21/05/2026
আমি আজকে একটা মুভি এক্সপ্লেইন করবো।চাইল্ড রে*প ও রেপিস্টদের নিয়ে একটা চমৎকার অস্ট্রেলিয়ান শর্ট ফিল্ম আছে। 2 দিন ধরে রামিসা এর ব্যাপারটা নিয়ে অনেক বেশি আতঙ্কিত থাকায় , অনেক কিছু ঘাঁটাঘাঁটি করায়, ইউটিউবে এই শর্ট ফিল্ম টা আমার সামনে আসে।
The Disappearance of Willie Bingham (২০১৫), এটা দেখার পর আমার মনে হচ্ছে বাংলাদেশে ঠিক এরকম একটা পানিশমেন্ট এর নজিরা দেখালেই বাংলাদেশে পরিবর্তন হলে হতেও পারতো। যাদের দেখার ইচ্ছে, কমেন্ট বক্সে লিংক দিয়ে দিচ্ছি দেখে নিয়েন।
যা দেখেছি তাতে যেটুক বুঝলাম তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ হলো:
মূল চরিত্র উইলি বিংহাম -যার অপরাধ এক নিষ্পাপ বাচ্চা মেয়েকে ধর্ষণ ও নির্মমভাবে খুন করা।
সমস্যা টা হলো প্রচলিত ফাঁসি তার হবেনা।কারণ দেশ থেকে মৃত্যুদন্ড তুলে নেওয়া হয়েছে।সে জেলেই থাকবে এবং ভালো থাকবে জানে।তাই আদালতে সে নির্বিকার হাসিমুখে আছে।
কিন্তু মজার ব্যাপার এই যে,আদালত ও আইন চাইলোনা এরকম একটা নিকৃষ্ট অপরাধীকে শুধু জেলে রাখতে। কিন্তু ফাঁসিও দেওয়া নিষিদ্ধ। তাহলে কি করা যায়? এরপরের মাস্টারপ্ল্যান এর জন্য প্রয়োজন কলিজা, বুকের পাটা আর মনুষ্যত্ব, যার এতটুকু কি বাংলাদেশী অথোরিটির আছে?
সিনেমায় ফিরে আসি,আইন নতুন এক শাস্তির চিন্তাভাবনা করলো।যে শাস্তি পৃথিবীতে আগে হয়নি।এবং এই শাস্তির ফলাফল কি হয় অপরাধীদের মধ্যে দেখতে চাইলো আইন। তাদের কাজ শুরু হলো।নতুন এক আইন অনুযায়ী, তাকে দেওয়া হলো তার শাস্তি—'এক এক করে অঙ্গচ্ছেদ'।তবে ব্যাথাহীনভাবে।সার্জারীর মাধ্যমে। ফলাফল সাপও মরলো, লাঠিও ভাঙলো না।
ভুক্তভোগী যে কষ্ট পেয়েছে তার পরিবারের কষ্ট কিছুটা যেনো কমানো যায় তাই ভুক্তভোগী পরিবারের ইচ্ছানুযায়ী ঠিক করা হবে অপরাধীর শরীরের ঠিক কোন অংশটি কখন কেটে ফেলা হবে!
ভুক্তভোগী পরিবার এই আইনে রাজি হলো।এবার হলো পানিশমেন্ট শুরু।
এবার ফিরি জেলের কাহিনীতে,জেলের অন্ধকার কুঠুরিতে বসে ছিল উইলি। হঠাৎ পুলিশের বুটের আওয়াজ এগিয়ে আসায় সে সেদিকে মন দিলো। দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলেন জর্জ মরটন নামের এক সরকারি কর্মকর্তা। শান্ত গলায় তিনি উইলিকে শোনালেন তার ওপর নেমে আসতে চলা সেই শাস্তির কথা। সব শোনে সে শান্ত কিন্তু হালকা ভয় পেয়েছে বলে আমার মনে হয়েছে।ভয় পাওয়ার মতোই ব্যাপার।
নিজের ভবিষ্যৎ শুনে ভয়ে-আতঙ্কে ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল উইলির, সেখানেই সে বমি করে দিল। সে চিৎকার করে মিনতি করল—তাকে যেন একবারে মেরে ফেলা হয়, ফাঁসি দেওয়া হয়,বা অন্য যে কোনো উপায়ে যেনো মেরে ফেলা হয়। কিন্তু আইন নিষ্ঠুর,তার মৃত্যুর আবেদন সরাসরি খারিজ হয়ে গেল।মৃত্যুদন্ড নিষিদ্ধ। কিন্তু হ্যাঁ, উইলিকে মরতে হবেই। পার্থক্য হলো মৃত্যু টা হবে তার কল্পনার চেয়েও কঠিন।
শুরু হলো প্রথম অস্ত্রোপচার। অবশ করার পর নির্মমভাবে কেটে বাদ দেওয়া হলো তার ডান হাত আর বাঁ পা।অপারেশনটি গ্লাসের অপর পাশ দিয়ে দেখলো রে*প হওয়া বাচ্চাটার পুরো পরিবার।
এই পঙ্গু শরীর নিয়েই কয়েক মাস ধরে তাকে হুইলচেয়ারে করে নিয়ে যাওয়া হতে লাগল বিভিন্ন অবাধ্য ও বখাটে কিশোরদের সামনে। রক্তাক্ত, ক্ষতবিক্ষত উইলিকে দিয়ে দেওয়ানো হলো বক্তৃতা—যাতে তার এই পরিণতি দেখে অন্য কোনো কিশোর অপরাধ করার সাহস না পায়।তবে উইলি বিংহামের এখনো সাহস ছিলো।এখনো সে জোর দিয়ে কথা বলতো,হাসতো,জেদ দেখাতো।
কিন্তু শাস্তি তো কেবল শুরু হয়েছিল। কয়েক মাসের ব্যবধানে একে একে কেটে ফেলা হলো তার সকল হাত,পা একটা কিডনি, এমনকি ফুসফুসের একটা অংশও।
সময়ের ব্যবধানে তার ভয়াবহ আতংকিত কান্নাকাটি ও পংগু শরীর বাচ্চা মেয়েটার পরিবারও সহ্য করতে পারছিলোনা।শুধু বাবা প্রতিবার আসছিলো,সাইন করছিলো অনুমতি পত্রে এবং গ্লাসের অন্যপাশে দাঁড়িয়ে সার্জারী দেখছিলো।এই সার্জারিগুলোর ভিডিও আবার উইলিকে দেখানো হত রেকর্ড করে। এভাবে তার মস্তিষ্ককে শাস্তি দেওয়া হতো।
কিন্তু বাইরে সাধারণ মানুষ এই অমানবিক শাস্তির বিরুদ্ধে রাজপথে নামলো, উঠলো প্রতিবাদের ঝড়।এই শাস্তি অমানবিক।থামাও একে।হয় ফাঁসি দাও দ্রুত নাহয় জেল।কিন্তু শাস্তি থামাও।তবে আইনের চাকা থামেনি, স্তব্ধ হয়নি সার্জারির ধারালো ছুরির শব্দ।দ্রুত মৃত্যু বা জেলের আরাম কোনো শাস্তি চাইল্ড রে*প ও মার্ডারের জন্য আর হবেনা।আইন কঠিন হয়ে রইলো। এই ব্যাপারটা সবচেয়ে সুন্দর মনে হয়েছে আমার।
পাঁচ মাস পরে এবার পঞ্চম অস্ত্রোপচারের পালা। যখন জানানো হলো এবার তার যৌনাঙ্গ কেটে ফেলা হবে, উইলি তখন কান্নায় ভেঙে পড়ল। পাগলের মতো কাকুতি-মিনতি করতে লাগল সে।
কিন্তু কাচের ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা ভুক্তভোগী মেয়েটির বাবার চোখে তখন শুধুই প্রতিশোধের আগুন। তিনি ঠান্ডা মাথায় আঙুল উঁচিয়ে সম্মতি দিলেন। অ্যানেস্থেশিয়ার ইঞ্জেকশন পুশ করা হলো উইলির শরীরে... চিরতরে হারিয়ে গেল তার পুরুষত্ব।এই অপারেশনের পর উইলির ভেতরের মানুষটা পুরোপুরি ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। সে আর কোনোদিন একটা শব্দও উচ্চারণ করেনি, তার চোখে-মুখে আর কোনোদিন কোনো অনুভূতির লেশমাত্র দেখা যায়নি। সে বেঁচে থেকেও একটা জ্যান্ত লাশে পরিণত হলো।
এরপরের সার্জারীর দিন যখন উপস্থিত হলো, তখন তার দুই কান, নাক এবং জিহ্বার অগ্রভাগ কেটে ফেলা হলো। লেজার দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হলো শরীরের অবশিষ্ট চামড়া। উইলি তখন যন্ত্রণারও অতীত। তার নিজের বলতে আর কোনো ইচ্ছাশক্তি অবশিষ্ট ছিল না।সে শুধু মনে মনে চাচ্ছিলো মৃত্যু।কিন্তু মৃত্যু এত সহজ নয় তার জন্য।
অপারেশন থিয়েটারের টেবিলে পড়ে থাকা মাংসপিণ্ডটার দিকে তাকিয়ে অবশেষে তৃপ্ত হলেন সেই মৃত মেয়ের বাবা।এরপরের সার্জারীর জন্য সে অনুমতি দিলে উইলির হার্ট বা ব্রেন অপারেশন করা হবে।উইলির মৃত্যু ঘটবে।শাস্তি শেষ হবে।কিন্তু না,বাবা আর পরবর্তী সার্জারীর জন্য সাইন দিলেন না।তিনি বললেন তিনি সন্তুষ্ট।এখন সার্জারি বন্ধ করতে চান। অর্থাৎ মৃত্যু হলে তো শেষ,যতদিন বেঁচে আছে কঠোর শাস্তি ভোগ করতেই হবে তাকে।তিনি জর্জ মরটনের বাড়িয়ে দেওয়া ফাইলে সই করে জানিয়ে দিলেন—তিনি আর অস্ত্রোপচার বাড়াতে চান না। যাওয়ার আগে শেষবারের মতো এক তীব্র ঘৃণার দৃষ্টি ছুড়ে দিলেন উইলির দিকে।
শেষ পোরশনে দেখানো হয় উইলি বিংহাম জেলের একটা ঘরে বন্দি। চব্বিশ ঘণ্টা তীব্র আলো জ্বলে সেই ঘরে, যেখানে অন্ধকারেরও কোনো অনুমতি নেই।সে শুনতে পায় না, ঘ্রাণ পায় না, স্বাদ পায় না, নড়াচড়া করার ক্ষমতা তো বহুদূরের কথা।জর্জ মরটন তাকে হুইলচেয়ারে বসিয়ে ঠেলতে ঠেলতে নিয়ে যান বিভিন্ন হাইস্কুলে। অবাধ্য ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে এনে দাঁড় করান সেই বিকলাঙ্গ, বীভৎস অবয়বকে—অপরাধের এক জীবন্ত, ভয়ঙ্কর ও চিরন্তন স্মারক হিসেবে।
সবাই আতংকে আতকে ওঠে।তাদের শ্বাস প্রশ্বাস থেমে যায়।মাথায় গেথে যায় চাইল্ড রে*প ও মার্ডারের শাস্তি চিরদিনের মত। এরপর শেষ হয় ফিল্মটি।এত বড় কাহিনী লিখার একটাই কারণ, বাংলাদেশে এমন একটা নজির দেখালে বাংলাদেশের শিশু গুলো কিছুটা হলেও আলো হয়তো দেখতে পারত। আমার হাত পা কাপছে লিখার সময়।তবু লিখলাম।এমন একটা ফিল্ম সম্পর্কে আমাদের জানা উচিত। এতো অল্প সময়ে মুভিতে যা যা দেখানো এবং বোঝানো হয়েছে তার থেকে আমরা অনেক বড় একটা শিক্ষা নিতে পারি।
মুভি লিংক কমেন্ট বক্সে দিলাম।
----- সাদিয়া হক দিশা।