16/02/2026
নেটফ্লিক্স অরিজিনাল ‘কহরা’–এর সিজন টু-তে একটি দৃশ্য আছে। দৃশ্যটা বলার আগে কনটেক্সট টা বলে নেই।
এক মহিলা পুলিশ অফিসার ও তাঁর স্বামীর একমাত্র ছেলে ২০ বছর বয়সে এক্সিডেন্ট করে মারা গেছে। শোকের এক পর্যায়ে এসে ভদ্রমহিলা বেঁচে থাকার জন্য এই বয়সে আরেকটা সন্তান নেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সে জন্য তিনি আইভিএফ করতে গেছেন। যারা আইভিএফ কী জানেন না, তাদের জন্য সংক্ষেপে বলি—আইভিএফ হলো কৃত্রিমভাবে গর্ভধারণের একটা পদ্ধতি।
তো মহিলা প্রতিদিন ক্লিনিকে যান, ট্রিটমেন্ট নেন। কিন্তু স্পার্ম দেওয়ার জন্য তাঁর স্বামী ক্লিনিকে আসেন না। তাঁকে বারবার বলা হলেও তিনি যান না। শেষ পর্যন্ত ওই পুলিশ ভদ্রমহিলা তাঁর দুজন এসআইকে পাঠিয়েছেন। তাঁদের কাজ উনার স্বামীকে জোর করে আইভিএফ ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া।
এবার দৃশ্যে আসি। ভদ্রলোক ক্লিনিকে গেছেন। স্পার্ম দেয়ার জন্য তাঁকে একটা কৌটো দেওয়া হয়েছে। তিনি কৌটো টা হাতে নিয়ে মাস্টারবেট করার চেষ্টা করছেন।
কিন্তু ভদ্রলোক পারেছেন না। বারবার তাঁর ছেলের কথা মনে পড়ছে। তিনি মাস্টারবেট করার চেষ্টা করছেন, আর অঝোরে কাঁদছেন।
‘কহরা’ মানে কুয়াশা। কহরা দেখুন। দেখবেন, কারণ এটি বানিয়েছেন সুদীপ শর্মা। সিজন ওয়ান থেকে দেখা শুরু করবেন। দুটো সিজনের গল্প আলাদা। কিন্তু দুটোই অসাধারণ।
‘কহরা’র আগে সুদীপ বানিয়েছেন ‘পাতাললোক’। তিনি IIT Ropar থেকে পড়াশোনা করেছেন, এরপর MBA করেছেন IIM Ahmedabad থেকে। বড় চাকরি করতেন— একদিন সব ছেড়ে লেখালেখি শুরু করলেন। লিখেছেন ‘উড়তা পাঞ্জাব’, ‘এনএইচ ১০’, 'সঞ্চারিয়া'। আরও লিখেছেন ‘পাতাললোক’ এবং ‘কহরা’। শেষের দুটো নিজেই ডিরেক্ট করেছেন—আর সেখানেই তাঁর মুন্সিয়ানা সবচেয়ে বেশি ফুটে উঠেছে।
সুদীপের কাজ আপনি সহজেই আলাদা করতে পারবেন। খুব শান্ত, অন্ধকার কোন এনভায়রনমেন্টে তিনি একদম র ক্রাইমের গল্প বলেন। বেশিরভাগ ফ্রেম মফস্বলের একতলা বাড়ি ঘেরা কোনো শহরে। প্রতিটি গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্রে সাধারণত থাকেন একজন পুলিশ। তিনি নিজে গৌহাটির ছেলে, কিন্তু পাঞ্জাবের প্রতি তাঁর একধরনের অবসেশন আছে। সম্ভবত সেটা এসেছে পাঞ্জাবে ইঞ্জিনিয়ারিং করার সময়।
মেকিং এর দিক থেকে তাঁর কাজ একদম আলাদা। আরও আলাদা তাঁর কাস্টিং। একদম অপরিচিত কিন্তু অসাধারণ অভিনেতাদের নিয়ে তিনি কাজ করেন। ‘কহরা’-তে অরুণ কুমার নামে একটি কিশোর চরিত্র আছে। যে ছেলেটি এই চরিত্রে অভিনয় করেছে, আমার বিশ্বাস, সে একদিন অনেক বড় অভিনেতা হবে।
সুদীপের ক্যামেরার কাজও ইউনিক। বেশিরভাগ দৃশ্য রাতে ধারণ করা। পাঞ্জাবের খোলা ফার্ম এলাকায় একদম ডার্ক টোনে টানা শ্যুট করা কতটা চ্যালেঞ্জিং—যে কোনো ফটোগ্রাফার, যারা রাতে কাজ করতে অভ্যস্ত, খুব ভালো করে জানেন।
তবে সুদীপের সবচেয়ে সাহসী সিদ্ধান্ত—পুরো সিরিজ পাঞ্জাবি ভাষায় শ্যুট করা। পাঞ্জাব পুলিশ হিন্দিতে কথা বলবে না—এটাই স্বাভাবিক। বলিউডের সেই সেন্স আছে কি না জানি না, সাহস তো নিশ্চিত ভাবেই নাই। সুদীপ শর্মার আছে।
গত পাঁচ বছরে আমি যত কাজ দেখেছি, সুদীপ শর্মার কাজ আমার কাছে সবচেয়ে আলাদা লেগেছে। ক্রাইম থ্রিলার এভাবেই বানাতে হয়। আলাদা করে কোনো ড্রামা নাই। কিন্তু এতটাই ডার্ক আর গ্রিটি যে আলাদা করে ড্রামার প্রয়োজন পড়ে না।
অনুরাগ কাশ্যাপের পরের ছবি ‘বান্দার' এর চিত্রনাট্য লিখেছেন সুদীপ। এই সিনেমাটা দেখার অপেক্ষায় আছি।