10/03/2026
শবে কদর বা লাইলাতুল কদর হলো ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত মহিমান্বিত এবং বরকতময় একটি রাত। ফারসি শব্দ 'শব' মানে রাত, আর আরবি 'কদর' শব্দের অর্থ হলো ভাগ্য, মর্যাদা বা মহিমা।
এই রাতের গুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে সহজভাবে দেওয়া হলো:
১. পবিত্র কুরআন নাজিল
ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রাতে মহান আল্লাহ তাআলা মানবজাতির হেদায়েতের জন্য পবিত্র কুরআন মাজিদ লাওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে অবতীর্ণ করেন। পরবর্তীতে যা দীর্ঘ ২৩ বছরে নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর নাজিল হয়।
২. হাজার মাসের চেয়েও সেরা
কুরআন মজিদে 'আল-কদর' নামে একটি পূর্ণাঙ্গ সূরা রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে:
"লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।"
(সূরা কদর, আয়াত: ৩)
অর্থাৎ, এই এক রাতে ইবাদত করলে ১,০০০ মাস (প্রায় ৮৩ বছর ৪ মাস) ইবাদত করার চেয়েও বেশি সওয়াব পাওয়া যায়।
৩. ভাগ্য নির্ধারণের রাত
অনেকে মনে করেন এই রাতে ফেরেশতারা পৃথিবীতে নেমে আসেন এবং পরবর্তী এক বছরের জন্য মানুষের আয়ু, রিজিক ও ভাগ্য নির্ধারণ করা হয়।
৪. শবে কদর কবে?
শবে কদরের নির্দিষ্ট কোনো তারিখ নেই। তবে রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন রমজান মাসের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে (২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯তম রাত) এটিকে খুঁজতে। আমাদের দেশে সাধারণত ২৭শে রমজান দিবাগত রাতে শবে কদর পালন করার একটি বিশেষ প্রচলন রয়েছে।
এই রাতে যা করা হয়:
• নফল নামাজ ও তাহাজ্জুদ পড়া।
• পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করা।
• আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা (তওবা) ও দোয়া করা।
• জিকির ও তাসবিহ পাঠ করা।
শবে কদরের রাতের সবচেয়ে বড় আমল হলো আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং একনিষ্ঠভাবে তাঁর ইবাদতে মগ্ন হওয়া। আপনার জন্য এই রাতের বিশেষ দোয়া এবং কিছু আমল নিচে দেওয়া হলো:
১. শবে কদরের বিশেষ দোয়া
হযরত আয়েশা (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আমি যদি জানতে পারি যে আজ কদরের রাত, তবে আমি কী দোয়া পড়ব?" তখন নবীজি (সা.) এই দোয়াটি শিখিয়েছিলেন:
আরবি : اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি।
অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। অতএব, আমাকে ক্ষমা করে দিন।
২. এই রাতের বিশেষ কিছু আমল
শবে কদরের নির্দিষ্ট কোনো নামাজের নিয়ম নেই, তবে আপনি আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী নিচের কাজগুলো করতে পারেন:
• নফল নামাজ: দুই রাকাত করে করে যত খুশি নফল নামাজ (তহিয়াতুল অজু, সালাতুত তাসবিহ, তাহাজ্জুদ) পড়তে পারেন।
• কুরআন তিলাওয়াত: অর্থসহ কুরআন পাঠ করা এই রাতের অন্যতম সেরা ইবাদত।
• জিকির ও তাসবিহ: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার এবং বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা।
• তওবা ও ইস্তিগফার: নিজের অতীতের গুনাহের জন্য লজ্জিত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া।
• দোয়া ও মোনাজাত: নিজের জন্য, মা-বাবার জন্য এবং সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর শান্তির জন্য দোয়া করা।
৩. কখন আমল করবেন?
রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোর যেকোনো একটি শবে কদর হতে পারে। তাই এই ৫টি রাতেই (২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯) ইবাদত করার চেষ্টা করা উচিত। যদি সারা রাত জেগে থাকা সম্ভব না হয়, তবে অন্তত এশা এবং ফজর নামাজ জামাতের সাথে পড়ার চেষ্টা করবেন, কারণ হাদিসে এসেছে—এতে সারা রাত ইবাদতের সওয়াব পাওয়া যায়।