27/09/2025
গবেষণায় দেখা গেছে, মাটি ও সবুজের কাছাকাছি থাকলে মন সতেজ হয়ে ওঠে।
অবাক লাগলেও, বাগানে একটু সময় কাটানো, মাটি খোঁড়া বা গাছে পানি দেয়ার মতো সহজ কাজগুলো মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বেশ প্রভাব ফেলে।
কয়েকটি গবেষণা বলছে, বাগান করা মানুষের মানসিক চাপ কমায় ও মন চাঙা করে তোলে। এর পেছনে বৈজ্ঞানিক কারণও আছে।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হর্টিকালচারাল থেরাপি প্রশিক্ষক ক্যারেন হেইনি বলেন, "বাগান করাকে এখন এক ধরনের থেরাপি হিসেবে দেখা হয়। যারা মানসিক সমস্যার চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাদের জন্য গাছপালা ও বাগানের কাজ খুবই উপকারী।"
বিশেষজ্ঞরা বলেন, সপ্তাহে মাত্র ২০ থেকে ৩০ মিনিট বাগানে কাজ করলেই মানসিক চাপ অনেকটাই কমে যায়। যত বেশি সময় বাগানে কাটানো যায়, সুফলও তত বাড়ে।
কেউ হয়তো ভাবতে পারেন, বাইরে বা প্রকৃতির কাছাকাছি থাকলেই তো হয়, এর জন্য বাগান করার দরকার কী? কিন্তু এর উত্তর ভিন্ন।
পেশাদার হর্টিকালচারাল থেরাপিস্ট সারাহ থম্পসন বলেন, নিছক বাইরে সময় কাটানো এক কথা, আর সক্রিয়ভাবে গাছের পরিচর্যা করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
গাছের যত্ন নেয়া, কখন কী করতে হবে তা ঠিক করা এবং ধীরে ধীরে এর ফল দেখতে পাওয়া – এসব কাজ মানুষের মনে এক ধরনের তৃপ্তি ও উদ্দেশ্যবোধ তৈরি করে, যা শুধু প্রকৃতিতে ঘুরে বেড়ালে পাওয়া যায় না।
গবেষণায় দেখা গেছে, বাগান করা উদ্বেগ ও বিষণ্ণতার লক্ষণও কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।
ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো-বোল্ডারের একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় এর আরো প্রমাণ মিলেছে। গবেষকরা দুটি দলকে নিয়ে কাজ করেন।
একদলকে বাগানের সরঞ্জাম ও গাছ দেয়া হয় এবং তাদের বাগান করার সুযোগ দেয়া হয়। অন্য দলকে দুই বছর ধরে বাগান থেকে দূরে রাখা হয়।
গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, যারা বাগান করেছিলেন, তাদের মধ্যে সামাজিক সম্পর্ক অনেক বেশি মজবুত হয়েছে, মানসিক চাপ কমেছে এবং তাদের খাবারের তালিকায় আঁশযুক্ত খাবার প্রায় ৭ শতাংশ বেড়েছে।
এসব অভ্যাস উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার ও বিষণ্ণতার মতো রোগের ঝুঁকি কমায়। বাগান করার কারণে তাদের শারীরিক কার্যকলাপও সপ্তাহে প্রায় ৪২ মিনিট বেড়েছে।
অন্যদিকে যারা বাগান করা থেকে বিরত ছিলেন তাদের মধ্যে এসব ফলাফল পাওয়া যায়নি।
সারাহ থম্পসন জানান, সূর্যের আলোয় থাকা সেরোটোনিন হরমোনের মাত্রা বাড়ায়, যা মনকে ভালো রাখে।
এছাড়াও মাটির সংস্পর্শে থাকলে কিছু উপকারী জীবাণুর সংস্পর্শে আসা যায়, যা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
তাই সব মিলিয়ে বাগান করা শরীরের শক্তি, নমনীয়তা ও ভারসাম্য বাড়ায়, সামাজিক সম্পর্ক তৈরি করে এবং সৃজনশীলতাও বৃদ্ধি করে।