07/01/2026
*তাৎপর্য ভিত্তিক প্রশ্ন—*
৫) মহারাজ পরীক্ষিত সাত দিন সময় পেয়েছিলেন, কিন্তু আমাদের বর্তমান পরিস্থিতি তাঁর চেয়েও কেন অনিশ্চিত?
উঃ মহারাজ পরীক্ষিত অন্তত জানতেন যে তিনি সাত দিন বাঁচবেন, কিন্তু আমাদের মৃত্যু কখন হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই— এটি পরের মুহূর্তেই হতে পারে। তাই আমাদের অবস্থা তাঁর চেয়েও বেশি অনিশ্চিত।
৬) জীবনের শেষ সময়ে পরমার্থিক কল্যাণ সাধনের জন্য কোন বিষয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যাতে তার মনুষ্য জীবন সফল হয়?
উঃ জীবনের শেষ সময়ে সমস্ত জাগতিক আসক্তি ত্যাগ করে পরম পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চরণে আত্মসমর্পণ এবং তাঁর কথা শ্রবণ ও কীর্তনের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
৭) মৃত্যুর ভয় জয় করার জন্য শ্রীল প্রভুপাদ এই তাৎপর্যে কী পরামর্শ দিয়েছেন?
উঃ মৃত্যুর ভয় জয় করার জন্য একজন সদ্গুরুর আশ্রয় গ্রহণ করে তাঁর শ্রীমুখ থেকে ভগবানের দিব্য নাম ও লীলা শ্রবণের পরামর্শ দিয়েছেন।
৮) সাত দিন সময় কি ভগবৎ-ধামে ফিরে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট? এ বিষয়ে প্রভুপাদ তার তাৎপর্যে কী বলেছেন?
উঃ হ্যাঁ, সাত দিন সময় আত্মতত্ত্ব অনুধাবনের জন্য যথেষ্ট, যদি কেউ মহারাজ পরীক্ষিতের মতো ঐকান্তিকতা নিয়ে এবং বিষয়াসক্তি ত্যাগ করে ভগবানের সেবায় পূর্ণ মনোনিবেশ করেন।
৯) সাধারণ মানুষের আয়ু কমে আসা সত্ত্বেও কেন তারা পারমার্থিক কার্যে অবহেলা করে?
উঃ সাধারণ মানুষ জড় প্রকৃতির মায়ার দ্বারা মোহাচ্ছন্ন থাকে এবং মনে করে তারা চিরকাল বেঁচে থাকবে, তাই তারা আসন্ন মৃত্যুর কথা ভুলে গিয়ে পারমার্থিক কার্যে অবহেলা করে।
১০) মহারাজ পরীক্ষিতের আদর্শ থেকে আমরা কীভাবে আমাদের জীবনের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিতে পারি?
উঃ মহারাজ পরীক্ষিতের মতো আমাদেরও উচিত মৃত্যু অনিবার্য জেনে ভয় না পেয়ে, সমস্ত পারিবাহিক ও জাগতিক মায়া ত্যাগ করে শ্রীমদ্ভাগবতমের নির্দেশিত পথে ভগবানের কথা শ্রবণ করা।