29/05/2022
খৈয়াছড়া ঝর্ণার অপরুপ দৃশ্য 😊
সময়কালঃ ২০১৮
ঠিক ঈদের পরদিন ভোরে মানে একদম ভোরে ফজরের পরে ৯ জন নিয়ে রওনা হই খৈয়াছড়ার উদ্দেশ্যে। একটি বড়সড় হায়েচ গাড়ীর ও বন্দোবস্ত হয়েছিলো। বৃষ্টি আর আসার সময় পেলোনা😐 রওনা হওয়ার ঠিক মুহুর্তেই ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। যাক, অবশেষে চৌদ্দগ্রাম হয়ে ধীরে ধীরে গাড়ী এগুচ্ছে চট্টগ্রামের দিকে। পৌছালাম মীরসরাইয়ের ঠাকুরদীঘি বাজারে। ডিম, পরোটা, ভাজির সমারোহে নাস্তা সারলাম৷ তারপর চলে গেলাম মহামায়া লেকে৷ এতো অপরুপ সৌন্দর্য ব্যাখ্যা আরেকদিন আরেক পোস্টে করবো।
মহামায়া লেক ঘুরে চলে গেলাম খৈয়াছড়ায়। গাড়ি এগুচ্ছে তো এগুচ্ছে কিন্তু পাহাড়ের নিকটে পৌছানো যেন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। অপেক্ষার পর পৌছালাম। নেমে সবাই ট্র্যাকিং এর জন্য লাঠি খোঁজায় ব্যস্ত। প্রথমে অনেক প্রশান্তি লাগলেও বৃষ্টির জন্য সবসময় ই পাহাড়ি পথগুলো ভেজা আর শ্যাওলার দরুনে পিছলা থাকে। জনবসতি শুন্য এলাকা টা যেন ধীরে ধীরে ভয়ঙ্কর রুপ ধারন করছে। যত সামনে এগুচ্ছি তত পিচ্ছিলতা বেড়ে চলছে। নিচে তো ধারালো পাথরের স্তুপ। একবার পড়লে শেষ।
পাহাড়ি রাস্তায় পাখির কিচিরমিচির, ঝিরিপথের পানি পড়ার শব্দ শুনতে শুনতে দুই ঘন্টা ট্র্যাকিং এর পর চোখে পড়ে ঝর্ণার প্রথম ধাপ। দু’ঘন্টা ট্র্যাকিং করে ক্লান্তি নিয়ে যখন ঝর্ণার ঠান্ডা পানিতে গাঁ ভিজালাম তখন মনে হলো শরীরের সব অবসাদ আর ক্লান্তি ঝর্ণার পানির ধারায় ধুয়েমুছে কোথায় যেন হারিয়ে গেছে।পরের ধাপে ৯০° কোনে দাঁড়ানো বিশাল পাহাড়। সবাই দড়ি বেয়ে উঠছে। আমার আর সাহস কুলায় নি পরের ক্যাসকেড গুলো দেখার। যার জন্য এখানেই সৌন্দর্য অবলোকন করে যাত্রা সমাপ্তি করলাম।