11/07/2026
লিখাটি, যারা বিদেশে স্থায়ী ভাবে থাকেন তাদের নিয়ে।
ভাল নাও লাগতে পারে। প্রয়োজনে এড়িয়ে যেতে পারেন।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
শুরুতেই একটা কথা বলে রাখি—এই লেখাটা কাউকে কষ্ট দেওয়া, ছোট করা বা বিচার করার জন্য নয়। আমি নিজেও দেশের বাইরে থাকি। কিছু কাছের মানুষের করা কয়েকটি প্রশ্ন আমাকে কদিন ধরে অনেক ভাবিয়েছে। সব প্রশ্নের উত্তর আমার কাছেও নেই। তাই ভাবলাম, আপনাদের সঙ্গেও বিষয়টা শেয়ার করি।
🔹 বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের সিদ্ধান্তকে আপনারা কীভাবে দেখেন?
আমরা অনেকেই ভালো ভবিষ্যৎ, সন্তানের নিরাপত্তা, ভালো শিক্ষা, কাজের সুযোগ বা নিজের যোগ্যতার মূল্যায়নের আশায় বিদেশে আসি। এতে কোনো ভুল দেখি না। কারণ দেশের কঠিন বাস্তবতা আমরা সবাই কমবেশি জানি।
তবে বিদেশের জীবন মোটেও সহজ নয়।
সারাদিন পরিশ্রম, পাহাড়সম ট্যাক্স, সব কাজ নিজের হাতে করা, আত্মীয়-স্বজন ছাড়া জীবন, নিজের দেশ, মাটি, নদী, বৃষ্টি, উৎসব—সবকিছু মিস করা।
সন্তানরাও বেশীরভাগ সময় দাদা-দাদি, নানা-নানির সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত।। তাই বিদেশের জীবন মানেই আরাম—এটাও বলা যাচ্ছে না।
তাও তো মানুষ দলে দলে বিদেশ যাচ্ছে। কেনো?
তাই, একটা প্রশ্ন বারবার মনে আসে।
যারা বাবা-মাকে সঙ্গে আনতে পারেন না, তাদের বাবা-মা কি সন্তানের সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত হন না? যে বয়সে বাবা-মা ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনিদের নিয়ে নিজের বাড়িতে জীবনের শেষ সময়টা কাটানোর স্বপ্ন দেখেন, সেই সময়টায় দূরে থাকা তাদের জন্য কতটা কঠিন? হয়তো তারা মুখে কিছু বলেন না, কিন্তু ভেতরে ভেতরে তারা অনেক কষ্ট পাচ্ছেন না?
আবার বিদেশে থাকলে অনেক দায়িত্ব আগের মতো নিজের হাতে পালন করা যায় না। যেমন—বৃদ্ধ বাবা-মাকে ডাক্তার দেখানো, প্যারালাইজড বাবা মা কে পয় :পরিস্কার করা, প্রয়োজনে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, বাজার করা, বাড়ির নানা সমস্যা সামলানো, জমি-জমার ঝামেলা দেখা, ছোট ভাই-বোনের পাশে থাকা বা আত্মীয়-স্বজনের বিভিন্ন দায়িত্বে উপস্থিত থাকা। এসব অনেক সময় অন্য কারও ওপর ছেড়ে দিতে হয়।
অবশ্য এটাও সত্য, দেশে থাকলেই সবাই যে এসব দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করেন, এমনও নয়। অনেকেই বাবা-মায়ের কাছাকাছি থেকেও তাদের সময় দেন না। আবার অনেক প্রবাসী আছেন, যারা দূরে থেকেও নিয়মিত খোঁজ রাখেন, চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন, আর্থিক সহায়তা করেন, প্রয়োজন হলে দেশে ছুটে যান। তাই দায়িত্ববোধ শুধু দেশে থাকা বা বিদেশে থাকার ওপর নির্ভর হয়তো করে না।
তবুও একটা কথা মনে হয়—
" টাকা পাঠানো, উপহার দেওয়া, ফোন বা ভিডিও কলে খোঁজ নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নিজের উপস্থিতির যে মূল্য, প্রয়োজন এগুলা কি তার বিকল্প হতে পারে?
আরেকটা প্রশ্ন এসেছে।
প্রবাসীরা দেশের জন্য রেমিটেন্স পাঠান। এটা অবশ্যই দেশের জন্য বড় অবদান। তবে যারা একা বিদেশে থাকেন, তাদের বাস্তবতা এক রকম।
তারা প্রায় পুরো আয়ের টাকা পাঠিয়ে দেয়।
কিন্তু, যারা স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বিদেশে থাকেন, তাদের খরচ অনেক বেশি। তাই
তাদের পক্ষে তো রেমিটেন্স পাঠানো সেই ভাবে সম্ভব হয় না।
তাহলে,
বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করার মাধ্যমে আমরা কি ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে কিছু পারিবারিক দায়িত্ব থেকে দূরে সরে যাই? নাকি আমরা শুধু দায়িত্ব পালনের ধরন বদলে ফেলি?
আমি কাউকে দোষ দিচ্ছি না। আবার কাউকে সঠিক বা ভুলও বলছি না। কারণ প্রত্যেক মানুষের জীবন, সংগ্রাম আর পরিস্থিতি আলাদা।
এটা শুধু আমার মনের কিছু প্রশ্ন। আপনাদের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চাই।
আপনার কী মনে হয়?
যদি আমার কোনো কথায় কেও কষ্ট পেয়ে থাকেন, নিজ গুণে ক্ষমা করে দেবেন। সবাই নিজ নিজ বাস্তবতা নিয়ে লড়াই করছেন। সেই সংগ্রামের প্রতি আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা রইল।
চাইলে শেয়ার করতে পারেন
#প্রশ্ন #বিদেশ #প্রবাসি #বাবামা #দায়িত্ব #স্বার্থ