04/07/2025
বেশকিছু দিন ধরে পারিবারিক একটা দ্বন্দ্ব চলছিল ভাবছিলাম আপোসের মাধ্যমে তা সমাধান হবে। কিন্তু ধীরে ধীরে ঘটনাটা এতদূর গড়াবে তা কখনো ভাবতে পারিনি।
আমি সৌদিতে দীর্ঘ ২ বছর থাকাকালে ছুটিতে আসি, আবার যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি এমতাবস্থায় আমার চাচা তার মেয়েকে এবং তার বউকে কুকৌশলে আমার পিছনে লেলিয়ে দেয় কিছু প্রতিবাদ করলেই মামলা করে আমার প্রবাস যাওয়া রোধ করবে। (প্রথমবারও তারা ঠিক একইভাবে চেষ্টা করে কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তাদের পাতানো ফাঁদ থেকে রক্ষা করেন)।
ঘটনার বিস্তারিত নিম্নে উল্লেখ করলাম অনুগ্রহ করে আপনারা একটু নজরে নিবেন 🙏
--
আমাদের পারিবারিক যাতায়াতের একটি মাত্র রাস্তা তা আমার চাচা কয়েকবার বন্ধ করে দেয়, বেশ কয়েকবার এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যান উপস্থিত হয়ে রাস্তা বের করে দেয়। সবার উপস্থিতিতে আমার চাচা সবকিছু মেনে নিলেও সবাই চলে যাওয়ার পর আবার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
গত ১লা জুন ২০২৫ আমার চাচার বাসার কাজের সমস্যা হচ্ছে বলে ২টি সীমানা পিলার উঠিয়ে ফেলে কিছুদিন যাওয়ার পরও সেই পিলার ২টি আর বসাচ্ছিল না। আমার বাবা ৫ই জুন সকালে মেম্বারকে ঘটনাটি অবহিত করেন। মেম্বার ঘটনাস্থলে আসার পর আমার বাবাকে হুকুম করে যেখানে পিলার ছিল ঠিক সেখানেই পুঁতে রাখতে আমার বাবা তাই করলেন। মেম্বার চলে যাওয়ার পর আমার চাচা, চাচি আর চাচাতো বোন অকথ্য গালিগালাজ করতে থাকে। তারা এমন অশ্লীল কথা বার্তা বলে গালিগালাজ করছিল যা সুশীল সমাজে মানানসই নয়। তারপর তারা আরো বেশি হিংস্র হয়ে ওঠে লাঠি, বাঁশ ও সাবল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। আমার চাচা নিজেকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায় সমস্ত সীমানা পিলার উঠিয়ে নিয়ে যায়। আমার বাবা বাঁধা দিতে গেলে তাকে মারতে আসে। আমরা নিরুপায় হয়ে তাদের হিংস্র আচরণ গুলো দেখতে থাকি।
পরে এলাকার কয়েকজন মিলে সমাধানের চেষ্টা করে লোকাল সার্ভেয়ার আসেন জমি মেপে সবকিছু সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দেন এবং বলেন আপনার বাড়ির দেওয়াল বরাবর আপনি কাজ করবেন। উনার মোট জমির মাত্র ০.০১৮ শতক রাস্তায় থাকবে যার ফলে উনাকে ঐ জমির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২০ হাজার টাকা দিতে আমার বাবা রাজি হয়। কিন্তু আমার চাচা তা নিবে না, সবার সামনে আবার বাবা আবাদি ২ শতক জমি দিতে চাইলে উনি রাজি হোন।
পরেরদিন সকালে কাজ শুরু করে দেয়। যেভাবে কথা বার্তা হয়েছিল সেভাবে কাজ না করে রাস্তা অর্ধেক কেটে রাস্তার উপর ঘর তুলার জন্য পিলার দাঁড় করায়। রাস্তা কেটে পাইপ বসিয়ে নিয়ে যায়। এমতাবস্থায় আমার বাবা মেম্বারকে ফোন করে ঘটনা জানালে মেম্বার আবার আসে কাজ বন্ধ করতে বলে, যে আমাকে (মেম্বার) না জানিয়ে তুই কাজ শুরু করছিস কেন? উনি জবাবে বলেন আমার জমি আমার ইচ্ছা। আমার চাচার ভাগ্নি (ওয় দিনাজপুর থেকে আমার চাচাকে নিয়ন্ত্রন করে) নাকি যা বলবে তাই হবে। ভাগ্নি বলছে কোন বদল হবে না। বসত বাড়ির জমিতে কোন ছাড় নেই। কিছুক্ষণ পর এক চাচা আসেন (তাদের জমিও সেখানে আছে) উনি বলেন হামিদ ভাই আপনি যে কাজ করতেছেন সেদিন সবাই উপস্থিতিতেই তো আপনাকে বুঝিয়ে দেওয়া হলো আপনি কাজ করলে আপনার বাড়ির দেওয়াল বরাবর কাজ করবেন আপনি আবার রাস্তা কেটে পিলার কেন বসাইছেন? এই কথা বলা মাত্রই আমার চাচা আর চাচি ঐ চাচাকে উপস্থিত মেম্বার ও কিছু লোকজনের সামনেই বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ কথা বলে তাকে মানহানি করে। দালাল আসছে, মদ খেয়ে মাতাল হয়ে আসছে, পাগল আরো অকথ্য গালিগালাজ করে পরে ঐ চাচা রাগান্বিত হয়ে রাস্তার মধ্যে থাকা একটি পিলার ফেলে দেয়। ঐ চাচা কেন পিলার ভাঙছে সেই রাগে আমার চাচা, চাচি, চাচাতো বোন আর ভাই লাঠি বাঁশ সাবল কোদাল হাতে আমার বাবার দিকে তেড়ে আসে। আমি তা দেখে নিজেকে আর আটকাতে পারছিলাম না আমার বাবাকে মারতে আসতেছে তখন আমি বাঁধা হয়ে দাঁড়াই এবং সামনে এগিয়ে তাদের আটকানোর চেষ্টা করি সেসময় আমার চাচা আমার ঘাড় ধরে মাটিতে ফেলে দেয় সাথে সাথে আমার চাচাতো বোনের হাতে থাকা কোদাল দিয়ে আমার মাথায় কোপ দেয়
একটা কোপ আমার মাথায় লাগলে সাথে সাথে আমার মাথা ফেটে যায় আরো একটি কোপ দিবে এমতাবস্থায় মেম্বার দৌড়ে গিয়ে কোদালটি কেড়ে নেয়। আমাকে পিছন থেকে আরো আঘাত করে তা দেখে আমার বাবা রাগ করে একটি পাইপ ভেঙে ফেলে। --আমার চাচি চাচার সাথে ধাক্কা লেগে মাটিতে পরে যায় সেই পরে যাওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে মিথ্যা মামলা সাজানোর চেষ্টা করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তাদের মিথ্যা অভিনয় দেখে আমরা আশ্চর্য হই। আমিও তাদের পিছনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাই, চিকিৎসক জিজ্ঞাসা করে আপনাকে কোথায় মারছে উনি সদুত্তর দিতে পারেননি চিকিৎসক ভালো ভাবে দেখে উনার কোথাও আঘাতের চিহ্ন ছিল না। চিকিৎসক বলে আপনার ভর্তির কোন প্রয়োজন নেই আপনি চলে যান। চিকিৎসক আমাকে দেখে আমার মাথা বেয়ে রক্ত পড়ছে সাথে সাথে উপস্থিত চিকিৎসা দেন এবং হাসপাতালে ভর্তি হতে বলেন।
যাইহোক পরবর্তী ঘটনা বলছি
তারা থানায় সাধারণ ডায়রি করেন পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষকে থানায় যেতে বলেন।
আমরা যথাসময়ে থানায় যাই এবং পুলিশ বিষয়টি বাড়াবাড়ি না করে সহজভাবে সমাধান করতে বলেন। উপস্থিত মেম্বার ও গন্যমান্য কিছু ব্যক্তি বিষয়টি সমাধান করতে পরেরদিন সন্ধ্যায় বাসায় আসেন সবার সামনে আমার চাচা আবারো দাবি করে আমরা নাকি বেশি জমি দখল করে আছি
কয়েকবার লোকাল সার্ভেয়ার কর্তৃক জমি মাপা হয় আবারো সার্ভেয়ার জমি মেপে সব কিছু বুঝিয়ে দেন। মোট জমি ১২.৫ শতকের ৬.২৫ শতক আমাদের দখলে আর আমার চাচার দখলে ৬.২৫ শতক কিন্তু আমরা ভিতরে থাকায় বাইরে বের হতে আমার চাচার ০.০১৮ শতক আমরা রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করি। যার ফলে আমার বাবা বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী ২০ হাজার টাকা দিতে চাইলে উনি রাজি হয় না তারপরও আমার বাবা ৫০ হাজার টাকা দিতে চাইলেও উনি রাজি নয় অথবা আবাদি ২ শতক জমি বদল দিবে উনি সেটাতেও রাজি নয়। উনার ভাগ্নির দাবি ৪ শতক আবাদি জমি লাগবে যার বর্তমান বাজারমূল্য ২ লক্ষ টাকা উনাদের এমন লোভ লালসা দেখে আমরা হতভম্ব হয়ে পরি মাত্র ০.০১৮ এর জন্য ২লক্ষ টাকার জমি কিভাবে দাবি করতে পারে। একের পর এক অযৌক্তিক দাবি দাওয়া তুলে ধরতে থাকে। এমন অযৌক্তিক যুক্তি দিয়ে কালক্ষেপণ করে। আমার চাচা আমার দিকে ইঙ্গিত করে বলে এদেরকে আমি জেলের ভাত খাওয়াবোই। এয় কিভাবে বিদেশ যায় সেটাই দেখবো মানে আমাকে মামলায় জড়ালে আমার আর প্রবাসে যাওয়া হবে না। উনার চিন্তা ভাবনায় শুধু আমাকে কিভাবে আটকানো যায়।
--আমার চাচা চাচি মানুষের সামনে কান্নার ভাব করে আর মনগড়া কথা বার্তা বলে মানুষকে তাদের প্রতি মনযোগী করতে আপ্রান চেষ্টা করে ফলপ্রসূ অনেকেই বিভ্রান্ত হয়ে যায় মানুষ ভাবে তারা মোটেও হয়তো এত খারাপ মানুষ না। আমার চাচা আর চাচি বাদি হয়ে কোর্টে মামলা দায়ের করে।
সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন যাতে আমরা তাদের সাজানো মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি পেতে পারি।
আল্লাহ্ তায়ালা এমন কালপ্রিট, হিংস্র, নির্বোধ, মূর্খ, দস্যু প্রকৃতির মানুষ আমাকে আমাদের সবাইকে হেফাজত করুক। 🤲