
দেশের বাইরে থাকায় নাফিজ আহমেদ নাদভি উপস্থিত হতে পারেন নাই। তার অনুপস্থিতিতে বিশেষ অতিথি হয়ে উপস্থিত ছিলেন নাছিম আহমেদ নাদভি। তিনি বাংলাদেশের বরেন্য একজন চিত্রশিল্পী ও নাফিজের বড় ভাই। সুতারাং সম্মানিতর অনুপস্থিতিতে শিল্পী নাসিম আহমেদ নাদভি সম্মাননা গ্রহন করেন পারিবারিক উত্তরাধিকারে এবং বিশেষ অথিতির প্রদত্ত ভাষনে শিল্পপরিবারের অভিজ্ঞতা বর্ননায় শিল্পচর্চা সংক্রান্ত গুরুত্ব আরোপ করেন। পরবর্তী পর্যায়ে উপস্থিত
সম্মাননা প্রাপ্ত দুই স্বপনের উপস্থিত অতিথি বিশিষ্ট বিদগ্ধ জন ও অভ্যাগত দের দৃষ্টি আকর্ষণ করায় অনুষ্ঠান সঞ্চালক, স্যালন চেয়ারম্যান আহমেদ রাসেল হাস্যরস বিনোদনে মজা করে এক স্বপনের হাতে আরেক স্বপনকে সম্মাননা ক্রেষ্ট ও সনদপত্র তুলে দিতে ঘোষণা করেন। এভাবেই মহা হাস্যরোলে অনুষ্ঠান সকলের উপভোগ্য হয়ে ক্রেষ্ট ও সনদপত্র বিতরন হয়।
পরবর্তী নিয়ম অনুযায়ী অনুষ্ঠানের সম্মানিত প্রধান অতিথি জনাব সাইফুদ্দীন আহমেদ চন্দন মনোজ্ঞ বক্তৃতা দিয়ে সকল শ্রোতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করেন। চন্দন দেশের সনামধন্য বিশিষ্ট গুনী আলোকচিত্র শিল্পী সমকালীন ও সনাতনী আলোকচিত্রের ভিন্ন মাত্রার গবেষক চিন্তক বিশ্লেষক শিক্ষক ও আন্তর্জাতিক ফিয়াপ স্যালন বিশেষজ্ঞ। আলোচনা শেষে প্রদর্শনী উদ্বোধন ঘোষণা দেওয়ার পর পর ফটোসেশানে সকলেই স্মৃতির ফ্রেমে বন্দী হতে মনোযোগী হয়ে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে। পরিশেষে প্রদর্শনীতে উপস্থিত সকল অতিথিবৃন্দকে চা পানের আপ্যায়ন আড্ডা, মতবিনিময়ে উপস্থিত অতিথি ও আয়োজকদের মধ্যে পরস্পর পরস্পরকে কৃতজ্ঞতায় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।