05/07/2025
শ্রীল জয়পতাকা স্বামী মহারাজকে অনুসরণ - ২রা জুলাই, ২০২৫
১৯৭৩ সালের ১৫ই জুন শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ শ্রীধাম মায়াপুরে একটি প্রবচনে বলেন, "গুরুদেব হলেন ভগবানের প্রতিনিধি, একইভাবে রাজাও হলেন ভগবানের প্রতিনিধি। এগুলি হল শাস্ত্রের বিবৃতি....রাজা পথপ্রদর্শন করবে। গুরুদেব উপদেশ দেবেন। বাবা উপদেশ দেবেন। কি সেই উপদেশ? সেই উপদেশ হলো কীভাবে একজন শিক্ষার দ্বারা, সংস্কৃতির দ্বারা কৃষ্ণভাবনাময় হতে পারে।" তো জগৎগুরুরূপে শ্রীল প্রভুপাদের যথাযথ উপদেশের মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বজুড়ে অসংখ্য কৃষ্ণভাবনাময় ভগবদ্ভক্ত তৈরী হয়েছে। আর তাঁর অপ্রকটের পর তাঁর যেসকল শিষ্য এবং অনুসারীগণ কৃষ্ণভাবনামৃত সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে নিরলসভাবে উপদেশ প্রদান করে চলেছেন, আমাদের পরমারাধ্য বৈষ্ণবাচার্য শ্রীল জয়পতাকা স্বামী মহারাজ নিঃসন্দেহে তাঁদের মধ্যে অন্যতম। মহারাজের প্রতিটি প্রবচন, প্রতিটি উপদেশ এমনকি তাঁর ব্যবহারিক জীবনের প্রতিটি সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম কাজও আমাদের কৃষ্ণভাবনার পথে চালিত করে। তাঁর দিনলিপির সংক্ষিপ্তসার আমাদের ভগবদ্ভক্তিতে অনুপ্রেরণাদায়ক।
শ্রীল প্রভুপাদ মহারাজকে আদেশ দিয়েছিলেন কলকাতায় বড়ো করে রথযাত্রা উৎসব উদযাপন করতে। গুরু আজ্ঞা মেনে প্রতিবছর তিনি কলকাতা রথযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন। এবারও সেই ঘটনার ব্যতিক্রম হয়নি। তিনি হাসপাতাল থেকে ডায়ালাইসিস করেও সরাসরি পার্ক স্ট্রিটের গুণ্ডিচা মন্দির দর্শনে এবং প্যান্ডেলে প্রবচনের উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন নিয়মিত। আজকেও ছিল সেইরকমই একটি দিন, অর্থাৎ মহারাজের ডায়ালাইসিসের দিন। তাই তিনি চেয়েছিলেন সকালে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে যেতে যাতে সন্ধ্যায় রথযাত্রা প্যান্ডেলে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন। হাসপাতালে যাওয়ার পূর্বে তিনি তাঁর কলকাতার বাসভবনে বিগ্রহগণের উদ্দেশ্যে আরতি নিবেদন করেন। হাসপাতালে যাওয়ার পথেও তিনি জিবিসি কনফারেন্স এবং ব্যুরো কনফারেন্সের কিছু ইমেইল শুনেছেন এবং উত্তর দিয়েছেন।
এরপর সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ হাসপাতালে পৌঁছে মহারাজ সকালের প্রসাদ গ্রহণ করেন। ডায়ালাইসিস শুরু হতেই তিনি তাঁর গুরুভ্রাতা শ্রীপাদ যোগেশ্বর প্রভুর লেখা "গোল্ডেন অবতার" গ্রন্থটি শ্রবণ করেছেন। আজ তিনি ১০ম অধ্যায় শেষ করে ১১তম অধ্যায় শুরু করেছেন।
এরপর তিনি ব্যুরোর মিটিংয়ের কয়েকটি প্রস্তাব শুনেছেন এবং তাঁর মূল্যবান ভোটটি পাঠিয়েছেন। এছাড়াও জানুয়ারি থেকে মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত গ্রন্থ বিতরণ সম্পর্কিত তিনি একটি প্রতিবেদন দেখেছেন। এরপর তিনি কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে ভক্তি সার্বভৌম পরীক্ষার মূল্যায়নের জন্য প্রস্তুতি নেন, শ্রীমান ব্রজেশ্বর গৌর দাস ভক্তি সার্বভৌমের পরবর্তী প্রশ্ন মহারাজকে পড়ে শোনায় এবং মহারাজ সেটির উত্তর দেন।
দুপুর ২টোয় ডায়ালাইসিস সম্পন্ন হলে তিনি ভক্তদের পাঠানো বিভিন্ন স্থানের রথযাত্রার শোভাযাত্রা দর্শন করেছেন। তিনি জিবিসি সংক্রান্ত ইমেইল শুনেছেন এবং উত্তর দিয়েছেন আর দুপুরের প্রসাদ গ্রহণ করে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়েছেন। ঘুম থেকে উঠে তিনি ‘গঙ্গা’ শব্দটি তিনবার জপ করে সাধারণ জলকে গঙ্গাজলরূপে অভিষিক্ত করে গঙ্গাস্নান করেছেন। যেহেতু তিনি হাসপাতালে ছিলেন এখানে গঙ্গাজল ছিল না। সেখান থেকে রথযাত্রা প্যান্ডেলে যাওয়ার সময় তিনি আরও কিছু ইমেইল শুনে উত্তর দিয়েছেন।
রথযাত্রার প্যান্ডেলে যাওয়ার পথে মহারাজ তাঁর একজন শিষ্যা দিব্যদীপা প্রিয়া দেবী দাসীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন যে মুম্বাইয়ের হিন্দুজা হাসপাতালে ডায়েটিশিয়ান হিসেবে কর্মরত। মহারাজ তার কাছ থেকে তাঁর খাদ্যাভ্যাস সংক্রান্ত পরামর্শ ও সুপারিশ নিয়েছেন। মহারাজ তাকে জানান যে স্ট্রোকের পর তাঁকে হিন্দুজা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল এবং তখন মি. হিন্দুজা এসে বলেছিলেন যে তিনি এক জীবন্ত আশ্চর্য কারণ তাঁর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ছিল মাত্র ০.১%। এবিষয়ে মহারাজ তাঁর অ্যাপবার্তায় বলেছেন,"যদিও আমার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ ছিল তবুও শ্রীকৃষ্ণের ইচ্ছায় ও কৃপায় আমি এখনো শ্রীল প্রভুপাদের সেবা করার চেষ্টা করছি।" তাঁর চলমান সেবা সত্যিই দৃষ্টান্ত।
রথযাত্রা প্যান্ডেলে আজ প্রবচনে মহারাজ যা বলেছেন তার সংক্ষিপ্তসার হল - কলিযুগে অনেক দোষ রয়েছে তবে এর একটি অত্যন্ত মহান গুণ রয়েছে! তা হল হরিনাম জপ। কলিযুগে যদি আপনি হরিনাম জপ করেন, তাহলে আপনি ভগবানের সান্নিধ্য লাভ করতে পারেন। যদি আমরা কৃষ্ণকীর্তন করি তবে আমরা অসীম দিব্যআনন্দ লাভ করি! তাই আপনারা সকলে যদি হরে কৃষ্ণ কীর্তন করেন এবং হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করেন, তারমানে আপনি এই কলিযুগের জন্য নির্ধারিত ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলছেন।"
প্রবচনের পর তিনি গুণ্ডিচা মন্দিরে গিয়ে শ্রীশ্রী জগন্নাথ বলদেব সুভদ্রা সুদর্শন চক্রের অপূর্ব "বড় শৃঙ্গার"- এ অলংকৃত বেশে দর্শন করেন, সাধারণত পুরীতে প্রতিরাতেই জগন্নাথের বড় শৃঙ্গার হয়ে থাকে। মহারাজ ফল, পুষ্প ও পাখা নিবেদন করেছেন এবং আরতি নিবেদন করেছেন। পূজারী তাঁকে শঠারি, মহাপুষ্পমাল্য, ফল ও অন্যান্য প্রকারের মহাপ্রসাদ দিয়েছেন।
এরপর রাতের প্রসাদের পর তিনি পুনরায় প্রশ্নোত্তর বুথে গিয়েছেন সেখানে রাত ১০টা পর্যন্ত তিনি ভক্তদের জিজ্ঞাসা করা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।
গতকাল তিনি 'শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর শিক্ষা' গ্রন্থটি অধ্যয়ন সমাপ্ত করেছেন। তাই আজ তিনি শ্রীল প্রভুপাদের আরেকটি গ্রন্থ ভক্তিরসামৃতসিন্ধু (Nerctar of Devotion) অধ্যয়ন শুরু করেছেন। তিনি ২৫ মিনিট অধ্যয়ন করে ভূমিকা অধ্যায়টি অধ্যয়ন সম্পন্ন করেছেন।
গতকাল রথযাত্রা প্যান্ডেলে প্রশ্নোত্তর পর্বে একজন তাঁকে শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থ প্রতিদিন অবিচলভাবে অধ্যয়ন করার জন্য কিছু পরামর্শ দিতে বলেছিল। তিনি বলেছিলেন, "একটি নির্দিষ্ট সময় বের করতে হবে, যখন তোমরা অবশ্যই গ্রন্থ অধ্যয়ন করবে, এটি কোনও রকেট বিজ্ঞান নয়। তোমরা যদি সারাদিন ব্যস্ত থাকো তাহলে রাতে অধ্যয়ন করো।"
এভাবেই তাঁর প্রতিটি কার্যকলাপের মধ্য দিয়ে তিনি আমাদের শিক্ষা দিয়ে চলেছেন কিভাবে কৃষ্ণভাবনামৃতে স্থিত হতে হয়।
বি. দ্র. : যেমনটা আপনারা সকলেই অবগত আছেন, এই মুহূর্তে মহারাজ শারীরিকভাবে অনেকটা কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তবুও তিনি নিরবিচ্ছিন্নভাবে শ্রীল প্রভুপাদের প্রতি তাঁর প্রতিজ্ঞা রক্ষায় বদ্ধপরিকর। প্রতি মুহূর্তে মহারাজ তাঁর আচরণের মাধ্যমে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নির্দেশ এবং শ্রীল প্রভুপাদের শিক্ষাকে আমাদের মাঝে প্রচার করে চলেছেন। তাই অনুগ্রহ করে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এবং শ্রীল প্রভুপাদের কাছে আপনারা আন্তরিকভাবে প্রার্থনা নিবেদন করুন যাতে মহারাজ পূর্ববৎ তাঁর শক্তি-সামর্থ্য ফিরে পান এবং শ্রীল প্রভুপাদের উদ্দেশ্যে তাঁর বিভিন্ন সেবা চালিয়ে যেতে পারেন। এ লক্ষ্যে আপনারা অতিরিক্ত জপ, নৃসিংহ কবচ পাঠ, ৮ বার তুলসী পরিক্রমা করতে পারেন এবং আপনার অতিরিক্ত জপ সংখ্যা ও প্রার্থনার বিবরণ জমা দিন নিম্নের লিংকে:
এন্ড্রয়েড
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.jayapatakaswami.jpsapp
আইফোন
https://apps.apple.com/us/app/id967072815
শ্রীল জয়পতাকা স্বামী মহারাজের দৈনন্দিন আপডেট মহারাজের কাছ থেকেই জানতে এখনই আপনার স্মার্টফোনে ডাউনলোড করুন 'Jayapataka Swami' অ্যাপটি। https://play.google.com/store/apps/details?id=com.jayapatakaswami.jpsapp
শ্রীল জয়পতাকা স্বামী মহারাজের সকল বার্তা, বাণী এবং প্রবচন বাংলায় পেতে সার্বক্ষণিক সংযুক্ত থাকুন 'Jayapataka Swami Bangla' ফেসবুক পেইজ