14/06/2026
ঢাকার তপ্ত পিচঢালা পথ ছেড়ে যখন কিশোরগঞ্জের বালিখোলা ঘাটে গিয়ে দাঁড়াবেন, চোখের পলকে আপনার সব ক্লান্তি উধাও হয়ে যাবে! সামনে যতদূর চোখ যাবে, শুধু নীল জল আর আকাশের মিতালী। বর্ষার মেঘগুলো সেখানে যেন পানির খুব কাছাকাছি এসে খেলা করে।
ঘাট থেকে একটা ট্রলার ভাড়া করে যখন হাওরের বুক চিরে আপনার বোট চলতে শুরু করবে, বাতাসের ঝাপটায় মনে হবে অন্য কোনো এক রূপকথার জগতে চলে এসেছেন। মাঝপথে দেখা মিলবে 'ছাতিরচর'-এর। পানির ওপর ভেসে থাকা করচ গাছের বাগান—চোখ জুড়ানো এই দৃশ্যকে ঠিক যেন এক টুকরো মিনি রাতারগুল বলা চলে।
বিকেলের আলো যখন নরম হয়ে আসবে, আপনি গিয়ে পৌঁছাবেন সেই স্বপ্নের অল-ওয়েদার রোডে। হাওরের একদম মাঝখান দিয়ে চলে গেছে ৪৭ কিলোমিটারের এক অবিশ্বাস্য পিচঢালা পথ। দুপাশে অথৈ পানি, আর মাঝখানের এই রাস্তা দিয়ে যখন আপনার অটো বা বাইক এগিয়ে যাবে, আপনার মনে হবে আপনি বুঝি পানির ওপর দিয়েই হেঁটে যাচ্ছেন! পথে কামালপুর গ্রামে সাবেক রাষ্ট্রপতির বাড়ি আর কয়েকশ বছরের পুরনো রহস্যময় 'দিল্লীর আখড়া' দেখতে দেখতে কখন যে সূর্যটা হাওরের জলে ডুবে যাবে, আপনি টেরই পাবেন না।
সন্ধ্যায় ক্লান্ত শরীর নিয়ে নামতে পারেন মিঠামইন বাজারে। রাতের আশ্রয়ের জন্য সেখানে রয়েছে 'হাওর রিসোর্ট'-এর মতো বেশ কিছু ভালো ব্যবস্থা। মাত্র ১,২০০ টাকার মধ্যে নন-এসি ডাবল রুম কিংবা ২,৫০০ থেকে ৩,৫০০ টাকার মধ্যে এসি রুম পেয়ে যাবেন অনায়াসেই।
হাওরে যাবেন আর তাজা মাছের স্বাদ নেবেন না, তা কি হয়? স্থানীয়দের বুদ্ধি মেনে ভোর ৫টায় ঘুম থেকে উঠে সোজা চলে যেতে পারেন চামড়া ঘাটের মাছের আড়তে। জেলেদের নৌকা থেকে তখন চোখের সামনে নামানো হবে একদম জ্যান্ত আইড়, বোয়াল, চিতল আর বড় বড় গলদা চিংড়ি। সেখান থেকে দরদাম করে মাছ কিনে বাজারের কোনো হোটেলে রাঁধিয়ে নিতে পারেন। গরম ভাতের সাথে হাওরের তাজা মাছের সেই স্বাদ আপনার মুখে লেগে থাকবে অনেকদিন!
জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের এই বর্ষায় হাওর তার পূর্ণ রূপ ধারণ করে। যান্ত্রিক জীবন থেকে ছুটি নিয়ে দুদিনের এই মেঘ-বৃষ্টি আর জলের কাব্য আপনার জীবনে সত্যিই এক অপার্থিব অনুভূতি হয়ে থাকবে।
তাহলে আর দেরি কেন, যান্ত্রিকতা থেকে ছুটি নিয়ে আপনি কবে যাচ্ছেন এই জলরাজ্যে?