Urmila Akter

Urmila Akter বাস্তবতার থেকে কল্পনায় সুখী
অনুভূতির রাজ্য রহস্যময়ী

আয়ানের মুখের ওপর "হ্যাঁ-না-হতেও পারে" টাইপ রহস্যময় হাসি ঝুলিয়ে রেখে ইনায়া ঝটপট নিজের ফোনটা হাতে নিল। আয়ান যেভাবে হুট করে...
15/06/2026

আয়ানের মুখের ওপর "হ্যাঁ-না-হতেও পারে"
টাইপ রহস্যময় হাসি ঝুলিয়ে রেখে ইনায়া ঝটপট নিজের ফোনটা হাতে নিল।

আয়ান যেভাবে হুট করে বাঘ হয়ে উঠল, সেটা দেখে ইনায়ার নিজের বুকের ভেতর এখন ড্রাম বাজছে।

​সে মায়রাকে দ্রুত টেক্সট টাইপ করতে লাগল: "মায়রা, ইমার্জেন্সি! ভোর ৫টার মধ্যে একজন রিয়েল কাজী আর জেনুইন রেজিস্ট্রি খাতা নিয়ে আমাদের বাড়ির পেছনের গেটে রেডি থাকবি। নো ফেক ড্রামা, দিস ইজ রিয়েল!"

​মায়রা ওপাশ থেকে রিপ্লাই দিল: "কীহ্?!

তুই তো বলেছিলি জাস্ট অ্যাক্টিং! এখন রিয়েল কাজী কেন? তোদের বাসর ঘরে কি অন্য কোনো কেমিক্যাল রিঅ্যাকশন হয়ে গেছে নাকি?!"

​ইনায়া মেসেজ দেখে আড়চোখে একবার আয়ানের দিকে তাকাল। আয়ান তখন বেশ গম্ভীর মুখে ঘরের জানালার পর্দাটা একটু সরিয়ে বাইরের গার্ডদের পজিশন দেখছে। শার্টের হাতা দুটো কনুই পর্যন্ত গুটিয়ে নেওয়ায় তাকে সত্যিই কোনো অ্যাকশন হিরোর চেয়ে কম লাগছে না।

​ইনায়া মায়রাকে টেক্সট করল: "অ্যাজাইনমেন্টে টুইস্ট এসেছে রে বোন। পরে বুঝিয়ে বলব, এখন যা বললাম তা কর। নয়তো কাল সকালে তোর বান্ধবী বিধবা হবে, আর আয়ান ভাইয়া ডিরেক্ট পরপারে চলে যাবে!"


​ফোনটা লক করে ইনায়া বিছানা থেকে নামতে যাবে, ঠিক তখনই আয়ান তার হাতটা খপ করে ধরে ফেলল। মোমবাতির কাঁপা কাঁপা আলোয় আয়ানের চোখ দুটো যেন একটু বেশিই উজ্জ্বল দেখাচ্ছে।

​"কোথায় যাচ্ছো চৌধুরী বাড়ির হবু মালকিন?" আয়ান গলার স্বর নামিয়ে একদম ফিসফিস করে বলল।

​ইনায়া একটু আমতা আমতা করে বলল, "না... মানে, একটু ওদিকে... সোফায়..."

​"একদম না!" আয়ান হালকা টানে ইনায়াকে আবার খাটে বসিয়ে দিল।

"বাইরে বুটের আওয়াজ পাচ্ছো? গার্ডরা এখনো দরজার বাইরে কান খাড়া করে দাঁড়িয়ে আছে। আমরা এখন সাইলেন্ট হয়ে গেলে ওরা ভাববে ডাল মে কুছ কালা হ্যায়। নাটক এখনো বাকি আছে, জানু !"

​'জানু' শব্দটা আয়ানের মুখে শুনে ইনায়ার কান ঝাঁ ঝাঁ করে উঠল। সে বলল, "তো... এখন আর কী নাটক করব?"

​আয়ান একটা হাসি দিয়ে বলল, "কেন?

বাঙালি বাসর ঘরের ট্র্যাডিশনাল নাটক! বউ রাগ করবে, আর জামাই বউয়ের মান ভাঙাবে।"

​বলার সাথেই সাথেই আয়ান একটু গলা চড়িয়ে বলল, "আহা ইনায়া! এভাবে রাগ করে মুখ ঘুরিয়ে থেকো না তো! বিয়ের প্রথম রাতেই যদি তুমি আমার ওপর এভাবে অভিমান করো, তাহলে আমি কিন্তু সত্যি সত্যিই এই জানালার কাচ ভেঙে নিচে লাফ দেব!"

​ইনায়া প্রথমে হতভম্ব হলেও পরক্ষণেই মুচকি হেসে নিজের খিলখিলানি চেপে ধরল। সেও গলা উঁচিয়ে কান্নার মতো সুর করে বলল, "যাও! তোমার সাথে আমি কথাই বলব না! তুমি বিয়ের আগেই বলেছিলে আমাকে সুইজারল্যান্ড নিয়ে যাবে, আর এখন বলছো হানিমুন হবে কুয়াকাটায়? আমি তোমার এই কিপটেমি সহ্য করতে পারব না!"

​আয়ান মনে মনে ভাবল, 'বাহ্! মেয়ে তো স্ক্রিপ্ট ছাড়াই হেব্বি অ্যাক্টিং করছে!'

সে আরও এক কাঠি বাড়িয়ে বলল, "আরে জানু , কুয়াকাটায় তো সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দুটোই একসাথে দেখা যায়! আমাদের ভালোবাসার সূর্যও ওখানেই উদয় হবে। প্লিজ, রাগ করো না, এই নাও তোমার পায়ে ধরছি।""

​বাইরে দরজার গোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা বডিগার্ড রফিক আর কুদ্দুস একে অপরের দিকে তাকাল।

রফিক ফিসফিস করে বলল, "কুদ্দুস ভাই, ছোট আপামণির চয়েস আছে। জামাই দেখতে যেমন মাখন, ডায়ালগও মারে একদম সিনেমার হিরোর মতো!"

কুদ্দুস খৈনি চিবোতে চিবোতে বলল, "হুম, তবে বড় স্যারের কানে গেলে এই হিরোর হিরোগিরি ছুটে যাবে। তুই চুপচাপ পাহারা দে।"


​ঘড়ির কাঁটা যখন রাত ৪টা ছুঁইছুঁই, ঘরের মোমবাতিগুলো ততক্ষণে গলে শেষ। এসি-র ঠান্ডা বাতাসে ঘরের পরিবেশটা এখন একদম শান্ত।

​এতক্ষণের নাটক আর টেনশনের পর ইনায়া কখন যে খাটের এক কোণে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছে, সে নিজেও জানে না। তার লেহেঙ্গার ভারী ওড়নাটা মেঝেতে লুটোপুটি খাচ্ছে।

​আয়ান কিন্তু ঘুমায়নি। সে সোফায় বসে সারারাত ধরে শুধু একটা জিনিসই ভেবেছে—যে জীবনটা সে এতকাল একদম সাদামাটাভাবে কাটিয়ে এসেছে, আজ এক রাতের মধ্যে সেটা কতটা বদলে গেল।

সে কি সত্যিই ইনায়াকে ভালোবাসে? নাকি এই বিপদের থ্রিলটাই তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে? কিন্তু ইনায়ার ওই মায়াবী মুখের দিকে তাকালে তার মনে হয়, এই মেয়ের জন্য চৌধুরী আসাফউদ্দৌলার সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানোও সম্ভব।


​হঠাৎ ইনায়ার ফোনে ভাইব্রেশন হলো। মায়রার মেসেজ: "আই অ্যাম হিয়ার। পেছনের গেটে কাজী রেডি। তোরা বের হবি কীভাবে?"

​আয়ান জলদি ইনায়াকে হালকা ধাক্কা দিয়ে ডেকে তুলল, "ইনায়া, ওঠো! আওয়ার টাইম স্টার্টস নাও।"

​ইনায়া চোখ রগড়াতে রগড়াতে উঠে বসল। আয়ান ততক্ষণে জানালার পাশে গিয়ে একটা মোটা চাদর আর খাটের চাদর একসাথে গিঁট দিয়ে জানালার গ্রিলের সাথে বাঁধতে শুরু করেছে।

​ইনায়া অবাক হয়ে বলল, "আয়ান ভাইয়া, এটা কী করছো?"

​"কেন? তোমার আব্বুর খাঁচা থেকে পালানোর অফিশিয়াল ব্যবস্থা!" আয়ান জানালার একটা স্লাইডিং কাচ আস্তে করে সরিয়ে নিচে তাকাল। নিচ তলার গার্ডরা এই ভোরে একটু ঝিমোচ্ছে।

​"কিন্তু এই ভারী লেহেঙ্গা পরে আমি পাইপ বা চাদর বেয়ে নামব কী করে?!" ইনায়া নিজের ড্রেসের দিকে তাকিয়ে মাথায় হাত দিল।

​আয়ান ইনায়ার একদম কাছে এসে দাঁড়াল। তার চোখে এখন আর কোনো ভয় নেই, আছে এক অদ্ভুত আত্মবিশ্বাস। সে ইনায়ার কোমরে হাত দিয়ে তাকে এক ঝটকায় নিজের কোলে তুলে নিল।

​ইনায়া চমকে উঠে আয়ানের গলা জড়িয়ে ধরল।

​"চৌধুরী বাড়ির মেয়েদের মনে হয় সাহস একটু কম," আয়ান মুচকি হেসে বলল, "চোখ বন্ধ করো ইনায়া। আমরা ডিরেক্টলি আমাদের ফিউচারে ল্যান্ড করছি।"

​জানালার চাদর ধরে আয়ান যখন ইনায়াকে কোলে নিয়ে নিচে নামার জন্য প্রস্তুত, ঠিক তখনই দরজার বাইরে একটা ভারী শব্দ হলো। কেউ একজন এসেছে।

চৌধুরী আসাফউদ্দৌলার গম্ভীর গলা শোনা গেল, "আয়ান, ইনায়া... ভোর হয়ে গেছে। দরজা খোলো।"

তার একটু পিছনে থেকে হেঁটে আসছে মিনা বেগম, ইনায়ার মা।

বলি, তোমার কি আক্কেল জ্ঞান শুনি ভোর হতে না হতেই ছেলে- মেয়ে দুটোকে ডাকাডাকি শুরু করে দিছো! চলো আসো আমার সাথে ঘরে চলো। ওরা ঠিক সময় মতো উঠে পড়বে। আসাফউদ্দৌলা মিনা বেগমের সঙ্গে চলে গেলেন।

আয়ান, ইনায়া চোখাচোখি করে মুচকি হাসলো.....।

চলবে....

(কেমন লাগলো অবশ্যই রেসপন্স করবেন। আপনাদের ভালোবাসা আমাদের লেখার উৎসাহ। Happy Reading......)

#আমার_বউ
#লেখনীতে_Urmila_Akter
পর্ব:৫

বাসর রাত স্পেশাল  পর্ব ★★★বাপ রে বাপ! এ তো পুরো 'কেঁচো খুঁড়তে সাপ' না, ডিরেক্ট অ্যানাকোন্ডা বেরিয়ে গেছে! আয়ান ভেবেছিল শু...
13/06/2026

বাসর রাত স্পেশাল পর্ব ★★★

বাপ রে বাপ! এ তো পুরো 'কেঁচো খুঁড়তে সাপ' না, ডিরেক্ট অ্যানাকোন্ডা বেরিয়ে গেছে! আয়ান ভেবেছিল শুধু একটু অ্যাক্টিং করে বাড়ি চলে যাবে, আর এখন সোজা বাসর ঘর তাও আবার রিয়েল টাইম লাইফ থ্রেটের মুখে!

​(বাঘের খাঁচায় বিড়াল নাকি বিড়ালের খাঁচায় বাঘ)

​চৌধুরী আসাফউদ্দৌলার পার্সোনাল বডিগার্ডদের কড়া পাহারায় আয়ান আর ইনায়াকে দোতালার সেই বিশাল ঘরে ঢুকিয়ে দেওয়া হলো। দরজাটা বাইরে থেকে লক করার শব্দ হতেই আয়ানের মনে হলো, তার খাঁচায় বন্দি হওয়ার অফিশিয়াল অ্যানাউন্সমেন্ট হয়ে গেল।

​রনি আর তার বাবা অবশ্য ততক্ষণে ডিল বাতিল করে কেটে পড়েছে। কিন্তু আয়ানের জান তো এখন সুতোর ওপর ঝুলছে!

​রুমের চারপাশটা নিখুঁতভাবে সাজানো। খাটের ওপর গোলাপের পাপড়ি ছিটানো, সুগন্ধি মোমবাতি জ্বলছে। আসাফউদ্দৌলা সাহেব সত্যিই কোনো খামতি রাখেননি।

​আয়ান দরজার সামনেই দুই হাত মাথায় দিয়ে বসে পড়ল।

"আমি বলেছিলাম না ইনায়া? কোনো গড়বড় হলে আমি ছাদ থেকে লাফ দেব! তুমি আমাকে ছাদে যেতে দিলে না, ডিরেক্ট ডেথ ট্র্যাপে ঢুকিয়ে দিলে!

কাল সকালে উনি যখন কাবিননামা পাবেন না, তখন এই খাটের গোলাপের পাপড়িগুলো আমার জানাজার ফুল হয়ে যাবে!"

​ইনায়া দরজায় পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। তার নিজের বুকও তখন ধড়ফড় করছিল, কিন্তু সে আয়ানের সামনে দুর্বল হতে চাইল না।

সে কোনো রকম শান্ত গলায় বলল, "আহা, একটু শান্ত হও তো আয়ান ভাইয়া! আব্বু জাস্ট আমাদের ভয় দেখাচ্ছে।"

​"ভয় দেখাচ্ছে?!" আয়ান সোফা থেকে স্প্রিংয়ের মতো লাফিয়ে উঠল।

"টেবিলের ওপর রাখা ওটা কি প্লাস্টিকের খেলনা পিস্তল ছিল? ওটা রিয়েল রিভলভার ছিল ইনায়া! আর তোমার আব্বুর চোখের দিকে তাকিয়েছ? মনে হচ্ছিল জলজ্যান্ত যমরাজ দাঁড়িয়ে আছেন!"

উমমম,বললেই হলো, আমার আব্বু যেমন দেখতে পারছো ওমন না, ভালো মানুষ।
ইনায়ার মুখে এমন কথা শুনে আয়ান বলল,হুম দেখলাম তো কেমন মানুষ।

​ইনায়া খাটের একপাশে বসল। ঘরের গুমোট ভাবটা কাটাতে সে এসি-র রিমোট দিয়ে টেম্পারেচার কমিয়ে দিল। "এখন প্যানিক করে লাভ নেই।

আমাদের সকাল পর্যন্ত সময় আছে। মায়রাকে ফোন করে কোনো নকল কাজীর ব্যবস্থা করতে হবে যে রাতারাতি একটা ফেক সার্টিফিকেট বানিয়ে দেবে।"

​"ফে-ক সা-র্টি-ফি-কেট?" আয়ান তোতলাতে লাগল। "তোমার আব্বুর মতো বিজনেসম্যানের সামনে আমরা জাল সার্টিফিকেট দেব? উনি এক সেকেন্ডে ওটার বারোটা বাজিয়ে দেবেন। তখন বুলেটের সংখ্যা একটা থেকে বাড়িয়ে ছয়টা করে দেবে!"

​আয়ান অস্থির হয়ে ঘরের এমাথা-ওমাথা হাঁটতে লাগল। তার কপাল বেয়ে ঘাম ঝরছে। ফরমাল শার্টের ওপরের দুটো বোতাম খুলে সে সোফায় ধপ করে বসে পড়ল।

​ইনায়া আয়ানের এই অবস্থা দেখে নিজের ভয়টা ভুলে একটু অপরাধবোধে ভুগতে লাগল। সে উঠে গিয়ে টেবিল থেকে এক গ্লাস জল নিয়ে আয়ানের সামনে ধরল। "নিন, পানি খান। রাগ করো না প্লিজ। আমি সত্যি ভাবিনি আব্বু রিভলভার বের করবে।"

​আয়ান গ্লাসটা নিয়ে এক চুমুকে পানিটা শেষ করল। ইনায়া ঠিক তার পাশেই সোফায় বসল। ভারী লেহেঙ্গা আর গয়নায় ইনায়াকে সত্যিই একদম নতুন বউয়ের মতো লাগছে। ঘরের মৃদু আলোয় তার ফর্সা মুখটা আরও মায়াবী দেখাচ্ছে।

​আয়ান জল খেয়ে গ্লাসটা রেখে ইনায়ার দিকে তাকাল। দুজনের চোখাচোখি হতেই ঘরে একটা অদ্ভুত নীরবতা নেমে এল। বিকেলের সেই 'কিস' আর ড্রয়িংরুমে শক্ত করে হাত ধরে রাখার অনুভূতিটা যেন আবার দুজনের মনে চাড়া দিয়ে উঠল।

​আয়ান একটু গলা ঝেড়ে বলল, "তা... এখন কী হবে? আমরা কি এই সোফাতেই রাত কাটাব?"

​ইনায়া একটু দুষ্টমি হেসেই বলল, "কেন? বাসর ঘরের খাটটা তো বেশ বড়। শেয়ার করাই যায়।"

​আয়ান দুই হাত তুলে বলল, "তওবা তওবা!
এমনিতেই জানের ঠিক নেই, তার ওপর যদি কাল সকালে তোমার আব্বু সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়ে রাখে বা কোনোভাবে জানতে পারে আমি খাটে ঘুমিয়েছি... ব্যাস! কোর্ট ম্যারেজের নাটক ওখানেই শেষ।"

​ইনায়া হেসেই ফেলল। "আরে বোকা, আব্বু নিজের মেয়ের বেডরুমে সিসিটিভি লাগাবে কেন? আর আমি তো আপনাকে কামড়াতে আসছি না।"

বলা যায় কি করো তুমি! তোমাকে আমার বিন্দু বিশ্বাস নেই। তুমি সব পারো।

​ঠিক তখনই দরজার বাইরে ভারী বুটের আওয়াজ শোনা গেল। কেউ একজন বাইরে এসে দাঁড়িয়ে কেশে উঠল। বোঝাই যাচ্ছে, আসাফউদ্দৌলার গার্ডরা দরজায় কড়া পাহারা দিচ্ছে।

​আয়ান আর ইনায়া দুজনেই চমকে উঠল। আয়ান ফিসফিস করে বলল, "শোন, ওরা যদি বাইরে থেকে আড়ি পাতে আর বোঝে যে আমাদের মধ্যে কোনো রোমান্স নেই বা আমরা ঝগড়া করছি, তাহলেই সন্দেহ করবে।

আমাদের এমন নাটক করতে হবে যেন ওরা ভাবে আমরা সত্যিই হাসব্যান্ড-ওয়াইফ।"

​"নাটক? মানে কেমন নাটক?" ইনায়া চোখ বড় বড় করল।

​আয়ান একটু ইতস্তত করে গলার আওয়াজ স্বাভাবিকের চেয়ে একটু লাউড করে বলল, "আরে #আমার_বউ ! তুমি এত লজ্জা পাচ্ছ কেন বলো তো?

তিন বছর প্রেম করার পর আজ যখন আমরা এক ঘরে, তখনো তুমি এত দূরে বসে আছ?"

​ইনায়া প্রথমে থতমত খেয়ে গেল, তারপর আয়ানের প্ল্যানটা ধরে ফেলল। সেও একটু জোরে হেসে উঠে বলল, "ধুর, কী যে বলো না আয়ান! বাইরে লোকজন আছে না? আমার লজ্জা করছে তো!"

​আয়ান সোফা থেকে উঠে খাটের ওপর গিয়ে ধপাস করে বসল, যাতে স্প্রিংয়ের আওয়াজ বাইরে যায়। সে খাটের ওপর থেকে একটা বালিশ নিয়ে চিল চিৎকার জুড়ল, "লজ্জা কিসের জানু? আমরা তো বিবাহিত! আসো, এই গোলাপের পাপড়িগুলো তোমার মতোই সুন্দর!"

​ইনায়া নিজের হাসি চেপে রাখতে পারছিল না। সে খাটের দিকে এগিয়ে গিয়ে আয়ানের পাশে বসল এবং ফিসফিস করে বলল, "বেশি ওভারঅ্যাক্টিং হয়ে যাচ্ছে না?"

​"আরে না, ওরাই তো আমাদের এই পুশ সেলে ঢুকিয়েছে, এবার বুঝুক!" আয়ান ইনায়ার আরও কাছে সরে এল।

​হঠাৎ করেই রুমের লাইটটা দপ করে নিভে গেল। সম্ভবত মেইন পাওয়ার লাইন থেকে আসাফউদ্দৌলা সাহেবই পুরো বাড়ির লাইট অফ করে দিয়েছেন ঘুমানোর জন্য। শুধু মোমবাতির হালকা আলোটা জ্বলছে।

​হঠাৎ অন্ধকারে ইনায়া একটু ভয় পেয়ে আয়ানের শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। বিকেলের সেই কারেন্টটা আবার আয়ানের মেরুদণ্ড বেয়ে নেমে গেল। মোমবাতির আলোয় ইনায়ার চোখ দুটো চকচক করছে।

​আয়ান ইনায়ার দিকে তাকিয়ে তার সব ভয় ভুলে গেল। সে শান্ত গলায় বলল, "ইনায়া, সত্যি করে বলো তো... এই নাটকটা কি শুধুই রনিকে আটকানোর জন্য? নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গল্প আছে?"

​ইনায়া মাথা নিচু করে নিল। তার গাল দুটো লাল হয়ে উঠল। সে হালকা গলায় বলল, "যদি বলি... রনি তো একটা উসিলা মাত্র। আমি আসলে আব্বুর সামনে এমন কাউকেই আনতে চেয়েছিলাম, যাকে আমি সত্যিই নিজের পাশে দেখতে চাই?"

​আয়ানের হার্টবিট এবার ১80 স্পিডে ছুটতে লাগল। "মানে?"

মানে তুমি তো হ্যান্ডসাম আর তোমার চোখের দৃষ্টি ওফফফ, পুরোই মাখন।

​"আর.... কাল সকালের সার্টিফিকেটটা আসলও হতে পারে, যদি আপনি রাজি থাকেন।" ইনায়া আলতো করে আয়ানের বুকে হাত রাখল।

​আয়ান স্তব্ধ হয়ে গেল। বাসর রাতের থ্রিলিং সাসপেন্সটা এখন পিওর রোমান্সে রূপ নিয়েছে। বাইরে গার্ডদের পাহারা, টেবিলে রাখা রিভলভার, আর কাল সকালের মৃত্যুর ভয়—সবকিছু যেন এই মুহূর্তটার কাছে ফিকে হয়ে গেল।

আয়ান এবার ইনায়ার হাতে আলতো করে মুঠোয় নিয়ে বলল,তাহলে সত্যি কারের রোমাঞ্চ কেমন হয় অনুভব করাব নাকি!

আয়ানের মুখে এমন কথা শুনে ইনায়া এবার সোজা হয়ে বসল। মানে......!
কি বলছেন ইনায়ার চোখে এবার একটু ভয়ের ছাপ তবে সেটা লজ্জায় আড়ষ্ঠ।

"তার মানে, কাল সকালে যদি আমি বেঁচে ফিরি, তবে আমি সত্যিই চৌধুরী বাড়ির অফিশিয়াল জামাই?"া

​ইনায়া মুচকি হেসে মাথা নাড়াল, "হুম।" মানে না। মানে হতেউ পারে। উমমম না.

​আয়ান একটা গভীর শ্বাস নিয়ে বলল, "তাহলে তো কাল সকালের জন্য একটা রিয়েল প্ল্যান করতেই হচ্ছে।

মায়রাকে এখনই টেক্সট করো, কাজীকে যেন ও জেনুইন রেজিস্ট্রি খাতা সহ ভোর ৫টায় রেডি রাখে। চৌধুরী আসাফউদ্দৌলার বুকে বন্দুক ঠেকানোর জবাব আমরা আসল কাবিননামা দিয়েই দেব!"

তুমি কি বলো? ইনায়া..!

চলবে

(এই পর্বটা কেমন হলো অবশ্যই জানাবে। আর বেশি রেসপন্স না পেলে এখানেই সমাপ্তি ঘটবে। আপনারা রেসপন্স করবেন সবাই।
Happy reading....)

#আমার_বউ

পর্ব:৪

"Do you have any idea! Who i'am?"It’s batter ​not to poke you nose into my life. "Mind  it." আয়ান তার ফোন থেকে পাল্টা রি...
12/06/2026

"Do you have any idea! Who i'am?"
It’s batter ​not to poke you nose into my life. "Mind it."
আয়ান তার ফোন থেকে পাল্টা রিপ্লেই করল।

রনি আয়ান আর ইনায়ার ভিডিওটা করেছে।সাইকোটা ঘরের বাইরে যাওয়ার আগে দরজা বা জানালার ফাঁক দিয়ে ফোনটা ধরে রেখেছিল।

​আয়ান আর এক মুহূর্তও নষ্ট করল না। সে দ্রুত মায়রাকে কল দিল। মায়রা তখন মাত্রই ইনায়াকে নিচে নামিয়ে দিয়ে ঘরে ঢুকছে।

​"হ্যালো, আয়ান ভাইয়া? ইনায়া তো মাত্র গেল—"

​"মায়রা, ইনায়াকে আটকা!
ও যেন এখনই মেইন গেট পার না হয়! দ্রুত!"

আয়ানের গলার স্বরে এমন একটা আতঙ্ক ছিল যে মায়রা আর কোনো প্রশ্ন না করে উল্টো ঘুরেই সিঁড়ির দিকে দৌড় দিল।

​পাঁচ মিনিট পর।

মায়রার ড্রয়িংরুমে আয়ান, ইনায়া আর মায়রা—তিনজনই স্তব্ধ হয়ে বসে আছে।

ইনায়ার ফর্সা মুখটা এবার রাগে নয়, ভয়ে ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। আয়ানের ফোনটা টেবিলের ওপর রাখা, যেখানে রনির পাঠানো মেসেজটা এখনো স্ক্রিনে জ্বলছে।

তবে পাল্টা মেসেজটা ইয়ানা বা মায়রা কেও দেখল না।

​"ও... ও এই কাজটা করতে পারল?" ইনায়ার গলা দিয়ে প্রায় আওয়াজ বেরোচ্ছিল না। "ভিডিওটা যদি ও আমার আব্বুকে দেখায়... বা সোশ্যাল মিডিয়ায়..." ভাবতেই ইনায়ার মাথা ঘুরছে।।

​ময়রা বলল,বলেছিলাম না, ইনায়া ডেঞ্জারাস হলেও ওই রনি একটা আস্ত সাইকো!"
আয়ান মাথায় হাত দিয়ে সোফায় হেলান দিল।

তবে এবার তার গলায় রাগ নয়, বরং ইনায়ার জন্য এক ধরনের প্রচ্ছন্ন উদ্বেগ কাজ করছে। সে সোজা হয়ে বসে ইনায়ার দিকে তাকাল, "তোমার আব্বু ডিল সাইন করার জন্য আজ রাতে ওদের বাসায় ডাকবে বললে না? রনি ঠিক এই সুযোগটাই নেবে।"

​মায়রা বলল, "এখন উপায়? আমরা কি রনির কাছে গিয়ে ফোনটা কেড়ে নেব?"

​"পাগল নাকি?" আয়ান প্রকাশ করল।

"ও একা থাকবে না। আর ডিলিট করলেও ওর কাছে যে ব্যাকআপ নেই, তার গ্যারান্টি কী? তা ছাড়া, আমরা জোর করতে গেলে ও এখনই ভিডিওটা ইনায়ার আব্বুর ফোনে পাঠিয়ে দিতে পারে।"

​ইনায়া শক্ত হয়ে বসেছিল। তার ভেতরের ভয়টা আস্তে আস্তে একটা জেদে রূপ নিতে শুরু করল। সে চোখের কোণের জলটা মুছে ফেলে বলল,

"রনি আমাকে চেনে না। ও ভাবছে এই ভিডিও দিয়ে ও আমাকে ব্ল্যাকমেইল করে ওর শর্ত মানাবে। কিন্তু আমি ওর সামনে মাথা নোয়াব না।"

​"মাথা নোয়াবে না মানে কী করবে?" আয়ান জিজ্ঞেস করল। "তোমার আব্বুর সামনে ভিডিওটা গেলে উনি তো আগে তোমাকেই ভুল বুঝবেন।"

​"না, আব্বু আমাকে নয়, আগে রনিদের পুরো পরিবারকে ধ্বংস করবে।
কিন্তু বিজনেস ডিলটা ভেঙে গেলে আব্বুর অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।
আমি সেটা হতে দিতে পারি না।" ইনায়া আয়ানের দিকে তাকাল।

তার চোখে এখন এক অদ্ভুত দৃঢ়তা। "আয়ান ভাইয়া... আমাদের এই নাটকটা আরও কিছুদিন চালিয়ে যেতে হবে।"

​আয়ান আকাশ থেকে পড়ল। "মানে? কীসের নাটক?"

​"বিয়ে।

" ইনায়া শান্ত গলায় বলল। "রনি মেসেজে লিখেছে 'নকল বিয়ের নাটক'। তার মানে ও নিশ্চিত নয় আমরা সত্যিই বিবাহিত কি না। ও জাস্ট ব্লাফ দিচ্ছে।

আজ রাতে ও যখন আমাদের বাসায় আসবে, আমি আব্বুর সামনে নিজেই বলব যে আমি একজনকে ভালোবাসি এবং তাকে বিয়ে করেছি।
রনি যদি তখন ভিডিও দেখায়, আব্বু ভাববে ওটা আমাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার ব্যাপার। ও কোনো স্ক্যান্ডাল বানাতে পারবে না।"

​"তুমি কি পাগল হয়েছ ইনায়া?" আয়ান দাঁড়িয়ে গেল।
"আরে, একটু আগে পরিস্থিতি সামলাতে কিস করেছ, সেটা না হয় বুঝলাম। কিন্তু এখন পুরো বিয়ের মিথ্যা নাটক? তোমার আব্বু যদি কাজী ডাকতে বলে? যদি কাবিননামা দেখতে চায়?"

​"আমি সব সামলে নেব।
প্লিজ, আয়ান ভাইয়া..." ইনায়া এবার আয়ানের হাতটা আলতো করে ধরল।

তার স্পর্শে আয়ানের পুরো শরীরে আবার সেই বিকেলের মতো একটা কারেন্ট খেলে গেল।
ইনায়ার চোখে তখন মিনতি, "আমার কাছে আর কোনো রাস্তা নেই। রনিকে আটকাতেই হবে। তুমি শুধু আজ রাতের জন্য আমার সাথে আমাদের বাসায় চলো। জামাই সেজে।"

​আয়ান ইনায়ার চোখের দিকে তাকিয়ে 'না' বলতে পারল না। তার নিজের ভেতরের একটা অংশ বলছিল সে একটা জলজ্যান্ত আগুনে ঝাঁপ দিচ্ছে, কিন্তু ইনায়ার এই অসহায় রূপটার সামনে তার সমস্ত যুক্তি হেরে গেল।

​সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, "ঠিক আছে। কিন্তু মনে রেখো, যদি কোনো গড়বড় হয়, আমি কিন্তু ছাদ থেকে লাফ দেব!"

​ইনায়ার ঠোঁটের কোণে এত বিপদের মাঝেও একটা হালকা হাসির রেখা ফুটে উঠল।

​রাত ৮টা।
ইনায়াদের বিশাল বাড়ির ড্রয়িংরুমে পিনপতন নীরবতা।

​সোফার একপাশে বসে আছেন ইনায়ার বাবা, চৌধুরী আসাফউদ্দৌলা।
তার গম্ভীর চেহারার সামনে বসে আছে রনি এবং তার বাবা। রনির মুখে একটা বিজয়ী হাসি। সে বারবার পকেট থেকে ফোনটা বের করছে আর ইনায়ার ঘরের দিকে তাকাচ্ছে।

​ঠিক তখনই ড্রয়িংরুমে পা রাখল ইনায়া। তবে সে একা নয়। তার ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে আছে আয়ান। আয়ানের পরনে একটা ফরমাল শার্ট, মুখটা গম্ভীর রাখার চেষ্টা করলেও ভেতরে ভেতরে সে তখন তওবা পড়ছিল।

​ইনায়ার বাবা ভ্রু কুঁচকে তাকালেন। "ইনায়া, ও কে? আর তুমি এতক্ষণ কোথায় ছিলে?"

​রনি সোফা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বাঁকা হেসে বলল, "আঙ্কেল, ও কে সেটা আমি আপনাকে বলছি। আর আজ বিকেলে মায়রার বাসায় এরা দুজন কী করছিল, তার একটা দারুণ প্রমাণ আমার কাছে আছে।" রনি ফোনটা বের করে আসাফউদ্দৌলার দিকে বাড়িয়ে দিতে গেল।

​"তার কোনো প্রয়োজন নেই, রনি ভাই।" ইনায়া অত্যন্ত দৃঢ় গলায় ঘর কাঁপিয়ে বলল।

​সে সরাসরি তার বাবার সামনে গিয়ে দাঁড়াল এবং আয়ানের হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় শক্ত করে চেপে ধরল। আয়ান চমকে উঠলেও নিজেকে সামলে নিল।

​ইনায়া তার বাবার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, "আব্বু, রনি তোমাকে যা দেখানোর চেষ্টা করছে, সেটা কোনো পাপ নয়। ওটা আমাদের অধিকার।

কারণ, ও আমার স্বামী। আমরা তিন মাস আগে কোর্ট ম্যারেজ করেছি।"

​কথাটা শোনামাত্র রনির হাতের ফোনটা সোফার ওপর পড়ে গেল। রনি ও তার বাবার চোখ চড়কগাছ।

আর আসাফউদ্দৌলা সাহেব ধীরে ধীরে সোফা থেকে উঠে দাঁড়ালেন, তার চোখ এখন আগুনের গোলার মতো জ্বলছে।

​তিনি আয়ানের দিকে তাকিয়ে থমথমে গলায় বললেন, "তুমি... আমার মেয়েকে বিয়ে করেছ?"

​আয়ানের মনে হলো তার হৃৎপিণ্ডটা গলা দিয়ে বেরিয়ে আসবে। সে ইনায়ার হাতের চাপটা অনুভব করল। নিজের ভেতরের সবটুকু সাহস সঞ্চয় করে সে আসাফউদ্দৌলার চোখের দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়াল।

​"জি, আঙ্কেল... মানে, বাবা। আমি ইনায়ার হাসব্যান্ড, আয়ান।"

​ড্রয়িংরুমের আবহাওয়া তখন এমন যে যেকোনো মুহূর্তে একটা বিস্ফোরণ ঘটবে।

রনি পরিস্থিতি সামলাতে চিৎকার করে উঠল, "মিথ্যা কথা! আঙ্কেল, এরা নাটক করছে! আমার কাছে ভিডিও আছে—"

​"শাট আপ রনি!" আসাফউদ্দৌলা গর্জে উঠলেন। তিনি রনির দিকে না তাকিয়ে সরাসরি আয়ানের দিকে এগিয়ে এলেন। তার ভারী পায়ের আওয়াজে আয়ানের মনে হচ্ছিল ফাঁসির মঞ্চ এগিয়ে আসছে।

​আসাফউদ্দৌলা আয়ানের একদম মুখোমুখি এসে দাঁড়ালেন। তারপর পকেট থেকে একটা রিভলভার বের করে টেবিলের ওপর রাখলেন।

​শান্ত, কিন্তু বরফশীতল গলায় বললেন, "আমার মেয়ে বলল তোমরা তিন মাস আগে বিয়ে করেছ। খুব ভালো। জামাই বাবাজি, আজ রাতেই তোমাদের বাসর ঘরের ব্যবস্থা হচ্ছে এই বাড়িতেই।

কিহ্্্্্্্্্্্্্........! আয়ানের মুখে এমন আওয়াজ শুনে সবাই আয়ানের দিকে তাকিয়ে আছে। ইনায়া আয়ানের হাতে একটা জোরে চিমটি কাটল। আয়ান আবার শব্দ করল, উফফ্....

জামাই বাবাজি কাল সকালের মধ্যে যদি আমার টেবিলের ওপর তোমাদের অরিজিনাল ম্যারেজ সার্টিফিকেট না আসে... তবে এই রিভলভারের প্রথম বুলেটটা তোমার বুকে ঢুকবে। এবার বলো, তোমরা সত্যিই বিবাহিত তো?"

​আয়ান ঢোক গিলল। সে আড়চোখে ইনায়ার দিকে তাকাল। ইনায়ার নিজের মুখও তখন ভয়ে শুকিয়ে গেছে। নকল বিয়ের নাটক যে এত দ্রুত বাসর ঘর আর ম্যারেজ সার্টিফিকেটের দিকে মোড় নেবে, তা তারা কেউই ভাবেনি।


চলবে ~
#আমার_বউ

পর্ব:৩

(আপনারা প্রথম পর্বের ন্যায় ২য় পর্বে ভালো রেসপন্স করেন নি । গল্পটা আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে আপনাদের রেসপন্স খুবই প্রয়োজন। তাই আপনারা গল্পটি পড়ে কমেন্ট না করেন অন্তত লাইক করবেন। Happy Reading......পাঠকবৃন্দ.)

আগের পর্ব থেকে নেওয়া... (এখন যদি কেউ এসে জিজ্ঞেস করে আমি কে, তুমি বলবে আমি তোমার বউ!"........​‘বাপ রে বাপ! এ কী ডেঞ্জারা...
11/06/2026

আগের পর্ব থেকে নেওয়া... (এখন যদি কেউ এসে জিজ্ঞেস করে আমি কে, তুমি বলবে আমি তোমার বউ!"........

​‘বাপ রে বাপ! এ কী ডেঞ্জারাস মেয়ে রে বাবা! প্রথমে জোর করে বিয়ে, তারপর এই প্রকাশ্য... আসতাগফিরুল্লাহ্)

​ফ্লোরে পড়ে থাকা কাঠের চিরুনিটা তুলতে তুলতে মায়রা কপালে হাত দিয়ে বসল। সে অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে একবার ইনায়া আর একবার পাথরের মতো বসে থাকা আয়ানের দিকে তাকাচ্ছিল।

​ইনায়ার বুকের ভেতর তখনো কামারের দোকানের মতো হাঁপর চলছে। রাগে, ভয়ে আর চরম উত্তেজনায় তার ফর্সা মুখটা টকটকে লাল হয়ে উঠেছে। সে বিছানায় ছুড়ে ফেলা ফোনটা হাতে তুলে নিল, কিন্তু তার হাত কাঁপছিল।

আয়ানের দিকে তাকানোর মতো সাহস এই মুহূর্তে তার নিজেরও ছিল না। যে কাণ্ডটা সে করে বসেছে, সেটা ভাবলেই তার নিজের কান ঝাঁ ঝাঁ করছে।

​"তুই... তুই সত্যি এটা করলি ইনায়া?" মায়রা ফিসফিস করে বলল, যেন জোরে কথা বললে এই ঘরের দেয়ালগুলোও ভেঙে পড়বে।

​ইনায়া কোনো জবাব দিল না। সে লম্বা একটা শ্বাস নিয়ে আয়ানের দিকে তাকাল। আয়ান এখনো আগের পজিশনেই বসে আছে, তার চোখ দুটো তখনো বড় বড়। ঠোঁটে হাত দিয়ে সে যেন নিজের অস্তিত্ব বোঝার চেষ্টা করছে।

​"আয়ান..ভাইয়া....." ইনায়া খুব মৃদু গলায় ডাকল। কণ্ঠস্বরটা কাঁপছিল।

​ডাক শুনে আয়ান যেন এতক্ষণে মর্ত্যে ফিরে এলো। সে ঝটকা দিয়ে বিছানা থেকে নেমে ইনায়ার থেকে তিন পা পিছিয়ে গেল। তার চুলে হাত বোলাতে বোলাতে সে তোতলাতে লাগল,
"তু-তুমি... তুমি এটা কী করলে? হোয়াট ওয়াজ দ্যাট? তুমি আমাকে... মানে আমি তো... ও মাই গড!"

​"পরিস্থিতি সামলানোর জন্য এছাড়া আর কোনো পথ ছিল না আয়ান ভাইয়া!"

ইনায়া নিজেকে শক্ত করার চেষ্টা করে বলল, যদিও তার নিজের ভেতরেও একটা ঝড় বয়ে যাচ্ছে।

​"পথ ছিল না মানে?" আয়ান এবার প্রায় চিৎকার করে উঠল, তবে গলার আওয়াজ ঘরের বাইরে যেতে দিল না। "একটা ছেলে ফোন চেক করতে চাইল আর তুমি প্রমাণ দেওয়ার জন্য সরাসরি... আমার ফার্স্ট কিসটা তুমি এভাবে স্যাক্রিফাইস করে দিলে? তাও ওই রনির সামনে?"

​মায়রা মাঝখান থেকে বলে উঠল, " ভাইয়া "শান্ত হ। রনি যেভাবে ফোনটা নিয়েছিল, ও যদি গ্যালারি দেখত আর ছোট মা র ফোনটা রিসিভ করে বলত ইনায়া এখানে—তাহলে আজ রনি ইনায়ার জীবনটা শেষ করে দিত। ও একটা সাইকো!"

​"সাইকো তো ওই রনি, কিন্তু এই মেয়ে তো তার চেয়েও বড় ডেঞ্জারাস!"

আয়ান নিজের কপালে চড় মেরে বলল। "প্রথমে বলল ‘বউ’, আমি কোনোমতে ব্যাকআপ দিলাম। তারপর রনিকে তাড়াতে এই কায়দা? এরপর যদি রনি কাজী নিয়ে এসে বলে তোমরাই তো বললে বিয়ে হয়ে গেছে, এবার কাবিননামা দেখাও—তখন কী করবে? বাসর ঘর সাজাবে নাকি?"

​আয়ানের এই সোজাসাপ্টা আর কিছুটা রসাত্মক কথায় ইনায়ার লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছে করল। কিন্তু সে রাগটাকেই ঢাল বানাল। মুখটা শক্ত করে বলল, "রনি অত দূর যাওয়ার সাহস পাবে না। ও জাস্ট সন্দেহ করছিল। আর তুমি এত কথা বলছ কেন? ক্ষতি যা হওয়ার তো আমার হয়েছে!"

​"তোমার হয়েছে?" আয়ান আকাশ থেকে পড়ল। "আমার ইজ্জতের কোনো দাম নেই? আমি একটা আস্ত ছেলে, আমাকে এভাবে জোর করে..." আয়ান আর বলতে পারল না।
সে বিছানায় ধপ করে বসে পড়ে আবার নিজের ঠোঁটে হাত দিল। কেন যেন একটা অদ্ভুত ভালো লাগার রেশ তখনো তার মনে সুড়সুড়ি দিচ্ছিল, যা সে কোনোভাবেই স্বীকার করতে পারছিল না।

​ঠিক তখনই ইনায়ার ফোনটা আবার কেঁপে উঠল। স্ক্রিনে আবার ‘আম্মু’ নামটা ভাসছে।

​ইনায়া এবার আর দেরি করল না। সে মায়রাকে ইশারা করে বলল, "আমি আম্মুর সাথে কথা বলছি। তুই আয়ান ভাইকে একটু শান্ত কর।"

​ফোনটা কানে দিয়ে ইনায়া ঘরের বারান্দার দিকে চলে গেল। তার গলা কাঁপছিল, "হ্যাঁ আম্মু... না, ওই একটু নেটওয়ার্কের প্রবলেম ছিল। আমি মায়রার বাসায় আছি... হ্যাঁ, এখনই বের হচ্ছি।"

​বারান্দা থেকে ইনায়া যখন ফিরে এলো, তার মুখটা বেশ গম্ভীর। সে আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল, "আমাকে এখন বাড়ি ফিরতে হবে।
আম্মু সন্দেহ করছে। আর... রনি আজ রাতে আমাদের বাসায় আসতে পারে।

আব্বুর সাথে ওর বাবা একটা বিজনেস ডিল নিয়ে কথা বলবে।"

​আয়ান বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াল। তার রাগটা এখন কিছুটা কমে চিন্তার রূপ নিয়েছে। সে বলল, "রনি যদি তোমার আব্বুকে আজকের এই ‘বউ’ আর ‘কিস’-এর গল্প বলে দেয়? তখন কী করবে?"

​ইনায়া একটু থমকে গেল। সে আয়ানের চোখের দিকে তাকাল। সেই চোখে এখন আর আগের মারকুটে ভাবটা নেই, বরং এক ধরনের অসহায়ত্ব।

সে ফিসফিস করে বলল, "ও যদি বলে, তবে আমার আব্বু ওকে জ্যান্ত পুঁতে ফেলবে। কারণ আব্বু জানে আমি কাউকে ভালোবাসলে বুক চিতিয়ে বলব, এভাবে লুকিয়ে করব না। কিন্তু সমস্যা হলো..."

​"সমস্যা কী?" মায়রা আর আয়ান একসাথে জিজ্ঞেস করল।

​"সমস্যা হলো, রনি যদি আমার ওপর প্রতিশোধ নিতে অন্য কোনো চাল চালে। ও আজ যেভাবে অপমানিত হয়েছে, ও সহজে ছাড়বে না।" ইনায়া ব্যাগটা কাঁধে নিতে নিতে বলল।

​সে দরজার দিকে এগিয়ে গিয়ে হঠাৎ থমকে দাঁড়াল। আয়ানের দিকে ঘুরে তাকিয়ে খুব নিচু গলায় বলল, "আজকের জন্য... থ্যাঙ্ক ইউ। আর... আই অ্যাম সরি।"

​কথাটা বলেই ইনায়া আর এক সেকেন্ডও দাঁড়াল না, দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। মায়রাও তার পেছনে পেছনে গেল তাকে এগিয়ে দিতে।

​রুমের ভেতর আয়ান একা দাঁড়িয়ে রইল। ঘরের ফ্যানটা ঘুরছে, বাইরে বিকেলের আলোটা আস্তে আস্তে ম্লান হয়ে আসছে। আয়ান খাটের ওপর বসল। তার ডান হাতটা আপনমনেই আবার ঠোঁটটা স্পর্শ করল।

​সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ছাদের দিকে তাকিয়ে একা একাই হাসল।

"বাপ রে বাপ! যেমন রূপ, তেমন তেজ। মেয়েটা সত্যিই অদ্ভুত!

কিন্তু... কিসটা কি আসলেই ও শুধু পরিস্থিতি সামলাতে করেছিল?
নাকি..."
​আয়ানের ভাবনার মাঝেই হুট করে তার ফোনের নোটিফিকেশন টোন বেজে উঠল। স্ক্রিন অন হতেই দেখল একটা আননোন নাম্বার থেকে মেসেজ এসেছে।

​মেসেজটা খুলতেই আয়ানের গায়ের রক্ত হিম হয়ে গেল। সেখানে লেখা:
‘খুব তো বউ বউ করে লাফাচ্ছিলে আয়ান সাহেব! আমিও খুব সহজে পাখি ছারছি না। ওই চুমুর ভিডিওটা আমার ফোনে বেশ ভালোই রেকর্ড হয়েছে। এবার দেখি তোমাদের এই নকল বিয়ের নাটক কতদূর চলে! রেডি থেকো।’......

​চলবে.....

#আমার_বউ

পর্ব:২

(আপনাদের রেসপন্স লেখার ইনসপ্রেশন বাড়িতে তোলে। অনেক ধন্যবাদ গল্প টা পড়ার জন্য। আপনারা রেসপন্স বাড়ালে গল্পটা আরো Attacktive করে তোলার চেষ্টা করব।. Happy Reading..........)

এখন যদি কেউ এসে জিজ্ঞেস করে আমি কে, তুমি বলবে আমি তোমার বউ!"ইনায়ার মুখে এমন অদ্ভুত কথা শুনে আয়ান বিছানায় আধশোয়া অবস্থা থ...
09/06/2026

এখন যদি কেউ এসে জিজ্ঞেস করে আমি কে, তুমি বলবে আমি তোমার বউ!"
ইনায়ার মুখে এমন অদ্ভুত কথা শুনে আয়ান বিছানায় আধশোয়া অবস্থা থেকেই তার দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে রইল।
ঘরের কোণে দাঁড়িয়ে থাকা মায়রা চিরুনি হাতে থমকে গেল। সে চোখ জোড়া বড় বড় করে বলল, "এগুলো কী বলছিস ইনায়া? তুই কি জ্ঞান হারিয়েছিস, নাকি মজা করছিস?"
​"এছাড়া আর কোনো উপায়ও তো দেখছি না আমি!" ইনায়ার কণ্ঠে স্পষ্ট ছটফটানি। সে আয়ানের দিকে ঝুঁকে এসে ফিসফিস করে বলল, "আমি যা বললাম, ঠিক তা-ই মনে রেখো কিন্তু!"
​আয়ান ভ্রু কুঁচকে ফোনটা একপাশে রেখে বলল, "হঠাৎ এই অদ্ভুত কথা বলছ কেন তুমি? কোনো মানে হয়?"
​ইনায়ার ফ্যাকাশে মুখাবয়বে ভয়ের একটা স্পষ্ট ছাপ ভেসে উঠল। সেই ভয়ের কারণটা বুঝতে আয়ান বা মায়রার অবশ্য বেশি সময় লাগল না। ঠিক তখনই রুমের বাইরে ভারী বুটের শব্দ আর এক যুবকের গলার আওয়াজ পাওয়া গেল।
​মায়রা এতক্ষণ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল আঁচড়াচ্ছিল, সে আতঙ্কে হাত থামিয়ে দিল।
ইনায়া আর এক মুহূর্তও দেরি না করে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে এসে সরাসরি আয়ানের মাথার কাছে বিছানায় বসে পড়ল।
আয়ান পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আবার ফোনে মন দেওয়ার ভান করল, যেন সে খুব স্বাভাবিক আছে।
​বাইরের আওয়াজটা ঘরের দরজার একদম কাছে চলে আসতেই আয়ান গলা চড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, "কে বাইরে?"
​"আমি রনি, আসতে পারি?"
​অনুমতি চাওয়ার অপেক্ষা না করেই রনি ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ল। তার উপস্থিতিতে ঘরের ভেতরের বাতাস যেন এক নিমেষে ভারী হয়ে উঠল।
ইনায়া ভয়ার্ত, অথচ শক্ত চোখে রনির দিকে তাকাল।
রনির ঠোঁটের কোণে ঝুলে রইল একটা কুৎসিত, কুটিল হাসি। সে সোজা হেঁটে এসে আয়ানকে উদ্দেশ্য করে জিজ্ঞেস করল, "তা আয়ান, তোমার শিয়রে বসে থাকা এই রূপবতী মেয়েটি কে?"
​রনির বাঁকা প্রশ্নে আয়ানের মাথায় ঝড়ের বেগে ইনায়ার সেই শেষ কথাটি খেলে গেল—‘বলবে আমি তোমার বউ!’
​আয়ান আর এক সেকেন্ডও দ্বিধা করল না। সে সোজা হয়ে বসে বুক চিতিয়ে বলল, "এটা আমার বউ! আমার একমাত্র বউ!"
​রনির চোখের কোণ সরু হয়ে এল। সে তাচ্ছিল্যের সুরে বলল, "বলো কী! তুমি বিয়ে করলে কবে? আমরা তো কিছুই জানলাম না।"
​আয়ান কিছুটা আমতা আমতা করে বলল, "এই যে এখন... না মানে, এখন থেকে কিছু দিন আগে। আর তোমার জানার বা দরকার কি?
​ইনায়া অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল আয়ানের দিকে। ছেলেটা যে এত দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে মিথ্যেটা এভাবে বলে দেবে, তা সে ভাবেনি। ঠিক তখনই ইনায়ার হাতের ফোনটা তীব্র শব্দে কেঁপে উঠল—ডিসপ্লেতে ভেসে উঠেছে ‘আম্মু’ নামটা।
​কিছু বুঝে ওঠার আগেই রনি চিলের মতো ছোঁ মেরে ইনায়ার হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নিল। টানাটানির মাঝে রনির আঙুলের চাপে কলটা কেটে গেল।
​ইনায়া এবার সোজা দাঁড়িয়ে রাগ ও অপমানে ফেটে পড়ল, "আপনি কোন সাহসে আমার ফোন নিলেন? আমার ফোন ফিরিয়ে দিন বলছি!"
​আয়ান এবার বিছানা থেকে পুরোপুরি উঠে দাঁড়াল। তার চোখে তখন চরম অসন্তোষ। সে রনির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে শক্ত গলায় বলল, "রনি, এবার কিন্তু তুমি একটু বেশিই লিমিট ক্রস করে ফেলছ!"
​রনি ফোনটা উঁচিয়ে ধরে শয়তানি হেসে বলল, "আমি বিশ্বাসই করি না যে তোমাদের বিয়ে হয়েছে। সব ভাওতাবাজি! দাঁড়াও, আমি ফোনের গ্যালারি চেক করে দেখছি তোমাদের বিয়ের কোনো ছবি আছে কি না।"
​ইনায়ার বুকের ভেতরটা ভয়ে দুরুদুরু করে কাঁপছিল, কিন্তু সে তা বাইরে প্রকাশ পেতে দিল না। গলা যতটা সম্ভব শক্ত করে বলল, "আমাদের পারসোনাল জিনিসে এন্টারফেয়ার করার আপনি কে? প্রাইভেসির নাম শোনেননি?"
​"বেশ তো, মুখের কথায় চিঁড়ে ভিজে না। আমার প্রমাণ চাই!" রনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল।
​রনির কথা শেষ হতে যতটুকু দেরি হয়েছিল, ইনায়ার পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে ততটুকুও দেরি হলো না। সে রনিকে আর কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে, আচমকা আয়ানের কলার চেপে ধরে নিজের দিকে টানল এবং মুহূর্তের মধ্যে আয়ানের অধরের সাথে নিজের অধর মিলিয়ে দিল।
​সবকিছু এত দ্রুত ঘটে গেল যে ঘরের ভেতরের সময় যেন থমকে দাঁড়াল।
​আচমকা এমন এক চরম পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে আয়ান পুরোপুরি স্তব্ধ।
ইনায়ার ঠোঁটের ছোঁয়ায় তার পুরো শরীরে যেন বিদ্যুৎ খেলে গেল। সে চুম্বনরত অবস্থাতেই বড় বড় চোখ করে ইনায়ার দিকে তাকিয়ে রইল, যেন বিশ্বাসই করতে পারছে না এটা কোনো বাস্তব দৃশ্য।
​রনি রাগে, ক্ষোভে আর অপমানে কটমট করতে লাগল। তার চোখ দিয়ে যেন আগুন ঝরছে, ইচ্ছে করলেই যেন ঘরের সবকিছু জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দেবে।
​ঘরের দূর কোণে দাঁড়িয়ে এই অভাবনীয় কাণ্ড দেখছিল মায়রা। চরম বিস্ময়ে তার হাত অবশ হয়ে এল। হাত থেকে কাঠের ভারী চিরুনিটা ফ্লোরে পড়ে বিকট একটা শব্দ হলো—‘খটাশ!’
​সেই শব্দে যেন ঘোর কাটল ইনায়ার।
সে দ্রুত আয়ানকে ছেড়ে দিয়ে এক পা পিছিয়ে এল। নিজের ওপরে সমস্ত নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে এনে সে রনির দিকে তাকাল। তার চোখে তখন বিজয়ের আভা।
ইনায়া রনিকে উদ্দেশ্য করে তীব্র কণ্ঠে বলল, "আর কোনো প্রমাণের দরকার আছে আপনার? নাকি আরও কিছু দেখতে চান?"
​রনি আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়ানোর সাহস পেল না। সে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে ইনায়ার ফোনটা খাটের মাঝখানে ছুড়ে মেরে হনহন করে ঘর থেকে বেরিয়ে চলে গেল।
​রনি চলে যেতেই ঘরজুড়ে এক পিনপতন নীরবতা নেমে এল। মায়রা এখনো দরজার দিকে তাকিয়ে বুক ভরে শ্বাস নিয়ে বলল, "আমি এসব কী দেখলাম রে ইনায়া? সত্যি দেখলাম নাকি কোনো স্বপ্ন?"
​আয়ান এখনো খাটের ওপর পাথরের মূর্তির মতো বসে আছে। তার মস্তিষ্ক যেন কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। কিছু ক্ষণ আগের সেই উষ্ণ স্পর্শ আর ইনায়ার এই মারকুটে রূপ—সব মিলিয়ে সে মনে মনে কেবল আওড়াতে লাগল।
​‘বাপ রে বাপ! এ কী ডেঞ্জারাস মেয়ে রে বাবা! প্রথমে জোর করে বিয়ে, তারপর এই প্রকাশ্য... আসতাগফিরুল্লাহ্!’
চলবে....
#আমার_বউ

সূচনা পর্ব
(পর্বটা কেমন লাগল জানাবেন। আপনাদের রেসপন্সের উপর নির্ভর করে পরের পর্বটি লিখব। নাইতো আর লিখনা না এখানেই থেমে যাবে। Happy Reading 😊)

কলেজ ক্যাম্পাসের মূল ফটক পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতেই মনটা ভরে যায়। যেন প্রকৃতি তার ডালি সাজিয়ে বসে আছে। রাস্তার দুপাশে সার...
05/06/2026

কলেজ ক্যাম্পাসের মূল ফটক পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতেই মনটা ভরে যায়। যেন প্রকৃতি তার ডালি সাজিয়ে বসে আছে। রাস্তার দুপাশে সারি সারি দেবদারু গাছ, যেন কোনো রাজকীয় অভ্যর্থনা জানাচ্ছে। একটু এগোতেই কলেজের বিশাল সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে এক বৃদ্ধ বকুল গাছ।

বাতাসে যেন সেই পুরোনো বকুল ফুলের পাগল করা মিষ্টি ঘ্রাণ মিশে আছে, মনটাকে কেমন উদাস করে দেয়। পুরো ক্যাম্পাসে নানা রঙের, নানা জাতের ফুলের গাছে যেন এক বর্ণিল উৎসব লেগে আছে। শুধু দেখতেই সুন্দর নয়, এ যেন এক অদ্ভুত প্রাণশক্তি জোগায়।

প্রতিটি ফুলেই যেন লুকিয়ে আছে কোনো অজানা রূপকথা, আর পুরো ক্যাম্পাসটা সেই গল্পের পৃষ্ঠা হয়ে ধরা দিচ্ছে।

​কিন্তু আজ এই সুন্দর পরিবেশের আড়ালে এক ছোট্ট রোমাঞ্চকর ঘটনা ঘটে গেল। আরাভকে ফোন দিয়ে আসতে বলেই অপেক্ষা করছে।

ইজাজ, যে কি না সবসময় পাহাদার হিসাবে দায়িত্ব পালনে তৎপর, সে এক ফাঁকে ছোট্ট একটা সুযোগের সদ্ব্যবহার করল। সবার চোখ এড়িয়ে খুব সন্তর্পণে, টুপ করে একটা লাল গোলাপ ছিঁড়ে ফেলল সে। ওর মুখে বিজয়ের হাসি, মনে হয়তো প্রিয়ার মিষ্টি কথা।

কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! এই ছোট্ট কাজের জন্য ওকে কড়া মাশুল দিতে হবে, তা ও ঘুনাক্ষরেও ভাবেনি।

​অর্কিতভাবে সেখানে উপস্থিত হলেন সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর এটিএম স্যার। কলেজের কঠোর নিয়ম, কোনোভাবেই ফুল ছিঁড়া যাবে না, তা সবাই জানে। ধরা পড়লে যে বড় রকমের শাস্তির ব্যবস্থা আছে, সেটাও অজানা নয়।

এটিএম স্যার যেন এক ত্রাস, তার নাম শুনলেই ছাত্রদের বুক কাঁপে। ইজাজ হয়তো মনে মনে একটা ছোট নিয়ম ভেঙে ফেলেছে, কিন্তু আজ ওকে এই অন্যায়ের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে।

​আজকের এই সাহসী কাজের পেছনে কারণটা অবশ্য ভিন্ন। ইজাজ ওর প্রিয়ার জন্য এই লাল গোলাপটা সংগ্রহ করেছে। আজ এমন এক সময়ে সে এই ফুলটা ছিঁড়েছে, যখন ক্যাম্পাসে সাধারণত কোনো স্যার বা ছাত্র-ছাত্রী দেখা যায় না। কিন্তু এটিএম স্যার যে এত সকাল সকাল উপস্থিত হবেন, তা কে জানত?

স্যার সবসময় খিটখিটে মেজাজে থাকেন, সবাই ওকে এড়িয়ে চলতে চায়।

কিন্তু আজ আর এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। স্যার তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ইজাজের দিকে তাকালেন।

"কি করছ তুমি?
কোন সাহসে ফুল ছিঁড়ছ?"
স্যারের গম্ভীর কণ্ঠস্বর যেন সবার বুক কাঁপিয়ে দিল। "এই কলেজের ফুল ছিঁড়লে যে শাস্তির ব্যবস্থা আছে, তা কি তুমি জান না?"

​ইজাজ নির্বিকার গলায় জবাব দিল, "জানি স্যার!
আপনি যে শাস্তি দেবেন, তা আমি মেনে নেব।"
স্যার রেগে আগুন, "এই ধৃষ্ট ছেলে! তুমি মুখে মুখে কথা বলছ কেন?"

​কিন্তু ইজাজ আরও নির্ভীক গলায় জবাব দিল, "স্যারের, আমি জাস্ট শাস্তির কথা বললাম।"

ইজাজের এই সাহসী জবাব শুনে স্যার কিছুক্ষণ স্থির হয়ে রইলেন। ওঁর মুখমণ্ডলে বিরক্তি, রাগ আর বিস্ময়ের অদ্ভুত এক মিশ্রণ দেখা গেল। হয়তো ওঁর মনে কোনো প্রশ্ন দানা বাঁধছে,।

​এটিএম স্যারের সেই তীব্র, গম্ভীর দৃষ্টির সামনে ইজাজ যখন প্রায় পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল, ঠিক তখনই দূর থেকে আরাভের চিরচেনা মুখটা ঝাপসা থেকে উজ্জল হতে থাকল। ।

ঠিক সময়ে দেবদূতের মতো নিজের প্রিয় সাইকেলটা নিয়ে হাজির হলো আরাভ। সাইকেলের টায়ারটায় একটাব্রেক কষতেই ইজাজের বুকের ভেতর আটকে থাকা দমটা যেন এক ঝটকায় বেরিয়ে এলো।

​ত্রাণকর্তাকে দেখে আনন্দের আতিশয্যে ইজাজ প্রায় ফিসফিসিয়ে বলে উঠল, "তুই এসেছিস ভাই! বাঁচালি রে! স্যারের হাত থেকে নির্ঘাত আজ আমার দফারফা হয়ে যেত।" কথা বলার মাঝেই সে বারবার চোখের মণি জোড়া কোণাকুণি নাচিয়ে এটিএম স্যারের দিকে ইশারা করতে লাগল, যার অর্থ—'যা করার তাড়াতাড়ি কর, সিংহ এখনো গর্জন থামায়নি!'

​আরাভ পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করল না। সে সাইকেলটা একপাশে দাঁড় করিয়ে অত্যন্ত বিনীত ভঙ্গিতে এটিএম স্যারের মুখোমুখি গিয়ে দাঁড়াল।

আসসালামু আলাইকুম স্যার কেমন আছেন?
আলহামদুলিল্লাহ ভালো। তুমি কেমন আছো?
আলহামদুলিল্লাহ! বাড়ির সকলে ভালো আছে স্যার?
মুখ টিপে উওর দিল, হুম"

এবার চেহারায় দুনিয়া জোড়া ভদ্রতা আর অপরাধবোধ ফুটিয়ে নরম গলায় বলল, "স্যার, ও আসলে না বুঝে ভুল করে ফেলেছে। বড্ড বোকা ছেলে তো! এবারের মতো দয়া করে ওকে আর কিছু বলবেন না স্যার। আমি কথা দিচ্ছি, এমন ভুল ও আর কখনো করবে না।"

​রাগী প্রফেসরের কঠোর মুখের রেখাগুলো আরাভকে দেখে অলৌকিকভাবে কিছুটা শিথিল হয়ে এলো।

আরাভ কলেজের অত্যন্ত মেধাবী এবং শান্ত ছেলে হিসেবে শিক্ষকদের প্রিয়।

স্যার চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে ইজাজের দিকে আরও একবার কড়া চোখে তাকালেন, তারপর আরাভের দিকে তাকিয়ে বললেন, "তুমি নেহাত ভালো ছেলে আরাভ, শুধু তোমার মুখের দিকে তাকিয়েই আজ ওকে ছেড়ে দিলাম। কিন্তু সাবধান করে দিচ্ছি, এই অবাধ্যতা যেন ক্যাম্পাসে আর দ্বিতীয়বার না দেখি! মনে থাকবে?"

​পাশ থেকে ইজাজ কান চুলকাতে চুলকাতে চটজলদি বলল, "ওকে স্যার, এক্কেবারে মনে থাকবে।"

​এটিএম স্যার আর এক মুহূর্ত না দাঁড়িয়ে গটগট করে লাইব্রেরির ভবনের দিকে হেঁটে চলে গেলেন। স্যারের অবয়বটা কিছুটা দূরে যেতেই আরাভ ক্ষিপ্র গতিতে ঘুরে দাঁড়িয়ে সজোরে এক কনুইয়ের গুঁতো মারল ইজাজের পেটে।

​"উফফ!" ইজাজ পেট চেপে ধরে কিছুটা কুঁকড়ে গেল।

​আরাভ দাঁত কিড়মিড় করে বলল, "একেবারে আস্ত একটা বোকা ছেলে! একটুও কি মাথা খাটানো যায় না? লিনা যে তোকে সারাদিন 'ছাগল' বলে ডাকে, সেটা কেন ডাকে আজ আমি একদম হাতেনাতে প্রমাণ পেলাম।"

​ইজাজ পেটে হাত বুলাতে বুলাতে কিছুটা অপ্রস্তুত হাসল। কৈফিয়ত দেওয়ার সুরে বলল, "আরে ভাই, রাগ করিস না। হঠাৎ ওই খিটখিটে স্যারকে অত সামনাসামনি দেখে আমার ভেতরের সব বুদ্ধি কেমন যেন ভরকে গিয়েছিল। নার্ভাস হয়ে গিয়েছিলাম রে!"

​আরাভ আলতো হেসে বকুল গাছের নিচে ছড়িয়ে থাকা ঝরা ফুলগুলোর দিকে তাকাল। ওগুলোর সুবাসে চারপাশটা ম ম করছে। সে বলল, "তুই তো তোর লিনার মন জয় করার জন্য মস্ত বড় বীরের মতো ফুল চুরি করে নিয়ে নিলি।

কিন্তু আমি?
আমি আমার প্রেয়শীর জন্য এই সুবাসিত বকুল ফুলের মালা বুনে দেব, একদম নিজের হাতে।" যেই কথা, সেই কাজ। আরাভ কালবিলম্ব না করে ধপধপে সাদা একমুঠো তাজা বকুল ফুল কুড়াতে বসে গেল।

​ইজাজ অবাক হয়ে এক হাত কোমরে রেখে দাঁড়িয়ে রইল। চোখ কপালে তুলে জিজ্ঞেস করল, "বলিস কী? তুই কখনো জীবনে নিজের হাতে সুতো দিয়ে মালা গেঁথেছিস?"

​আরাভ ফুল কুড়াতে কুড়াতেই নির্লিপ্ত গলায় জবাব দিল, "না, কেন বলতো?"

​ইজাজ এবার নিজের মাথা চুলকাতে চুলকাতে বেশ সন্দিহান গলায় বলল, "তাহলে মালা গাঁথতে পারবি তো আদৌ? নাকি সব ফুল ছিঁড়ে একাকার করবি?"

​আরাভ একগাল হেসে বাউণ্ডুলে প্রেমিকের মতো নাটকীয় ভঙ্গিতে বলে উঠল,
"বিলকুল কর সকতাহুঁ! মেরা মেহবুব কি লিয়ে মে সব কুছ কর সকতা হুঁ!" (অবশ্যই পারি! আমার ভালোবাসার মানুষের জন্য আমি সব করতে পারি!)

​ইজাজ হেসে কুটিপাটি হয়ে বলল, "হুম হুম, বোঝা যাবে রে ভাই। আমিও দেখি তোর হাতের কারুকার্য কেমন!"

​আরাভ একটা কাঠি আর সুতো জোগাড় করে পরম মনোযোগে বসে গেল। মুখে মৃদু শিস কাটতে কাটতে বলল, "আগে আগে দেখ হোতা হ্যায় ক্যায়া! (আগে দেখই না কী হয়!)"

​কিছুক্ষণের নিপুণ প্রচেষ্টায় আরাভ সত্যিই অসাধারণ, নিরেট একটি বকুল ফুলের মালা গেঁথে ফেলল। সুতোয় বাঁধা সাদা ফুলের সেই মালা থেকে এক স্বর্গীয় সুবাস ছড়াচ্ছিল।

এরপর দুই বন্ধু মিলে চুপিচুপি ক্লাসরুমের দিকে পা বাড়াল। তখনো ক্লাসে কেউ আসেনি। আলিশা প্রতিদিন ক্লাসের যে নির্দিষ্ট বেঞ্চের কোণটিতে বসে, আরাভ পরম যত্নে মালাটি সেখানে রেখে দিল। আর লিনা যেখানে বসে, সেখানে ইজাজ বুক ঢিপঢিপানি নিয়ে সেই বহু কষ্টার্জিত লাল গোলাপটি রাখল।

​তবে শুধু ফুল রেখেই তারা ক্ষান্ত হলো না। ফুলের সাথে জড়িয়ে রইল মনের গহীনের কিছু অব্যক্ত কথা, যা চিরকুটের অক্ষরে রূপ নিল।

​আরাভের গোপন লিপি (আলিশার উদ্দেশ্যে):

"তোমার কাজল বিহীন চোখে,
আমি মায়ায় পড়ি প্রতিবারে..."
সাহস হয় না ছুঁয়ে দেখার,
অনুভবে ভেবে যাই বারংবার।

​ইজাজের চিরকুট (লিনার উদ্দেশ্যে):

"মিস লিনা, আপনার জন্য এই লাল গোলাপটি আমি চুরি করতে গিয়ে প্রফেসরের হাতে ধরা খেয়েছিলাম! আপনি যদি দয়া করে এটি গ্রহণ করেন এবং দয়া করে আমাকে 'ছাগল' বলাটা বন্ধ করেন, তবে আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করব। থুড়ি... না মানে, অনেক খুশি হব!"

​চিরকুট দুটো ফুলের পাশে রেখে দুজনে দ্রুত পায়ে ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে এলো। এখন শুধু অপেক্ষা—কখন সেই চেনা পায়ের শব্দ শোনা যাবে, আর কখন হৃদয়ের এই গোপন বার্তা পৌঁছাবে তার সঠিক ঠিকানায়।

​চলবে~

(কার চিরকুটা বেশি ইন্টারেস্টিং হয়েছে জানাবেন প্রিয় পাঠক- পাঠিকা।আমার ভাবনায় সাজানো গল্পটা আপনাদের মাঝে উপহার দিয়। কিন্তু ভালো রেসপন্স না পাওয়ায় কষ্ট পায়। আপনাদের ভালো না লগলে এড়িয়ে যাবেন আর ভালো লাহলে লাইক দিতে ভুলবেন না। Happy Reading.....)

#আমার_ভুবনে_তোমারই_আগমন
#লেখনীতে_Urmila_Akter
পর্ব:১৯

Address

Chuadanga
Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Urmila Akter posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category