25/02/2023
এলাকায় সাধারণ একটা মসজিদ ছিল। সিলিং ফ্যানগুলোও সাধারণ। মসজিদে তেমন দামী কিছু নেই, তাই চুরি যাওয়ার ভয়ও নেই। বলতে গেলে সারাদিনই মসজিদ ওপেন থাকতো। মুসল্লিরা যখন তখন এসে নামাজ, কোরআন পড়তে পারতেন। গরীব মানুষেরা একটু গা এলিয়ে বিশ্রাম নিতে পারতেন।
তারপর শুরু হলো মসজিদের উন্নয়ন কর্মসূচী। গরমে মানুষের কষ্ট হয় তাই এসি কেনা প্রয়োজন। মিম্বর থেকে হুজুরের আবু-বকর (রা), ওমর (রা) এর দানের ইমোশনাল কাহিনী দিয়ে টাকা কালেকশন।
মাশাল্লাহ পুরো মসজিদ এখন দামি টাইলস, এমনকি বাইরের ওয়াল পর্যন্ত কারুকার্যে ভরা। দামি দামি কার্পেট। তারপর আবার ২ পাশে সারি সারি চেয়ার তো আছেই, আগে মসজিদে ২-৩ জন দায়িত্ব নিলেই হয়ে যেতো, আর এখন মসজিদ কমিটিও অনেক বড়.!
প্রায় মসজিদে এলাকার টপ ঘুষখোর, চোর, সুদখোর, অত্যাচারী, ক্ষমতাধর প্রকৃতির লোকেরাই সেই কমিটির সদস্য, আবার সভাপতিও।এমনকি তারা ক্ষমতা ধরে রাখার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
মসজিদের ভ্যালু এখন অনেক। চুরি যাওয়ার ভয় তো আছেই। অতএব সারাক্ষণ মসজিদ খোলা রাখা যাবে না।তাই এখন প্রায় অনেক মসজিদই নামাজ ব্যতীত অন্যান্য সময় তালাবদ্ধ থাকে, মসজিদে টাইম মেনে মুসল্লিদের আসা যাওয়া করতে হবে। গরীবেরা এখন ভয়ে ভয়ে মসজিদে ঢুকে টাইলস কার্পেট অপরিচ্ছন্ন হয়ে যায় কিনা। তাদের পরিচিত আল্লাহর ঘর এখন পুরোটাই অচেনা।আগের দিনে মানুষ এ দায়িত্ব নিতে ভয়ে কাঁপত কোন ভুল হয়ে যাচ্ছে কিনা। এখন মসজিদে চেয়ারম্যানের সংখ্যা বেড়ে গেছে। সুদখোর, চোর,ঘুষখোরদের বিরুদ্ধে কোনো ফতোয়া নাই। আস্তে আস্তে কেয়ামতের দিকে এগোচ্ছি আমরা। নামাজিরা নামাজ শেষ করার আগেই শুরু হয়েযায় শব্দ করে ফ্যানের সুইচ বন্ধ করার প্রতিযোগিতা এবং মসজিদ তালাবদ্ধ করার জন্য ইমাম মুয়াজ্জিন দাড়িয়ে থাকে দরজার গোড়ায় ওদেরও সময় নাই নিজের দায়িত্ব পালনের।এমনকি বারান্দায় জামাত শেষে একাকি নামাজ পড়তে গেলেও গরমে ছটপট করতে হয়,মাথার উপরে ফ্যান আছে কারেন্ট থাকা সর্তেও বারান্দায় টানানো সুইচ টিপলেও ফ্যান ঘোরে না। কারন মসজিদের ভেতর থেকেই বারান্দার মেইন সুইচ বন্ধ করা থাকে। অসুস্থ মানুষেরও সাময়িক বিশ্রাম করার সুযোগ থাকেনা। ভবিষ্যতে আরো কতকিছু দেখার অপেক্ষায় আছি আমরা।
(collected)