30/07/2026
রাতের আকাশের স্নিগ্ধতা চায়ের কাপে এক পাতলা স্তর হয়ে জমে থাকে ভাবনার ধারায়। বাড়ির বিড়ালছানা পথ দেখায় নীরবতার। আকাশে চাঁদ দেখা যাচ্ছে অস্পষ্টভাবে। মারাত্মক সুন্দর হতো, যদি লিখতে পারতাম তার বর্ণনা।বটবৃক্ষকে যদি কোনো আলিশান বিলায় বনসাই হয়ে থেকে যেতে বলা হতো, সে অবলীলায় না করে দিত। সবুজঘেরা মাঠে সে যেমন আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন নিয়ে বাঁচে, বনসাই হলে হয়তো সেই স্বপ্ন আর পূরণ হতো না। গাছেরা আকাশ ছুঁতে পারে, বাতাসের সঙ্গে কথা বলতে পারে, শেকড়ের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। তাদের মতো হওয়ার স্বপ্ন নিয়েই বেঁচে থাকে বৃক্ষমানব। জ্যোৎস্নার রাতে বাতাসের সঙ্গে বয়ে আসা হিমশীতল হাওয়া ঠান্ডা করে হৃদয়কে।সবকিছু স্পষ্টভাবে বুঝে ফেলা মানুষের জীবন খুব কষ্টের হয়ে যায়। তারা জীবনকে উপভোগ করতে পারে না। মস্তিষ্ক শান্ত থাকে না, মন খুলে হাসতেও পারে না। এজন্য কখনো কখনো মনে হয়, অবুঝ থাকা জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ধরো, এখন এই মুহূর্তে আর লেখা হলো না, আর কোনো লাইন। হুট করেই হারিয়ে গেলাম। অস্তিত্বের আর কোনো চিহ্ন রইল না। যে আয়ু গুনে গুনে স্বপ্ন লেখা হয়েছিল, তার কী হবে—কেউ জানল না। পাহাড়ের চূড়া ছিল তার ভীষণ প্রিয়। মন খারাপ থাকলে বৃষ্টির পানিতে ভিজত, আর জ্বর এলে নাপা খেতে চাইত না। স্বপ্নসমান কিছু লিখতে চেয়েও কলমের কালি সঙ্গ দিল না।ঠিক সন্ধ্যা নামার আগে স্মৃতিকাতর মস্তিষ্কে যে দমফাটা ব্যথা অনুভব হয়, শূন্য স্থানের মাঝে তখন দেয়াল তুলে দিতে মন চায়।শান্তির জন্য দূরত্ব বেছে নেওয়া মানুষেরা দূরে
থেকে ওভালোবাসতে জানে। এক বিকেলের স্মৃতি নিয়ে বিরহের কবিতায় উৎসর্গ করা যায় কাকডাকা দুপুরকে। যে হৃদয় উপলব্ধি করতে শিখেছে, তার কাছে অপূর্ণতা বলে কিছু নেই। বটবৃক্ষ ভালোবেসে ধরে রাখার কোনো দাবি করেনি, অপ্রাপ্তিকেও আপন করে নিয়েছে।