12/07/2017
২০১৬ সালে মুম্বাইতে এক ২৪ বছর বয়সী মেয়ে তার এক্স প্রেমিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করে এই অভিযোগে,
" প্রেমিক সেই মেয়েকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শারিরীক সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছিল এবং তার কিছুদিন পর প্রেমিক ব্রেক আপ করে ফেলে। "
এর বিপরীতে সেই প্রেমিক মুম্বাই হাই কোর্টে যায়। তখন উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে মুম্বাই হাই কোর্টের জাস্টিস মৃদুলা ভাটকার এই মর্মে রুল জারি করে যে,
" ১৮ বছর বা বেশী বয়সের প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে শিক্ষিত কোন ব্যাক্তি যদি অপর কোন ব্যাক্তির সাথে সম্মতিক্রমে শারিরীক সম্পর্কে লিপ্ত হয় তাহলে দুজনের সম্পর্ক ব্রেক আপ বা শেষ হয়ে যাওয়ার পর সেই ব্যাক্তিটি শারিরীক সম্পর্কের ঘটনাটিকে রেপ বলে দাবি করতে পারবেনা। এক্ষেত্রে তার পার্টনারের শারিরীক সম্পর্কের আগে দেয়া বিয়ের প্রতিশ্রুতি ঘটনাটিকে রেপ হিসেবে বিবেচনা করতে যথেষ্ঠ নয়।
যেহেতু মেয়েটি শিক্ষিত সেহেতু ,মেয়েটির এই ধরণের প্রি ম্যারিটাল সেক্সুয়াল সম্পর্কে সম্মতি দেয়ার আগে আরো ভালো ভাবে ভেবে দেখা উচিত ছিল এবং যেহেতু মেয়েটি নিজের সম্মতিতেই সেক্সুয়াল সম্পর্ক স্থাপন করেছে সেহেতু এই শারিরীক সম্পর্কের যেসব ফলাফল আসতে পারে সামনে সেসব ফলাফলের সকল প্রকার দায়িত্ব নেয়ার ক্যাপেবিলিটিও তার্। "
এছাড়া মুম্বাই কোর্ট আরো বলে, " যেহেতু মেয়েটি শিক্ষিত এবং প্রাপ্তবয়স্ক সেহেতু মেয়েটির সামনে প্রি ম্যারিটাল ফিজিক্যাল রিলেশানে না বলার অপশন ছিল। সে হা বলেছে সুতরাং এর দায় দায়িত্বও তার্। "
সম্মতিক্রমে প্রি ম্যারিটাল শারিরীক সম্পর্কের ব্যপারে আমাদের দেশীয় আইন কি বলে দেখি। এই ধরণের কোন রুল আমাদের দেশে চালু না হলেও , পেনাল কোড ১৮৬০ অনুযায়ী ধর্ষণের সংজ্ঞায় একটি অংশে আছে
" ১৬ বা তার নীচের বয়সী কেউ যদি সম্মতিক্রমেও শারিরীক সম্পর্কে জড়ায় সেটিকে ধর্ষণ বলা হবে। "
এর মানে দাড়ায় ১৭ বা তার বেশী বয়সীদের ক্ষেত্রে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি ,প্রেম করে পরে দুজনের সম্মতিতে শারিরিক সম্পর্কে মিলিত হলে পরে যদি ব্রেক আপ হয় তাহলে মেয়ে এটা দাবী করতে পারবেনা
" সে আমাকে বিয়ে করবে বলেছিল। তাই আমি করেছি। এটা ধর্ষণ। "
এত কথা বললাম এই কারণে " ভার্জিনিটি " ব্যপার টা নিয়ে আমাদের সমাজে ট্যাবু প্রচলিত আছে অনেক।
তাহলে কি কোন মেয়ে যদি বিয়ের আগে শারিরীক সম্পর্কে জড়িয়ে ধোঁকাবাজির শিকার হয় তাহলে কি ,সেই মেয়ে অপবিত্র হয়ে গেলো? আমাদের সমাজে এটাই ধরা হয়।
সত্যি বলতে লজিকাল ওয়ার্ল্ডে পবিত্র ,অপবিত্র ,ভাল ,খারাপ এইসব শব্দের স্থায়ী কোন ডেফিনেশন নেই। ব্যাক্তি ,স্থান ,পরিস্থিতি অনুযায়ী এই সব শব্দের মানে ডিফার করে।
যেমন আপনাকে একটা একজাম্পল দেই,
এক মেয়ে ভার্জিন না ,সেই মেয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে ,মানুষের উপকার করে।
আরেক মেয়ে ভার্জিন , কিন্তু কয়েকটা ছেলের জীবন নষ্ট করেছে ,বাবা মায়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করে।
এই দুজনের মধ্যে কাকে আপনি পবিত্র বলতে পারবেন? শুধুমাত্র ভার্জিনিটি না থাকার জন্য অনেক মানুষের উপকার করেও কি মেয়েটি আপনার চোখে খারাপ অপবিত্র থাকবে? সে নিজের একটা ক্ষতি করেছে। আর ওই মেয়ে যে পরের ক্ষতি করে চলেছে কিন্তু সে ভার্জিন তাই সে ভালো?
এখানেই আইসা আমাদের সো কল্ড সমাজের জাজমেন্টাল ট্যাগগুলো মাইর খাইয়া যায়।
এত কথা এ কারণে বললাম। আমার কাছে প্রায়ই অনেক মেয়ে এসে বলে ," রিলেশন ছিল শারিরীক সম্পর্ক হয়েছে ,এখন সে চলে গেছে আমি কি করব। "
একদম স্ট্রেইট কাট একটা কথা বলি?
তুমি মেয়ে ,তুমি প্রাপ্তবয়স্ক ,শিক্ষিত। সম্পর্কে থাকা অবস্থায় তুমি শারিরীক সম্পর্ক করেছ। এরপর সে চলে গেছে। এখন সেই শারিরিক সম্পর্কের সব দায় দায়িত্বও একজন সাহসি মানুষ হিসেবে তোমাকে মাথা উচু করে নিতে হবে।
তোমার ভার্জিনিটি নেই, এর মানে এই না যে তুমি অপবিত্র হয়ে গেছ। তুমি ভালোবেসেছিলে। ধোঁকা সে দিয়েছে। মানুষ হিসেবে পতন হয়েছে তার্। তুমি তো জানো তুমি তোমার ভালোবাসার প্রতি সত ছিলা।
এইবার নিজেকে শক্ত করে সামনে এগিয়ে যাও। নিজেকে গড়ার কাজে মন দাও।
বাই দা ওয়ে ,মানুষ হিসেবে তুমি কেমন সেইটা তোমার ভার্জিনিটি ডিফাইন করবে না। মানুষ হিসেবে তুমি কেমন সেইটা তুমি নিজে তোমার শিক্ষা ,কর্ম আর মানবিকতা দিয়ে তুমি নিজের হাতে ডিফাইন করবে।
- warish azad nafi