04/03/2026
সালাহুদ্দীন আল-আইয়্যূবী হাসতেন কম! তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আপনি এত কম হাসেন কেন...?
সালাহুদ্দীন জবাব দেন, আল-আকসা ক্রুসেডারদের দখলে, এটা জানার পর আমার মুখে হাসি ফুটবে কীভাবে? আমি হাসব কীভাবে, বলো?
মুসলিম বিশ্বের অবস্থা ছিল তখন চরম অস্থিতিশীল। একেক জায়গা থেকে একেকজন খিলাফত দাবি করছে। মুসলিমরা বুঝে উঠতে পারছে না কার কাছে বায়াত দেবে।
একদিকে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, তার ওপর ক্রুসেডারদের আক্রমণ!
কয়েক বছর আগে ক্রুসেডাররা জেরুজালেমে ঢুকে সত্তর হাজার মুসলিমকে হ*ত্যা করে মসজিদুল আকসা দখল করেছে, মুসলমানদের রক্তের বন্যায় সেদিন উটের খুর ডুবে গিয়েছিল।
সব মিলিয়ে মারাত্মক বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করছিল!
ঠিক এমন সময় সিথ খাতুন স্বপ্নে দেখেন, তাঁর গর্ভের মধ্যে একটি তরবারি। সন্তানসম্ভবা সিথ খাতুন বুঝতে পারলেন, তিনি যাকে গর্ভে ধারণ করেছেন, সে বড় হয়ে কিছু একটা হবে। জন্মের পর ছেলের নাম রাখলেন সালাহুদ্দীন...!
মুসলমানদের চরম সংকটকালে সালাহুদ্দীনের জন্ম হয়। মুসলিমরা না ঘর সামলাবে, না বাহির। পরাজয়ের গ্লানি, পারস্পরিক মতবিরোধে জর্জরিত, মুসলিম উম্মাহ তখন কিয়ামতের দিনক্ষণ গণনা করছে। মুসলিমদের অনেকেই হতাশাগ্রস্ত। বর্তমান সময়ের চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতি..!
মুসলিমদের অধিকাংশ যখন হতাশার ব্যাধিতে আক্রান্ত, তখন সালাহুদ্দীন আল-আকসার কথা বলতেন। প্রায় প্রতিদিন কারও না কারও সঙ্গে তিনি আল-আকসা, জেরুজালেম নিয়ে কথা বলতেন। দূর-দূরান্তের মুসলিম নেতৃবৃন্দের কাছে আকসা পুনরুদ্ধারের চিঠি লিখতেন।
এসবের জন্য অনেকেই তাঁকে ‘পাগল’ ভাবত। বলত, দেখো, আমরা নিজের ঘরের সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত, আবার ওই দিক থেকে ক্রুসেডাররা আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, আর তুমি কিনা আকসা নিয়ে দিবাস্বপ্ন দেখছ!
হতাশাগ্রস্ত মানুষের মন্তব্য সালাহুদ্দীন খুব একটা কানে নিতেন না। তিনি তাঁর কাজ করে যেতেন, আল-আকসার প্রতি তাঁর যে ভালোবাসা ছিল, আকসাকে তিনি যেভাবে লালন করতেন—সেই সম্পর্কে একজন বলেন, আকসার প্রতি সালাহুদ্দীনের হৃদয়ে যে ভালোবাসা আছে, সেটা যদি একটি পাহাড়ের ওপর রাখা হয়, তাহলে পাহাড়টি গলে যাবে।
আল-আকসা পুনরুদ্ধারের জন্য সালাহুদ্দীন যখন যাত্রা শুরু করেন, তখন কিছু জ্যোতিষী তাঁকে বলল, দেখুন, আপনি যদি জেরুজালেম যান, তাহলে আপনি আপনার এক চোখ হারাবেন!
জ্যোতিষীরা চাচ্ছিল তাঁকে নিরুৎসাহিত করতে।
সালাহুদ্দীন আইয়্যূবী উল্টো তাদের বলেন, তুমি আমাকে এক চোখ হারানোর ভয় দেখাচ্ছ? ওয়াল্লাহি! আল-আকসা পুনরুদ্ধারে যদি আমাকে দুই চোখ হারিয়ে অন্ধ হতে হয়, তবুও আমি আল-আকসা পুনরুদ্ধার করব।
আল্লাহর ওপর ভরসা, আকসার প্রতি ভালোবাসা আর ক্রুসেডারদের মোকাবিলা করার অভিনব পরিকল্পনা নিয়ে সালাহুদ্দীন রওয়ানা হলেন আকসা পুনরুদ্ধারে...!
ইতিহাসনির্ধারণী সেই ধারাবাহিক যুদ্ধে মুসলিমরা আকসা ফিরে পায়।
দীর্ঘ ৮৮ বছর আল-আকসায় কোনো আজান-নামাজ হয়নি। আকসা পুনরুদ্ধার করা অসম্ভব মনে করে মুসলিমরা যখন হাত গুটিয়ে নেওয়া শুরু করেছিল, তখন আল্লাহ সালাহুদ্দীনের মাধ্যমে মুসলিমদের ঘুম ভাঙান, রহিমাহুল্লাহ।
পৃথিবীর একেক প্রান্তে এখন একেকটি ‘আকসা’। সবগুলো আকসা যেন সমস্বরে ডাকছে—
আমি অনুক্ষণ তোমার আসার অপেক্ষাতেই রই,
তোমার বুকের পাঁজরে লুকানো সালাহুদ্দীন কই?