27/11/2022
কিছু মানুষ আছে, যারা যে কোন সম্পর্ক রক্ষার্থে অনেক enthusiastic হয়, সহজে বললে এদের কারেন্ট বেশি। এরা পুরা জীবন মানুষের জন্য বিনা সংকোচে অনেক কিছু করে যায়। ধরেন, সে তার একটা কাজের জন্য সারারাত ঘুমায় নাই, আপনি তাকে আপনার একটা দরকারে দেখা করতে বললেন। আপনি যদি তার কাছের কেউ হন, এরা কখনো আপনাকে মানা করবে না। অন্য মানুষ ভাবতো যে, সারা রাত ঘুমাই নাই, টায়ার্ড, যাবো না। কিন্তু এই প্রকৃতির মানুষ ভাবে, দেখা করে এসে ঘুমাবো, যদিও তার এই কাজের জন্য আবারো ঘুম কম হবে।
কিংবা, আপনি একটা কাজ পারেন না, অনেক সময় আপনার বলাও লাগবে না, সে আগ বাড়ায় আসবে সাহায্য করার জন্য।
কিংবা কাজের কথা বাদ দেন, এরকম মানুষ প্রেমিক অথবা প্রেমিকা হলে, সে আপনার জন্য সবসময় ই এভেইলেবল থাকবে, দিন হোক, রাত হোক যদি না একদম এমন কোন কাজে থাকে যেখানে ফোন হাতে রাখা সম্ভব না। এইরকম মানুষ বিদেশ গেলেও, দেশে থাকা মানুষের চেয়ে বেশি এফোর্ড দেয় সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য। দেখবেন আপনি।
এই কাজ গুলোর কোন টাই সমস্যা না। সমস্যা হচ্ছে, এই মানুষ গুলো একটা সময় কঠিন ফ্রাস্টেশনে চলে যায়। তারা একটা বয়সে যেয়ে অনুধাবন করে, যে এত কাল ধরে এত কারেন্ট দেখায় আসলো, সে সবের রিটার্ন শূন্য। তাদের সাথের মানুষ গুলো তাদের বরাবর তো দূরের কথা, তাদের আধা লেভেলেও কিছু দিচ্ছে না। তখন শুরু হয় হতাশা, নিজে কে একা মনে করা, হেল্পলেস মনে করা।
তারপর এক পর্যায়ে এই মানুষ গুলো প্রচন্ড ক্ষেপে যায়। তখন আশপাশের মানুষ হয় অবাক। তারা বুঝতেই পারে না,যে এতকাল ধরে তারা যে বিনামূল্যে সার্ভিস পেয়ে আসছে, এটা তাদের রাইট ছিলো না, এটা নিছক ই অই মানুষ গুলার সরল মনের উদারতা ছিল। তারা না বুঝে এই কারেন্ট ওয়ালা মানুষগুলোকে উলটা খারাপ ব্যবহারের ব্লেইম দিতে শুরু করে। শুরু হলো টক্সিসিটি।
উপসংহার কি জানেন? এই মানুষ গুলো আস্তে আস্তে মরে যেতে থাকে, নিজের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হতে থাকে। একটা পর্যায়ে পাথর হয়ে যায়। এরা আর মানুষের সাথে মিশা তো দূরের কথা, নিজেকেই আর কোথাও তুলেও ধরতে পারে না।