21/10/2025
এই যে কোলাহল, এই যে এত ভিড়—আশ্চর্য হয়ে ভাবি, এ সব কি তবে কেবলই এক মায়াজাল? চোখের সামনে কত আত্মীয়-স্বজন, কত বন্ধু, কত 'কাছের মানুষ'! তাদের হাসি-খুশি, তাদের কথা বলার ঢং, সবটা দেখে মনে হয়—আমরা কত না সুরক্ষিত, কত না ভালোবাসার চাদরে মোড়া। মনে হয়, পৃথিবীর সমস্ত বন্ধন যেন আমাদের ঘিরে রেখেছে, একাকীত্বের কোনো অন্ধকার কোণ যেন আমাদের স্পর্শ করতে পারবে না।
কিন্তু জীবন বড় নিষ্ঠুর শিক্ষক। সে বড় নিভৃতে, বড় নীরবে এক ভয়ংকর সত্যের মুখোমুখি করিয়ে দেয়। আপনি বিপদগ্রস্ত হন, আপনার জীবনে নেমে আসুক চরম সংকট—তখনই শুরু হয় সেই অদৃশ্য দূরত্ব তৈরি হওয়ার খেলা। যারা গতকালও আপনার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, আজ তারা নিজেদের ব্যস্ততার অজুহাতে সরে যেতে শুরু করে। আপনার দীর্ঘশ্বাস তাদের কাছে পৌঁছায় না, আপনার কান্না তাদের কানে বাজেনা। স্বার্থের কঠিন দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে তখন বুঝতে পারা যায়, মানুষের সম্পর্কগুলো কতটা ভঙ্গুর, কতটা ক্ষণস্থায়ী।
আর সর্বশেষ? যখন জীবনের প্রদীপ নিভে আসে, যখন আপনি শুয়ে থাকেন শেষ শয্যায়—তখন আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো হয় সেই চরম সত্য। আপনার চারপাশে হয়তো তখনও অনেকে জড়ো হবে, কিছু কান্নাও শোনা যাবে। কিন্তু ওই শবদেহটা, ওই নিথর দেহটা জানে, দিনশেষে মানুষ কত একা। এই পৃথিবী থেকে তার যাত্রা সম্পূর্ণ একার, এই মহাযাত্রায় সঙ্গী কেউ নয়।
আমরা মুখোশ পরে থাকি, দিনভর অভিনয় করি সামাজিকতার, কিন্তু রাতের গভীর নীরবতায় যখন চারপাশের সমস্ত কোলাহল থেমে যায়, তখন আমাদের ভেতরের মানুষটি ফিসফিস করে বলে ওঠে, "আমরা সবাই একা।" এই একাকীত্ব জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এ কেবলই সময়ের অপেক্ষা—কবে আমরা স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় একে আলিঙ্গন করব। সকল সম্পর্ক, সকল বন্ধন, সকল স্নেহ-ভালোবাসার মোহের আড়ালে এই চরম সত্য চিরকাল স্থির হয়ে থাকে। কেউ আপনাকে একা করে দেয় না, দিনশেষে আপনি নিজেই নিজের একমাত্র সঙ্গী।