25/02/2026
ঘরটা ছোট, তবু তার ভেতরেই পৃথিবী।এক কোণে পাতলা গদি, লালচে চাদরের ভাঁজে জমে থাকা দিনের ক্লান্তি। জানালার সামনে ঝুলে থাকা নীল দোলনাটা বাতাসে দুলে ওঠে—কখনো আশ্বাসের মতো, কখনো প্রশ্নের মতো। দেয়ালের গায়ে সারি সারি জামাকাপড়; প্রতিটা যেন আলাদা আলাদা দিনের গল্প। মাঝখানে একখানা কাঠের চেয়ার, নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে—যেন কাউকে অপেক্ষা করাচ্ছে।
সকালের আলো জানালার গ্রিল ছুঁয়ে ঘরে ঢোকে। আলোটা খুব বেশি নয়, খুব কমও নয়—ঠিক যতটা হলে নিজের সঙ্গে কথা বলা যায়। সে জানে, এই ঘরেই তার দুঃখ আর সুখ দুটোই থাকে। বাইরে গেলে মানুষ দেখে সাফল্য আর ব্যর্থতার হিসাব; ভেতরে ফিরলে কেবল শ্বাসের শব্দ আর নিজের মুখোমুখি হওয়া।
কখনো রাতে সে দোলনায় শুয়ে ভাবে—আজকের দিনটা কেমন গেল? কোথায় হাসল, কোথায় থামল? নামাজের চাদর মাটিতে পাতা থাকে; সেখানে দাঁড়িয়ে সে বুঝে নেয়, শক্তি কোথা থেকে আসে। চেয়ারটায় বসে বসে কোনো একদিন সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল—ভাঙা থাকলেও থামবে না। গদিতে শুয়ে সে শিখেছে, অল্পেই শান্তি পাওয়া যায়; বেশি চাইলে মন ভারী হয়।
এই ঘর তাকে শিখিয়েছে এক অদ্ভুত সত্য: দুঃখ দরজার বাইরে অপেক্ষা করে না, সুখ জানালার ভেতর ঢুকে পড়ে না—দুটোই বুকের ভেতর। যে মন খোলা, সে আলো পায়; যে মন বন্ধ, সে অন্ধকার বানায়। দোলনার দোলায় যেমন ওঠানামা, জীবনেরও তেমন। উঠলে ভরসা, নামলে ধৈর্য।
দিনের শেষে সে বুঝে নেয়—সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে এমন কোনো জাদু নেই। আছে কেবল এই ঘর, এই নীরবতা, আর নিজের সঙ্গে সৎ থাকার সাহস। তাই সে হালকা করে হাসে।
কারণ আজও সে বেঁচে আছে, শিখছে, আর জানে—
"দুঃখ সুখ সব কিছু নিজের মধ্যেই।"
-(ইমন)