16/08/2026
কখনো কখনো আমাদের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলো খুব সাধারণ হয়। তিন বান্ধুবীর , একটা ছাদ, একটা মাদুর, রাতের আকাশ আর অগুনতি তারা।
একসময় যারা স্কুলের বেঞ্চে পাশাপাশি বসে ভবিষ্যতের কত গল্প করত, ত্রিশ এর কোটায় এসে তাদের জীবন হয়তো তিন রকমের। কারও সংসার, কারও ক্যারিয়ার, কারও অসম্পূর্ণ স্বপ্ন; কারও মনে হয় সে অনেক পিছিয়ে গেছে, কেউ ভাবছে “আমার জীবনটা এমন হলো কেন?”
আমরা বড় হতে হতে আকাশের দিকে তাকানোটা ভুলে যাই।
তার বদলে অন্যের জীবন দেখি, নিজের জীবনের সঙ্গে তুলনা করি, একটা কথাকে বারবার মনে মনে ঘুরি, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয় পাই, অতীতের একটা ভুলকে শতবার পুনরাবৃত্তি করি।
এই অতিরিক্ত ভাবনাগুলো কখন যে আমাদের বর্তমানটাকে চুরি করে নেয়, আমরা টেরও পাই না।
অথচ জীবন সবসময় কোনো সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো জীবন মানে একটু থামা, পাশে থাকা মানুষটার হাত ধরা, মাথার ওপর আকাশটার দিকে তাকানো এবং মনে করা, “আমি এখনো এখানে আছি। এই মুহূর্তটাও আমার।”
সামাজিকভাবে আমরা একে অন্যের জীবনে এত প্রত্যাশা, তুলনা আর প্রশ্ন চাপিয়ে দিই,
“কবে বিয়ে করবে?”
“কবে সন্তান?”
“চাকরি কেমন?”
“বাড়ি হলো?”
“এখনও এটা করতে পারলে না?”
হয়তো আমাদের একটু কম প্রশ্ন করা দরকার।
একটু বেশি বোঝা দরকার।
কারণ আমরা জানি না আমাদের খুব সাধারণ একটা প্রশ্নও কারও মাথার ভেতর কত রাতের ওভারথিংকিং শুরু করে দিতে পারে।
৩টি মানুষ গল্প করতে পারছে বলে,নিজেদের জন্য সময় করে নিচ্ছে বলে, ৩০ এর কোটার ৩টা ছেলে বন্ধুর মতো অফিস শেষ বা কর্মস্থলের কাজ শেষে কিছুটা সময় নিজেদের দিতে চেষ্টা করছে মানেই তার জীবনে কোন প্রতিবন্ধকতা নেই! তার জীবন সরল রেখার মতো কিংবা সে সমাজের তোয়াক্কা করছে না, পরিবার এর কথা বা তার চারপাশের আপন জনদের কথা ভাবছে না! নিজেকে নিয়ে ভাবলেই অন্য সবকিছু ছেড়ে দিতে হয় না, সব কিছুর সহ নিজেকে নিয়েও ভাবা যায়।
সময় থাকলে একটু আকাশ দেখুন।
আর নিজের জীবনটাকে অন্য কারও জীবনের সঙ্গে মাপা বন্ধ করুন।
সবাই একই সময়ে একই জায়গায় পৌঁছাবে না।
কেউ কেউ শুধু একটু ধীরে হাঁটে তবু সে ঠিক পথেই থাকতে পারে।
আমরা সে সিদ্ধান্ত দেয়ার কে, কারো ধীরে হাঁটা দেরি হয়ে যাওয়া নাকি ইচ্ছে করেই দেরিতে যেতে চাওয়া!!