08/01/2021
‘ঝরা পাতারা’। স্থান সলিমুল্লাহ মুসলিম হল এলাকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
এই ছবিটার আমি নাম দিয়েছি ‘ঝরা পাতারা’। নামটা আক্ষরিক অর্থেই দিয়েছি, রুপক-টুপক কিছু নয়। ব্যাখ্যা করছি। ঐ যে একটু দূরে সবুজ গাছগুলো দেখছে পাচ্ছেন, ওগুলো কড়ই গাছ; কৃষ্ণচুড়াও হতে পারে। ফুল নেই, তাই কড়ই বলেই চালিয়ে দিচ্ছি। যাগ্গে ওসব কথা! এই স্নিগ্ধ সবুজ কড়ই গাছগুলো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলেছে শতগুণ। কী সুন্দর শান্ত স্নিগ্ধ একটা পরিবেশ! এর মধ্যে একটা সুন্দর ছবি তো প্রত্যাশা করাই যায়! কিন্তু দেখুন না, এই সুন্দর ল্যান্ডস্কেপটার মধ্যে আউট অফ ফোকাসে থাকা দু’টো ঝরা পাতা এসে পুরো ছবিটাই কীভাবে কেঁচে দিলো! আরে হ্যাঁ! আক্ষরিক অর্থেই বলছি।
ছবিটার নিচে বাম কোণায় খেয়াল করে দেখুন কিছু অবাঞ্ছিত শুকনো পাতা ঝরে পড়ে ঝুলে আছে। পাতাগুলো ক্যামেরার ফোকাসে ধরা পড়েনি, কিন্তু ঠিকই ফ্রেমের মধ্যে ঢুকে পুরো ছবিটারই বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে। ঠিক যেন দেশের হাজারো উন্নয়নের মধ্যে দিনরাত ভুলে ঘুমিয়ে থাকা বাচ্চা দু’টোর মত।
আচ্ছা বলুন তো, আমার এই ছবিটা কি দেশের উন্নয়নের মত সুন্দর একটা ল্যান্ডস্কেপ হতে পারত না? দেশ এগিয়ে যাচ্ছে তররিয়ে, উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ম করে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন কত বিষ্ময়! পদ্মা সেতু হয়ে উন্নয়ন পৌঁছে গেছে বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়েও। ’বন্য’ মানুষগুলোকেও ‘সভ্যতা’র পথে না আনতে পারলে বাংলাদেশ আজ কীসের রোল মডেল?
উন্নয়নের সুবাতাস বইছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যায় জুড়েও। এই যে ডানপাশের ফুটপাত ধরে হলের আসেপাশে ঘুরছে ছেলেগুলো; পলাশী থেকে নাস্তা করে হলে ফিরছে হয়ত। এই তো আর ক’টা দিন। এরপর এই ফুটপাত ধরেই হলের ছেলেরা, এই রাস্তা ধরেই বাইকে করে হেলমেট মাথায় সাদা পাঞ্জাবি পরে ঐ লোকটা, আর আমি ক্যামেরা হাতে হেলতে দুলতে চা খেতে যাব টিএসসি। এই রে! ‘চা খেতে’ মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে। টিএসসি তো যাব শপিং করতে। এই যে দেশের, ইনভার্সিটির এত এত ভালো দিক, এর মধ্যে কিনা ক্ষুধার যন্ত্রণা ভুলতে ড্যান্ডি খেয়ে শুয়ে আছে হতচ্ছাড়া ছিন্নমূল বাচ্চা দু’টো!
আমার ছবি কিন্তু সত্যি সত্যিই ফ্রেমের বাম দিকের নিচে আউট অভ ফোকাসে থাকা ঐ ঝরা পাতাগুলোকে নিয়েই। বাচ্চাগুলোই বরং এখানে রুপক। রিভার্স মেটাফর ভেবে আপনাদের ঐ ধারায় টারায় ফেলবেন না যেন আবার! কিন্তু হ্যাঁ! হাত কচলে কচলে একটা কথা বলতেই হচ্ছে- পাতগুলো ঝরে পড়ে না গিয়ে সবুজ থাকলে ছবিটা হয়ত অতটাও খারাপ হত না। পাতা তো সবুজেই সুন্দর। কী বলেন, স্যার?