12/05/2026
অস্ত্রের শক্তির চেয়ে মানবিকতা বড়"- এই কথা কোনো শান্তি সম্মেলনের বক্তৃতায় মানায় কিন্তু একজন প্রধানমন্ত্রীর মুখে, তখনই প্রশ্ন উঠে! যখন পুরো বিশ্ব অস্ত্র প্রতিযোগিতা আর নিরাপত্তা সংকটে ব্যস্ত।
আজকের বাস্তবতায় বিশ্বের বড় বড় রাষ্ট্রগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়াচ্ছে, আধুনিক যুদ্ধবিমান কিনছে, মিসাইল বানাচ্ছে, সেনাবাহিনী শক্তিশালী করছে। আর আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলছেন অস্ত্রের শক্তির চেয়ে মানবিকতা বড়!
শুধু মানবিকতার কথা বলে রাষ্ট্র টিকে থাকে না। ইউক্রেন, ফিলিস্তিন, সিরিয়া কিংবা দক্ষিণ এশিয়ার বাস্তবতা দেখলেই বোঝা যায় শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ছাড়া কোনো রাষ্ট্র নিজের সার্বভৌমত্ব, জনগণ বা ন্যায়বিচার রক্ষা করতে পারে না।
মানবিকতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনা কবিতা দিয়ে হয় না। সীমান্ত রক্ষা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা, শত্রুর হুমকি মোকাবিলা এগুলোর জন্য লাগে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সক্ষমতা। দুর্বল রাষ্ট্রের মানবিকতার গল্প আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কেউ শোনে না। যেখানে প্রতিবেশী দেশ গুলোর পাল্লা দিয়ে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে। ভারত তো প্রায় ই উপহার হিসেবে লা'শ পাঠাচ্ছে, নিয়মিত মিসাইল পরীক্ষা করছে, ওদিকে মিয়ানমার এবার সামরিক শক্তিতে বাংলাদেশকে ২ ধাপ পেছনে ফেলে ৩৫ নম্বরে উঠে আসছে আর আমাদের প্রধানমন্ত্রী আছেন মানবতা নিয়ে। যুদ্ধ বাধলে আমরা মানবতার পায়রা উড়াবো আর আয়াতুল কুরসি পাঠ করে চেতনা দিয়ে প্রতিহত করবো।
বাংলাদেশও আজ এমন এক ভূ-রাজনৈতিক অঞ্চলে অবস্থান করছে যেখানে প্রতিনিয়ত কৌশলগত প্রতিযোগিতা বাড়ছে। একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জনগণ আশা করে বাস্তববাদী, কৌশলগত ও শক্ত অবস্থানের বক্তব্য। কারণ বিশ্ব এখন এমন জায়গায় দাঁড়িয়ে, যেখানে শান্তি টিকিয়ে রাখতেও শক্তি লাগে।