13/05/2026
প্রথমবার তোমার সঙ্গে দেখা হওয়ার পর বাড়ি ফেরার পুরো পথটা আমি একা হেঁটেছিলাম, কিন্তু আমার মনে হচ্ছিল আমি একা নই। আমার পাশে কেউ নীরবে হাঁটছে। তার চোখে একটু লাজুক আলো, ঠোঁটে মৃদু হাসি, আর বাতাসে কাঠগোলাপের গন্ধ।
সেদিন আমি যেভাবে হেসেছিলাম, তেমন করে আর কোনো দিন হাসা হয়নি।
কারণ সেই হাসির কোনো শব্দ ছিল না, ছিল শুধু একরাশ বিস্ময়। নিজের অজান্তেই ঠোঁটের কোণে যে হাসি ফুটে উঠেছিল, তা দেখে পথের মানুষ হয়তো ভেবেছিল আমি একটু পাগল। আসলে তারা জানত না, প্রিয় মানুষটার সঙ্গে প্রথম দেখা হয়ে গেলে পৃথিবীর সবকিছু হঠাৎ করেই অন্যরকম সুন্দর হয়ে যায়।
রিকশার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটা, রাস্তার ধারের চায়ের দোকান, সন্ধ্যার আকাশ, এমনকি ক্লান্ত শহরটাও সেদিন আমার সঙ্গে হেসেছিল। ডিসেম্বরের শহর সেদিন হেসেছিল আমার সাথে।
আমি বারবার নিজের ঠোঁট ছুঁয়ে দেখছিলাম, এই হাসি কি সত্যিই আমার?
মনে হচ্ছিল, বহুদিন পর আমার ভিতরের একাকী মানুষটা কাউকে খুঁজে পেয়েছে। এমন কাউকে, যার সামনে কোনো অভিনয় করতে হয় না। যার দিকে তাকালে বুকের ভিতরে অদ্ভুত এক শান্তি নেমে আসে।
বাড়ি ফিরে আয়নায় নিজেকে দেখে আমি আবারও হেসেছিলাম।
মা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন,
“কিরে সাকি, আজ তোকে এত খুশি লাগছে কেন?”
আমি উত্তর দিইনি। শুধু মৃদু হেসেছিলাম।
কিছু অনুভূতির কোনো ভাষা হয় না। কিছু আনন্দ শব্দে প্রকাশ করা যায় না।
আজও সেই দিনের কথা মনে পড়লে আমি ঠিক সেভাবেই হেসে উঠি।
নিঃশব্দে। একা। নিজের অজান্তে।
যেন প্রথমবার কারও চোখে নিজের জন্য একটু ভালোবাসা দেখেছিলাম।