13/06/2026
ঢাকার চেয়ে ১০% কম খরচে রপ্তানি সম্ভব: উত্তরবঙ্গে শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত ''বগুড়া ইপিজেড''।
উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বগুড়ায় প্রস্তাবিত গার্মেন্টস ও রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপিত হলে ঢাকা বা চট্টগ্রামের তুলনায় রপ্তানি খরচ এক ধাক্কায় ১০ শতাংশ কমে যাবে। ভৌগোলিক অবস্থানগত সুবিধা, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো সুবিধা এবং বৈশ্বিক বাজারের সাথে তুলনামূলক কম দূরত্বের কারণে বগুড়া হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের আগামী দিনের প্রধান রপ্তানি হাব। উত্তরবঙ্গের বড় শিল্পপতিদের প্রতি এখন থেকেই বগুড়ায় তৈরি পোশাক, ওষুধ এবং ভারী যন্ত্রপাতি উৎপাদনের কলকারখানা গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছেন
সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।ভৌগোলিক কৌশলগত সুবিধা: ইউরোপ-চীন-রাশিয়ার সবচেয়ে কাছে বগুড়াভৌগোলিক মানচিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ঢাকা বা চট্টগ্রামের তুলনায় বগুড়া থেকে বৈশ্বিক বড় বাজারগুলো অনেক বেশি কাছাকাছি। উদাহরণস্বরূপ:ইতালি ও ইউরোপের দূরত্ব: ঢাকা থেকে ইতালির আকাশপথের দূরত্ব যেখানে প্রায় ৭,২০০ কিলোমিটার, সেখানে বগুড়া থেকে এই দূরত্ব মাত্র ৬,৯০০ কিলোমিটার। চট্টগ্রাম থেকে এই দূরত্ব আরও অনেক বেশি।চীন ও রাশিয়ার নৈকট্য: উত্তর দিকে হওয়ায় চীন, রাশিয়া এবং সেন্ট্রাল এশিয়ার দেশগুলোর সবচেয়ে কাছে অবস্থান করছে বগুড়া।১০% খরচ কমার মূল কারণসমূহব্যবসায়িক বিশ্লেষকদের মতে, বগুড়াকে কেন্দ্র করে রপ্তানি বাণিজ্য সাজালে প্রধান তিনটি কারণে ১০% উৎপাদন ও পরিবহন খরচ সাশ্রয় হবে:১. কার্গো সুবিধা ও বিমানবন্দর: বগুড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিকল্পিত কার্গো সুবিধা চালু হলে সরাসরি আকাশপথে কম সময়ে পণ্য বিদেশ পাঠানো যাবে।২. কম দূরত্ব, কম জ্বালানি: আকাশপথে দূরত্ব ৩০০ কিলোমিটার বা তারও বেশি কমে যাওয়ার কারণে কার্গো বিমানের জ্বালানি খরচ ও সময় দুটোই বিপুল পরিমাণে বাঁচবে।৩. বিকল্প বাণিজ্যিক রুট: চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের ওপর চাপ কমিয়ে উত্তরবঙ্গের এই অঞ্চল থেকে আকাশপথ ও স্থলপথে দ্রুত পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব।শিল্পপতিদের প্রতি বগুড়ায় বিনিয়োগের আহ্বানব্যবসায়িক এই বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে উত্তরবঙ্গের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি ও উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে। ঢাকা বা চট্টগ্রামের ঘিঞ্জি পরিবেশ এবং অতিরিক্ত পরিচালন ব্যয়ের বিপরীতে বগুড়ায় কলকারখানা স্থাপন করলে তা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দারুণ সুবিধা দেবে।বগুড়ায় শুধু তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) শিল্পই নয়, পাশাপাশি আধুনিক ওষুধ শিল্প এবং ভারী যন্ত্রপাতি উৎপাদন কারখানা গড়ে তুলে বিদেশে রপ্তানি করার বিশাল সুযোগ রয়েছে। ঢাকার চেয়ে ১০% কম খরচে বিশ্বমানের পণ্য উৎপাদন করে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতিকে বদলে দেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়।
স্টাফ রিপোর্টার, ডেইলি বগুড়া ইনসাইডার