19/04/2026
“The Roots Festival” — নামটা শুনলেই একটা গভীর অর্থ মনে আসে। Roots মানে শিকড়, Festival মানে উৎসব। অর্থাৎ, শিকড়ের উৎসব। 🌿
কিন্তু প্রশ্নটা থেকেই যায়—এই শিকড়টা আসলে কার?
ডেকোরেশন আর আয়োজন দেখে প্রথমে মনে হতে পারে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর শিকড়কে তুলে ধরার একটা সুন্দর উদ্যোগ। কিন্তু বাস্তবে সেই গভীরতা আর আন্তরিকতার ঘাটতি চোখে পড়েছে।
পিনোন উড়িয়ে সাজানো, লাঙ্গল-জোয়ালকে প্রতীক হিসেবে দেখানো—এসবের মধ্যে কোথাও যেন প্রকৃত সংস্কৃতির আত্মা ধরা পড়েনি। বরং একটা “বাঙালিয়ানা” ছোঁয়া বেশি স্পষ্ট হয়েছে, যা এই উৎসবের মূল ধারণার সাথে পুরোপুরি মেলেনি।
পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৩/১৪টি নৃগোষ্ঠীর বসবাস থাকলেও, সবগুলোর প্রতিনিধিত্ব এখানে দেখা যায়নি—যা এমন একটি “Roots” ভিত্তিক উৎসবের জন্য বড় একটি অপূর্ণতা।
মঞ্চে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা দেওয়া হয়েছে, পুতুল নাচের মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জনের কথা বলা হয়েছে—যা অবশ্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু একই সাথে পুরো স্থানে প্লাস্টিকের অতিরিক্ত ব্যবহার সেই বার্তাকেই কিছুটা প্রশ্নবিদ্ধ করে।
সব মিলিয়ে মনে হয়েছে, এই আয়োজনটি ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে শুরু হলেও, বাস্তবায়নে কিছু জায়গায় ঘাটতি থেকে গেছে। বিশেষ করে আদিবাসী সংস্কৃতি ও তাদের নিজস্ব কালচারকে গভীরভাবে বোঝার ক্ষেত্রে আরও মনোযোগ প্রয়োজন ছিল।
👉 সমালোচনা নয়, এটা শুধুই প্রত্যাশা—
যেন ভবিষ্যতে “Roots Festival” সত্যিকার অর্থেই শিকড়ের গল্প বলে, সবার শিকড়কে সম্মান করে, আর সংস্কৃতির আসল সৌন্দর্যটা তুলে ধরে। 🌸
আর পিনোন টাঙ্গানো নিয়ে যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে, সেটাও অস্বাভাবিক কিছু না। কেউ বলছে এটা কুসংস্কার, কেউ বলছে এই আধুনিক যুগে এসব মানায় না।
কিন্তু একটা বিষয় মনে রাখা দরকার—সবকিছু শুধু “কুসংস্কার” দিয়ে বিচার করলে অনেক সংস্কৃতির ভেতরের সৌন্দর্য হারিয়ে যায়। আমাদের আজু-নানুর সময় থেকে যেসব নিয়ম, বিশ্বাস বা শালীনতার ধারণা চলে আসছে, সেগুলোর পেছনে একটা সামাজিক শিক্ষা, সম্মানবোধ আর সীমারেখা ছিল।
পিনোন শুধু কাপড় না—এটা পরিচয়, মর্যাদা আর আবেগের জায়গা। তাই এটাকে যেভাবে-সেভাবে ব্যবহার করা বা সাজসজ্জার উপকরণ বানানো নিয়ে মানুষের সংবেদনশীলতা থাকাটাই স্বাভাবিক।
👉 আধুনিকতা মানে সব পুরনোকে অস্বীকার করা না,
বরং ভালোটা বুঝে রাখা আর সম্মান করা।
সংস্কৃতি টিকে থাকে তখনই, যখন আমরা তাকে শুধু দেখাই না—বোঝার চেষ্টাও করি। 💙
ছবিগুলো ফেসবুক থেকে সংগৃহীত