03/10/2025
#চিন্তাশীল লোকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি
একটি দৃষ্টান্তমূলক #উদাহরণ দিচ্ছি—
ধরা যাক, একটি বিশাল সমুদ্রযাত্রা শুরু হলো। আপনি নিজেও সেই জাহাজের একজন যাত্রী। হাজার হাজার যাত্রী নিয়ে জাহাজটি নির্দিষ্ট গন্তব্যের পথে যাত্রা শুরু করল। যাত্রীরা যার যার মতো আনন্দে মেতে উঠল- কেউ গান গাইছে, কেউ নাচছে, কেউ সমুদ্রের সৌন্দর্যে মগ্ন। কিন্তু একজন চিন্তাশীল যাত্রী সবার থেকে আলাদা। তিনি চারদিকে তাকিয়ে দেখলেন, যাত্রীরা নিরাপত্তা নিয়ে একেবারেই উদাসীন। আর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো- জাহাজ চালনার দায়িত্ব যাদের হাতে, তারা দুর্নীতিবাজ, মদ্যপানকারী ও নষ্ট চরিত্রের মানুষ। তারা জাহাজের যাত্রীদের জীবন নিয়ে খেলছে।
এই অবস্থায় সেই চিন্তাশীল যাত্রী কিছু সৎ ও সচেতন মানুষকে নিয়ে গোপনে একটি দল গঠন করলেন। তাদের উদ্দেশ্য একটাই—যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া।
চিন্তাশীল লোকটির নেতৃত্বে গঠিত দলটির মধ্যে কয়েকজন প্রস্তাব দিল, “আমরা নীতিগত অবস্থান ঠিক রেখে গোপনে জাহাজ পরিচালনার কাজ শিখে নিই। যখন সঠিক সময় আসবে, তখন দুর্নীতিবাজ নাবিকদের সরিয়ে আমরা দায়িত্ব নেবো। এতে জাহাজও নিরাপদ থাকবে, আমরাও অভিজ্ঞ হবো।”
কিন্তু চিন্তাশীল নেতা, সহকর্মীদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন। তিনি বললেন— “এখন এসব শিখে সময় নষ্ট করার দরকার নেই। যখন দায়িত্ব আমাদের হাতে আসবে, তখন শিখব। আগে যাত্রীদের সাপোর্ট এবং জাহাজের দায়িত্ব আমাদের হাতে আসুক, তারপর পরিচালনা শিখব। এর বাইরে কিছু করা অহেতুক কাজ।”
তিনি সহকর্মীদেরকে এমন সব কথা বললেন যা তাদের ডিমোটিভেট করার জন্য যথেষ্ট ছিল। এতে করে কর্মীদের মন খারাপ হলেও তারা বাস্তবে কোন প্রতিবাদ করতে পারল না, কারণ নীতিগতভাবে তারা তাকে নেতা হিসেবে মেনে নিয়েছিল এবং তার সব সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য ছিল। এই কথা শুনে অনুগামীরাও নিরুৎসাহিত হলো। তারা আর কোনো উদ্যোগ নিল না, শুধু অপেক্ষা করতে থাকল।
এদিকে দুর্নীতিবাজ জাহাজ চালকেরা ক্রমশ বেপরোয়া হয়ে উঠল। তারা নেশায় অচেতন অবস্থায় জাহাজ চালাল, ভুল পথে নিল, যাত্রীদের শ্লীলতাহানি করল। এতে করে জাহাজে থাকা সাধারণ যাত্রীরা আতঙ্কিত ও অতিষ্ঠ হয়ে উঠল। তারা জাহাজ পরিচালনার জন্য বিকল্প ক্যাপ্টেন টিম খুঁজতে লাগল—এমন কেউ, যারা সত্যিই জাহাজকে নির্দিষ্ট গন্তব্যে নিয়ে যেতে পারবে। এবার চিন্তাশীল সেই ভালো লোকগুলোও হতাশ হয়ে পড়লো পরিস্থিতি দেখে। কারণ তারা নিজেরা জাহাজ পরিচালনা সম্পর্কে কিছুই জানত না। কী করবে তারা? দায়িত্ব নিলেও বিপদ, না নিলেও বিপদ! কারণ দায়িত্ব নিলে পরিচালনা করতে পারবে না যোগ্যতার অভাবে, আর দায়িত্ব না নিলে যাত্রীগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে মাতাল কান্ডজ্ঞানহীন নাবিকদের হাতে।
একদিন ভীষণ ঝড় এলো। সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠল। যদি দক্ষ ও সৎ নাবিক থাকত, তবে জাহাজ সহজেই সামলে নেওয়া যেত। কিন্তু অযোগ্য, মদ্যপ নাবিকরা কিছুই করতে পারল না। যাত্রীরা আতঙ্কে চিৎকার করল, কিন্তু আর কোনো উপায় রইল না। বিশাল জাহাজটি ভয়ঙ্কর বিপদের দিকে ধাবিত হতে থাকল।
#কী_বুঝলেন?
যখন বিপদ চরমে পৌঁছাল, তখন সেই চিন্তাশীল যাত্রী ও তার দল অনুতপ্ত হলো। তারা কান্নায় ভেঙে পড়ল- “যদি আমরা আগে থেকেই শিখতাম, জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতাম, তবে আজ জাহাজ রক্ষা করতে পারতাম। দায়িত্ব হাতে আসার পর শিখবো ভেবে দেরি করার কারণে আজ হাজার মানুষের জীবন হুমকির মুখে পড়েছে।”
কিন্তু তখন আর সময় ছিল না। জাহাজ ধ্বংসের পথে এগোতেই থাকল।
#মনে_রাখবেন! দায়িত্ব পাওয়ার পর যোগ্যতা অর্জন নয়, বরং দায়িত্ব পাওয়ার আগেই যোগ্য হতে হয়।
নেতৃত্ব মানে শুধু জনমত অর্জন নয়; নেতৃত্ব মানে দক্ষতা, সততা, অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতা।
অযোগ্য ও দুর্নীতিগ্রস্ত লোকেরা যখন নেতৃত্বে থাকে, তখন সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তাই যে কেউ যদি সত্যিই নেতৃত্ব দিতে চায়, তবে আগে থেকেই নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে—জ্ঞান অর্জন, দক্ষতা অর্জন, নৈতিকতা ও সততা রক্ষা, ত্যাগ ও সাহসের মানসিকতা।
কারণ: প্রস্তুতি ছাড়া নেতৃত্ব নেওয়া মানে একটি বিশাল জাহাজকে ঝড়ের মাঝে দিকনির্দেশনা ছাড়া
ছেড়ে দেওয়ার মতোই মারাত্মক বিপজ্জনক।
© আবু রাশেদ সিদ্দিক ৪ অক্টোবর ২০২৫ ইং