05/06/2026
#সার্জিক্যাল_সাইলেন্স [পর্ব ৪২]
#হিমু_ইসলাম
সেদিনের পর থেকে এক মাস হয়ে গেলো সব কিছু স্বাভাবিক ভাবেই চলছে। রিফাত এখন নীরার সঙ্গে মন দিয়ে কাজ করছে তার অনুভূতি যে ভুল ছিলো একটু দেরি হলেও বুঝতে পেরেছে। এখন আর নীরার দিকে সেই নজরে তাকায় না। নীরা ও এ নিয়ে আর কিছু বলেনি। ফাহাদ নীরাকে তার ভালোবাসার জন্য জোর করেনি আর তবে মাঝে মধ্যে কন্ট্রোললেস হয়ে নিজেকে কষ্ট দিয়ে ফেলতো যেটা কেউ জানতে না পারলেও ঈশান ঠিকই বুঝতে পারতো এবং তাকে সঙ্গ দিতো। ভালোবাসা না পাওয়ার যে বেদনা সে তো আর কম বুঝেনি। এখন পর্যন্ত ভালোবাসার মানুষকে 'ভালোবাসি' কথাটা বলতে পারে নি। কেন যে এতো আড়ষ্টতা কাজ করে তার মাথায় আসে না। ভালোবাসার মানুষের সামনে দাঁড়লে অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ সব আউলিয়ে যায়! এতো বড় একজন ডক্টর হয়ে যায় তোতলা! কি আর করার অতঃপর দুই বন্ধু ভাঙা মন নিয়ে একজন অন্যজনকে সুখ দুঃখের কথা কইতে থাকে।
ভালোই চলছে তাদের সময় এর মধ্যে ফারিয়ার বিয়ে ঠিক হয়েছে এক ধনী লোকের বিজনেস পুলার সাথে। আজ তার এনগেজড। বড় করে অনুষ্ঠান করা হচ্ছে। হসপিটালের অর্ধেক ডাক্তারদের আমন্ত্রণিত বিশেষ করে তারা ৭ জন। সবাই প্রায় পৌঁছে গেছে বাকি আছে ২ জন। "দেখতো কাহিনি কি আমি নীরাকে নক করছি তোরা কেউ ফাহাদ স্যার কে কল কর," ফোনের স্কিনে তাকিয়ে ব্যস্ত সুরে বাকিদের উদ্দেশ্য বলতে লাগলো।
ঈশান ঝটপট পকেট থেকে ফোন বের করে স্কিনে হাত চালাতে লাগলো, "ঠিক আছে আমি দেখছি টেনশন করিস না! "
"আপু চলে এসেছি ঠিকানা মতো "
"তুই যাবি না?"
"না আপু, তুমি যাও"
"আরে চল", রিফাতের পিঠ চাপড়িয়ে গাড়ি থেকে নামতে নামতে নীরা বললো।
"কত কাজ পরে আছে হিসাব আছে তোমার আমি বরং কাজগুলো সেরে ফেলি "
"ঠিক আছে সাবধানে যা!" নীরা রিফাত কে যাওয়ার অনুমতি দিয়ে সামনে যাওয়া ধরলো। ততক্ষণে কয়েক বার কল এসেছে ফোনে। নীরা প্রত্যেকবারই কল কেটে দিয়েছে।
"কিরে রিসিভ করলো? "
"নাহ্"
"নীরাও রিসিভ করছে না " মুখটা ভোতা করে রেখেছে ফারিয়া এর মধ্যে তার হবু বর কয়েকবার ডেকে পাঠিয়েছে। এই নিয়ে ৩ বার হলো। "ওদের রেখেই কিন্তু আমি আংটি পড়ে ফেলবো! "
"আর একটু দাঁড়া মা এই বারই লাস্ট আরো একবার কল করলো ফাহাদের নাম্বারে...... দীর্ঘক্ষণ রিং হওয়ার পরেও যখন রিসিভ হচ্ছে না ঈশান রেগে কল কাটতে নিলে দেখে রিসিভ হয়ে আছে। কিরে বাপ কল ধরতে কি হাত ব্যথা করে! আপনাকে কি কলে করে নিয়ে আসতে হবে! " চিবিয়ে চিবিয়ে কথা গুলো বলে থামলো।
"নীরা এসেছে?"
"কি প্রশ্ন আর কি উত্তর! "
"আসছি" কেটে দিলেন কল তিনি।
"ফা....." ফোনের দিকে তাকিয়ে ঈশান বলে উঠলো।
"হাই গাইস, আই আ'ম কামিং"
"নে দেখ এটা এসেছে ওটাও আসবে " তমা নীরার দিকে তাকিয়ে বললো।
"তুই আজকের দিনেও এই পোশাকে! " পাশ থেকে ফোঁড়ন কেটে মিতু নীরার ঢিলেঢালা টি-শার্ট হালকা টেনে ধরলো।
"হুম, চল সামনে আগায়!"
আর অপেক্ষা করা ঠিক হবে না অনুষ্ঠান শুরু করে দিয়েছে তারা।
এর মধ্যে ফাহাদ এসে হাজির। ওদের নির্দিষ্ট আসনে পাশাপাশি ৬ জন বসেছে। দুই একবার ফাহাদ অবশ্য নীরার দিকে তাকিয়েছে। "ইশ কি পোশাক পড়ে এসেছে, একটু শাড়ি পড়ে আসলে কি এমন হতো! " খানিক বিরক্তি নিয়ে একাই বির বির করছে। ঈশান বির বির শুনে ফাহাদের তাকানো অনুযায়ী তাকিয়ে দেখে নীরা ছাই রঙা টি-শার্টের সাথে অফ-হোয়াইট ঢিলাঢালা প্যান্ট মাথায় আবার অফ-হোয়াইট ঔড়না পেঁচিয়েছে। "নাহ্ তারপরও আমার মহারানী কে পুতুলের মত লাগছে! " "এইজন্যই তো মানুষ বলে প্রেমে পড়লে পাগলকেও হুরপরী লাগে! "ফিচকে হেসে ঈশান কথাখান বলে দিলো। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ফাহাদের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখে চোখ তার রেগে লাল বর্ণ ধারণ করেছে। ভয়ে হাত দিয়ে মুখ বন্ধ করে আসন থেকে উঠে পড়লো। "আমি ওয়াসরুম থেকে আসি"। ঈশান তাড়াতাড়ি কেটে পড়, বেচারা নিজেকে কয়েক দফা গালাগাল দিতে দিতে বেরিয়ে গেলো সেখান থেকে।
"তোমরা বস আমি একটু আসি। " নীরা বেরিয়ে গেলো সেখান থেকে গতকাল রাতে ঘুম ভালো হয়নি আলাদা একটা টেনশনে সেই ক্লান্ত মস্তিষ্কে ধরা দিচ্ছে ওয়াশরুমে যাওয়া প্রয়োজন হাতেমুখে একটু পানির ছিটা দেওয়া প্রয়োজন। এর মধ্যে কিছু কথা তার কানে এসেছে। সেগুলো কে পাত্তা না দিয়ে তার গন্তব্যে সে পা চালিয়ে যাচ্ছে। বোঝায় যাচ্ছে তার সাথে পা চালিয়ে কিছু উচ্ছশ্রিঙ্খল পোলাপান পিছু ছুটছে।
"এই যে সুন্দরী পাত্তা দিচ্ছো না যে, এতো দেমাক ভালা না হাহ্...ফু....!" পেছন থেকে নীরার কাঁধে হাত রাখতে সামনে তাকাতেই দেখতে পাই লম্বা চিকনেচাকনা এক লোক তার কোঁকড়া ঘাড় অবধি বিভিন্ন রঙের চুল মুখের কাছে এসেছে কিছু তা ফু দিয়ে সড়িয়ে দিচ্ছে।
"এই মাল কোথা থেকে আসলো রে মাইরি!" কপালের একপাশ ঘসতে ঘসতে মনে মনে খানিক আউরিয়ে নিলো।
নীরা কিছু বলতে যাবে তার আগেই ঘটে গেলো আরেক ঘটনা। কোথা থেকে ঝড়ের বেগে ছুটে এসে লোকটার নাক বরাবর পাঞ্চ মেরে দিলো ফাহাদ। নীরা তো বে আক্কেল সেজে গেল।
এদিকে বেচারা পাঞ্চ খেয়ে পাতলা পুতলো মানুষ উড়ে গিয়ে পড়লো কয়েক হাত দূরে। নীরা তা দেখে কোনো রকমে হাসি আটকিয়ে কাছে গিয়ে হাত বাড়িয়ে দিলো ওঠার জন্য। তা দেখে ছুটে এসে ফাহাদ নীরাকে ধাক্কা দিয়ে লোকটাকে বেধরম কিল ঘুসি দিলো ফলে লোকটার চোখ মুখ ফেটে রক্ত বের হতে লাগলো। ইতোমধ্যে অনুষ্ঠান রেখে লোকজন জড়ো হয়ে গেছে তাদেরকে ঘিরে। নীরা ধাক্কা খেয়ে পড়ে গিয়ে কপাল কেটে গেছে। তবুও দ্রুত উঠে ফাহাদকে আটকানোর চেষ্টা করলো। শেষ পর্যন্ত না পেরে ফাহাদকে ধাক্কা দিয়ে ঠাস করে চড় মেরে দিলো মুখে।
"সমস্যা কি আপনার? এতবার বলার পড়েও লজ্জা লাগে না..... আরে একটু কমনসেন্স থাকা তো উচিৎ! কোন মাটি দিয়ে গড়া আপনি এটলিস্ট আমাকে একটু বলবেন প্লিজ!"
"তোমাকে উক্ত্যক্ত করছে ভালো লাগছে এতে? "
"হ্যাঁ ভালো লেগেছে, প্রেম করবো তার সাথে... নাহ্ বিয়ে করবো... সমস্যা আপনার? " চিৎকার করে নীরা কথাগুলো বললো।
"ঠিক আছে! " ফাহাদ আর এক মুহূর্ত দাঁড়ালো না! চোখের এক ফোঁটা অশ্রু মুছে বের হয়ে গেলো সেখান থেকে।
চলবে......
❌কপি পেস্ট করা নিষেধ ❌