Sakib Arefin

Sakib Arefin Welcome to my page. I am Sakib Arefin. please enjoy my poems, stories, photographs, etc and share will with your loving ones.

“The mystery of human existence lies not in just staying alive, but in finding something to live for.”— The Brothers Kar...
05/02/2026

“The mystery of human existence lies not in just staying alive, but in finding something to live for.”
— The Brothers Karamazov by Fyodor dostoyevsky.


  পর্ব: 4 — অভিশপ্ত চিঠি (লেখক: সাকিব আরেফিন)রাত বাজে সাড়ে দশটা।আমি টেবিল ল্যাম্প জ্বালিয়ে ডায়েরি লিখছিলাম।ঠিক তখনই আকবর...
24/01/2026



পর্ব: 4 — অভিশপ্ত চিঠি (লেখক: সাকিব আরেফিন)

রাত বাজে সাড়ে দশটা।

আমি টেবিল ল্যাম্প জ্বালিয়ে ডায়েরি লিখছিলাম।
ঠিক তখনই আকবর চাচা ঘরে ঢুকলেন। হাতে মোবাইল ফোন।

আকবর চাচা আমাদের বাড়ির পুরনো মানুষ।
প্রায় সাত বছর ধরে আছেন।
আমাকে আদর করে বলেন “অনিক বাবা”।

প্রথমদিকে একটু অস্বস্তি লাগত,
এখন আর লাগে না।
এমনকি না শুনলে মন খারাপ হয়।

তিনি ফোনটা বাড়িয়ে বললেন,
— “অনিক বাবা, আপনার জন্য ফোন।”
— “কে দিয়েছে ফোন?”
— “আপনার বন্ধু… নিলয়।”

আমি ফোনটা হাতে নিলাম।
আকবর চাচা চুপচাপ ঘর থেকে বের হয়ে গেলেন।

— “হ্যালো, কিরে নিলয়? এই সময় ফোন দিলি?”
— “দোস্ত… মহা বিপদ হইছে। তুই তাড়াতাড়ি পপুলার হাসপাতাল আয়।”
— “কেন? কী হইছে?”
— “আগে আয়। তারপর সরাসরি বলি।”

নিলয়ের কণ্ঠে এমন কিছু ছিল, যেটা আমি আগে শুনিনি।
এক ধরনের ভয়।
এক ধরনের ব্যাকুলতা।

আর দেরি করিনি।

কোনোমতে রেডি হয়ে বের হয়ে গেলাম।

---

হাসপাতালে পৌঁছে দেখি —
অরু বিছানায় শুয়ে আছে।
ডান পা প্লাস্টারে বাঁধা।
বাম হাতটা নীল হয়ে গেছে।

অরুর পুরো নাম — অরোরা জায়ান।

আমাদের বন্ধুমহলে ওর গুরুত্ব অন্যরকম।
সেইরকম মানুষ —
না থাকলে আড্ডা জমে না,
থাকলে তাকে নিয়েই ঠাট্টা চলে।

ও হলো এমন,
একটু চোখ ভিজলেই কান্না —
মাঝে মাঝে মনে হয়, ওর চোখে পানির কল লাগানো।

ওর সবচেয়ে খারাপ স্বভাব —
Overthinking।

একটা ছোট ঘটনাকেও এমনভাবে ভাবে,
মনে হয় বিশাল কিছু ঘটে গেছে।

রাস্তা পার হওয়ার সময় মাঝখানে দাঁড়িয়ে পড়ে।
ওর ধারণা —
হঠাৎ করে সব গাড়ির ব্রেক ফেল করবে,
ওর গায়ের উপর দিয়ে চলেই যাবে।

আর সঙ্গে কেউ থাকলে?
ও তাকেও টেনে দাঁড় করিয়ে রাখবে।
যেন একসঙ্গে মরলে ভালো হয়।

আর সেই অরু এখন শুয়ে আছে হাসপাতালে।

আমার কিছুই বলার ছিল না।

আমি চুপচাপ নিলয়ের পাশে দাঁড়ালাম।
ও বলল,

— “বলছি তোকে,
প্রতিদিনকার মতোই, রাস্তা পার হচ্ছিলাম।
হঠাৎ অরু মাঝখানে দাঁড়িয়ে পড়ে গেল।
একটা বড় গাড়ির ব্রেক ফেল করে…
সোজা ওর গায়ে উঠে গেল।

গাড়ির মালিকই ওকে নিয়ে আসে হাসপাতালে।
আমার নাম্বার দিয়ে বলে, ফোন দিতে।

আমি এসে দেখি এই অবস্থা।”

আমি আস্তে জিজ্ঞেস করলাম,
— “ঘটনাটা কখন ঘটল?”
নিলয় বলল,
— “৪টা ৪০-এর দিকে।”
আমার বুকের মধ্যে কেমন যেন ঝাঁকি খেল।

চারটা চল্লিশ…

চিঠিতে এই সময়টাই তো লেখা ছিল।

কিন্তু চিঠিতে তো আমার কথা বলা হয়েছিল।
তাহলে অরুর সঙ্গে এমন কেন হলো?

আমার মাথার ভেতরে একটা ভয় ঢুকে পড়েছে।
ভয়টা যুক্তি দিয়ে বোঝানো যায় না।

হয়তো অরুরও চিঠি এসেছিল?
হয়তো ওর নামটাও ছিল কোথাও?
না কি… চিঠির লেখকের সঙ্গে ওর কোনো অজানা সম্পর্ক আছে?

আমি জানি না।

তবে আমি জানি, এই ঘটনাটা নিছক কোনো দুর্ঘটনা না।
এতে কিছু লুকিয়ে আছে।
কারণ যেটা মনে হচ্ছে, সেটা হয়তো আসল না।

আর আমার ভয়টা এখন অন্যরকম রূপ নিচ্ছে।

চিঠির লেখক কারা তা জানার আগে হয়তো আরও কিছু ঘটনা ঘটবে।

আর কে জানে, পরবর্তী সময় আবার…
চারটা চল্লিশ-ই হবে?



#অভিশপ্তচিঠি #বাংলা_গল #সাকিবআরেফিন #বাংলা_থ্রিলার

#সাহিত্য

#গল্পপড়ি

  পর্ব: 3 — অভিশপ্ত চিঠি (লেখক: সাকিব আরেফিন)এই একটা অভ্যাস বহুদিনের।কলেজ জীবন শেষ হওয়ার পর থেকেই শুরু করেছি। এখন প্রায় ...
03/11/2025



পর্ব: 3 — অভিশপ্ত চিঠি (লেখক: সাকিব আরেফিন)

এই একটা অভ্যাস বহুদিনের।
কলেজ জীবন শেষ হওয়ার পর থেকেই শুরু করেছি। এখন প্রায় সাত বছর।

৬টা ডায়েরি আছে।
৫টা পুরোনো, একটাই চলছে।
এই চলমান ডায়েরিটা শুরু করেছিলাম গত শীতে।
যেদিন প্রথম শীতের কুয়াশা পড়েছিল, সেদিন রাতে হঠাৎ লিখতে বসেছিলাম।

আজ হঠাৎ মনে পড়ায়, ডায়েরিগুলো তাক থেকে নামিয়ে আনলাম।

এক এক করে পাতা ওল্টাতে থাকি।

লেখাগুলো অদ্ভুত।
আমি কি এগুলো লিখেছিলাম?
লেখাগুলো যেন আমার নয়, কারো অন্য এক জীবনের গল্প।

তবে সবচেয়ে অদ্ভুত লাগল—
তিনটা ডায়েরির মাঝখানে কিছু পাতাই নেই। ছেঁড়া।

১. একটা ডায়েরি ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার সময়ের।
২. আরেকটা ২য় সেমিস্টারের মাঝখানে।
৩. আরেকটা — অনার্স পাস করে বের হওয়ার কিছুদিন আগে।

তিনটি সময়ে কী ঘটেছিল?

আমি মন দিয়ে ভাবতে থাকি।
স্মৃতির দরজা খুলতে চাই।
কিন্তু সেখানে একটা অন্ধকার দেয়াল।

মনে করার চেষ্টা করেও কিছু মনে পড়ে না।
ঠিক যেন কেউ ইচ্ছা করে মুছে দিয়েছে।

ঘড়ির দিকে তাকালাম।
আর মাত্র ৩০ মিনিট বাকি।

ভয়টা এখন আর বাইরে নেই, মনে হচ্ছে ভিতরে ঢুকে গেছে।

আমি বসে থাকি।
কোনো শব্দ নেই।
পাখির ডাক নেই।
ঘড়ির কাঁটার টিকটিকও শুনতে পাচ্ছি না।

মনে হয় সময় থেমে গেছে।

মৃত্যু যখন একদম কাছে আসে, হয়তো তখন সময় চলা বন্ধ করে দেয়।
নাহ, থেমে যায় না।
শুধু অনুভব করার ক্ষমতা কেড়ে নেয়।

আমি বসে আছি।
চোখ দুটো এক জায়গায় স্থির।
চোখের পলক পড়ছে না।

৪টা ৪০ পেরিয়ে গেছে।

কিছুই হলো না।

নিঃশ্বাস নিতে ইচ্ছে করছে না, তবু নিচ্ছি।
হাত-পা শুয়ে আছে আগের মতো।

আমি মরিনি।

আমি... বেঁচে আছি।

---

একটা হালকা হাসি পেল।

কেউ আমার সঙ্গে ঠাট্টা করেছে।
একটা ভয়াবহ, সুপরিকল্পিত ঠাট্টা।

কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়—
এমন ঠাট্টা করতে পারে কে?
এত নিখুঁতভাবে কে জানে আমার অতীত, আমার অভ্যাস, আমার ডায়েরির পাতার ছেঁড়া অংশ?

হয়তো…

আমি নিজেই?



#অভিশপ্তচিঠি #বাংলা_গল #সাকিবআরেফিন #বাংলা_থ্রিলার

#সাহিত্য

#গল্পপড়ি

  পর্ব: 2 — অভিশপ্ত চিঠি (লেখক: সাকিব আরেফিন)বিকেল ৬টায় বাসায় ফিরলাম।৬:৩০ থেকে ১০টা — আমার পড়ার সময়। রুটিন ঠিক করা। কেউ ...
02/11/2025



পর্ব: 2 — অভিশপ্ত চিঠি (লেখক: সাকিব আরেফিন)

বিকেল ৬টায় বাসায় ফিরলাম।

৬:৩০ থেকে ১০টা — আমার পড়ার সময়। রুটিন ঠিক করা। কেউ Disturb করে না। দরজার সামনে নাস্তা রাখা থাকে। যেকোনো সময় খাওয়া যায়।

চিঠিটা ব্যাগ থেকে বের করে টেবিলে রাখলাম। একটুক্ষণ তাকিয়ে থাকলাম।

কালো খাম।

মনে হচ্ছিল চিঠিটা আমাকে কিছু বলতে চায়। কিন্তু আমার সাহস হচ্ছে না।

ভাবছিলাম— কে পাঠিয়েছে? কেন? এই রঙ, এই ফুল কেন?

প্রথম কাজটা করলাম। ফুলটার ছবি গুগলে দিয়ে সার্চ করলাম।

ফুলটির নাম “Red Spider Lily”। বাংলায় বলে — লাল সুখদর্শন।

জাপান, কোরিয়া, চায়নায় পাওয়া যায়। আমাদের দেশে হয় না। বিশেষ তাপমাত্রা ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ দরকার।

এই ফুলের অর্থ কী?

মৃত্যু। বিদায়। আর কখনো দেখা না হওয়ার প্রতীক।

হঠাৎ বুকের ভিতর ধক করে উঠল।

কালো চিঠি...
লাল মৃত্যুর ফুল...

কেউ কি আমাকে কিছু বোঝাতে চাইছে?
ভয় দেখাচ্ছে?
নাকি এটা কোনো অদ্ভুত প্রেমপত্র?

চোখ চেপে ধরলাম।

চিঠিটা খোলার সাহস হচ্ছে না।

বাহিরে হালকা হাওয়া বইছে।
ঘরের বাতাস ভারী হয়ে গেছে।

টেবিলের ওপর চিঠিটা নীরবে পড়ে আছে।

আমার দিকে তাকিয়ে যেন বলছে —
"খুলে ফেলো আমাকে। এখনই।"
ঘরের বাতাস ভারী হয়ে আসছে। ঘড়ির কাঁটা টিক টিক করে চলেছে, কিন্তু মনে হচ্ছে সময় থেমে আছে। বাইরে দুলে দুলে আসছে সন্ধ্যার বাতাস। জানালা দিয়ে একটানা তাকিয়ে থাকলে, মনে হয়— বাতাস নয়, কেউ নিঃশ্বাস নিচ্ছে।

চিঠিটা এখনো খোলা হয়নি।

হাত বাড়ালাম। আবার ফিরিয়ে নিলাম। বুকের ভেতর ব্যাকুল একটা ঢেউ উঠছে — ঠিক যেন শরীর চায় খুলতে, কিন্তু মন মানতে চাইছে না।

“দরজা বন্ধ করো। এই সময় কাউকে ভেতরে আসতে দিও না।”
হঠাৎ মাথার ভেতর একটা আওয়াজ হলো। কার কণ্ঠ? চেনা নয়। অচেনা কিন্তু ভারী চেনা।
আমি চিঠিটা খুললাম।
অদ্ভুত গন্ধ।
পাতলা একটা কাগজ। কালি দিয়ে লেখা, কিন্তু যেন কালি না — ছায়া।
“সাকিব আরেফিন (SK),

তুমি এখনো বেঁচে আছো। সেটা কিছুটা আশ্চর্যজনক।

বেঁচে থাকার মতো খুব বেশি কারণ তোমার হাতে নেই।
কিছু মানুষ আছে, যাদের ভুলে গেলে চলে না। তুমি ভুলে গেছো।
কিছু কাজ আছে, যেগুলো করেই ফেলা উচিত ছিল না। তুমি করেছো।

এই চিঠিটা তোমার জন্য নয়।

এটা তোমার ভেতরের সেই ছেলেটার জন্য,
যে মাঝেমাঝে আয়নার দিকে তাকিয়ে বলে— “আমি ঠিক আছি।”
অথচ সে জানে, সে ঠিক নেই।

কাল বিকেল চারটা চল্লিশে একটা শব্দ হবে।
হয়তো ঘড়ির কাঁটা।
হয়তো কারো নিঃশ্বাস।
বা হয়তো… কিছুই না।

কিন্তু তুমি বুঝে যাবে, ওটাই ছিল শেষবার।

এখন চাইলে তুমি ঘুমিয়ে পড়তে পারো।
না চাইলে— প্রস্তুতি নিতে পারো।

আমি কে, জেনে কোনো লাভ নেই।
বরং ভাবো— তুমি কে?

– একজন, যে তোমাকে ভুলেনি।”
চিঠিটা পড়ে চুপ করে বসে রইলাম।

ঘরে কোনো শব্দ নেই।
ঘড়ির কাঁটা থেমে গেছে কিনা বোঝা যাচ্ছে না —
নাকি আমি সময়ের বাইরে এসে পড়েছি, কে জানে।

চিঠির অক্ষরগুলো কেমন ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে।
আমার চোখে পানি নেই, তবু দেখার শক্তি হারিয়ে ফেলছি।

আমি জানি, এই চিঠি কেউ লিখেছে।
আবার এটাও মনে হচ্ছে— এই চিঠি আমি নিজেই লিখেছি।
কবে লিখেছি মনে নেই।
কেন লিখেছি জানি না।

ঘরের বাতাস ঠান্ডা হয়ে এসেছে।

হঠাৎ একটা চিন্তা মাথায় এলো।
চিঠিতে বলা সময়— “কাল বিকেল চারটা চল্লিশ”।
ঠিক এই সময়টা কেন?

এই প্রশ্নটা খুব ছোট, কিন্তু মনে হচ্ছে এর উত্তরেই লুকিয়ে আছে সব রহস্য।

চিঠিটা আবার ভাঁজ করে ব্যাগে রাখলাম।

আয়নার দিকে তাকালাম।

নিজেকে দেখে মনে হলো — আমি আগের মানুষটা নেই।
মুখটা যেন আমার না।
চোখে একটা অপরিচিত ছায়া।

একবার মনে হলো —
সবকিছু ফেলে, বের হয়ে যাই।
দৌড়াতে দৌড়াতে যাই নদীর পাড়ে।
কিংবা ট্রেন ধরেই চলে যাই কোনো অজানা জায়গায়।
যেখানে সময় থেমে আছে।
চিঠি আসে না।
ফুল ফোটে না।

কিন্তু আমি জানি, আমি কোথাও যাচ্ছি না।

আমি এখানেই থাকব।
ঠিক কাল বিকেল চারটা চল্লিশ পর্যন্ত।

কারণ আমি জানতে চাই —
কে আমাকে ভুলতে পারেনি?
আর কেন?

রাত যত বাড়ছে, ভয়টা তত গাঢ় হয়ে উঠছে।

ঘুম আসছে না। বিছানায় চুপচাপ শুয়ে আছি।
আলো বন্ধ। শুধু জানালার পাশে টানা পর্দা— হালকা বাতাসে দুলছে।
মনে হচ্ছে, ঘরের ভেতরে কেউ একজন আছে।
ঠিক পাশে দাঁড়িয়ে। কথা বলছে না। শুধু তাকিয়ে আছে।

আমি চোখ বন্ধ করে রাখি। শরীর কাঁপে না, কিন্তু ভেতরটা কাঁপে।

কখন যেন ঘুমিয়ে পড়েছি।

ঘুম ভাঙল সকাল ১০টার দিকে।

ঘড়ির কাঁটার দিকে তাকিয়ে হঠাৎ একটা চিন্তা এসে পড়ল —
আর মাত্র ৬ ঘণ্টা ৪০ মিনিট বাকি।

মনে হচ্ছে, সময়টাও যেন দৌড়াচ্ছে।
একটা লক্ষ্য ঠিক করে রেখেছে — ৪:৪০।

ভাবতে বসি— আমি কি এমন কিছু করেছি,
যার কারণে কেউ আমার মৃত্যু চায়?

একটা মুখ মনে পড়ার চেষ্টা করি।
কোনো কান্না, কোনো চোখ, কোনো অভিশাপ।

কিছুই ঠিকমতো মনে পড়ে না।

হঠাৎ মাথায় এল —
কাল ডায়েরি লেখা হয়নি।



#অভিশপ্তচিঠি #বাংলা_গল #সাকিবআরেফিন #বাংলা_থ্রিলার

#সাহিত্য

#গল্পপড়ি

একটি কালো খাম। চারটি লাল ফুল।চিঠিতে লেখা: “তুমি জানো তুমি কী করেছ।”পর্ব ১ — অভিশপ্ত চিঠি (লেখক: সাকিব আরেফিন)শীত প্রায় শ...
31/10/2025

একটি কালো খাম। চারটি লাল ফুল।
চিঠিতে লেখা: “তুমি জানো তুমি কী করেছ।”

পর্ব ১ — অভিশপ্ত চিঠি (লেখক: সাকিব আরেফিন)

শীত প্রায় শেষ। বসন্ত যেন দরজায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে।

আগে বোঝা যেত— কখন গ্রীষ্ম, কখন বর্ষা, কখন শরৎ, কখন হেমন্ত। এখন? গ্রীষ্মে বৃষ্টি, বর্ষায় খরা। শরৎ আর হেমন্তের অস্তিত্ব কাগজে-কলমে।

আজকের আবহাওয়া অদ্ভুত রকম সুন্দর। গরমও না, ঠান্ডাও না। এমন দিনে নদীর তীরে গিয়ে ঘাসের ওপর শুয়ে থাকতে ইচ্ছে করে। হালকা হাওয়া, একটু রোদ, একটু অলসতা। যেন ঘুমিয়ে পড়ার জন্য আদর্শ।

কোচিং যেতে ইচ্ছে করছিল না। তবুও বের হলাম। জীবন তো এমনই — যা চাই না, সেটাই করতে হয় বেশি।

রাস্তার মোড়ে এক মেয়ে দাঁড়িয়ে। সাদামাটা চেহারা, পরনে হালকা হলুদ শাড়ি। হাতে কালো একটা খাম, সঙ্গে লাল রঙের এক অদ্ভুত ফুল।

চেনা চেনা লাগছিল। হয়তো আগে কোথাও দেখেছি। হয়তো না।

হঠাৎ সে এসে বলল,
— "Excuse me, Sir… আপনি কি SK?"

আমার কেমন একটা খটকা লাগল। Sir? আমি কি এতটা বুড়ো হয়ে গেছি? ভাইয়া ডাকতে পারত,।
তারপরই বুঝলাম, এটাই ওর শেখা ভদ্রতা।

বললাম,
— "না, আমি সাকিব আরেফিন। সবাই অনিক বলে ডাকে। বন্ধুরা মাঝে মাঝে SK ডাকে।"

মেয়েটি একটা নিঃশ্বাস ফেলে বলল,
— "এই চিঠিটা আর ফুলটা আপনার জন্য।"

— "কে পাঠিয়েছে?"

— "আমি জানি কিন্তুু নাম বলা নিষেধ। আমার কাজ শুধু পৌঁছে দেওয়া।"

চিঠিটা ব্যাগে রাখলাম। ফুলটা হাতে থাকল। জীবনে এমন ফুল দেখিনি। লাল, পাতলা পাপড়ি, যেন আগুনের মতো জ্বলছে।

মনে হলো একটা ছবি তুলে রাখি। যদি হারিয়ে যায়।

কোচিংয়ে পৌঁছাতে দেরি হয়ে গেল। ক্লাসের দশ মিনিট পেরিয়ে গেছে। হাতে এখনো ফুল। আমি খেয়াল করিনি।

ক্লাসে ঢোকার সাথে সাথেই সবাই তাকিয়ে রইল। অচেনা ফুল, অদ্ভুত রঙ।

পরিস্থিতি সামলাতে আমি সরাসরি স্যারের দিকে এগিয়ে গেলাম। বললাম,
— "স্যার, এটা আপনার জন্য।"

তিনি হেসে নিয়ে বললেন,
— "ধন্যবাদ। আজ বুঝি বসন্ত এসে গেছে!"

বন্ধুরা বলল,
— "রে ভাই, এই ফুল কই পাইলা?"

আমি হাসিমুখে বললাম,
— "রাস্তায় এক ফুলওয়ালা দিছিল।"

মিথ্যা বলা আমি শিখে গেছি। কিন্তু ভিতরের মনটা ঠিক শান্ত না।

#অভিশপ্তচিঠি #বাংলা_গল #সাকিবআরেফিন #বাংলা_থ্রিলার

#সাহিত্য

#গল্পপড়ি

19/07/2025

"নদীর কোল ঘেঁষে বসে থাকি চুপিচুপি,
হাওয়ায় ভেসে আসে শৈশবের সুখ-দুঃখের কথা।
ওই পাড়ে রঙিন ঘর, এই পাড়ে নীল জল,
দুইয়ে মিলে গড়ে ওঠে—আমার ছোট্ট পৃথিবী।"
#নদীরধারে #আমারগ্রাম #প্রকৃতিরছোঁয়া #গ্রামবাংলা #মনকাড়া_দৃশ্য #শান্তির_জায়গা #নৈসর্গিক #ঘরেরমতো_শান্তি

When your soul walks farther than your steps...✍️   |   |
07/07/2025

When your soul walks farther than your steps...
✍️ | |

Into the dusk, where silence speaks louder.
10/06/2025

Into the dusk, where silence speaks louder.

Address

Narayanganj

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sakib Arefin posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share