26/06/2026
আমাদের ছোটবেলায় এত কিছু ছিল না। স্মার্টফোন ছিল না, ইন্টারনেট ছিল না। প্রতিদিন নতুন কিছু কেনার সুযোগ ও ছিল না। তবুও, খারাপ ছিল না।
বিকেল মানেই মাঠ।
ধুলোমাখা ক্রিকেট।
ফুটবল।
গাছের ছায়া।
আর সূর্য ডোবার আগে বাড়ি ফেরার তাড়া।
ফোন ছিল না। কিন্তু মানুষ ছিল। রাতে সবাই একসঙ্গে বসত।রেডিও বাজত। খবর শোনা হতো। গল্প হতো।একই ঘরে থেকেও আলাদা আলাদা পৃথিবীতে হারিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল না।
বন্ধুরা বাড়িতে চলে আসত। আগে থেকে বলা লাগত না।দরজায় কড়া নাড়লেই বোঝা যেত,আজ আবার একটা বিকেল নষ্ট হবে আড্ডায়।তখন আমাদের অনেক কিছু ছিল না।
খুব ধনী ও ছিলাম না।
খাওয়ার টেবিল ছিল সাধারণ।
ডাল ছিল।
ভাত ছিল।
মাঝে মাঝে মাছ থাকত।
কিন্তু আজ বুঝি,
সেই টেবিলে একটা জিনিস সবসময় থাকত।
মানুষ।
অভাব ছিল।কিন্তু অভাবকে সবসময় দুঃখ মনে হতো না। কারণ সবাই প্রায় একই রকম ছিল।কারও কাছে খুব বেশি ছিল না।কারও কাছে খুব কমও ছিল না।তাই তুলনা কম ছিল। হিসাবও কম ছিল।
বড় স্বপ্ন ছিল।
ডাক্তার হব।
ইঞ্জিনিয়ার হব।
শহরে চাকরি করব।
কিন্তু ছোট আনন্দও ছিল।
একটা ফুটবল ম্যাচ।
শীতের দুপুর।
রেডিওতে খেলার ধারাভাষ্য।
প্রিয় গানের অনুষ্ঠান।
চিঠি আসত। অপেক্ষা ছিল। আজকের মতো সঙ্গে সঙ্গে উত্তর পাওয়া যেত না।বকখনও কখনও একটি চিঠির জন্য সপ্তাহের পর সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হতো। আর সেই কারণেই হয়তো দেখা হলে গল্পও বেশি হতো।
আমরা সবকিছু বুঝতাম না।
বাবা প্রতিদিন কোথায় যায়,কেন এত কষ্ট করে,কী চিন্তা নিয়ে বাসে করে বাড়ি ফেরে...এসব বুঝতাম না। শুধু জানতাম, সন্ধ্যায় তিনি ফিরবেন।
তবুও জীবন চলত। বৃষ্টি হতো। রিকশা চলত।
চায়ের দোকানে ভিড় হতো।
মানুষ পরদিন আবার কাজে যেত।
জীবন সহজ ছিল ।
আজ অনেক কিছু বদলে গেছে।
ফোন আছে।
ইন্টারনেট আছে।
দুনিয়ার খবর হাতের মুঠোয়।
তবুও...
পুরনো কোনো গান হঠাৎ কানে এলে মনটা ভালো হয়ে যায়।হঠাৎ মনে হয়,সবকিছু এখনও হারিয়ে যায়নি।
আর এখন বুঝি...
সুখ মানে হয়েতো সবকিছু পাওয়া না।
বড় বাড়ি না।
দামী গাড়ি না।
সব স্বপ্ন পূরণ হয়ে যাওয়াও না।
সুখ মানে,
এক কাপ চা।
বিকেলের রোদ।
নিজের বাড়ির বাগান।
আর এমন কিছু মানুষ,যাদের সামনে অভিনয় করতে হয় না। শুধু নিজের মানুষগুলো পাশে থাকা। হয়তো এটাই যথেষ্ট ছিল।
এখনও যথেষ্ট।