15/03/2026
কথায় কথায় স্ত্রীর গায়ে হাত দেন? চিৎকার করেন? তবুও নিজেকে পুরুষ দাবি করেন?
একটা প্রশ্ন দিয়ে শুরু করি-
যে মানুষ নিজের স্ত্রীকে রাগে, চিৎকারে, আর মারধরে চুপ করায়, সে কি সত্যিই পুরুষ?
নাকি সে আসলে নিজের দুর্বলতা লুকানোর চেষ্টা করা একজন ভীরু?
এই লাইনটা পড়ে কেউ কেউ রাগ করবে।
কেউ বলবে-
"স্ত্রী ভুল করলে বুঝাতে পারব না?"
কিন্তু পুরো লেখাটা পড়লে হয়তো নিজেকেই প্রশ্ন করতে বাধ্য
হবেন-
বাস্তবে আপনি কাকে ঠিক করছেন, আর কাকে নষ্ট করছেন?
১. কথায় কথায় স্ত্রীর গায়ে হাত দেওয়া-এটা শক্তি নয়, হীনতা
পুরুষ মানে শক্তি-
এটা ঠিক।
কিন্তু সেই শক্তি কি?
স্ত্রীকে মা"রার শক্তি?
তার কান্না দেখে গর্জে ওঠার ক্ষমতা?
ভয় দেখিয়ে নিজেকে বড় প্রমাণ করার চেষ্টা?
যে পুরুষ নিজের স্ত্রীকে প্রমাণ করার জন্য হাত তোলে, সে প্রকৃত পুরুষ নয়-সে নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা এক দুঃখজনক ব্যর্থতা।
মারধর কখনো শাসন নয়, এটা হলো সম্পর্ক ভাঙার শুরু। একবার হাত ওঠে, তারপর দিনে দিনে বাড়তেই থাকে-
স্বর
অপমান
সহিংসতা
ভীতির চাপ এবং একসময় সেই সম্পর্কের ভেতরে প্রেমের বদলে শুধু ভয় বেঁচে থাকে।
২. সারাক্ষণ চিৎকার করা-এটা নিয়ন্ত্রণ নয়, মানসিক অপরিপক্বতা
কেউ মনে করেন-"বউকে আমি চেঁ, চি, য়ে ঠিক করি।" "ওকে না বললে শুনবে না।"
"স্ত্রী মানেই সহ্য করা।"
কিন্তু সত্য হলো-চিৎকার কখনো সম্পর্ক ঠিক করে না। যে মানুষ চেঁচায়, সে আসলে যুক্তিতে হারে। চিৎকার দুর্বল মানুষের ভাষা, শান্ত মানুষ যুক্তি দিয়ে জেতে।
একটা নারী প্রতিদিন চিৎকার শুনতে শুনতে ধীরে ধীরে-
'আত্মবিশ্বাস হারায়
ব্যক্তিত্ব হারায়
হাসিখুশি মানসিকতা হারায়
'স্বামীর প্রতি শ্রদ্ধা হারায়
সবশেষে সম্পর্কটাই হারিয়ে যায়
আপনি চিৎকার করে স্ত্রীকে হারাচ্ছেন, আর নিজেকে ভাবছেন-"আমি সংসার চালাচ্ছি।" বাস্তবে আপনি সংসারকে ভেঙে দিচ্ছেন প্রতিদিন।
৩. স্ত্রীকে কখনো সত্যিই বুঝেছেন? নাকি শুধু নিজের কথা শুনিয়েছেন?
নিজেকে একবার প্রশ্ন করুন-
স্ত্রী কি কখনো আপনাকে তার কষ্ট বলতে পারে?
আপনি কি কখনো থেমে শুনেছেন কেন সে কাঁদে?
সে ক্লান্ত হলে কি আপনি বুঝেছেন?
তারও কি অনুভূতি আছে-এটা কি ভুলে গেছেন?
সে কি মানুষ নাকি আপনার রাগ ঝাড়ার টেবিল?
যে পুরুষ শুধু নিজের কথা বলে, স্ত্রীর কথা শোনার ধৈর্য রাখে না-সে আসলে একজন সঙ্গী নয়, একজন শাসনকারী।
স্ত্রীরও খারাপ দিন থাকে।
তারও ব্যথা, অভিমান, ক্লান্তি আছে।
সে রোবট নয়, সে মানুষ-আর সে আপনার আগ্রাসী আচরণের প্রাপ্য নয়।
৪. ঘরের বাইরে শান্ত? কিন্তু ঘরের ভেতরে বাঘ?-এটাই আসল কাপুরুষতা
আশ্চর্যের ব্যাপার হলো-
বাইরে বন্ধুদের সাথে, কাজে, সমাজে এমন পুরুষ খুব নরম, ভদ্র, শান্ত থাকে।
কিন্তু ঘরের দরজা বন্ধ হলেই-
রাগ, চিৎকার, ঝড়, অপমান, হাত উঠানো-সব শুরু হয়।
এই দ্বিমুখিতা আসলে শক্তি নয়-এটা হলো ভীরুতার চূড়ান্ত রূপ।
কারণ সে জানে-
বাইরের মানুষ তার জবাব দেবে, কিন্তু স্ত্রী দেবে না।
সে জানে-
স্ত্রী প্রতিবাদ করলে পরিবার দোষ দেবে তাকে। চুপ করলে সুযোগ পাবে আরও।
এই সুবিধাবাদিতার নাম শক্তি নয়-এটার নাম কা,পু,রু,ষতা।
৫. স্ত্রীকে ছোট করলে-আপনার সন্তানরাও শিখে যায় অপমানকে 'স্বাভাবিক' ভাবতে
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দিকটা হলো-যে ঘরে স্বামী প্রতিদিন স্ত্রীকে অপমান করে, সেই ঘরের সন্তানরা silently শিখে যায়-
বাবা চিৎকার করা নরমাল
মায়ের কান্না নরমাল
মাকে অপমান করা ঠিক
রাগ দেখানো পুরুষত্ব
সম্পর্ক মানে ঝগড়া
এভাবেই পরবর্তী প্রজন্মও একই ভুল-একই সহিংসতা-একই বিষাক্ত মানসিকতা নিয়ে বড় হতে থাকে।
আপনার আচরণ শুধু স্ত্রীকে নয়, আপনার সন্তানদের ভবিষ্যতকেও নষ্ট করছে।
শেষ কথা আজ একটা প্রশ্ন আপনার কাছেই-যে পুরুষ নিজের স্ত্রীকে অপমান করে, মারধর করে, চেঁচায়-সে কি আসলেই পুরুষ।