07/07/2015
নীলাভ জোছনায় মানব-মানবীরা
লেখা : Md Abdul Aziz Hridoy ( রাতের তারা )
।
সাজু এখন যশোরে । তার প্রিয় সজ্জা
আপু , তার বিয়ের দাওয়াতে এসেছে
সে ।
সাথে করে অবশ্য অধরাকে আনতে বলা
হয়েছে । কিন্তু , সে আনে নি , তাই
তার আপু তার সাথে রাগ করেছে ।
দুদিন পর বিয়ে , আজকেই আমি এসে
বসে আছি । আপু রাগের সাথে সাথে
একটু বিব্রত ও ।
এমনিতেই বাড়িতে লোকের অভাব
নেই , তার উপর আমি এসে বসে আছি ,
আসলে দুরের আত্মীয়কে এই জন্যই
দাওয়াত দিতে হয় না । একজন দাওয়াত
দিলে বিয়ের তিন দিন আগে
সপরিবারে এসে বিয়ের তিন দিন
পরে
যাবে !
আমি চুপ করে আপুর কান্নার কথা শুনছি ।
আপু একটা টিস্যুর বক্স হাতে নিয়ে নাক
মুছছেন আর আমাকে
তার পোড়া কপালের কথা বলছেন ।
-" দেখলি সাজু ? তকে যা বলেছি তাই
হল । আবির কে বারবার না করেছি
যৌতুক চাইতে , তবুও সে যৌতুক চেয়ে
বসে আছে , তাও যা-তা যৌতুক না ,
একটা পালসার , ৩ লক্ষ টাকা , আর একটা
ইংলিশ খাট । "
আমার কাছে হাস্যকর লাগছে , কিন্তু
হাসলে আপা কেঁদেই দিবে , তাই
হাসলাম না ।
যশোর ত বেশ আধুনিক এলাকা বলেই
জানতাম !
-" তবে তোমার আব্বুকে দিয়ে দিতে
বললেই পার । না করেছে কে ? আমিও
না হয় আঙ্কেলের সাথে মার্কেটে
যাব , আমার এক চেনা লোক আছে ,
সেকেন্ড হ্যান্ড জিনিসের ব্যবসা
করে
।
অবশ্য , ৩ লক্ষ টাকা সেকেন্ড হ্যান্ড
জোগাড় করতে পারব না । ওটা ফার্স্ট
হ্যান্ডই দিতে হবে । "
আপার চোখে পানি জমে উঠল ,
-" তুই মজা নিচ্ছিস ? আর আমি কেঁদেই
মরছি , সকালে ও ফোন করে জানাল ,
আমি এখনও তুই ছাড়া কাউকে জানাই
নি । বাড়িতে জানলে হয়ত বিয়েই
ভেঙে যাবে । "
আমি উঠে দাঁড়ালাম ,
-" শোন আপু , তুমি এই খবর কাউকে
জানাবে না । ওরা যদি তোমার
পরিবারে জানায় , তুমি বলবে যেন
কোন ব্যাবস্থা
না করে , সব আমিই দেখছি , দু দিন
বিয়ে না ? আমি কাল এসে তোমায় সব
বলব । যদি ঠিক হয় ত ভাল ,
নয়ত বিয়ে বাতিল ।"
আপা হতভম্ব হয়ে আমার দিকে
তাকিয়ে রইল । আমি আর কিছুই না বলে
বেড়িয়ে পড়লাম । আপুর সামনে
থাকলে
ঘ্যানঘ্যান করতে থাকবে । পাগলের মত
কি না কি বলে এলাম , বিয়ে
বাতিল ! হাহাহা ........
আমি ছেলেটার ঠিকানা আগেই
জানতাম । বাসে উঠে পড়লাম । আর ,
বাম পাশে বসে জানালা খুলে
দিলাম ।
দখিনা হাওয়া আমার ছোট থেকেই
পছন্দ । চুল গুলো দেখছি উড়ার
পায়তারা
করছে ।
সামনের সিটে এক মেয়ে বসেছিল ।
সে বাইরে মাথা দিয়ে চুলের ব্যান্ড
খুলে দিল ।
বলাই বাহুল্য , চুল আমার মুখে এসে পড়ল ।
কয়েকটা চুল মুখের ভিতর ও প্রবেশ করল ।
যেহেতু চুল খাবার অভ্যাস নেই , তাই
অচিরেই খুক খুক করে কেশে উঠলাম ।
-" এই যে মিস কেশবতী , আপনার চুল একটু
সামলান । আমি এই দখিনা হাওয়ায় একটু
হেমন্ত স্যারের গান গাইতাম ।
মেয়েটি চুল গুলো হাতে ভিতরে
নিয়ে আমার দিকে ধীরলয়ে তাকাল ।
একেই কি বলে খুনে দৃষ্টি ? আমার
জায়গায় অন্য কেউ হলে এখনই বলে দিত ,
-" আমি সারাজীবন তোমার গোলাম
হয়ে থাকব ,শুধু ,,,
আমাকে ঐ চোখ দুটির চাহনি
আরেকবার দেখতে দাও । "
তবে , সে ভূমিকম্প যে আমার ভিত ও
নড়ায় নি , তা বলব না ।
-" সরি , আসলে অনেকক্ষণ বাসের
ভিতরে বসে ছিলাম ত , তাই একটু
বসন্তের পূবালী হাওয়া চুলে
লাগালাম ।"
আহা ! আমি কেন , রবি ঠাকুর ও যদি
দেখত এই চুলগুলো , তবে বলত , -" বাজিল
বুকে সুখের মত ব্যাথা ।"
-" না না , কোন সমস্যা নেই । আমি একটু
সাপহাটা গ্রামে যেতাম । এখন ঘুমাব ,
আপনি আপনার এলোকেশে
হাওয়া লাগান , দখিনা বাতাস চুলের
জন্য উপকারী । "
সুন্দরী মেয়েরা মনে প্রাণে বিশ্বাস
করে , তাদের সৌন্দর্য মানুষের উপর
প্রভাব ফেলে এবং , বেশি কথা বললে
প্রভাব টা বেড়ে
যেতে পারে । মেয়েটি কথা শুনে
আমার দিকে অবাক হয়ে তাকাল , তবে
, কিছু বলল না ।
তার কারণ টা বুঝতে পারলাম না, যদিও
পরে সেটা ক্লিয়ার হয় ।
আমি মুণ্ডুটা ভিতরে এনে পড়লাম । একটু
রেস্ট নাওয়া উচিত , সেই সকাল থেকে
বাসে ।
২
বাসের কন্ডাক্টর জোরে জোরে
ডাকছে , ' সাপহাটা ! সাপহাটা !'
শুনতেই ঘুম ভেঙে গেল । ধীরে ধীরে
চোখ মেললাম । পাশে এক
# অতি_স্বাস্থবতী আঙ্কেল বসে আছেন
।
তার দিকে তাকিয়ে
একটা মিষ্টি হাসি দিলাম । চাচা
আমার হাসি ধরতে পারলেন । তার
ঝুলন্ত ব্রিজের ন্যায় ভুঁড়িটা নিয়ে
বেড়িয়ে আমাকে জায়গা
দিল ।
বাস থেকে নেমেই দেখি , সামনে
কেশবতী । সাথে এক গাদা ব্যাগ ।
ঢাকা থেকে এসেছে মনে হয় ।
-' আমি কি আপনাকে কোন সাহায্য
করতে পারি ? '
অপরিচিত ছেলের সাহায্য নিতে
মেয়েরা খুবই অস্বস্তি বোধ করে ।
মেয়েটা হেসেই বলল ,
-' জী না । আমি একটা ভ্যান গাড়ি
নিয়ে নিব ।'
-' তবে আপনিই আমাকে সাহায্য করুন ।
ভুঁইয়া বাড়িটা কোন দিকে বলে দিন ।
অনেক দরকার । তাড়াতাড়ি না
গেলে খুনাখুনি হয়ে যাবে ।'
আমার কথা টা সে বিশ্বাস করে নি ,
বলাই বাহুল্য । যেভাবে সন্দেহ নিয়ে
তাকিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে
আছে , পুলিশের
হাতে তুলে দিলেও অবাক হব না ।
দুনিয়াটা অনেক সন্দেহজনক হয়ে
গেছে
। কখন কে কাকে খুন করে বসে !
-' ওই বাড়িতে আপনার কি দরকার ?'
-' আসলে , ঐ বাড়ির বড় ছেলে
আবিরের বিয়ে কদিন পর । ত , উনারা
চাচ্ছেন , আবিরের ছোট বোনের
বিয়ের ঝামেলা
টা ও সেরে ফেলতে ।'
-' ত ? আপনাকে দেখে ত ঘটক লাগছে
না । অবশ্য ঘটকের কম্পাউন্ডার ও হতে
পারেন ।' কপাল কুচকে বলে ফেলল
সে । কিছুটা রাগান্বিত ও ।
দুকান পর্যন্ত হেসে বললাম , -' জী না ,
আমি তাদের পছন্দের জামাই । সেই
বাড়ির ছোট মেয়ের সাথে আমার
বিয়ের কথা
চলছে । '
ছোট থেকেই আশা , বজ্রাহত মৃত ব্যক্তি
দেখব । আজ সেই আশা পূরণ হল । বেশ
কিছুক্ষণ সে বিস্ফোরিত নয়নে
আমাকে দেখছে ।
-' আপনি কি বাসাটা চিনেন ?'
-' জী , চলুন আমার সাথে । '
উনার বলা শেষ হতেই একটা ব্যাগ
হাতে নিয়ে নিলাম । উনাকে
সাহায্য করার ভঙ্গীতে হাসলাম ।
কিন্তু , স্পষ্ট বুঝতে
পারলাম , উনি বিরক্ত হয়ে ভ্রূ
কুচকালেন ।
-' তা ......... আপনি যাকে দেখতে
যাবেন , সেই মেয়ের নাম কি ?'
-'আমি কিছুই জানি না । শুধু জানি ,
সে ঢাকা ভার্সিটিতে পড়ে । নাম ন
দিয়ে শুরু । কি যেন ? ভুলে গেছি । '
-' হুম , বুঝলাম । আপনার বাসা ?'
-' ঝিনাইদহ । আপনার নাম ?'
-' ওহ , সরি । কত কথা বলে ফেললাম ।
নামটাই বলা হল না । আমি নীরা ।'
ভ্যান গাড়ি পেয়ে গেলাম । বাকি
রাস্তা উনি আমার খোঁজ খবর নিয়ে
পার করে দিলেন । বলে নেয়া ভাল ,
সব তথ্যই ভুল
দিলাম । যেমন , আমি কুদ্দুস ; কেরানির
চাকরি করি , ইত্যাদি ইত্যাদি ।
মেয়েটা আমার ব্যাপারে অতিরিক্ত
আগ্রহ দেখাচ্ছে । বিষয়টা
অস্বাভাবিক । জগতের নিয়ম হল , সবাই
সুন্দরীদের ক্ষেত্রে
আগ্রহ দেখাবে , এবং সুন্দরী মেয়েরা
সব কিছুতেই বিরক্ত হবে । বুদ্ধিমতী
মেয়েরা কখনও ছেলেদের ব্যাপারে
আগ্রহ
দেখায় না । কোথাও ভুল হয়েছে !
বিশাল বড় ভুল ...............!
একটা বিশাল প্রাসাদসম বাসার
সামনে ভ্যান গাড়ি থামল । নেমে
ভাড়া দিতে গেলাম , লোকটা বলে
উঠল ,
- ' নীরা আফার মেমান ( মেহমান )
আফনি , আফনার কাছ থে টাকা নিমু ?!!!
"
বুঝলাম , নীরা এবং তার পরিবার ,
এলাকায় ভালই প্রভাব বিস্তার করে ।
-' তা...... এটা ত আপনার বাসা । কিন্তু
আমার গন্তব্য টা কোথায় জানতে
পারি ?'
জবাব পাওয়ার আগেই একজন যুবক এসে
আমাদের সামনে দাঁড়াল । চেনা
চেনা লাগল ।
মস্তিষ্ক খুঁজে যে নাম আর ছবি পাওয়া
গেল , সেটা হল আবির ! সজ্জা আপুর
ভবিষ্যৎ স্বামী এখানে কি করে ?
-' কিরে নীরা ? ভাইয়ের বিয়েতে
আসতেও এত দেরি ? লেখাপড়া একটু কম
কর । আমার ত মনে হয় , তুই বাসর ঘরেও
বই নিয়ে ঢুকবি , আর তোর স্বামী বই
দেখেই প্রেমে গদগদ হয়ে ফিট খাবে ।'
তখনও আমার দিকে নজর পড়ে নি । নজর
পড়তেই নীরার দিকে জিজ্ঞাসু
দৃষ্টিতে তাকাল ।
নীরা ড্রাইভারকে ব্যাগ গুলো ধরতে
বলে বাসায় রওনা হল । আবির
সাহেবের কৌতূহল মিটল না ।
-' কেমন আছেন ?' দুকান হেসে বললাম ।
লোকটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বলল -'
জী......... ভা...ল । আপনাকে ঠিক ...'
-' আমি সাজু , ভাল নাম সাজিদ ।
সজ্জার দূরসম্পর্কের ভাই হই ।একটা জরুরী
কথা বলতে এসেছি । আসার পথে
নীরার সাথে দেখা ।'
-' জ্বি চলুন । বাসায় এসে রেস্ট নিয়ে
সব বলবেন ।'
আসন্ন ভুঁড়িভোজ টা চোখের সামনে
এসে নাচতে লাগল । যদিও বেশি
খেতে পারি না । তবুও , বাঙালির
স্বভাব , লাভ ক্ষতি
হিসেব না করে ভাল কিছু পেলেই
খুশি থাকি ।
আমার মোবাইল টা খুবই বিরক্তিকর ।
গুণে গুণে যখন ব্যস্ত , তখনই কল আসে ।
পকেটে করে বাথরুমে গেলে
সেখানেও
কল আসে । মাঝে মাঝে গোসলের সময়
গান শুনি , তখনও কল আসে । মাছির মত
বিরক্তিকর ।
দীর্ঘ এক মিনিট আবির বিরক্তি
সহকারে দাড়িয়ে । ভদ্র হওয়ার এই এক
সমস্যা । এখন আমি সরি বললে হাসি
মুখে
বলতে হবে , -' না না , কোন সমস্যা নেই
। কল ত আসতেই পারে ।' যদিও চেহারা
দেখে বুঝতে পারছি , উনার মন চাইছে ,
আমাকে আমার মোবাইলসহ চাবিয়ে
পানি ছাড়া ক্যোঁৎ করে গিলে
ফেলতে ।
- ' একটু পথের দিকে চলুন । এখন বাসায়
যাওয়া সম্ভব নয় ।' মুচকি হেসে উনার
বিরক্তি বাড়িয়ে দিলাম ।
দুজন হেটে একটা পুকুর পারে এলাম ।
শান বাঁধানো ঘাঁট । সাথে চার
পাশে
নারকেল আর তাল গাছের সারি ।
পুকুরের জল
হালকা সবুজ । মাছ ঘাই দিচ্ছে ।
লোকটার বাবার ভালই সম্পদের
পাহাড়
। তবুও যৌতুক নিতে হবে । নয়ত
পাড়াপড়শি আত্মীয় স্বজনের কাছে মুখ
দেখানো
যাবে না ।
-' আপনি সজ্জাকে কতটা ভালবাসেন ?'
হঠাৎ এমন প্রশ্ন শুনলে মজনু ও বেশ কিছুক্ষণ
ভেবে নিত । এই যে এত রিলেশন , এত
প্রেম , এত ভালোবাসা , কজন
বুকে হাত রেখে সত্যি কথা টা বলতে
পারবে , যে -' আমি তোমাকে এত টুকু
ভালোবাসি ?'
কেউ ই না । সবাই সত্যি মিথ্যা
মিলিয়ে বলবে -' আমি তোমাকে
পৃথিবীর সবার চে বেশি
ভালোবাসি
।'
একটু ভুল আছে । 'তোমার' স্থানে
'আমার'
শব্দ টা হলেই সব ঠিক ।
-' আমি আমাকে পৃথিবীর সবার চে
বেশি ভালোবাসি ।'
- ' এই প্রশ্ন কেন করছেন ?'
-' এই প্রশ্ন এই কারণে করছি যে , আপনি
আগেই বলেছিলেন , বিয়ের আগে
হাড়ি পাতিল ডেকচী এই সব
হাবিজাবি ভিক্ষা
আপনি চাইবেন না ।'
-' হুম , এখনও ত বলছি । আমি ত চাই নি ।
চেয়েছে আমার বাবা ।'
ঠোঁট ঠেলে হাসি বেড়িয়ে যেতে
চাইছিল । মানুষ যুক্তি দিতে
ভালোবাসে । কেউ ভাল যুক্তি দেয় ,
কেউ খোঁড়া । আবির ২য়দের
দলে ।
-' ভাইয়া । খুবই মজার কথা শোনালেন ।
এখন আমার কথা মন দিয়ে শুনুন । আপনার
বাবাকে বলুন , আমার বোন
আপনার বাবাকে বিয়ে করবে না ।
কারণ তার একটা গুণধর ছেলে আছে ,
যে
কিনা বিয়ের সময় ও নিজের সিদ্ধান্ত
নিজে নিতে
পারে না । একটা পয়সা ও দেয়া হবে
না ।'
-' কি যা তা বলছেন ! বিয়ে আমার
বাবা করবে কেন ?'
-' যৌতুক যেহেতু তিনি চেয়েছেন ,
ভাবলাম তিনিই বিয়ে করবেন ।
সিদ্ধান্ত নিন । আমার বোনকে কোন
নাবালেগের
কাছে বিয়ে দিব না । হাজার ছেলে
লাইন ধরে আছে আপুকে বিয়ে করতে ।
তাও যৌতুক নিয়ে নয় , ভরি ভরি গয়না
দিয়ে ।
চলি ,খুবই খারাপ একটা খবর পেলাম ।
আপনাদের বিয়েতে থাকতে পারব
কিনা সন্দেহ । আর , আপনার বোনের
সাথে একটু
মিথ্যা কথা বলেছি । ওকে বলবেন দয়া
করে ক্ষমা করে দিতে । '
২ কদম হেটে আবারো ফিরে গেলাম ।
তিনি অবাক হয়ে আমার দিকে
তাকিয়ে ।
-' একটা কথা বলতে ভুলে গেছি ।
বিয়ের দিন ভুলেও ঐ বাসায় গিয়ে
বাথরুমে যেতে চাইবেন না । ওদের
২টা টয়লেট ।
একটা ভাল , আর একটা ব্রিটিশ আমলের
।
ক্লাইভ লয়েড ঐ টয়লেট উদ্বোধন করে
যায় । সেটায় গেলে এক্কে বারে...........!!!!!!!!!!'
মানুষকে বিভ্রান্ত করতে যে কি মজা ,
সেটা বলে প্রকাশ করা সম্ভব না ।
দুনিয়ার গুটি কয়েক হাই লেভেলের
সুখের মাঝে এটা একটা ।
অনেকে এটাকে মন নিয়ে খেলা ও
বলে । জগতের শ্রেষ্ঠ খেলা - মনের
খেলা ।
ওনাকে একটা আজগুবি গল্প বলে এলাম ।
আমার গল্প উনি ফালতু ভেবে ভুলে
যেতে চাইবেন । এবং , যতই ভুলতে
চাইবেন, ততই তাঁর
মস্তিষ্ক এটাকে কবিতার মত আবৃতি
করবে । বিয়ের দিন দেখা যাবে , কনে
বাড়িতে পৌঁছেই উনার টয়লেট
পেয়ে
গেল । জীবন বড়ই
আজব ............।
আবিরকে অথৈ নদীতে ফেলে দিয়ে
ঢাকায় রওনা হলাম । সাথে ২ টা
রাস্তা ও দেখানো আছে ।
১। ভালোবাসার রাস্তা
২ যৌতুকের রাস্তা ।
আশা করি , সে সঠিক রাস্তা টাই
ধরবে
।
৩
অধরার মা পিজি হাসপাতালে ।
আবারো হিট স্ট্রোক । এবার কি হয় ,
কে
জানে । ডক্টর আগেই সাবধান হতে
বলেছে । কিন্তু , উনি
বাজারের ব্যাগ হাতে চলে গেলেন
কাঁচা বাজার । আব্দুল্লাহ স্যার নাকি
পচা মাছ কিনে আনেন । মাঝে
মাঝেই
স্যার সখ করে বাজার করেন ।
সেদিনই তাঁর উপর দিয়ে ৮ রিখটার
স্কেলের ভূমিকম্প হয় ।
এবার আন্টি নিজেই চলে গেলেন
কাঁচা বাজার । তাঁর নাকি টাকি
মাছের ভুনা খেতে মন চেয়েছিল ।
প্রচণ্ড গরমে কাঁচাবাজারের রাস্তা
ভেবে ভুল করে উপরের রাস্তা ধরে
ফেলেছিল ।
গিয়ে দেখি , অধরা শক্ত হয়ে বসে
আছে । মুখে কোন রকম অভিব্যক্তি নেই ।
মনে হল , পাবলো পিকাসোর আঁকা
কোন নির্বাক ছবি ।
নিঃশব্দে তাঁর পাশে গিয়ে বসলাম ।
তাঁর বাম হাত টা ডান হাতে নিলাম ।
এইবার মেয়েটা আমার দিকে তাকাল
। ভয় পাচ্ছি , নদীর নোনা জল না
জানি বাধ ভেঙে উপচে পড়ে ।
ভয় টা সত্যিতে পরিণত হল । অধরা
কেঁদে দিল । কান্না দেখে মনে হল ,
এখনও মেয়েটি কাঁদে নি । হয়ত সেই
পরিবেশ পায় নি ।
স্যার ভার্সিটিতে ক্লাস নিচ্ছে ।
আন্টি সুস্থ হয়ে এই খবর শুনলে নির্ঘাত
স্যারের ফাঁসি কার্যকর হবে ।
অধরাকে নিয়ে আন্টিকে দেখতে
গেলাম ।
আন্টি বাচ্চাদের মত ঘুমাচ্ছে । কে
বলবে , এই মহিলাটা যেকোন সময় মরে
যেতে পারত ?
ঘুমন্ত মানুষের চেহারায় এক ধরনের
মায়া থাকে । সিনেমার ডাকসাইটে
ভিলেনও ঘুমালে দেখা যাবে ,
তাকে আদুরে লাগছে ।
আন্টির একটা হাত আমার হাতে
নিলাম । মেয়েদের হাত
মাত্রাতিরিক্ত নরম । আন্টির হাত আরও
নরম । মনে হল , সদ্য প্রসূত কোন
বাচ্চার হাত ধরেছি ।
অপর পাশে অধরা মার বিছানায়
মাথা
রেখে ফুঁপিয়ে কাঁদছে ।
আমার কেন যেন খুব খারাপ লাগছে ।
এমন এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ সৃষ্টি
হয়েছে , যেখানে পাষাণ হৃদয় ব্যক্তি ও
কেঁদে দিবে ।
আমি এত টা পাষাণ নই । তবুও কাঁদতে মন
চাইছে না । চিরাচরিত নিয়ম হল ,
মেয়েরা কাঁদবে , পুরুষরা বুকে পাথর
বাঁধবে ।
চোখ টলমল করছে । আবেগ নিয়ন্ত্রণ
করছি
। এই মহিলাটা কত বকা দিত । আদর খুব কমই
করেছে । তবুও , আজ সেগুলোই মনে
পড়ে যাচ্ছে ।
চোখ বন্ধ করে এসব ভাবছি । আন্টির হাত
যে কখন নড়ে উঠল বুঝলাম ই না ।
আন্টি তাঁর হাত টা আমার মুঠো থেকে
ছাড়ালেন । আন্টির জ্ঞান ফিরে
এসেছে ।
পরম স্নেহে অধরার মাথায় হাত
বুলিয়ে
দিচ্ছে সে । অধরা মাথা তুলে একবার
চাইল । তারপর আবার ফুঁপিয়ে কাঁদতে
লাগল ।
চোখের জলে চুল গুলো গালের সাথে
লেগে আছে ।
আন্টি এবার আমার দিকে চাইলেন ।
ভাবলাম , আমি হাত ধরায় আন্টি
বিরক্ত হয়েছে ।
আন্টি আমার ধারণা ভুল করে দিয়ে
আমার মাথায় পরম স্নেহে হাত রাখল ।
মার কথা মনে পড়ে গেল ।
ছুটে বেড়িয়ে গেলাম । কান্না টা
আর
সামলাতে পারলাম না ।
এক মিনিট পর আবার কেবিনে প্রবেশ
করলাম । চোখ টা ফোলা । আন্টির হাত
ধরে বসে পড়লাম । আন্টিও আমাদের
গভীর যত্নে
আঁকড়ে রাখলেন , ঠিক যেন কোন মা
পাখি তাঁর বাচ্চাকে ঝড়ের হাত
থেকে আগলে রাখছে ।
৪
সজ্জা আপুর বিয়েতে আর যাওয়া হল
না ।
বিয়ের ২য় দিন পর্যন্ত মোবাইল বন্ধ ছিল
। ৩য় দিনের দিন কল দিলাম ।
মোবাইল ধরেই শুরু হল আন্তর্জাতিক
গালি প্রতিযোগিতার ফাইনাল
রাউন্ড । কান দুটির প্রাণ থাকলে
তারা এতক্ষণে আত্মহত্যা করত ।
গালি পর্ব শেষে শুরু হল ঝাড়ি পর্ব ।
অবশেষে ক্লান্ত হয়ে কাজের কথায়
আসে ।
-' তুই আমার কেউ না । আমার বিয়েতে
এসে কাউকে না বলেই চলে গেলি ।
ছি ! তোকে ভাই বলতেও আমার লজ্জা
হয় ।'
-' আপু , এত লজ্জা কোথায় রাখ ? একটা
ঝামেলায় পড়ে গেছিলাম ।
দুলাভাইয়ের কি খবর ।'
-' এই শয়তানের নাম নিস না । বেটা
বিয়ে করতে এসে হাগু গোসল করে
গেল ! বিয়ের মঞ্চে বসেই টয়লেট
টয়লেট শুরু করে ।
তারপর হঠাৎ ই কারেন্ট চলে গেল । এই
সময় এক বাচ্চা ওকে নতুন টয়লেট টা
দেখাল । ও কিনা সেটাতে না গিয়ে
আমাদের
বহু আগেই পরিত্যক্ত পাশের টয়লেটে
গেল । ব্যস ! টয়লেট ভেঙে নিচে !
বুঝতেই পারছিস ! বেচারা সাতার
জানে না , সাথে
ভয় আর দুর্গন্ধে একাকার হয়ে আর্ত
চিৎকার জুড়ে দিল ।
যখন উদ্ধার হল , তখন সে গু বাবা । পেটে
পিঠে গু । বাজার থেকে ৫ টা সাবান ,
৫ টা সুগন্ধি আতর কিনে আনা হল ।
তারপর তাকে সবাই মিলে গামলা
গোসল করাল । গামলায় বসিয়ে সাবান
ডলাডলি । সেই এক দৃশ্য । আমিও চুপিচুপি
দেখলাম ।
আমি সাফ জানিয়ে দিয়েছি ,
আগামী ১ বছর সে আমাকে ছুঁতে
পারবে না , বলদা কোথাকার ! আমার
কপাল ই খারাপ ।'
মেয়ে মানুষের কথার কোন ঠিক নেই ।
কখন কোথা থেকে কোথা যায় কে
জানে । আমাকে বকতে গিয়ে
স্বামীর
১৪ গুষ্টি উদ্ধার করল ।
মায়ের জাত , বড়ই রহস্যময় । তাদের
অভিমানের যেমন অভাব নেই , তেমনি
ভালোবাসার ও অভাব হয় না । তারা
বর্ষা কালের মেঘের
মত নিজেকে নিঃস্ব করে সব
বিলিয়ে
দেয় ।
নীরা আমার সাথে কথা বলতে চায় ,
সজ্জা আপুর কাছ থেকে আমার নাম্বার
নিয়ে কল দিয়েছিল । মোবাইল তখন বন্ধ
।
আপু আমাকে আগেই জানিয়ে
দিয়েছিল । আমিও পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে
মোবাইল নম্বর বদলে নিই ।
আপুরা নাকি হানিমুনে যাবে ।
কোথায় যাবে জিজ্ঞেস করতেই বলল ,
কুয়াকাটা । ঐ খানে নাকি চাঁদনী
রাত অনেক সুন্দর উপভোগ
করা যায় । সব ভুল গুলো শুধরে তারা
একটা সুন্দর সংসারের শুরু করছে । ২১
তারিখ ব্লু মুন ।
নীল চাঁদ বললেও চাঁদ কিন্তু নীল হয় না
। চাদের আলো টা হালকা নীলাভ হয় ।
রাতের বেলায় যখন আন্টির হাতে
ভাত
খেয়ে
ঘুমুতে যাই , চোখ বন্ধ করলে দেখতে
পাই , নীলাভ জোছনায় দুজন মানব
মানবী হাত ধরে সমুদ্রের পারে বসে
আছে ।
জোছনার আলোর সুতায় তাদের হৃদয় আজ
বাঁধা পড়বে ।