নারী

Call Website Contact the business

নারী নারীর সকল ভালোলাগা ও অনুভূতির স্পর্শে সাজানো আমাদের এই পেইজ।
(2452)

আমি নারী।
আমার ভেতরে আগুনের মতো শক্তি জ্বলছে।
যে চায়, তার পথেই আলো ছড়িয়ে দেব আমি।
আমি নারী!
আমি তোমার জন্মদাত্রী।

24/10/2026

অপেক্ষা ও ইবাদত হতে পারে যদি সেটা তাওয়াকুল এর সাথে অপেক্ষা হয়। যদি প্রতি প্রহর আল্লাহ্ কে মনে করে কাটানো যায়। আমাদের অপেক্ষা গুলো ইবাদত হিসেবে গ্রহণ হয়ে যাক ইন শা আল্লাহ্।

#লেখিকা_মনিরা_মনি

24/10/2026

নিজের দিকে মনোযোগ দিন, ঘুমের অভ্যাস ঠিক করুন, ভালো খাবার খান, আপনার চারপাশের মানুষদের বাছাই করে নিন, অতীতকে মেনে নিন, কম কথা বলুন, মনকে স্থির করুন, ঝামেলা এড়িয়ে চলুন, কাউকে পাওয়ার পেছনে ছুটবেন না এবং কঠোর পরিশ্রম করুন। ধীরে ধীরে, আপনি নিজেই নিজের সবচেয়ে প্রিয় আশ্রয়স্থল হয়ে উঠবেন।

- Rahma

24/10/2026

নাশতা কম হয়েছে স্ত্রী কে মারধর।
এইরকম ভাই অহরহ হয়,কারোরটা জানা যায় কারোরটা অজানা থেকে যায়।
এইরকম অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে অনেক মেয়ের তার থার্ড ক্লাস শশুরবাড়িতে,আমি বেশি ভাত খাই।
মাছ-মাংস বড় দেখে খাই,পিঠা ২০০টা কেন?কম হয়ে গেছে।আরও কত কি!

এতো কিছু দেওয়ার পরও আরও কতো যে কথা শুনতে হয়েছে। এদের পেট জীবনেও ভরবেনা তো।
সিফাতুন মেয়েটা হয়তো প্রতিবাদ করতে পারেনি কিন্তু যেই মেয়েরা প্রতিবাদ করে নিজের ভালোর জন্য,তাদের কে সমাজ ডিভোর্সী বলে খোঁচা দেয়।

আমি মনে করি নিজের শান্তির জন্য নিজেকে নিরাপদ রাখতে এমন সম্পর্কের কোনো মূল্যায়ন না করে যারা so-called সমাজের কথা না ভেবে প্রতিবাদ করতে পারে তারাই আসল মেয়ে এবং তার পরিবার-ই একটা নিয়ামত,মেয়েটার জন্য।

সমাজের চিন্তা করে নিজের সম্মান রাখতে দিনের পর দিন অমানুষ এর সাথে সংসার করার মানেই হয় না।
আজকে সিফাতুন আপুটা বেঁচে ফিরে ডিভোর্সী হলে,সমাজ তাকে ছিঃ ছিঃ করতো আর এখন তার জন্য সমাজের কতো শোক।
তোমাদের এই ভালোবাসা সাইডে রাখো,একটা মেয়ে এই সমাজের ভয়ে মানিয়ে নিতে নিতে নিজেকে শেষ করে ফেলে।
আর সমাজ ২দিন পর সব ভুলে যায়।২দিন ফেইসবুকে বিচারের দাবি জানায় পরে চুপ হয়ে যায়।
যেই সমাজের কলঙ্কের ভয়ে একটা মেয়ে এতো কষ্ট পায়,সে সমাজ এখন কোথায়?
২দিন পর এই বেডা মানুষ অপরাধী হয়েও আরেকটা বিয়ে করে সংসার করবে কারণ পুরুষ মানুষদের সমাজ কখনো দাগ দেয় না,সব দোষ মেয়েদের।
এই ছেলেদের দোষ জেনেও কিছু মেয়েরা ইচ্ছা করেই আবার সেই ছেলের কাছে দেউলিয়া হয়ে বিয়ে করে।
কিছুদিন আগেও দেখেছি বিয়ে ভেঙে যায় একটা খাসির জন্য,সিরিয়াসলি ভাই এইটা কেমন সমাজ?

#হাফসা_মুমতারিন_মুমু

24/10/2026

#অশুদ্ধ_দরিয়া(০৪)
রাতের আঁধারে আব্বার শেষ গোসল সম্পন্ন করা হলো।
তার ছোট ছেলে মৃত্যুর সংবাদটুকুও পেলোনা। আর বড় ছেলের বউ আব্বা অসুস্থ হওয়ার পর পরই বাবার বাড়ি চলে গিয়েছিলো, আর বউয়ের লেজ ধরে সেও শ্বশুর বাড়িতে ছিলো। মৃত্যু সংবাদ পেয়ে কোনো রকম এসে জানাজাটা ধরেছে।
আমার বয়স্ক মা একাই বাবার সবকিছু করেছে। ঘোর অসুস্থটাতেও ঔষধ কেনার জন্য তার কাছে দুটো পয়সাও ছিলোনা, যখন মৃত্যু সন্নিকটে তখন কাকা ডাক্তার ডাকতে গেছে, কিন্তু সেই ডাক্তারের কোনো কাজ আব্বা লাগায়নি, এর আগেই বিদায় নিয়ে নিয়েছেন।
এশারের নামাজের পর আব্বার জানাজা আর দাপন সম্পন্ন করা হয়। এতক্ষণ অনেক মানুষ বলাবলি করছিলো আমার ছোট ভাই আসলোনা কেন? আবার আমার শ্বশুর বাড়ি তো কাছে সেখান থেকে কেউ আসলো না কীভাবে? অন্তত মেয়ের জামাইটারতো উচিত ছিলো শ্বশুরের কবরে এক মুষ্টি মাটি দেওয়া! কীভাবে পারলো না এসে?
শেষ পর্যন্ত আমার আম্মাও বিষয়টা খেয়াল করলো, কাঁদতে কাঁদতে গলা ভেঙে গেছে তার, লাল টকটকে গোলার মতো চোখ দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বললো,
' সোহানা তোর জামাই খবর পায় নাই? তোর বাপের জানাজায় আইলোনা কি কইরা?

আমি অসহায় গলায় বললাম,
' আম্মা কেডা খবর দিবো তারে?

' তাইলে তুই আইলি কেমন কইরা?

' আমি এমনি আইছি আম্মা।

' এমনি এমনি তো তুই আওনের বেডি না, হাছা কইরা ক কি হয়ছে?

আম্মাকে থামাতে জোর গলায় বললাম,
' এতো জেরা কইরোনা তো। অইবো আবার কি? উডো কাকী ডাকতাছে খাইতে।

' তুই খা গিয়া। আমি খামুনা। কার লাইগা খামু আমি? কি নিয়া বাঁচমু আর? যার লাইগা বাঁইচা আছিলাম হে তো আমারে রাইখা চইলাই গেলো।

বলে আবারও কান্না জুড়ে দিলো। আম্মার কাঁধে জড়িয়ে ধরে জোরপূর্বক টানতে টানতে বললাম,
' আমরার কেউ নাই আম্মা, নিজেরাই নিজেরার জানডা বাঁচাইয়া রাখন লাগবো। আইয়ো কডা খাইবা।

আম্মা আমার দিকে একটু অবাক হয়ে তাকালো,বুঝলো আমি মন শক্ত করে শোক কাটিয়ে উঠতেছি। কিন্তু সে তো জানেনা আমি কতো ঝড় বুকে নিয়ে এই বাড়ি এসেছিলাম, তার সাথে যুক্ত হয়েছে বাবা মরার শোক। মানুষ বলেনা অতি শোকে মানুষ পাথর হয়ে যায়? আমি হয়তো তা-ই। চোখে আর পানি আসছেনা, আর না আসছে বুক ফাটানো আর্তনাদ! আমারও গলায় আর জোর নেই।

আমাদের সাথে বড় ভাই আর তার বউ বাচ্চারাও কাকীদের ঘরে গেলো খেতে। কাকী পাতে খাবার বাড়তে বাড়তে ভাইকে বললো,
' রুস্তম তোর আব্বায় তোরে বড় আউস কইরা পালছে, তুই যখন হইলি তখন সংসারে খুব অভাব তাও মসজিদে ৫ কেজি জিলাপি বিলাইছে। তুই হওনের আগে তোর মা'র দুইটা বাচ্চা হইয়া মরছে। তাই তোরে যে কি আদরডা করতো! তুই কেমনে তোর বাপটার অসুখের সময় এমন পলাইয়া গেলি বাপ?

আমার ভাবী পাশ থেকে বললো,
' দুইডা খাওয়াইবেন বইলা কি কথা শুনাইয়া উসুল তুলতাছেন?

কাকী জিব্বায় কামড় দিয়ে বললো,
' সুজনের মা কথাডা কইলা কি? কিসের উসুল তুলমু? অসুখে-বিসুখে পোলাপান বাপ-মার কাছে না থাকলে কেডা থাকবো? আর আমি কথাগুলা কইতাছি রুস্তমরে, তুমি ফাঁকেত্তে কি কও এইগুলা? ভাবী দেখছেন আপনার পোলার বউ কথাডা কি কইলো?

আম্মা চুপ করে রইলো।
আমার ভাই বললো,
' হাছাই তো কইছে। আমি কি জানতাম আব্বা মইরা যাইবো? আব্বার তো আরেক পোলাও আছে, হেরে তো কেউ কিছু কন না। টাকাপয়সা বেশি কামায় দেইক্কা?

কাকী কিছু বলতেই যাচ্ছিলো।
আম্মা কাকীর হাতটা চেপে ধরে বললো,
' থামো জামিলার মা। আর কিছু কইয়োনা।

কাকী থেমে গেলো। আমার ভাবীর খাওয়া বন্ধ হয়নি, সে খাচ্ছে, বাচ্চাকেও খাওয়াচ্ছে। আমিও অল্প খেলাম। কাকী আম্মাকে জোরাজোরি মরে কয়েক লোকমা খাওয়ালো।

রাতে আম্মার সাথে ঘুমালাম। আম্মা সারারাত ঘুমায়নি, আমার মাথায় হাত বুলাইছে আর একটু পর পর নাক ঝাড়ছে, আম্মার কান্না বন্ধ হয়নি। কাঁদবেইনা কেন? আম্মার সুখে দুঃখের একমাত্র সঙ্গীই ছিলো আব্বা, কোনোদিন তারা দুজন দুজনকে ছেড়ে একা থাকেনি।
আর আমি আব্বার সবচেয়ে ভালোবাসার ছিলাম, বিয়ে হওয়ার আগে আব্বার কাপড়চোপড় ধোয়া,খাবার দেওয়া,শরীরে তেল দিয়ে দেওয়া,নখ কেটে দেওয়া সবই করতাম। কিন্তু বিয়ের তিন বছরে আব্বার সাথে তিনটা দিনও থাকতে পারিনি।

আমার ছোট ভাইয়ের জন্মের প্রায় ৭ বছর পর আমার জন্ম হয়েছে। দুই ছেলের পর একটা মেয়ের খুব আকাঙ্খা ছিলো তাদের। বড্ড আদরের ছিলাম আমি। যতদিন আব্বা কামাই করতো ততদিন আমি রাজকন্যার মতোই ছিলাম। আব্বা স্ট্রোক করে ঘরে পড়ে যাওয়ার পরই সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেলো। আব্বার তিলে তিলে গড়া সারের দোকানটা বড় ভাই দখলে নিলো।

যখন জামানের সাথে আমার বিয়ের আলাপ আলোচনা চলে, তখন তারা অনেককিছু দিয়ে দেওয়ার আবদার করে আর অনেক লোক খাওয়ানোর কথা বলে। আব্বার দুই ছেলেই এর ঘোর বিরোধী ছিলো, তারা বললো এতকিছু তারা করতে পারবেনা।
অন্যদিকে আব্বাও এতো ভালো সমন্ধ হাতছাড়া করতে চাইলোনা। পাত্র বাড়ির একমাত্র ছেলে, বাড়িতে আবার বিল্ডিং থাকে আবার বিদেশ!
তাই আমার ভাইয়েরা আমার বিয়ের খরচ বহন করতে অস্বীকার করলে আব্বা তাদের উপর রাগ করে একমাত্র ফসলি জমিটাও বিক্রি করে দেয়। এরপর থেকে ভাইদের ক্ষোভ আমার উপর । আমি নাকি আমার পাওনার চাইতে বেশি নিয়ে গেছি, কেননা ওটা ছাড়া আমাদের কেবল ভিটাবাড়িটাই আছে। তাই আমাকে আর তেমন সহ্য করতে পারেনা। বিয়ের পর ভাইরা আমাকে এক নজর দেখতেও আমার শ্বশুর বাড়ি যায়নি। এই নিয়ে প্রথম প্রথম আমার শাশুড়ী বহু কথা শুনিয়েছে, ধীরে ধীরে বুঝেছে আমি দূর্বল, আমার পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই। এরপর থেকে তার আচরণ ক্রমশই খারাপ হচ্ছিলো। কোনোদিন তার খারাপ আচরণের জন্য আমার বাবার বাড়ির লোকেরা তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেনি,তাই তার কলিজা ছিলো প্রশস্ত।

'

পরেরদিন সন্ধ্যার আগ মূহুর্তে আমাদের বাড়িতে জামান এলো। এসেই আমার নাম ধরে ডাকাডাকি করতে লাগলো। আমার ভাতিজা জামানকে দেখে বললো,
' ফুফু দাদির লগে ওই ঘরে।

আমাদের আধভাঙ্গা টিনের ঘরটা দেখিয়ে দিলো, যেটার একদিকে গরু থাকে, আরেকদিকে একটা বিছানা রাখা। আব্বা মারা যাওয়ায় আম্মা ৪০ দিন একাকী ওখানে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জামান দরজার বাইরে থেকে ডাকলো,
' সোহানা বাইর হও।

আমি মাথায় কাপড় দিয়ে ঘর থেকে বের হলাম। আমাকে দেখে বললো,
' তোমার আব্বা মারা গেছে একবারও কইলা না ক্যান?

' ক্যান হাট বাজারে যান না?

' না যাই নাই।

' তাইলে শুনবেন কেমন কইরা? সারা বাজারের ব্যবসায়ীরাও তো জানাজায় আইছে, সবার মুখে মুখে খবর ছড়াইছে আপনেই শুনেন নাই খালি? আপনার আম্মা আমার আব্বার শইল খারাপের কথা শুইনাও আমারে জানায় নাই। আমারে দেখনের তৃষ্ণা নিয়া আব্বা দুনিয়া ছাইড়া গেছে। আর আপনাদের জানাইয়া কি হইবো? আমি তো নাইওর আসি নাই, আমি আমার সংসার ছাইড়া আইছি।

' সংসার ছাড়নের কথা কইবানা সোহানা।

আম্মা দরজার ফাঁক দিয়ে হাঁক ছেড়ে বললো,
' বাজান সংসার ছাড়নের কথা কইতাছো ক্যান তোমরা? কি হইছে?

আমার হুঁশ এলো, আম্মা সবকিছু শুনতে পাচ্ছে। আমি জামানকে থামানোর আগেই জামান বললো,
' আমি কিছু এমন কিছু কই নাই আম্মা,সোহানা রাগ কইরা চইলা আইছে।

আম্মা ভয়ার্ত কণ্ঠে বললো,
' কি অলক্ষী কাজকারবার। সোহানা তুই ক্যান চইলা আইলি? আইছস আইছস এখন জামাই যা কইবো তাই করবি। বাজান, আমার মাইয়াডা অবুঝ, ওর বাপের বড় আদরের আছিলো তো তাই ধৈর্য্যশক্তি কম। একটু বুঝায়া বাজায়া রাইখো , এতিম হইয়া গেলো মাইয়াডা আমার!

মা'র কথা শুনে আমার চোখ ছলছল করে উঠলো, আমার নাকি ধৈর্য্যশক্তি কম!
জামান ইতস্তত হয়ে বললো,
' আসলে আম্মা আমার দ্বিতীয় বিয়াডা মনে হয় সোহানা মাইনা নিতে পারে নাই, তাই রাগ করছে। আমি কথা দিতাছি, দুজনরে এক রকম কইরা রাখনের চেষ্টা করুম।

আম্মা ভেতর থেকে কিছুক্ষণ চুপচাপ, তারপর হঠাৎ টিনের উপর হাত দিয়ে জোরে আওয়াজ করে বললো,
' কই কইলা? তুমি আরেকটা বিয়া করছো?

জামান থতমত খেয়ে বললো,
' সোহানা বলে নাই?

আম্মা রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বললো,
' বললে কি তোমারে আমি বাপসোনা ডাকি? কেমনে আরেকটা বিয়া করলা? যাও আমার মাইয়া আমি দিমুনা।

' আম্মা এমন করবেন না। এখন থেইকা সব ভালাই হইবো।

' আমার বুঝা শেষ আমার মাইয়া কেমন ভালা আছে। আমার ফুলের মতো মাইয়াটা কতো কিছু লুকাইতে শিইখা গেলো হ্যাঁ? হের জামাই আরেক বেডি লইয়া আইছে আমারে একটাবার কইলোনা! আরো জানি কতো অশান্তি ভোগ করছে আল্লাহ জানে। তুমি চইলা যাও, সতীনের ঘর করতে দিমুনা আমি।

গরু নিয়ে ঘরে ঢুকতে ঢুকতে আমার ভাবী আম্মার কথা শুনে ফেললো, ওখান থেকেই চেঁচিয়ে বললো,
' আরে কি কয় কয়, সোহানার জামাই আরেক বিয়া কইরা লাইছে?

আম্মা বললো,
' আস্তে চিল্লাও সুজনের মা, আমাদের মইধ্যে কথা কইবানা।

আরো বেশি চিল্লাতে চিল্লাতে এগিয়ে এসে বললো,
' কথা কমুনা ক্যান? মাইয়ারে সংসার ছাড়াইয়া আইনা বাড়িত তুলবেন, পালবো কেডা? এরপর আবার বিয়া দিবেন না? বাবাবাবাবা আমাদের নিঃস্ব কইরা আফসোস মিটে নাই? আপনার জামাই ফসলি জমি বেচছে আপনে কি ভিটাবাড়ি বেইচা দিবেন এইবার?

' সুজনের মা এইখান থেইকা যাও দোহাই লাগে। তোমরার এক টাকাও খরচা করমুনা, আমার মাইয়ারে লাগলে ভিক্ষা কইরা পালমু।

ভাবী মুখ ভেংচিয়ে চলে যেতে যেতে বললো,
' লাগলে তাই কইরেন, আর পারুম না। আপনারারে পালতে পালতে শইলের ছাল-বাকলা উইঠা গেছে।

আম্মা কাঁদতে কাঁদতে বললো,
' তুমি দাঁড়ায়া না থাইকা যাও জামান, বাড়িত গিয়া নতুন বউ লইয়া সুখে থাকো।

জামান গেলোনা। আমি ভেতরে চলে গেলাম। জামান কম্পিত গলায় বললো,
' সোহানা তোমারে ছাড়া একদিনেই বাড়িঘর আউলাঝাউলা হইয়া গেছে,বাড়িতে আজকা রান্ধাও হয় নাই। অনুরোধ লাগে আমার লগে আইয়ো।

আম্মার দিকে তাকিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বললাম,
' দেখছো আম্মা? আমারে এমনে এমনে নিতে আইয়ে নাই, তার বাড়ির কাম করনের লাইগা আইছে। কাম ছাড়া ওই বাড়িত আমার কোনো দরকার নাই আম্মা। তুমি কও আমি কি দুইবেলা ভাতের লাইগা উষ্ঠালাত্তি খাইয়া সারাজীবন ওই বাড়িত কাম কইরা যামু?

আম্মা আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বললো,
' কান্দিস না মা, এতদিন আমারে কস নাই ক্যান এতো অশান্তির কথা? কেমনে হজম করলি? আয় বস, আমারে সব ক, সব ক আমারে।

জামানের চলে যাওয়ার আওয়াজ পেলাম, গটগট করে চলে যাচ্ছে।
পরক্ষণেই আমার ভাবীর গলার আওয়াজ ভেসে এলো, ডেকে বলতেছে,
' বউ যায়না? তারার দেমাক দেখলে শইল জ্বলে, সতীনের ঘর করলে সমস্যা কই? শুনেন ভাই, বউ থুইয়া যাইয়েন না, আপনার শাশুড়ী এমন ফুসলাইবো আর বউ ফিরা পাইবেন না।

আমি আম্মার থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে দরজায় দাঁড়িয়ে জোরে বললাম,
' ভাবী সমস্যা না থাকলে আপনার জামাইরেও আরেকটা বিয়া করাইয়েন। আপনার আম্মা তো ভালা মানুষ, আপনারে ফুসলাইবোনা।

চলবে.......

লেখাঃ #তাজরীন_খন্দকার

24/10/2026

শাইখ আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ(হাফিঃ)-র কোনো এক লেকচারে শুনেছিলাম, মনের নেক আশা পূরণে জমজম পানি যেভাবে কাজ করে, সূরা বাকারাহ'র শেষ দুই আয়াত ঠিক একইভাবে কাজ করে।

সেই থেকেই সুযোগ হলে এই আমল করার চেষ্টা করি। দুরুদে ইবরাহীম পাঠের পর সূরা বাকারাহ'র শেষ দুই আয়াত তিলওয়াত করে দুআ করি। আলহামদুলিল্লাহ, ব্যক্তিগত জীবনে এই আমলের দ্বারা উপকৃত হয়েছি এবং যাদেরকে এই আমলের কথা বলেছি,তারাও উপকৃত হয়েছে। অনেক আমলদার মানুষকেও এই আমলের মাধ্যমে দুআ করতে দেখেছি।

~তাহিয়া ইসলাম

24/10/2026

ছয়টা জিনিস আল্লাহর কাছে চেয়ে নিবেন!
শারীরিক সুস্থতা, হালাল রিজিক, নিরাপদ বাসস্থান, নেককার জীবনসঙ্গী, নেককার সন্তান, ঈমানের সাথে মৃ ত্যু,
আল্লাহ কবুল করুন!

আমীন!

একটু নাশতা কম হয়েছিল! তাই কি একটা মেয়েকে জীবন দিয়ে তার মূল্য দিতে হবে?মেয়েটার নাম সিফাতুন নূর সিফাত। বয়স মাত্র ২২ বছর। প...
24/10/2026

একটু নাশতা কম হয়েছিল! তাই কি একটা মেয়েকে জীবন দিয়ে তার মূল্য দিতে হবে?

মেয়েটার নাম সিফাতুন নূর সিফাত। বয়স মাত্র ২২ বছর। পাঁচ মাস আগে বিয়ে হয়েছিল। নতুন সংসার, নতুন পরিবার, নতুন জীবন নিয়ে হয়তো কত স্বপ্নই না ছিল তার! তার ওপর সে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পৃথিবীর আলো দেখার অপেক্ষায় ছিল তার গর্ভের সন্তান। হয়তো অনাগত সন্তানকে নিয়ে কত কল্পনা, কত পরিকল্পনা ছিল তার!

কিন্তু কে জানত, একটা সামান্য নাশতার অভিযোগ তার জীবনের শেষ অধ্যায় হয়ে দাঁড়াবে!

গত ১৪ অক্টোবর মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে হাতে তৈরি নাশতা নিয়ে গিয়েছিলেন সিফাতের মা। নিজের হাতে বানানো খাবার মেয়ের শ্বশুরবাড়ির মানুষদের খাওয়াবেন, এ তো একজন মায়ের ভালোবাসারই প্রকাশ। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, নাশতার পরিমাণ কম হওয়ায় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মা ও মেয়েকে মারধর করা হয়।

একবার ভাবুন তো, যে মেয়েটা কয়েক মাস আগেও বাবা-মায়ের ঘরে নিশ্চিন্তে ঘুমাত, যে মেয়েটার কোনো কষ্ট হলে বাবা-মা ছুটে যেতেন, সেই মেয়েটাই বিয়ের পর নিজের শ্বশুরবাড়িতে কতটা অসহায় হয়ে পড়েছিল!

অভিযোগ অনুযায়ী, মারধরের পর সিফাতের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। টানা নয় দিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে ২৩ অক্টোবর পৃথিবী ছেড়ে চলে যায় সে।

মাত্র ২২ বছরের একটা প্রাণ!

কিন্তু সিফাত একা চলে যায়নি। তার সঙ্গে চলে গেল তার গর্ভে থাকা অনাগত সন্তানটিও। যে সন্তান পৃথিবীর আলো দেখার আগেই হারিয়ে ফেলল তার মাকে, যে সন্তান কোনো দিন জানতে পারবে না মায়ের কণ্ঠস্বর কেমন ছিল, মায়ের বুকের ঘ্রাণ কেমন ছিল!

আর সিফাতের মা?

যে মা নিজের হাতে নাশতা বানিয়ে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন, সেই মাকে এখন মেয়ের নিথর দেহের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। যে মেয়েকে আদর-যত্নে বড় করেছেন, যার বিয়েতে হয়তো কত স্বপ্ন বুনেছিলেন, সেই মেয়েকে কয়েক মাসের মধ্যেই হারিয়ে ফেললেন!

মায়ের বুকের ভেতরটা কেমন করে ভেঙে যাচ্ছে, তা কি আমরা কল্পনা করতে পারি?

যে বাবা মেয়েকে বিয়ে দিয়ে ভেবেছিলেন, মেয়েটা নতুন সংসারে ভালো থাকবে, সেই বাবার কাছে এখন মেয়ের মৃত্যুর বিচার চাওয়া ছাড়া আর কী-ই বা অবশিষ্ট আছে?

সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, একটা মেয়ে বিয়ের পর নিজের বাড়ি ছেড়ে অন্য একটি বাড়িতে যায়। সেই বাড়ির মানুষগুলোকে আপন করে নিতে চায়। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সম্পর্কগুলো আগলে রাখতে চায়। কিন্তু সেই বাড়িতেই যদি তার নিরাপত্তা না থাকে, যদি সামান্য বিষয় নিয়ে তাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়, তাহলে সে কোথায় যাবে?

একটু নাশতা কম হয়েছে, খাবার ভালো হয়নি, রান্নায় লবণ বেশি হয়েছে, বাবার বাড়ি থেকে কিছু এনেছে কিংবা আনেনি—এসব নিয়ে কত মেয়েকেই না প্রতিদিন কথা শুনতে হয়! কত মেয়েকে অপমান সহ্য করতে হয়, কত মেয়েকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়!

কিন্তু একটা মানুষের জীবনের চেয়ে কি কয়েক পদের নাশতার মূল্য বেশি?

একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মারধর করার অভিযোগ যদি সত্য হয়, তবে এর চেয়ে নির্মমতা আর কী হতে পারে? যে নারী নিজেই তখন শারীরিক ও মানসিকভাবে একটি সংবেদনশীল সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন, তাঁর প্রতি এতটুকু মানবিকতা কি দেখানো যেত না?

আমরা চাই, সিফাতের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসুক। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কোনো প্রভাব, কোনো সম্পর্ক কিংবা কোনো সামাজিক পরিচয় যেন ন্যায়বিচারের পথে বাধা না হয়।

সিফাত আর ফিরবে না। তার অনাগত সন্তানও আর কখনো পৃথিবীর আলো দেখবে না। তার বাবা-মায়ের শূন্যতা কোনো রায় দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়।

তবু ন্যায়বিচার প্রয়োজন। যেন আর কোনো বাবা-মাকে এভাবে মেয়েকে হারাতে না হয়। যেন আর কোনো মেয়েকে শ্বশুরবাড়িতে সামান্য একটি নাশতার জন্য নিজের জীবন নিয়ে মূল্য দিতে না হয়।

একটা মেয়েকে বিয়ে দিয়ে বাবা-মা তার মৃত্যুর খবর শোনার জন্য বিদায় দেন না। তাঁরা বিদায় দেন মেয়ের সুখী জীবনের আশায়।

সিফাতের জন্য, তার অনাগত সন্তানের জন্য এবং এমন নির্যাতনের শিকার হওয়া প্রতিটি নারীর জন্য ন্যায়বিচার চাই।

একটা নাশতার দাম হয়তো কয়েকশ টাকা। কিন্তু একটা জীবনের দাম কত?

সিফাতের বাবা-মায়ের কাছে এই প্রশ্নের উত্তর কোনো দিনই আর পাওয়া যাবেনা।

জাকিয়া হোসেইন তৃষা

24/10/2026

যদি কোনো একটি বিষয় বারবার আপনার মনে আসে, আর আপনি চাইলেও তা নিয়ে ভাবা থামাতে না পারেন, তাহলে সেই বিষয়টি নিয়ে আপনার রবের কাছে দু‘আ করতে থাকুন। বারবার চান, মন খুলে চান, চোখের অশ্রু নিয়ে চান। কারণ, আল্লাহ হলেন আল-ওয়াহহাব—অফুরন্ত দানকারী। তাঁর দানের কোনো সীমা নেই। 🌸

কীভাবে আপনার চাওয়া পূরণ হবে, কখন হবে কিংবা কোন পথে আপনার জীবনে পরিবর্তন আসবে, তা নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করবেন না। আপনার কাজ হলো দু‘আ করা, চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা।

মনে রাখবেন, আল্লাহ হলেন আল-মুজীব—দু‘আ কবুলকারী। তিনি আপনার মনের সেই কথাটিও জানেন, যা আপনি কাউকে বলতে পারেন না। তাই মানুষের কাছে বলার আগে আপনার রবের কাছে বলুন। নিজের অপূর্ণতা, কষ্ট, স্বপ্ন আর গোপন চাওয়াগুলো তাঁর সামনে তুলে ধরুন।

আপনি যতবারই তাঁর দরজায় ফিরে আসুন, নিরাশ হয়ে ফিরবেন না। চাইতে থাকুন, দু‘আ করতে থাকুন এবং বিশ্বাস রাখুন—আপনার রব আপনার অবস্থা জানেন।

আমাদের গোপন খামে চিঠি পেইজে আপনিও, নিজেকে গোপন রেখে প্রিয় মানুষ, বন্ধু-বান্ধবের কাছে, বলতে না পারা মনের কথা পৌছিয়ে দিন।
24/10/2026

আমাদের গোপন খামে চিঠি পেইজে আপনিও, নিজেকে গোপন রেখে প্রিয় মানুষ, বন্ধু-বান্ধবের কাছে, বলতে না পারা মনের কথা পৌছিয়ে দিন।

24/10/2026

ইউনুস (আ) এর ঘটনাটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাটা বেশিরভাগ সময় চোখ এড়িয়ে যায়।

তিনি তখন তিনটা অন্ধকারের ভেতরে ছিলেন। মাছের পেটের অন্ধকার। সমুদ্রের গভীরের অন্ধকার। আর রাতের অন্ধকার।

কোনো প্ল্যান নেই। কোনো রাস্তা নেই। চিৎকার করলেও শোনার মতো একটা মানুষও নেই। মানুষের হিসাবে ওই জায়গা থেকে ফিরে আসার সম্ভাবনা শূন্য।

ঠিক ওই অবস্থায় তিনি যা বলেছিলেন, সেটাই আসল শিক্ষা।

"তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তুমি পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি সীমালঙ্ঘনকারীদের একজন।"
সূরা আল আম্বিয়া, 21:87

খেয়াল করো, এই দোয়ার ভেতরে কোনো চাওয়া নেই।

"আমাকে বের করো" নেই। "আমার সমস্যাটা মিটিয়ে দাও" নেই। শুধু আল্লাহর বড়ত্ব স্বীকার, আর নিজের ভুল স্বীকার।

আমরা দোয়া করতে বসলে একটা লম্বা লিস্ট ধরিয়ে দেই। তিনি লিস্ট দেননি। তিনি শুধু নিজের জায়গাটা ঠিক করে নিয়েছিলেন। আর আল্লাহ তাকে ওই অন্ধকার থেকে তুলে এনেছিলেন।

আরেকটা জিনিস ভাবো।

মাছের পেট দেখতে শাস্তির মতো। কিন্তু ওই মাছের পেটই তখন তাকে সমুদ্রের ভেতরে বাঁচিয়ে রেখেছিল।

যে অধ্যায়টাকে তুমি এখন তোমার জীবনের সবচেয়ে খারাপ সময় মনে করছো, সেটা হয়তো তোমাকে শেষ করার জন্য না। সেটা হয়তো তোমাকে ধরে রাখার ব্যবস্থা।

সবারই একটা করে মাছের পেট আছে।

কারো সেটা একটা রেজাল্ট। কারো একটা রিজেকশন। কারো একটা অ্যাডিকশন যেটা কেউ জানে না। কারো শুধু একটা নিঃশব্দ রাত, যেখানে সব ঠিক আছে দেখায়, কিন্তু ভেতরে কিছুই ঠিক নেই।

আর ওই অবস্থায় আমরা সবকিছু করি। স্ট্রাটেজি খুঁজি, মানুষ খুঁজি, স্ক্রল করে সময় পার করি। শুধু যে দরজাটা কখনো বন্ধ হয় না, সেটাতেই নক করা হয় না।

হতাশা এত ভয়ংকর, কারণ হতাশা তোমাকে দিয়ে সিদ্ধান্তটা নিইয়ে নেয়, যেটা নেওয়ার অধিকার কখনোই তোমার ছিল না। আল্লাহ কী করবেন, সেই রায় তুমি নিজেই দিয়ে দাও।

তুমি জানো না কখন অবস্থা বদলাবে। জানার দরকারও নেই।

তোমার কাজ ডাকা। বের করে আনার কাজটা তাঁর।

আল্লাহ আমাদের কাউকে যেন তাঁর রহমত থেকে নিরাশ না করেন, বিশেষ করে ওই দিনগুলোতে, যেদিন জীবনটা বহন করার ক্ষমতার চেয়েও ভারী মনে হয়। আমীন।

- আসিফ রায়হান

Address

Shyamoli
Dhaka
1212

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when নারী posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to নারী:

Shortcuts

Share