14/05/2026
বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষে পড়াকালীন আমি tuition শুরু করি। তখন ক্লাস নাইনের এক শিক্ষার্থীকে পড়াতাম। তার সঙ্গে আমার শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কের বাইরে একটি আন্তরিক যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল। তার সবচেয়ে কাছের এক বান্ধবীও মাঝেমধ্যে তাদের বাসায় আসত। সে এলে আমি দুজনকেই একসঙ্গে Physics, Chemistry এবং Mathematics পড়াতাম।
দুজনই ঢাকার একটি স্বনামধন্য স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল এবং পারিবারিকভাবেও তারা যথেষ্ট ভালো অবস্থানে ছিল।
হঠাৎ একদিন জানতে পারি, আমার ওই শিক্ষার্থীর বান্ধবীর মা মারা গেছেন। ঘটনাটি তাকে মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে দেয়। এরপর থেকে সে প্রায়ই তার বান্ধবীর বাসায় সময় কাটাত। দেখা হলে আমি তাকে console করার চেষ্টা করতাম। পরে জানতে পারি, আমার কথা শুনলে তার কিছুটা ভালো লাগত।
একদিন সে আমার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে আমার নাম্বার নিয়ে সরাসরি যোগাযোগ করে। ধীরে ধীরে নিজের জীবনের কঠিন বাস্তবতাগুলো আমার সঙ্গে share করতে শুরু করে। তখন জানতে পারি, তার মায়ের মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না—তার বিশ্বাস, তার বাবার পরিকল্পনার ফলেই তার মায়ের মৃত্যু হয়েছে। আরও জানতে পারি, তার বাবার অন্যত্র একটি relationship ছিল এবং মায়ের মৃত্যুর কিছুদিনের মধ্যেই তিনি অন্য একজনকে বিয়ে করেন।
এই পরিস্থিতির মধ্যে মেয়েটি পরিবারে প্রচণ্ড mental pressure ও অবহেলার শিকার হচ্ছিল। বাসায় পড়াশোনার মতো পরিবেশ ছিল না বলেই সে প্রায়ই বান্ধবীর বাসায় আসত।
তার কষ্টের গল্প শুনে তার প্রতি আমার গভীর মায়া জন্মায়। আমি যতটা সম্ভব তাকে mental support দেওয়ার চেষ্টা করি, পাশাপাশি পড়াশোনার ক্ষেত্রেও পাশে থাকি। আমি তাকে বোঝাই, জীবনে যা-ই ঘটুক না কেন, পড়াশোনা বন্ধ করা যাবে না। নিজের জীবনকে নিজের মতো করে build up করতে হলে তাকে ভালোভাবে পড়াশোনা করে একটি ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হবে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও গভীর হয় এবং একসময় তা ভালোবাসায় রূপ নেয়।
সে SSC-তে খুব ভালো ফলাফল করে। এরপর তার বাবা তাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে শুরু করেন। কিন্তু সে নিজের ভবিষ্যতের জন্য লড়াই করে এবং একপর্যায়ে বাবার বাসা ছেড়ে খালার বাসায় আশ্রয় নেয়।
তার খালার আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। খালা আমাদের সম্পর্কের বিষয়টি জানতেন। সে খালার বাসায় থেকে কলেজে ভর্তি হয়। প্রতি মাসে আমি তার খালাকে কিছু টাকা দিতাম, তার personal expense দিতাম এবং পড়াশোনার প্রায় সব খরচই বহন করতাম।
যখন সে Intermediate Second Year-এ পড়ে, তখন আমার একটি ভালো company-তে চাকরি হয়। এদিকে পরিবার আমার বিয়ের জন্য পাত্রী দেখা শুরু করে। আমি তাদের জানিয়ে দিই, আমার পছন্দের একজন মানুষ আছে।
ইন্টারমিডিয়েটেও সে অসাধারণ result করে। তার স্বপ্ন ছিল Medical-এ পড়ার। আমি তাকে সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য উৎসাহ দিই। প্রথমবার Medical Admission Test-এ সে সুযোগ পায়নি। এতে সে আবারও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। আমি তাকে সাহস দিই এবং second attempt নিতে উৎসাহিত করি।
একটি পুরো বছর আমি অফিসের বাইরে যত সময় পেয়েছি, তার পড়াশোনা ও মানসিক সাপোর্টে দিয়েছি। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয়বার চেষ্টায় সে মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়।
সেদিন মনে হয়েছিল, এটি যেন আমার নিজের জীবনেরও বড় একটি achievement। আমি আমার ভালোবাসার মানুষটিকে তার স্বপ্নের পথে এগিয়ে দিতে পেরেছি।
মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার পরও সে ভালোভাবেই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে থাকে। এক বছর পর আমি তাকে বলি, আমার পরিবারের সঙ্গে meet করার জন্য। কিন্তু সে তখন সময় চায়। জানায়, মেডিকেলের academic pressure অনেক বেশি, এখনই বিয়ে বা এসব নিয়ে ভাবতে চায় না।
পরে আমার মানসিক অবস্থা দেখে সে আমাকে assure করে—প্রথম professional exam পাশ করার পর আমার পরিবারের সঙ্গে দেখা করবে। কথা মতো সে প্রথম প্রফ ভালোভাবে পাশ করে এবং আমার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে। আমার মা ও পরিবারের সদস্যরা তাকে পছন্দও করেন।
সে তখন আমার পরিবারের কাছ থেকেও আরও কয়েক বছর সময় চায়। জানায়, MBBS complete করার পরই সে আমাকে বিয়ে করবে।
আমি অপেক্ষা করতে থাকি।
এরই মধ্যে PhD scholarship নিয়ে আমি Australia-তে যাওয়ার সুযোগ পাই। তার সম্মতিতেই বিদেশে যাই। সেখানে যাওয়ার পরও আমাদের যোগাযোগ স্বাভাবিক ছিল। তার hostel expense, আনুষঙ্গিক খরচ—সবকিছুই আমি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী বহন করেছি। আমি চেয়েছি, সে যেন কোনো দুশ্চিন্তা ছাড়া নিজের career-এ focus করতে পারে।
এই সময়ের মধ্যে আমি দুইবার দেশে এসেছি, তার সঙ্গে দেখা করেছি। সবকিছুই স্বাভাবিক মনে হয়েছে। কখনো আমার মনে হয়নি, এই মানুষটা আমাকে betray করতে পারে।
কিন্তু life সবসময় আমাদের expectation অনুযায়ী চলে না।
MBBS শেষ করার পর আমি তাকে বিয়ের কথা আরও গুরুত্ব দিয়ে বলতে শুরু করি। আমি চাইছিলাম, দেশে এসে অন্তত আমাদের engagement সম্পন্ন করতে। কিন্তু সে জানায়, internship শেষ করার পর সে এসব করবে।
আমি এবারও তার সিদ্ধান্তকে respect করি।
এক বছর পর তার internship শেষ হয়। সেদিন আমি খুব excitement নিয়ে তাকে ফোন করি, আমাদের বিয়ের বিষয়টি final করার জন্য।
কিন্তু সেদিন তার মুখে যা শুনলাম, তা আমার পুরো পৃথিবীটাই বদলে দেয়।
সে আমাকে জানায়, আমাকে বিয়ে করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ সে তার মেডিকেলের এক senior-এর সঙ্গে relationship-এ জড়িয়ে পড়েছে। কখন, কীভাবে, কোন মুহূর্তে ওই মানুষের প্রতি তার feelings তৈরি হয়েছে—সে নিজেও নাকি বুঝতে পারেনি। ওই ব্যক্তি তাকে propose করেছে, আর সে accept করেছে।
শুধু তাই নয়, internship চলাকালীন একদিন তারা কাজী অফিসে গিয়ে marriage registration-ও complete করে ফেলেছে।
সবচেয়ে painful বিষয় হলো, এতদিন সে পুরো বিষয়টি আমার কাছ থেকে hide করে রেখেছে। এত perfectly আমাকে handle করেছে যে, আমি কখনো বুঝতেই পারিনি আমার অজান্তে সে অন্য একজনের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করে ফেলেছে।
যাকে আমি বছরের পর বছর ধরে emotionally, financially এবং personally support করেছি, যার dream fulfill করার জন্য নিজের সর্বোচ্চ দিয়েছি—আজ সেই মানুষটিই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় heartbreak-এর কারণ।
এখন আমার সবকিছু আছে, তবুও মনে হয় কিছুই নেই।
আমি রাতে properly sleep করতে পারি না। কোনো কাজে focus করতে পারি না। সবকিছুতেই উদাসীনতা কাজ করে। মনে হয়, আমি নিজেকেই lose করে ফেলছি।
এই অবস্থায় আমি কী করব, কোথায় যাব, কার কাছে নিজের pain express করব—কিছুই বুঝতে পারছি না।
একজন মানুষ কতটা deeply broken হয়ে যেতে পারে? নিজেকে দিয়ে উপলব্ধি করছি।।
লেখা : জাস্টিস ফর ওমেন গ্রুপ থেকে
ছবি: প্ল্যাটফর্মের পোস্ট থেকে নেয়া...