30/03/2026
ঢাকার গরমে ঘেমে-নাওয়া “গ্লোবাল ইনফ্লুয়েন্সার” ভাই-বোনদের উদ্দেশে:
আপনারা নাকি “লোকাল কালচার এক্সপ্লোর” করতে এসেছেন। কিন্তু ক্যামেরা অন হওয়া মাত্রই সেই কালচারটা কোথায় যেন গায়েব হয়ে যায়, আর হাজির হয় একটা অতিরঞ্জিত, ফিল্টার মারা, অদ্ভুত সংস্করণ, যেটা শুধু ভিউ আর রিলের জন্য বানানো।
চলুন একটু পরিষ্কার করে বলি আপনার সেই “অথেন্টিক এক্সপেরিয়েন্স” নিয়ে।
আপনি রিকশায় উঠেছেন কিন্তু চালকের সাথে দুই মিনিট কথা না বলে, পাঁচটা অ্যাঙ্গেল থেকে ভিডিও নিচ্ছেন। আপনি স্ট্রিট ফুড খাচ্ছেন কিন্তু খাওয়ার চেয়ে বেশি সময় ব্যয় করছেন “OMG this is sooo spicy!” বলে অভিনয় করতে। আপনি স্থানীয় মানুষের সাথে মিশছেন কিন্তু তাদের মানুষ হিসেবে না, কনটেন্ট হিসেবে দেখছেন।
আপনি ভাবছেন আপনি বাংলাদেশকে “শোকেস” করছেন। বাস্তবে? আপনি নিজের ভিউ বাড়াচ্ছেন, আর একটা দেশের বাস্তবতাকে বানাচ্ছেন ক্লিকবেইট থাম্বনেইল।
আর সেই বিখ্যাত লাইন “People here are sooo humble!” বলতে বলতেই আপনি দরদাম করছেন ২০ টাকার জিনিসে ১০ টাকা কমানোর জন্য, যেন এটা একটা গেম।
একটা কথা মনে রাখুন, এই শহর আপনার ইউটিউব ব্যাকগ্রাউন্ড না। এই মানুষগুলো আপনার কনটেন্ট প্রপ না। তারা তাদের বাস্তব জীবন নিয়ে ব্যস্ত, যেখানে আপনার “one day vlog” শেষ হয়ে গেলেও তাদের গল্প চলতেই থাকে।
আপনার ক্যামেরা বন্ধ হলে যদি সম্মানটাও বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে সেটা এক্সপ্লোরেশন না, ওটা exploitation।
তাই পরেরবার “authentic experience” খুঁজতে আসার আগে, একটু কম অভিনয় আর একটু বেশি বাস্তব হন। না হলে, আপনার ভিডিওতে বাংলাদেশ যতটা না ধরা পড়ে, তার চেয়ে বেশি ধরা পড়ে আপনার নিজের ভিউ-পিপাসা।